×

গাজীপুরে বিএনপির উদ্যোগে করোনা হেল্প সেন্টার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী : বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে গাজীপুর জেলা ও মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে করোনা হেল্প সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সারা দেশের ন্যায় গাজীপুরের জয়দেবপুর শিববাড়ি রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়টি করোনা হেল্প সেন্টার হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

করোনা হেল্প সেন্টার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুল হক মিলন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন সরকার, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইয়েদুল আলম বাবুল, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব সোহরাব উদ্দিন, মহানগর বিএনপির ১ম যুগ্ম-আহ্বায়ক শওকত হোসেন সরকার, করোনা হেল্প সেন্টারের প্রধান সমন্বয়কারি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাঃ মাজহারুল আলম প্রমুখ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও মহানগর বিএনপির অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারাদেশের বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের দলীয় কার্যালয়গুলোকে করোনা হেল্প সেন্টার করার নির্দেশ প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের জয়দেবপুর শিববাড়ি রোডের বিএনপির দলীয় কার্যালয়টি করোনা হেল্প সেন্টার হিসেবে কার্যক্রম শুরু করল।

টঙ্গীতে নেশা করতে বাধা দেয়ায় স্ত্রীর ২ হাতের রগ কেটে দিলো পাষন্ড স্বামী

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী: গাজীপুরের টঙ্গীর তিলার গাতি এলাকায় নেশা করতে বাধা দেয়ায় স্ত্রী মৌসুমি আক্তারের (২৮) দুই হাতের কব্জির রগ কেটেদিল পাষণ্ড স্বামী শাহজাহান মিয়া (৩২)। এসময় মাথার পিছনে ডান পাশে ও ডান চোখে আঘাত করে গুরত্বর জখম করা হয়। গুরুত্বর আহত অবস্থায় আশপাশের লোকজন মৌসুমি আক্তারকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

এলাকাবাসি জানান, তিলারগাতি এলাকার মোস্তফা মিয়ার একমাত্র মেয়ে মৌসুমি আক্তার। দীর্ঘ ৯ বছর আগে একই এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে শাহজাহান মিয়ার সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে দেন। বিয়ের ২/৩ বছর পরপরই শাহজাহান মিয়া সঙ্গদোষে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং নেশা করে এসে মৌসুমিকে অমানবিক নির্যাতন করেন। ইতিমধ্যে দুই সন্তানের মা হয়েছেন মৌসুমি। সন্তানদের কথা চিন্তা করে স্বামী শাহজাহান মিয়াকে ভালো করতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা তদবির করেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টায় মানুষ যখন জুম্মার নামাজ আদায় করতে মসজিদে যায়, এমন সময় শাহজাহান মিয়া একা ঘরে বসে নেশা করছিল। এতে স্ত্রী মৌসুমি আক্তার দেখে ফেলে এবং স্বামী শাহজাহান মিয়াকে নেশা করতে বাধা দেয় । এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাজাহান মৌসুমিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং দুই হাতের কব্জির রগ কেটে দেয়। চোখ দিয়ে দেখে বলে চোখ নষ্ট করতে ডান পাশের চোখে আঘাত করে।

গুরুত্বর আহত অবস্থায় মৌসুমিকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। লকডাউন থাকায় তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রকৃতিও ঘরে রাখতে চায়

মোহাম্মদ আলম : বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই গাজীপুরের আকাশ ঘোর অন্ধকারময়। গত রাতেও থেকে থেকে বৃষ্টি ছিলো। সকাল আটটার পর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এখানেও প্রকৃতির খেয়াল। পোশাক শ্রমিকরা আটটার আগেই কারখানায় হাজিরা দেয়। তাই হয়ত অন্ধকার হয়েও বর্ষেনি। এখন বৃষ্টি হচ্ছে। যাদের কাজ নেই ঘরে থাকাই বাঞ্ছনীয়। সরকারী লকডাউন, প্রকৃতির বৃষ্টি আর ভাইরাস সংক্রমণের উর্দ্ধমুখী পরিস্থিতি সবকিছুই মানুষকে ঘরে রাখার পক্ষে।

সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউন। সরকারের উদ্দেশ্য মানুষকে ঘরে রাখা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ। গুচ্ছ বিস্তার রোধ করা। মানুষকে মৃত্যুর বিভিষিকা থেকে পরিত্রাণ। প্রকৃতির এতে সাঁয় রয়েছে। তাইতো সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। প্রত্যাসা করছি এভাবে সাতদিনই থাক।

এমনিতেও বৃষ্টিতে বের হওয়া সমিচিন না। সামান্য বৃষ্টিতে সর্দি জ¦র হতে পারে। আর সর্দি জ¦র মানেই ভয়। এখন সিজনাল জ¦র সর্দি হলেও কিন্তু পরিবার ও স্বজনরা আড়েঠাড়ে তাকায়। এই বুঝি করোনা ধরেছে। তাই স্বজনদের বাঁকা নজর এড়াতে ঘরে নিরাপদে থাকাই ভালো।

বর্ষা ঋতু সব সময় রোমান্টিক। কবি সাহিত্যিকগণ নিশ্চয়ই খাতা কলম নিয়ে বসে আছেন। কখন একটা পঙক্তি আসে। আর বই প্রেমিকের জন্য এ যেন স্বর্গ হাতে পাওয়া। প্রিয় বই হাতে এক কাপ গরম কফির চুমুকে চোখ বুলাতে আনন্দই অন্যরকম। আর যাদের এইসব অভ্যেস নেই নিদেন পক্ষে টিভি দেখা যেতে পারে। তবে অবশ্যই কোন রুচিশীল ছবি। ইংরেজি- রোমান হলিডে, ক্লিউপেট্টা, ট্রয়, পারফিউম; হিন্দি-মাদার ইন্ডিয়া, মোঘল -ই- আজম, আন, কেয়ামত সে কেয়ামত, বাংলা উত্তম সুচিত্রার যে কোন রোমান্টিক ছবি এই বৃষ্টিতে ভাল লাগবে।
এসবও যদি মনে না ধরে তবে বাচ্চাদের নিয়ে লুডু খেলতে পারেন। গোল্লা ভরাটও বাচ্চারা খুব পছন্দ করে। তবে ইচ্ছাকৃত হারতে ভুলবেন না। বাচ্চারা খুশি হবে।

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি মানেই বাঙালি রসনার বাহার। ভুনা খিচুরী সাথে থাকবে ভর্তা। কালোজিরা, কাঠাল বিচি, ধনিয়া পাতা, শুটকি, চ্যাপা আর বেগুন পুড়া। তবে গরুর মাংস ভুনা বা ইলিশ মাছা ভাজা হলেতো কথাই নেই। চলুন গিন্নির সাথে হাত মিলাই। অথবা আজ না হয় পরিবারের সবাইকে নিজের রাধুনী দক্ষতার প্রমান দেই। লবন চেখে দিতে ভুলবেন না। আমার অভিজ্ঞতা খুব একটা ভাল না। ঢেড়শ ভাজিতে পানি দেবার ঘটনা ছোট মেয়ে প্রায়ই বলতে বলতে হেসে কুটি কুটি হয়। আর সব তরকারিতেই গরম মশলা আমার দেয়া চাই। তা সে কাচকি মাছ বা রুই হোক। আর মাংস মানেই গরম মসলাদার হতে হবে। এটাতেও মেয়েদের কথা শুনতে হয়। কি আর করা। আমি এটাই চাই। একটু ব্যতিক্রম করে আনন্দ দেয়া আরকি। যা হোক লকডাউন উপভোগ করুন।

এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশীকে ভুলে যাবেন না প্লিজ। যাদের ঘরে খাবার আছে। তাদের এমন অনেক কিছুই ভাল লাগবে। আর যে মানুষের ঘরে খাবারই নেই তার কাছে এইসব কথা অর্থহীন। পরিহাস মাত্র। আমরা যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীর খোঁজ নেই। তারা কেমন আছে। কি খাচ্ছে। অন্তত রান্না খাবার থেকে হলেও অপেক্ষকৃত দরিদ্র প্রতিবেশীর পরিবারে কিছু পরিমান পাঠিয়ে দেয়া যেতে পারে। বিশেষভাবে পরিবারের গিন্নিরা প্রতিবেশীর খোঁজখবর ভাল জানে। তাদের কাছে যেনে নিতে পারেন। বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ যেন দরিদ্র মানুষের পাশে থাকে। এটাতো কেবল রাজনীতিবিদদের কাজ না। মানুষ হিসাবে প্রতিবেশীর খবর রাখা আমাদের প্রত্যেকের সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা আরো মানবিক হই। আমরা আরো সামাজিক হবো। সবাই একসাথে আগামীর পথে এগিয়ে যাবো। এই হোক প্রত্যাসা।

গাজীপুর মহানগর বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী: গাজীপুর মহানগর বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আওলাদ জান চৌধুরী ও মহাসচিব ডাঃ মো. মসিউর রহমানের যৌথ স্বাক্ষরে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে রমজান আলী মোল্লাকে সভাপতি ও রঞ্জুল ইসলাম রঞ্জুকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এতে কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন মোল্লাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, কাউন্সিলর ছাদেক আলী, ফারুক আহমেদ, আমজাদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আব্দুস সালাম, আবুল কালাম আজাদকে সহ-সভাপতি, এম.এ আলীম, আবুল হাসিম তালুকদার, আমজাদ হোসেন খান, মাসুম বিল্লাহ বিপ্লব, রিয়াজুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান রানাকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, তোফাজ্জল হোসেনকে সাংগঠনিক সম্পাদক, জাহাঙ্গীর হোসেন ভেন্ডারকে অর্থ সম্পাদক, সানোয়ার হোসেন তালুকদার লিটনকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মাহফুজা খানম কুহিনুরকে মহিলা বিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।

সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ প্রতিপালনে কঠোর থাকবে পুলিশ : আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯) এর বিস্তার রোধে আগামীকাল (০১ জুলাই ২০২১) সকাল ছয়টা থেকে ০৭ জুলাই ২০২১ মধ্যরাত পর্যন্ত সরকার জারিকৃত বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে প্রতিপালনের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)।

আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এআইজি (মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স) মোঃ সোহেল রানা এসব কথা জানিয়েছেন।

আইজিপি আজ বুধবার বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে ভার্চুয়ালি সকল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার ও থানার অফিসার ইন-চার্জসহ সকল ইউনিট প্রধানদের এ নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি সরকারি বিধি-নিষেধ চলাকালে সকলকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছেন। সরকা‌রি নি‌র্দেশনা অনুযায়ী জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের অনুরোধ করেন তিনি।

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সার্বিক সহায়তা প্রদানের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন আইজিপি।

করোনা জীবাণু বাণিজ্য মানব ইতিহাসের নির্মম খেলা

মোহাম্মদ আলম : পশ্চিমাদের জীবাণু ব্যবসা মানব ইতিহাসের সব থেকে নিষ্ঠুর খেলা। পরিতাপের বিষয় এই খেলায় বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ প্রত্যেকে নিজ দেশের নাগরিকদের গিনিপিগ হিসাবে ব্যবহার করতেও দ্বিধা করেনি। আর সারাবিশ্বে করোনা মহামারি জুজু ছড়িয়ে ব্যবসা ফেঁদেছে। মরার উপর খাড়ার ঘা ‘লকডাউন’। যেহেতু পশ্চিমাদের ভান্ডার অর্থ বিত্তে পরিপূর্ণ, সেহেতু লকডাউন নামে বস্তুটি তাদের জন্য কোন বিড়ম্বনা নয়। এক মাস বা বছর তাদের ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির থাকলেও কোন সমস্যা হয়নি। ভান্ডার থেকে সামান্য নিজ নাগরিকদের দ্বারে দ্বারে পৌছে দিয়ে সব ঠান্ডা রেখেছে। নাগরিকরাও খুশি বসে বসে সরকারি খানাপিনা খেয়ে। আর মাস শেষে ব্যাংক একাউন্টে নগদ প্রাপ্তিতে। সমস্যা হয়েছে দরিদ্র দেশ এবং সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য। ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দেশের অর্থনীতি তালানিতে ঠেকেছে। আর কর্ম হাড়িয়ে নাগরিকরা অর্ধাহারে অনাহারে দিন গুজরান করছে।

করোনার শুরু থেকেই ওইসব বুর্জুয়াদের ব্যবসা কিন্তু বন্ধ ছিলো না। প্রথম ব্যবসা শুরু মাস্ক দিয়ে। সম্ভবত বিশ্বের আট’শ কোটি মানুষের জন্য আট লাখ কোটি মাস্ক বানানো হয়ে গেছে। আর এই মাস্কের পুরো বাণিজ্যই পশ্চিমাদের পকেটে। বিশেষকরে করোনা বাণিজ্যে চীনের অর্থনীতি আরো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তারপর করোনা পিপিই। করোনা কিট। অক্সিজেন। আইসিইউ। সবকিছুতে পশ্চিমাদের এক চেটিয়া আধিপত্য। দরিদ্র দেশের মুষ্টিমেয় বুর্জুয়া শ্রেনী পশ্চিমাদের কিঞ্চিত দয়া দাক্ষিন্য পায় বৈকি। তবে তাদের সেই কিঞ্চিতও সুইস ব্যাংকে জমার নামে ফের পশ্চিমেই বিনিয়োগ হয়।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমের অভিযোগ ওহানের ল্যাবে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সৃষ্টি এবং সেখান থেকে বিস্তার। যদি এমনটা হয়। তবে মানতে হবে কোন যুদ্ধ বিগ্রহ না লাগিয়েও চীনের এই বাণিজ্য কৌশল তাদের জন্য লাভজনক বৈকি। এখন পশ্চিমারা এই সুযোগে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত। বলা হচ্ছে করোনা যুক্তরাজ্য ভ্যারিয়েন্ট, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্ট। তারপর এলো ডেল্টা , আলফা, ডেল্টা প্লাস। হয়ত আরো আসবে ডেস্ট্রয়, ডেঞ্জারাস নানা বিধি ভ্যারিয়েন্ট। যত ভ্যারিয়েন্ট তত ব্যবসা। যতটা না বাস্তবে তার চেয়ে অনেক গুন বেশী মানুষের মাঝে মুর্তিমান আতংক ছড়ানো হচ্ছে। এসবই ব্যবসা। এখন ওহান ভাইরাসের মাধ্যমে বিশ^ মোড়লরা চিকিৎসা কিটের রমরমা ব্যবসা ফেঁদেছে।

যুদ্ধ বিগ্রহ লাগিয়ে অস্ত্র বাণিজ্য পশ্চিমাদের বহু পুরনো খেলা। সাম্রাজ্য বিস্তারকারী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়ার সমৃদ্ধি অর্জনের হাতিয়ার যুদ্ধ ব্যবসা। সেই মধ্য যুগ থেকেই সাম্রাজ্যবাদিরা এই যুদ্ধ ব্যবসা নিজেদের সমৃদ্ধির হাতিয়ার বানিয়েছে। প্রথমে সম্পদশালী দূর্বল দেশ দখল নিয়ে লুটতরাজ চালানো হতো। অটোমান, গ্রীক, মোঘল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সোভিয়েত রাশিয়া এসব সাম্রাজ্যবাদিরা তারই নজির রেখেছে পৃথিবীতে। এর পর দৃশ্যপটে হাজির যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বাণিজ্য কায়দা একটু ভিন্ন। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ থেকেই তাদের আধিপত্য শুরু। হিটলারের নেতৃত্বে অক্ষশক্তি দমাতে তারা যুদ্ধের নামে সারা বিশ^টাকে করতলগত করে নেয়। এর পর একের পর এক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মাঝে যুদ্ধ লাগিয়ে অস্ত্র ব্যবসা করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গ দিয়েছে ইউরোপ ও লাটিন আমেরিকার দোসররা। জাতিসংঘ নামে খয়ের খাঁ সামিতির মাধ্যমে এই যুদ্ধ বাণিজ্যকে বৈধ করে নিয়েছে।

চীনও এই খেলায় কম যায় না। সব কিছু ছাপিয়ে গেছে মহামারি আকারে করোনা জীবানু বাণিজ্য। পশ্চিমাদের দাবি অনুযায়ী, যদি কোভিড-১৯ জীবাণুর চীনের কোন ল্যাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে তারা এই জীবানু বাণিজ্যে শতভাগ সফল। কারন বিশে^র সব থেকে জনবহুল দেশ হয়েও চীনে আক্রান্ত ও মৃত্যু একেবারেই নগন্য। তার মানে করোনা প্রতিরোধের সব ব্যবস্থাই তাদের ছিলো। পশ্চিমারা চীনের এই নব্য সাম্রাজ্যবাদি বাণিজ্য খেলা বুঝতে বুঝতে তাদের প্রযুক্তগত ত্রুটি জনসাধারণের সামনে ধরা পরেছে। সামান্য একটি জীবানু কোভিড-১৯ ছেড়ে দিয়েই চীন তাবত বিশ^কে নাস্তানাবুদ করেছে। চীনের সব থেকে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুই ক্ষেত্রে সবার উপরে যুক্তরাষ্ট্র। তার মানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে যতটা সুরক্ষিত ও সব্যসাচি ভাবে বাস্তবে তা নয়। তার মাঝে অনেক ফাঁকা বুলি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার নিজ দেশের জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতেই অপারগ। বিশ্বের প্রশ্নই আসে না। চীন সেদিক থেকে বেশ এগিয়ে। যুদ্ধ না করে বা যুদ্ধ না লাগিয়েও বিশ^ অর্থনীতিতে এটা চীনা মডেল বাণিজ্য। ভবিষ্যতে হয়ত পৃথিবীতে এমন আরো অনেক নতুন বাণিজ্য মডেল আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

এবার আসা যাক টিকা প্রসঙ্গে। বিশ্ব মোড়লদের করোনা বাণিজ্যের স্বরুপ আরো ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছি টিকা নিয়ে দরকষাকষিতে। একদিকে করোনা মহামারি ছড়িয়ে বিশ্ব মানবতাকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে। এখন টিকা নিয়ে বাণিজ্য মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেবার পায়তারা চলছে। টিকার ৯৫ ভাগই উন্নত ধনী দেশগুলো বুকিং দিয়ে রেখেছে। টিকা উৎপাদনে বিশে^র এক নম্বর দেশ ভারতও নিজ দেশের মানুষকে টিকা দিতে পারছে না। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য নিজ দেশের নাগরিকের সংখ্যার চাইতেও বেশী টিকা বুকিং দিয়েছে। ১২ কোটি নাগরিকের দেশ জাপান টিকা বুকিং দিয়েছে ৪৪ কোটি। যুক্তরাষ্ট্রসহ জি-৭ বলছে তারা ১০০ কোটি ডোজ টিকা অপেক্ষকৃত দরিদ্র দেশগুলোকে সরবরাহ করবে। তবে এখানে তারা শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। সবশেষ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেমনটাই বলেছেন। টিকার বিনিময়ে বিশ^ ফোরামে তাদের ভোট দিতে হবে। এটাই পশ্চিমা মোড়লদের স্বরুপ। আসতেও কাটে যেতেও কাটে।

মনে কির, করোনা ভাইরাস নিয়ে এত আতংকিত হবার কিছু নেই। বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে করোনা মোকাবেলা করেছে। এখনো করে যাচ্ছে। বিশ্ব পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট। সারা বিশ্বে এক বছরে করোনায় মারা গেছে ৩৫ লাখ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল আর ভারতেই এর প্রায় ২০ লাখ। বুর্জুয়াদের আবিস্কৃত ভাইরাসে তাদের জনসাধারণই প্রথমে হতাহত হয়েছে। তাই করোনা নিয়ে ওরাই মেতে থাক না। করোনার চাইতেও ভয়ংকর হচ্ছে সিগারেট বা মাদক। এটাওতো পশ্চিমাদের আবিস্কার। সিগারেট বা মাদক জাতীয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বছরে মারা যায় ৮০ লাখের বেশী মানুষ। পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় হত্যা হচেছ আরো লাখ লাখ মানুষ। সিগারেট বা মাদক কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। এটাকে বিশ্বের যুবক শ্রেনীর কাছে এতটাই জনপ্রিয় করা হয়েছে যে এখন আর এর জন্য বিজ্ঞাপনও দিতে হয় না। প্রতিদিন ভোক্তা এবং আক্রান্ত বেড়েই চলেছে।

সবশেষে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে সরকারের কাছে এটাই আবেদন রাখবো। আপনারাও হয়ত সবই জানেন ও বুঝেন। তবে সমাজের মতই বিশ্ব সমাজের বাহিরে কিছু করাও হয়ে উঠে না। তবে এটুকু অনুরোধ করবো। লকডাউন নামে প্রহসনে না যাওয়াই ভালো। কারন এটা এখন প্রমাণিত লকডাউন বা বিধি নিষেধ করোনা প্রতিরোধ বা বিনাশ কোনটাই করতে পারেনি। তাহলেতো আর যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি ব্রাজিলে এত মানুষ মারা যেত না। লকডাউন না দিয়ে কিভাবে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জীবন যাপনে অভ্যস্ত করা যায় তা ভেবে দেখুন। কারন বুর্জুয় গোষ্ঠি এত সহজে করোনা থেকে মানুষকে নিস্তার দেব বলে মনে হচ্ছে না। তারা নিত্য নতুন দরকষাকষি করবে। সব কিছুই বাণিজ্য। এ কথা সত্য বাংলাদেশের মানুষ করোনাকে আর ভয় করে না। আমাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর একটা কথা এখন সত্যি সত্যি যুক্তিসঙ্গত মনে হচেছ। আমরা করোনার চাইতেও শক্তিশালী।

আইজিপি’র সাথে ইউনিট প্রধানদের এপিএ চুক্তি স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সাথে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে ২০২১-২২ অর্থ বছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) আজ (মঙ্গলবার) বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কনফারেন্স রুম শাপলায় স্বাক্ষর হয়।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ, বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের ৩৬টি ইউনিটের প্রধানদের সাথে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অতিরিক্ত আইজি ড. মোঃ মইনুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ এর রেক্টর মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এনডিসি, ডিএমপি কমিশনার মোহাঃ শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি মোঃ মাজহারুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক‌টি আধুনিক প্রশাসনিক কৌশল। তিনি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, দেশ এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃংখল রাখার মাধ্যমে রুল অব ল প্রতিষ্ঠা ও অ্যাকসেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ।

আইজিপি এপিএ নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে এর লক্ষ্যমাত্রা পরিপূর্ণ মাত্রায় অর্জন এবং বাস্তবায়নের জন্য ইউনিট প্রধানদের নির্দেশ দেন। আইজিপি ব‌লেন, আপনারা অবসর গ্রহ‌নের পর নি‌জেরা সাধারণ নাগ‌রিক হি‌সে‌বে যেমন পু‌লি‌শি সেবা পে‌তে চান ঠিক সে রকম সেবা এখন থেকেই মানুষ‌কে দিন।

উ‌ল্লেখ্য, সরকারি কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এপিএ একটি সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা, যা নির্দিষ্ট অর্থ বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। বাংলাদেশ পুলিশ ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের এপিএ চুক্তিতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দপ্তর ও সংস্থা সমূহের ম‌ধ্যে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

গাজীপুরের পূবাইলে লতা হারবালের চেয়ারম্যানকে গণসংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী : গাজীপুরের পূবাইলে লতা হারবাল বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফাহিমকে গণসংবর্ধনা দিয়েছে সচেতন নাগরিক সমাজ।

গাজীপুর কর অঞ্চল-১৭ এলাকায় শ্রেষ্ট করদাতা এবং করোনা মহামারীতে এলাকায় গরীব দু:খী মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে অবদান রাখায় বুধবার বিকালে কারখানা প্রাঙ্গণে তাকে এসংবর্ধনা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৪০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আজিজুর রহমান শিরিষ। পূবাইল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক মাস্টারের সঞ্চালনায় ও লতা হারবাল বিডি লিমিটেডের কর্ণধার আয়ুব আলী ফাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন পূবাইল থানার সদ্য সাবেক অফিসার ইনচার্জ নাজমুল হক ভূইয়া, ৪১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সদস্য সচিব সুলায়মান মোল্লা, গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সদস্য রাজিবুল হাসান রাজিব, বেলায়েত হোসেন মোল্লা ও আব্দুল বাসেত বেপারী প্রমুখ। এসময় আইয়ুব আলী ফাহিমের হাতে সম্মাননা স্বারক তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে লতা হারবাল বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফাহিম বলেন, আমি এলাকার গরীব-দু:খী মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছি। শুধু লতা হারবালই নয় ভবিষ্যতে পূবাইল এলাকায় একটি গ্রুপ অব কোম্পানী করার জন্য আমরা চিন্তা ভাবনা করছি। যাতে অন্তত: কয়েক হাজার শ্রমজীবি মানুষ এখানে কাজ করে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মুক্তি দিন

মোহাম্মদ আলম : মানবতার জননী শেখ হাসিনা আপনার কাছে আবেদন রোজিনা ইসলামকে মুক্তির ব্যবস্থা করুন। ওইসব আমলাগণ দূর্ণীতি পরায়ন । দূর্ণীতি করতে করতে তাদের লোভ লালসা এতটা বেড়েছে যে এখন সরকার যন্ত্রটাই খেতে চায়। নিজেদের অপরাধ লোকাতে গণমাধ্যমকর্মীদের অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকারের মুখোমুখি দাড় করাচ্ছে। আপনি কি দেখছেন না একের পর এক আমলার দূর্ণীতির কারনে আপনার অনেক ভাল অর্জন ম্লান হচ্ছে। সাংবাদিক রোজিনাকে মুক্ত রেখে ওইসব দূর্নীতিবিদ আমলাকে কারাগারে দিলে দেশ সত্যিকার এগিয়ে যাবে।

নথি চুরির যে কারনে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা যে সাজানো তা খুব সহজেই বুঝা যায়। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়েও তিনি যেভাবে আমলাদের সাফাই গেয়েছেন তা অনভিপ্রেত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনার সরকারের গতিশীল ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছেন। তিনি বির্তক সৃষ্টি করছেন। নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা লুকাতে সাংবাদিকদের সরকারের মুখোমুখি দাড় করিয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন জেবুন্নেসার হাতে স্বাস্থ্য নামে আলাদিনের চেরাগ। যেখানে ঘষাও লাগে না কলমের খোঁচা দিলেই ধন সম্পদের নহর বয়। কই আপনার ত্যাগী নেতারা যাদের দিন রাত পরিশ্রমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তারাতো সম্পদের পাহাড় গড়তে পারেনি। আর আপনার সরকারে অধিকাংশ মন্ত্রীও বেশ সুনামের সাথেই জনসেবা করে আসছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রলায়ের দূর্ণীতি এমন পর্যায়ে পৌছেছে। আপনার হস্তক্ষেপ জরুরী।
হে বঙ্গবন্ধু কণ্যা যাদের কারনে সাংবাদিকরা রাজপথে নামার সুযোগ পায় তারা আপনার সরকারের শুভাকাঙ্খি না। সাংবাদিকরাই আপনার এবং আপনার সরকারের শুভাকাঙ্খি। রোজিনা ইসলাম বা যারাই ওইসব আমলাদের দূর্ণীতির খবর অনুসন্ধান করে বের করে। তারাতো তাদের কাজটাই করে থাকে। আমাদের কাজটাই করতে দিন।

আবারো আবেদন হে মানবতার জননী রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিন। সাবেক একজন স্বাস্থ্য সচিবের বিরুদ্ধে এই রোজিনা ইসলামই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মুখোশ উন্মোচন করেছেন। তা কিন্তু সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোজিনা ইসলাম বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিকতা করে। সরকারের ভিতরে নিভৃতে বেড়ে উঠা আমলারুপি হায়েনাদের বিরুদ্ধে। সরকার যত স্বাস্থ্যবান হচ্ছে ওইসব হায়েনারা ততই খুবলে নিচ্ছে। রোজিনারা তাদের স্বরুপ উন্মোচন করে। এটা কোনভাবেই সরকার বিরোধী কাজ হতে পারে না। আজ রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার মানে গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তার। আমরা সাংবাদিক সমাজ আজ কারারুদ্ধ।

হে মানবতার জননী আপনি একজন সাংবাদিক বান্ধব হিসাবে আমাদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার। আপনিইতো এই করোনাকালের ঈদে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিলেন। সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আপনিই আমাদের শেষ ভরসাস্থল। আপনাকে বলছি। গণমাধ্যমকে যারা সরকারের মুখোমুখি দাড় করাচ্ছে তাদের ক্ষান্ত করুন। গণমাধ্যমকে নয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মুক্তি দিন।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মেরাজ উদ্দিন মোল্লার জানাযা অনুষ্ঠিত

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেরাজ উদ্দিন মোল্লার জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুর সোয়া ২টায় নওহাটা হাইস্কুল মাঠে মরহুমের জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরআগে তাকে গার্ড অব অর্না প্রদান করা হয়। এরপর কাজীপাড়া পারিবারিক করস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

জানাযা নামাজে অংশ নেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। জানাযা নামাজের পূর্বে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন মেয়র। রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন তাঁর বক্তব্যে বলেন, মরহুম মেরাজ উদ্দিন মোল্লা সদালাপী ও মিষ্টি হাসি মানুষ ছিলেন। তাকে কখনো রাগতে দেখিনি। কারো সঙ্গে কখনো মনোমালিন্য হলে হেসে সেটি সহজেই ঠিক করে নিতেন। তাঁর এই অদ্ভুত একটা গুণ ছিল। তিনি তৃণমূল মানুষদের সাথে অত্যন্ত সহজেই মিশতে পারতেন। তাঁর চলে যাওয়ার শূণ্যতা আমাদের কষ্ট দিচ্ছে, আরো কষ্ট দেবে। তাঁর মৃত্যুতে অপূণীয় ক্ষতি হলো।

জানাযার পূর্বে স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারা, ডা. তবিবুর রহমান শেখ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ডা. শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল, জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন, জনপ্রতিনিধিবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষ।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেরাজ উদ্দিন মোল্লার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। রোববার রাতে এক শোক বার্তায় এই শোক প্রকাশ করেন মেয়র। শোক বার্তায় রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। একই সাথে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগে তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সাথে করেন রাসিক মেয়র। উল্লেখ্য, রোববার (৯ মে) রাত পৌনে ১০টায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ মেরাজ উদ্দিন মোল্লা।