×

প্রকৃতিও ঘরে রাখতে চায়

মোহাম্মদ আলম : বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই গাজীপুরের আকাশ ঘোর অন্ধকারময়। গত রাতেও থেকে থেকে বৃষ্টি ছিলো। সকাল আটটার পর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এখানেও প্রকৃতির খেয়াল। পোশাক শ্রমিকরা আটটার আগেই কারখানায় হাজিরা দেয়। তাই হয়ত অন্ধকার হয়েও বর্ষেনি। এখন বৃষ্টি হচ্ছে। যাদের কাজ নেই ঘরে থাকাই বাঞ্ছনীয়। সরকারী লকডাউন, প্রকৃতির বৃষ্টি আর ভাইরাস সংক্রমণের উর্দ্ধমুখী পরিস্থিতি সবকিছুই মানুষকে ঘরে রাখার পক্ষে।

সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউন। সরকারের উদ্দেশ্য মানুষকে ঘরে রাখা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ। গুচ্ছ বিস্তার রোধ করা। মানুষকে মৃত্যুর বিভিষিকা থেকে পরিত্রাণ। প্রকৃতির এতে সাঁয় রয়েছে। তাইতো সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। প্রত্যাসা করছি এভাবে সাতদিনই থাক।

এমনিতেও বৃষ্টিতে বের হওয়া সমিচিন না। সামান্য বৃষ্টিতে সর্দি জ¦র হতে পারে। আর সর্দি জ¦র মানেই ভয়। এখন সিজনাল জ¦র সর্দি হলেও কিন্তু পরিবার ও স্বজনরা আড়েঠাড়ে তাকায়। এই বুঝি করোনা ধরেছে। তাই স্বজনদের বাঁকা নজর এড়াতে ঘরে নিরাপদে থাকাই ভালো।

বর্ষা ঋতু সব সময় রোমান্টিক। কবি সাহিত্যিকগণ নিশ্চয়ই খাতা কলম নিয়ে বসে আছেন। কখন একটা পঙক্তি আসে। আর বই প্রেমিকের জন্য এ যেন স্বর্গ হাতে পাওয়া। প্রিয় বই হাতে এক কাপ গরম কফির চুমুকে চোখ বুলাতে আনন্দই অন্যরকম। আর যাদের এইসব অভ্যেস নেই নিদেন পক্ষে টিভি দেখা যেতে পারে। তবে অবশ্যই কোন রুচিশীল ছবি। ইংরেজি- রোমান হলিডে, ক্লিউপেট্টা, ট্রয়, পারফিউম; হিন্দি-মাদার ইন্ডিয়া, মোঘল -ই- আজম, আন, কেয়ামত সে কেয়ামত, বাংলা উত্তম সুচিত্রার যে কোন রোমান্টিক ছবি এই বৃষ্টিতে ভাল লাগবে।
এসবও যদি মনে না ধরে তবে বাচ্চাদের নিয়ে লুডু খেলতে পারেন। গোল্লা ভরাটও বাচ্চারা খুব পছন্দ করে। তবে ইচ্ছাকৃত হারতে ভুলবেন না। বাচ্চারা খুশি হবে।

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি মানেই বাঙালি রসনার বাহার। ভুনা খিচুরী সাথে থাকবে ভর্তা। কালোজিরা, কাঠাল বিচি, ধনিয়া পাতা, শুটকি, চ্যাপা আর বেগুন পুড়া। তবে গরুর মাংস ভুনা বা ইলিশ মাছা ভাজা হলেতো কথাই নেই। চলুন গিন্নির সাথে হাত মিলাই। অথবা আজ না হয় পরিবারের সবাইকে নিজের রাধুনী দক্ষতার প্রমান দেই। লবন চেখে দিতে ভুলবেন না। আমার অভিজ্ঞতা খুব একটা ভাল না। ঢেড়শ ভাজিতে পানি দেবার ঘটনা ছোট মেয়ে প্রায়ই বলতে বলতে হেসে কুটি কুটি হয়। আর সব তরকারিতেই গরম মশলা আমার দেয়া চাই। তা সে কাচকি মাছ বা রুই হোক। আর মাংস মানেই গরম মসলাদার হতে হবে। এটাতেও মেয়েদের কথা শুনতে হয়। কি আর করা। আমি এটাই চাই। একটু ব্যতিক্রম করে আনন্দ দেয়া আরকি। যা হোক লকডাউন উপভোগ করুন।

এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশীকে ভুলে যাবেন না প্লিজ। যাদের ঘরে খাবার আছে। তাদের এমন অনেক কিছুই ভাল লাগবে। আর যে মানুষের ঘরে খাবারই নেই তার কাছে এইসব কথা অর্থহীন। পরিহাস মাত্র। আমরা যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীর খোঁজ নেই। তারা কেমন আছে। কি খাচ্ছে। অন্তত রান্না খাবার থেকে হলেও অপেক্ষকৃত দরিদ্র প্রতিবেশীর পরিবারে কিছু পরিমান পাঠিয়ে দেয়া যেতে পারে। বিশেষভাবে পরিবারের গিন্নিরা প্রতিবেশীর খোঁজখবর ভাল জানে। তাদের কাছে যেনে নিতে পারেন। বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ যেন দরিদ্র মানুষের পাশে থাকে। এটাতো কেবল রাজনীতিবিদদের কাজ না। মানুষ হিসাবে প্রতিবেশীর খবর রাখা আমাদের প্রত্যেকের সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা আরো মানবিক হই। আমরা আরো সামাজিক হবো। সবাই একসাথে আগামীর পথে এগিয়ে যাবো। এই হোক প্রত্যাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *