×

লক্ষ্মীপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগে ২ জন গ্রেফতার

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরে হাজিরপাড়াতে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত মো. সোহেল (৩২) ও সোহেল হোসেন (৩৫) নামে দুই জনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত মো. সোহেল ওই এলাকার মৃত আবিদ মিয়ার পুত্র এবং সোহেল হোসেন একই এলাকার মৃত নুর ইসলামের পুত্র। ভিকটিম নারী (২৪) হাজিরপাড়া ইউনিয়নের উত্তর চন্দ্রপুর গ্রামের হাসমত আলী মাষ্টার বাড়ির মালয়েশিয়া প্রবাসী ওমর ফারুকের স্ত্রী।

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে স্বামীর বাড়িতে চার বখাটের হাতে গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। এদিন বিকেলে ভিকটিম বাদি হয়ে অভিযুক্ত চার জনের বিরুদ্ধে চন্দ্রগঞ্জ থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে ফজলুল হক জানান, গভীর রাতে চার বখাটে ওই গৃহবধূর স্বামীর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় মামলা হলে বুধবার সকালে হাজিরপাড়ার উত্তর চন্দ্রপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। বাকীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। জেলা সদর হাসপাতালে ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত বখাটেরা ভিকটিম গৃহবধূর প্রতিবেশী। দীর্ঘদিন থেকে তারা গৃহবধূর ওপর কু-নজর রাখে। ঘটনার রাতে সে স্বামীর বাড়িতে একাই ছিলো। এ সুযোগে বখাটেরা বাড়ির ছাদের উপর দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

স্বাধীনতার কথা শুনি এবং আমার স্বাধীনতা

মোহাম্মদ আলম :  ‘‘আমি একজন আরব, আমি গোত্রপরিচয়হীন, আমি রোগাক্রান্ত এমন একটি দেশে, যেখানে সবকিছু বাঁচে ক্রোধের ঘূর্নিস্রোতে।’’

ফিলিস্তিনি নোবেল লরিয়েট কবি মাহমুদ দারবিশের কবিতা। স্বাধীনতা কি ? একজন পরাধীন মানুষ সব থেকে বেশী উপলব্দী করে। মাহমুদ দারবিশের কবিতায় আমৃত্যু কেবল উদগ্র স্বাধীনতার আকাঙ্খা ঝড়েছে। তিনি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তিনি বিশ্বের দরবারে ছুটে বেড়িয়েছেন নিজের এবং স্বজাতির স্বাধীনতার দাবিতে। তিনি দিনের পর দিন, যুগ যুগ লিখনির মাধ্যমে বিশ্ব বিবেককে শুনিয়েছেন মনোকষ্টের কথা। পরাধীনতার গ্লানি হৃদয়ে পুষেই তিনি গত হলেন। এখন তার সন্তান স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত। ‘‘আমি শুধাই; ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ, এ-কথা কি সত্য যে মানুষের এই মাটির পৃথিবী, সব মানুষেরই জন্য ? কবির এই প্রশ্নের উত্তর অধরা। আমি স্বাধীন। আমার পিতা মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে যুদ্ধ করেছেন। আমি গর্বিত। স্বাধীন বাংলাদেশ আমার ঠিকানা।

স্বাধীনতার কথা মুক্তিযোদ্ধার জবানীতেই ভাল শুনায়। আমার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর নাম মোহাম্মদ আলী। তিনিও গত হয়েছেন। কিন্তু তিনি আমাকে দিয়েছেন স্বাধীনতা। আমি তার মুখ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা শুনতে শুনতে বেড়ে উঠেছি। তার মুখ থেকেই আমি অনেকবার শুনতে চাইতাম কিভাবে তিনি শহীদ ফাদার উইলিয়াম ইভন্সের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তিনি আবেগ জড়িত কন্ঠে বলতেন, ‘‘পাক হানাদার বাহিনী ফাদারকে গুলি করে হত্যা করে। লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। চারদিকে ছড়িয়ে পরে সেই খবর। তিনিও তা জনতেন। দুইদিন পর নদীর কয়েক মাইল ভাটিতে বাহ্রা ঘাটে ভেসে উঠে লাশ। খবর পেয়ে তিনি ও ময়নাল নামে তার বন্ধু দেখতে যান। তখন এই খবর দশ বারো মাইল দূরবর্তী গোল্লা চার্চে জানানোর সাহস কারো হচ্ছিল না। তারা দুই বন্ধু জীবনের ঝুকি নিয়ে পায় হেটে বিকেলে গোল্লা গীর্জায় ফাদারের মরদেহ পাওয়ার খবর দেন। তখন গীর্জা থেকে আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সেইদিন রাতে ফাদারের মরদেহ উদ্ধার করে গীর্জায় আনেন।’’ আমি গোল্লা গীর্জার রেকর্ড বইয়ে নিজ চোখেও দেখেছি সেদিনের ঘটনার বর্ণনা। আমি আবেগে আপ্লুত হয়েছি। আমার পিতাকে নিয়ে গর্ব হয়েছে। তারপর আমার পিতা ভারতে এক মাসের প্রশিক্ষণ নেন। তিনি যুদ্ধ করেছেন। আমাকে আরো শুনিয়েছেন, পাকিস্তানিরা কি আচরণ করেছে। আমার পিতার জন্য আমি গর্ববোধ করি। আমি প্রার্থনায় সৃষ্টিকর্তার কাছে পিতার জন্য বিশেষভাবে আবেদন করি। তিনি যেন পরলোকে উত্তম পুরস্কার লাভ করেন।

কবির কবিতায়ও স্বাধীনতার মর্মার্থ উপলব্দি সহজ । আর যারা কবি এবং মুক্তিযোদ্ধা। সেইসব মুক্তিযোদ্ধা কবিতার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে জীবন্ত জীবাস্মের মত রুপ দিয়েছেন।

কবি রফিক আজাদ যুদ্ধ করেছেন। কবিতায় ঘোষণা করেছেন স্বাধীনতার কথা। ‘‘নেবে স্বাধীনতা? -নাও তোমাকে দিলাম সবুজ সংকেতময় নীল পাসপোর্ট- সুনিশ্চিত স্বাধীনতা, নেবে স্বাধীনতা? -নাও তোমার দু হাতে তুলে দিচ্ছি পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের ভিতরে যা- কিছু- জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে-সবকিছু তোমার, তোমার।’’

আত্মবিশ্বাস! গর্ব ! এবং একজন স্বাধীন মানুষের তৃপ্ত হৃদয়ের কথা। আমার স্বাধীনতার জন্য এইসব বীর মুক্তিযুদ্ধাদের কাছে আমি চিরঋণী। আমি উপলব্ধি করি আরো বেশী বেশী স্বাধীনতার কথা শুনতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে শুনতে হবে। স্বাধীনতার কবিতায় জানতে হবে। যতবেশী শুনবো যতবেশী জানবো। আমার দেশপ্রেম সমৃদ্ধ হবে। আমি বুঝবো আমার স্বাধীনতার মূল্য। দেখুন আমি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে বলছি-

‘‘আমি স্বাধীন।
আমি চিৎকার করি।
আমি হাসি।
আমি দিগ¦বিদীক ছুটে বেড়াই।
আমিই আমার নিজের আঙুল তুলি।
আমি মুক্ত মনে ভাবি।
আমি নিরুদ্বিগ্নভাবে লিখি।
নিজের ইচ্ছায় শশ্রু পরিপাটি করতে পারি।
আমার পরিচয় বাংলাদেশী।’’

এই যে আমি আমার স্বাধীনতার কথা বলছি। বঙ্গবন্ধুর জন্য। আমার পিতার জন্য। মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য। আপনাদের সহস্র সালাম।

মাৎস আড়তে চাঁদাবাজি বন্ধ হোক

মোহাম্মদ আলম : চাঁদাবাজের কোন রকমফের নেই। চাঁদাবাজের কোন স্থানকালও থাকে না। সুযোগ পেলেই আকাশে-পাতালে, জলে-স্থলে সবখানে সে চাঁদাবাজি করবে। এটাই তার চরিত্র।

লক্ষীপুরের রায়পুরে ৯টি মাছের আড়তে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে মূল ইজারাদারের পাশাপাশি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ শতকরা ৮ টাকা চাঁদা নিচ্ছে। জেলেরা ভয়ে কিছু বলতে পারে না। আর প্রশাসন নিরব। মূল ইজারাদারগণও মুখে কুলুপ এটেছে। এভাবে চলতে পারে না।

জেলেদের ভাষ্য, পুরানবেড়ির ঘাটটিতে মাষ্টারের সঙ্গে আলাদা টেবিল রয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা খালেদ দেওয়ান, ওসমান খানের টেবিল, আওয়ামীলীগ নেতা মফিজ খাঁনের টেবিল, রতন হাওলাদারের টেবিল, বাচ্চু খাঁনের টেবিল। উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইজ উদ্দিন মোল্লা ও আওয়ামীলীগ নেতা বাবুল সরদারের মালিকানায় একটি। দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মনির হোসেন মোল্লা ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লার মালিকানায় পৃথক দু’টি মাছঘাট রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল রাহুলের মালিকানাধিন নতুন মাছঘাট ও যুবলীগ নেতা দিদার মোল্লার মালিকানাধীন টুনুরচরে মোল্লা মাছঘাট।

আমাদের প্রতিনিধি বেশ কিছুদিন অনুসন্ধান করে চাঁদাবাজির সত্যতা পেয়েছে। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সহযোগীতা থাকে। বিনিময়ে তারাও কমিশন নেয়। তবে এক্ষেত্রে অনুসন্ধান চলছে।

চাঁদাবজি বন্ধ হোক। এটাই সবার প্রত্যাসা। শুধুমাত্র চাঁদাবাজ ছাড়া সবারই এক কথা। আমাদের প্রত্যাসাও তাই। প্রান্তিক এইসব জেলেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করে। এই অর্থে হয়ত তার চাল-ডাল কেনা হবে। সন্তানের ভরন পোষন হবে। পিতা-মাতার ভরন পোষন হবে। কে যানে এসব হয়ত ঠিক মত করতে পারছে না জেলেরা।

এই করোনাকালের ভয়াবহতায়ও মানুষের লোভ কমেনি। মানুষের মিথ্যা অকাংখা দমেনি। চাঁদাবাজ আর উৎকোচ চক্র সমানে সক্রিয়। সমাজ ব্যবস্থায় আরো কঠোরতা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকেও আরো কঠোর হতে হবে। তবে আইন হাতে তুলে নেব না। এই পণ করা যেতে পারে। আজ থেকে সব জেলে এক হয়ে আর চাঁদা দেব না। আপনাদের কষ্টের আয় আপনারাই ভোগ করুন।

কালোজিরায় করোনা মোকাবিলা সম্ভব ! বলছেন বিজ্ঞানীরা!

ডেস্ক রির্পোট : কালোজিরা হতে পারে করোনার ওষুধ! ভাবতে অবাক লাগলেও এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম নাইজেলা স্যাটিভা। এটি বছরের পর বছর ধরে উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার নানা দেশে সংক্রামক অসুখ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উচ্চ রক্তচাপ, অ্যালার্জি, ত্বকের সংক্রমণ কমাতেও এর জুড়ি নেই।

সিডনির একটি সমীক্ষা বলছে, এতে রয়েছে থাইমোকুইনোন নামে একটি উপাদান, যা করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। এই উপাদানটি করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনের সঙ্গে আটকে যায়, ফলে ভাইরাসটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটাতে পারে না।

এ ছাড়া করোনা রোগীদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক যে ‘সাইটোকাইন স্টর্ম’, সেটিও আটকে দিতে পারে কালোজিরা। আর সেই কারণেই করোনা চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছে এটি।

তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওষুধ তৈরির উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সমস্যা কাটানো সম্ভব। তখন ওরাল মেডিসিন হিসেবেও এটি নেওয়া যাবে। তবে এখন পর্যন্ত রোগীদের নাকের স্প্রে হিসেবেই এর ব্যবহার হয়েছে।

প্রাণহীন এই শহরের ইতিকথা

মোহাম্মদ আলম : ভোরে ঘুম থেকে জেগে আর মা’য়ের ডাক শুনিনা। মনটা ভারাক্রান্ত হয়। ভারাক্রান্ত মনেই স্মরণ করি আমৃত্যু যেন এভাবে মায়ের কথা মনে পরে। হৃদয়ে অনুভুত হয়। স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেক মা’ই প্রত্যাসা করেন তার সন্তান ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় কিছু হোক। আমার সহজ-সরল মা কখনো সেসব কিছু বলতেন না। ছোট বেলায় আমার মা প্রায়ই আমাকে বলতেন, ‘মানুষের মত মানুষ হ’। মা’ ছাড়া পৃথিবী ক্রমশই আমার হৃদয়ে প্রাণহীন লাগছে। মা আমাকে ক্ষমা করো। হে রহমতের মালিক পরোয়ারদিগার আমার মাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।

এক সপ্তাহ পূর্বে মা’য়ের ইন্তেকালের পর খুব অসহায়ত্ব বোধ করছিলাম। তখন সর্বাগ্রে গাজীপুর সিটি মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সান্তনার বাণী নিয়ে পাশে থেকেছেন। যখন আমি করোনা আক্রান্ত হয়ে গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। তখনো কিন্তু জানতে পেরে গাজীপুর থেকে মেয়র মহোদয় আমার সাথে কথা বলে খবর নিয়েছেন। প্রতিদিন কোন না কোন খবরের কাগজে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের খবর দেখে অভ্যস্ত। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ক্রল করলেই ভেসে উঠে মেয়রের কর্মকান্ডের চিত্র। কখনো ভিডিওতে দেখা যায় তিনি রাস্তায় বোল ডোজার চালাচ্ছেন। কখনোও বা ড্রেনে উকি দিয়ে দেখছেন। চারদিকে তার নজর। একজন প্রকৃত অভিভাবক যেমন সংসারের সব খবরা-খবর রাখেন। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমও তেমনি এই মহানগরের রাখেন।

গত কয়েকদিন যাবৎ মেয়র মহোদয় করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিরচেনা এই মহানগর কেমন যেন প্রাণহীন। গাজীপুর নগরের রাজপথে প্রাণের চাঞ্চল্য থমকে আছে। সবাই আছে। সবকিছু চলছে। কেন যেন মনে হচ্ছে । এই শহরের প্রাণ নেই।

মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন মানুষের মাধ্যমেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন করেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসাবে জাহাঙ্গীর আলম যখন অলিতে গলিতে বিচরণ করেন। তখন শুধুই একজন মানুষের পদচারণা বলে প্রতিয়মান হয়। কিন্তু ভুমি তার সন্তানকে কতটা আপন করে নিতে পারে কেবল তার অনুপস্থিতিতেই অনুধাবন হয়। আজ যখন তিনি কিছুদিনের জন্য ঘরে আছেন। তখন এই মাটি খাঁ খাঁ করছে তার প্রাণের স্পর্শের জন্য। গাজীপুরের সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখেই তা প্রকাশিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সংস্পর্শের কাতর আহ্বান। মেয়র মহোদয়ের পদচারনায় মুখরিত হবে এই জনপদ। এটাই সবার প্রত্যাসা।

জাতীয়তার প্রতীক- শতাব্দী আলম

হে পিতা
আঁখি অশ্রুসিক্ত হয়
যখনই শুনতে পাই ঐ বাঙালি মেশানো কন্ঠের সাড়া
‘‘তোমরা আমার ভাই— তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থেকো –’’
এসো ভাইয়ে ভাইয়ে দেশ গড়ি
আজ স্বাধীন আমরা।

আর কোন ডাকে এমন শিহড়ণ জাগে না
আর কোন বাণিতে এমন অশ্রু ঝড়ে না
এমন প্রেমিক বাঙালি আর পাবে না
হৃদয় পূর্ণ করে তোমার দেশপ্রীতির এক ছবক
জাতীয়তার প্রতীক হে জাতির জনক।

তুমি নহো কোন দলের
তুমি ভোরের সূর্য তুমি বাঙালি তুমি বিশে^র
প্রতিটি রন্ধ্রে বাংলা মেশানো
প্রতিটি অন্ত্রে বাংলা জড়ানো
নিংড়ে দেখো
বাঙালির হৃদয়ে তুমার মুর্তি বসানো।

তোঁমারই কথা
বাঙালি মরতে জানে
বাঙালি গড়তে জানে
তোঁমাকেও গড়েছে তার অন্তরের অন্তঃস্থলে
মঙ্গল যাত্রার সকল প্রশংসা তোঁমার পদমূলে।

চলমান নি‌ষেধাজ্ঞায় শিক্ষক-স্টাফদেরকে কর্মস্থ‌লে আসতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশ; ব্যবস্থা নিলো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : চলমান লকডাউনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শিক্ষক ও স্টাফদের কর্মস্থলে আসার নির্দেশ দেয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি আদেশ মানে চলতে বাধ্য করেছে পুলিশ।

আজ ৩ আগষ্ট রাজধানীর ধানমন্ডি থানা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

এআই‌জি (মি‌ডিয়া এন্ড পাব‌লিক রি‌লেশন্স) মোঃ সোহেল রানা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত একটি খ্যাতনামা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত একটি ইমেইল বার্তায় উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক ও স্টাফকে স্বশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে নিয়মিতভাবে তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করত নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যারা বাড়িতে বসে অনলাইনে অফিস করবেন তাদের বেতন কাটা হবে। তবে, যারা স্ব-শরীরে কর্মস্থলে হাজির হয়ে অফিস করবেন তাদেরকে পুরো বেতন দেয়া হবে। এ ধরনের একটি ইমেইল বার্তা বাংলাদেশ পুলিশের মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইংয়ের হাতে আসে। সরকারি নির্দেশ অমান্য করে কর্মচারী ও স্টাফদেরকে এ ধরনের বার্তা দিয়ে তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করে কর্মস্থলে আসতে বাধ্য করা আইন বিরোধী।

তিনি জানান, ০৩ আগষ্ট ২০২১ খ্রি: দুপু‌রে এই বার্তাটি পাওয়ার পর মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং তা কলাবাগান থানার ওসি পরিতোষ চন্দ্রকে প্রেরণ করে ব্যবস্থ নিতে বলে। ওসি কলাবাগান তার একটি টিমসহ কলাবাগানে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ব্রাঞ্চ পরিদর্শন করে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস ধানমন্ডি থানার অধীনে এবং সেখান থেকেই ‌বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের সকল ক্যাম্পাস‌কে নির্দেশটি দেয়া হয়েছে। এরপর, ওসি ধানমন্ডি মোঃ ইকরাম আলী মিয়া, পিপিএম কে বিষয়টি জানিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া মিডিয়া এন্ড পাবলিক রিলেশন্স উইং।

ওসি ধানমন্ডি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন এবং তাদের অফিস কর্তৃক প্রেরিত ইমেইল বার্তার বিষয়ে জানতে চান। পুলিশের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল বুঝতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে নতুন একটি ইমেইল বার্তায় পূর্বের আদেশ তুলে নিয়ে সকল স্টাফ, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের কার্যক্রম চলমান রাখতে অনুরোধ করেন।

 

করোনাকালের জীবন, আবুল কাশেমের সুখের ঘরে অভাবের আনাগোনা

মোহাম্মদ আলম : ৪৮ বছর কেটে গেলো। খবরের কাগজ বিলি করাই তার পেশা। যিনি অল্পতে সন্তুষ্ট থাকতে পারেন তার চেয়ে সুখি কেহ নাই। ৬৮ বছরের আবুল কাশেম তেমনই একজন সুখি মানুষ। প্রতিদিন শ’দেড়েক খবরের কাগজ আর গোটা কয়েক ম্যাগাজিন বিক্রিতেই তার সংসার ৬৭ বছর বেশ চলেছে। বাঁধ সেধেছে এই করোনা মহামারি। তার সুখের ঘরে কষ্টের হাতছানি।
‘এইটার প্রতি আমার একটা মমতা আছে। এখন আর চলতাছে না। কষ্ট হয় চলতে। দৈনিক পত্রিকা বিক্রি ২৫ পার্সেন্টে আইসা পরছে।’ জয়দেবপুর পৌর মার্কেটে সামনে খবরের কাগজের হকার আবুল কাশেম সকলের চেনা মুখ। একটি লোহার র‌্যাকে থরে থরে পেপার ও টেবিলে কিছু ম্যাগাজিন সাজিয়ে এই করোনাকালেও প্রতিদিন বসেন। অশ্রুসজল নয়নে এভাবেই করোনাকালে নিজের কষ্টের কথা ব্যক্ত করছিলেন আবুল কাশেম।

করোনায় প্রান্তিক মানুষের ক্ষতিটাই বেশী। এইসব মানুষ ফজরের পর জীবিকার উদ্দেশ্যে বের হন। সারাদিন খেটে কিছু রোজগার হলে সন্ধায় পরিবারের কাছে ফেরেন। এটাই তাদের জীবন। কিন্তু করোনা মহামারি এইসব মানুষদের বেঁচে থাকার অবলম্বনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এইসব অল্পতে সুখি মানুষদের একটা বৈশিষ্ট হচ্ছে মজুর তার মজুরের কাজ নিয়েই থাকে, রিক্সা চালক কেবলই প্যাডেল ঘুড়ায় অথবা কৃষক তার মাঠে কাজ করাকেই উত্তম মনে করে। দিন শেষে তিন বেলা খাবার জুটলেই তারা খুশি। কিনতু করোনা মহামারিতে তাদের সুখের ঘরে আগুন লেগেছে। না পরছে অন্য কিছু করতে। আর হাত পাতার অভ্যাস তাদের একদমই নেই। করোনাকালে এইসব মানুষদের অনেক কষ্ট যাচ্ছে। জয়দেবপুরের সব থেকে জৈষ্ঠ্য খবরের কাগজের হকার মোঃ আবুল কাশেম তাদেরই একজন।

একজন মানুষ সৎভাবে জীবন যাপন করলে তার সমাজ জীবনে কত সাফল্য ধরা দিতে পারে আবুল কাশেম তার জ¦জল্যমান দৃষ্টান্ত। নিজের অক্ষরজ্ঞান নাই। তবে তিন ছেলেকেই উচ্চ শিক্ষিত করেছেন। বড় ছেলে মাষ্টার্স শেষ করে নিজেই ফটো কম্পোজের দোকান চালায়। মেঝ ছেলে অনার্স পাশ। ছোটটা অনার্স পরে। পরের দুই জনই পোশাক কারখানায় চাকুরী করে। ছেলেরা তাকে বরাবরই কাগজ বিক্রি করতে নিষেধ করে। কিন্তু তিনি কারো কথা শুনেন না। খবর বিলি কেবলই তার রোজগারের নেশা না, এটার সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক। আবেগে ধরে আসা কন্ঠ সে কথাই জানান দেয়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আবুল কাশেমের আদি নিবাস। যুদ্ধের পরের বছরই রাজধানীর শাহাজাহান পুর এলাকায় খবরের কাগজ বিক্রি শুরু করেন। কয়েক বছর ট্রেনে খবরের কাগজ বিলি করতে করতে শ্রীপুর কাপাসিয়া পর্যন্ত যেতেন। ১৯৮৭ সালে গাজীপুরে চলে আসেন। ঘুরে ঘুরে বাড়ি বাড়ি পৌছে দিতেন খবরের কাগজ। ৭/৮ বছর হলো পৌর মার্কেটের সামনে থিতু হয়েছেন। মাঝে কত কিছু ঘটে গেলো। কত পরিবর্তন। সুখি আবুল কাশেম আনন্দের সাথে সব ভালমন্দ খবর বিলি করেই গেছেন। তার মাঝে কোন পরিবর্তন নেই। পরিবর্তন নিজের ঘরেও হয়েছে। উচ্চ শিক্ষিত ছেলেরা হকার পিতার কাজে একটু লজ্জা বোধ করে। কিন্তু আবুল কাশেম একই রকম। অর্থের লোভ, উচ্চাকাঙ্খা, ভোগ বিলাশ বা হিংসা কোন কিছুই তাকে প্রলুব্ধ করতে পারেনি। তিনি খবর বিলির মায়ায় জীবন কাটিয়ে দিলেন।

সরকার অথবা আমাদের মত পেশাজীবিদের অনেক সমস্যার মাঝে একটি হচ্ছে নীচের দিকে না তাকানো। আমরা(আমিও) ভোর হলে খবরের পেছনে ছুটি। আমাদের পিএম বিট, সচিবালয় বিট, স্বাস্থ্য বিট বা এমন অনেক বিট আছে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বিট নেই। অথবা কৃষক বিট নেই। আমরা কিন্তু প্রতিদিন মেয়র, মন্ত্রী, ডিসি, কমিশনারদের খবর খুঁজি। আবুল কাশেমদের খবর খুঁজি না। অথচ দেখুন দেশের এইসব প্রান্তিক মানুষদের সংখ্যাটাই বেশী।
যদি সুখি জীবনের কাহিনি খুঁজেন তবে এইসব মানুষদের মাঝেই সুখের ঝলক পাবেন। সেই ছাত্র জীবনেই পড়েছি, ‘সুখি মানুষের জামা থাকে না’। আবুল কাশেমের মাথা গোজার ঠাই নাই। ভাড়া থাকেন। আবুল কাশেম ৪৮ বছর রোজগারে এক টুকরো মাথা গোঁজার ঠাই বানাতে পারেন নি। কিন্তু বেশ জোড় দিয়েই বললেন, ‘বাবা আল্লায় সুখেই রাখছে’। এটাই তার মনের কথা। সুঠাম দেহ আর শশ্রুমন্ডিত হাসি মাখা মুখ সে কথাই জানান দেয়।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কোন পরিসংখ্যান নেই। সম্প্রতি গাজীপুরের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তাদের কাছে তাতি বা কামারের পরিসংখ্যান নেই। হয়ত হকারেরও নেই। এটা থাকা উচিত। দেশ উন্নত হচ্ছে। উন্নয়নের পথে শুধুমাত্রই কি বড় বড় দালান কোঠা আর পিচ ঢালা পথের অবদান। এইসব প্রান্তিক মানুষের কি কোন অবদান নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আচরনে তেমনই মনে হলো। তাদের কাছে কারখানার হিসাব আছে। বড় বড় অট্রালিকার হিসাব আছে। বিপনি বিতানের হিসাব আছে। কিনতু এইসব অট্রালিকা শ্রমিক, কারখানা শ্রমিক আর হকারের হিসাব নেই। আমাদের এই উন্নয়ন টেকসই হবে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য সব শ্রেনী পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।
আবুল কাশেম অথবা মনিন্দ্র কর্মকার হচ্ছেন সুখি জীবনের পাঠ। জীবনে সুখি হতে হলে নিজের কাজকে ভালবাসতে হবে। তারা যেমনটি করেছেন। আবুল কাশেমদের মত নিজ নিজ কাজ সততার সাথে সঠিক ভাবে সম্পন্ন করলে সমাজে কোন সমস্যাই থাকতো না। করোনা মহামারিতেও কোন সমস্যা হতো না। আবুল কাশেমের পথই দেশ ও দশের মঙ্গল পথ।

 

 

হেলেনার হেলে পড়া রাজনীতিবিদের সুদিনের বার্তা কি ?

মোহাম্মদ আলম : রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে। i will make politics dificult for the polititian. স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান একথা ঘোষণার মধ্য দিয়ে এমন অশুভ খেলা শুরু করেছেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে আমলা এবং ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে নামানোর এই খেলায় চরম মূল্য দিচ্ছে জাতি। ফেইসবুক লাইভে এসে হেলেনার দাম্ভিক আচরন এর সবশেষ নজির।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে লালিত আওয়ামী লীগ সেইক্ষেত্রে কিছুটা হলেও লাগাম টেনেছে। আশার কথা বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ওইসব দূর্বৃত্ত্বদের টুটি চেপেছেন। নিরবে নিভৃতে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় আশ্রয় প্রশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পাপিয়া-হেলেনা চক্র কারাগারের চার দেয়ালে পাপের পায়শ্চিত্ত ভোগ করছে।

তবে এই অশুভ চক্রের গুটি কয়েকজন কারাগারে বন্দি করার মানে রাজনীতির শুদ্ধাচার নয়। রাজনীতিতে বেড়ে উঠা ত্যাগীদের রাজনীতিতে জায়গা করে দিতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে বাধ্য। শাস্ত্রে আছে, ‘বন্যেরা বনে সুন্দর’। ব্যবসায়ী ব্যবসা সঠিকভাবে করলে জাতি লাভবান তথা বিত্তশালি হবে। শিক্ষক তার শিক্ষকতায়ই সঠিক সেবা দিলে জাতি শিক্ষিত হতে পারে। আর উন্নত জাতি গঠনের প্রধান শর্ত হচ্ছে জনসাধারণকে শিক্ষিত হিসাবে গড়ে তুলা। একজন মুচিও কিনতু সেবা দিচ্ছে। একজন সাংবাদিক বা সাহিত্যিককে তার লেখালেখি নিয়েই থাকা উচিত। মসজিদের ইমামও এখন রাজনীতি ছাড়া কথা বলেন না। এর কি প্রয়োজন আছে ? মোদ্যা কথা যে যে পেশায়ই থাকুক না কেন নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই কিনতু জাতির সেবা দিতে পারে। এখানে সবাই রাজনীতিবিদ সাজতে চায়। দেখা যাচ্ছে পত্রিকার সম্পাদক বা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকও এমপি হবার দৌড়ে ছুটছেন। অপরদিকে রাজনীতিবিদকেই বা কেন ব্যবসায় নামতে হবে। ভাসানি, বঙ্গবন্ধু কি ব্যবসা করেছেন। যদি অর্থ বানানোই লক্ষ্য হয় তবে শুরু থেকেই ব্যবসা করুন। ঠিকাদারি করুন। রাজনীতি কেন কলুশিত করছেন। আর রাজনীতি করতে হলে আদর্শ মেনেই করা উচিত। অঢেল ধন সম্পাদের মালিক হতে চাইলে রাজনীতিতে আসেন কেন! রাজনীতির আদর্শ হচ্ছে সেবার ব্রত।

এ কথার পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি তুলে ধরা যাবে। আমি সহজ ভাষায় বুঝি। যার যা কাজ সে তাই করুক। এটাই প্রকৃতির খেয়াল। অন্যথা হলেই পরিণতি ভয়াবহ। লাইভে হেলেনার ওই কথাই ঠিক থাক। ‘‘আমি দেখিয়ে দেব দলে না থেকেও মানুষের সেবা করা যায়’। হেলেনা আপনি তাই করুন। রাজনীতিতে তারাই থাক যারা শুরু থেকে মাঠে ময়দানে রাজনীতি করেছেন।

বাংলাদেশে আদর্শ রাজনীতি বা ত্যাগী রাজনীতিবিদের অভাব নেই। প্রতিটি এলাকায় এমন অসংখ্য মানুষ আছে। যারা নিজের খেয়ে দিন শেষে মানুষের সেবার ব্রত নিয়েই রাজনীতি করছেন। ওইসব দূর্বৃত্ত্বদের জাতাকলে ত্যাগীরা কুনঠাসা। শুধুমাত্র হেলেনা পাপিয়া বা সম্রাট নামের দূর্বৃত্তদের সরালেই হবে না। তাদের শুন্যস্থানে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা উচিত। তবেই রাজনীতিতে শুদ্ধাচার তরাণি¦ত হবে।

সাম্প্রতিককালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তেমনটাই করছেন। ঢাকা , কুমিল্লা বা সিলেটের উপ-নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে তা প্রকারন্তরে জনসাধারণ উপকৃত হবে। রাজনীতি রাজনীতিবিদের হাতেই থাকবে।

দুঃসময়ে মানুষের পাশে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

মোহাম্মদ আলম : বিশ্বব্যাপি মানুষের চরম দুঃসময়। জনবহুল এবং শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর সিটিতে অসহায় মানুষের হাহাকার যেন আরো বেশী চোখে পরে। পথে পথে পোশাক শ্রমিকের আন্দোলন। বেসরকারি শিক্ষকদের আহাজারি। আর রোজি খাটা মানুষের হাহাকারে আকাশ ভারি হয়ে উঠে। আরও একবার এই চরম দুঃসময়ে ওইসব মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। সবাইকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। তিনি নিজে হাতে এসব অর্থ সহায়তা তুলে দেন।

প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ। বেসরকারি শিক্ষদের বেতন নাই। সরকারীভাবে প্রনোদনাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেটাতো বছরে মাত্র একবার। কোনদিন হয়ত এইসব শিক্ষক কল্পনাও করেননি এভাবে তাদের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হবে। অন্য কাজ করবেন করোনার কারনে সে সুযোগও নাই। পরিবারের ক্ষুধা মেটাতে তাই হাত পাতা ছাড়া কোন গতি ছিলো না। সোমবার ১৯ জুলাই মহানগরের হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষক মেয়রের অনুদানের টাকা পেয়েছেন। ওইসব শিক্ষক লাইনে দাড়িয়ে মেয়রের হাত থেকে অর্থ সহায়তা গ্রহন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক ভাইরাল হয়। মাস্কের আড়ালেও ওইসব শিক্ষকের চোখে মুখে স্বস্তির ঝিলিক লক্ষ্য করা গেছে। অন্ততঃ ঈদে পরিবারের মুখে কিছু ভালোমন্দ তুলে দেয়া যাবে এই ভেবে।

তাছাড়া মেয়র মহানগরের সকল মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, সাংবাদিক, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। টাকার অংকে তা কোটি কোটি। তবে তার থেকেও বড় কথা তিনি এটা সবসময় করছেন।

সবশেষ গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩ টায় মহানগরের তিন সড়ক এলাকায় আন্দোলনরত স্টাইল ক্রাফট কারখানার সারে চার হাজার শ্রমিক কর্মচারিকে আড়াই কোটি টাকা দেন।

মহানগরের যেখানেই অসহায় মানুষের কথা তার কানে আসে তিনি সেখানে ছুটে যান। মানুষের প্রয়োজন বুঝে নিজের সাধ্যমত সহায়তা করেন। এটা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর মহানগরে অসহায় মানুষদের দুঃসময়ে পরিত্রাতা হয়ে পাশে দাড়াচ্ছেন।

এমন দুঃসময়ে ওইসব অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি সবসময় এ কাজটি করছেন। এটা সত্যিই অনেক ভাল কাজ। এভাবে সমাজের প্রতিটি বিত্তবান মানুষ অসহায়ের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ালে সমাজে একজন মানুষও অনাহারে থাকবে না। জাহাঙ্গীর আলম একজন সত্যিকার জনদরদী নেতা। একজন মানুষের মত মানুষ। এমনটাই মনে করেন গাজীপুর মহানগরের ওইসব জনসাধারণ।