×

মাৎস আড়তে চাঁদাবাজি বন্ধ হোক

মোহাম্মদ আলম : চাঁদাবাজের কোন রকমফের নেই। চাঁদাবাজের কোন স্থানকালও থাকে না। সুযোগ পেলেই আকাশে-পাতালে, জলে-স্থলে সবখানে সে চাঁদাবাজি করবে। এটাই তার চরিত্র।

লক্ষীপুরের রায়পুরে ৯টি মাছের আড়তে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে মূল ইজারাদারের পাশাপাশি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ শতকরা ৮ টাকা চাঁদা নিচ্ছে। জেলেরা ভয়ে কিছু বলতে পারে না। আর প্রশাসন নিরব। মূল ইজারাদারগণও মুখে কুলুপ এটেছে। এভাবে চলতে পারে না।

জেলেদের ভাষ্য, পুরানবেড়ির ঘাটটিতে মাষ্টারের সঙ্গে আলাদা টেবিল রয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা খালেদ দেওয়ান, ওসমান খানের টেবিল, আওয়ামীলীগ নেতা মফিজ খাঁনের টেবিল, রতন হাওলাদারের টেবিল, বাচ্চু খাঁনের টেবিল। উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইজ উদ্দিন মোল্লা ও আওয়ামীলীগ নেতা বাবুল সরদারের মালিকানায় একটি। দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মনির হোসেন মোল্লা ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লার মালিকানায় পৃথক দু’টি মাছঘাট রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল রাহুলের মালিকানাধিন নতুন মাছঘাট ও যুবলীগ নেতা দিদার মোল্লার মালিকানাধীন টুনুরচরে মোল্লা মাছঘাট।

আমাদের প্রতিনিধি বেশ কিছুদিন অনুসন্ধান করে চাঁদাবাজির সত্যতা পেয়েছে। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সহযোগীতা থাকে। বিনিময়ে তারাও কমিশন নেয়। তবে এক্ষেত্রে অনুসন্ধান চলছে।

চাঁদাবজি বন্ধ হোক। এটাই সবার প্রত্যাসা। শুধুমাত্র চাঁদাবাজ ছাড়া সবারই এক কথা। আমাদের প্রত্যাসাও তাই। প্রান্তিক এইসব জেলেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করে। এই অর্থে হয়ত তার চাল-ডাল কেনা হবে। সন্তানের ভরন পোষন হবে। পিতা-মাতার ভরন পোষন হবে। কে যানে এসব হয়ত ঠিক মত করতে পারছে না জেলেরা।

এই করোনাকালের ভয়াবহতায়ও মানুষের লোভ কমেনি। মানুষের মিথ্যা অকাংখা দমেনি। চাঁদাবাজ আর উৎকোচ চক্র সমানে সক্রিয়। সমাজ ব্যবস্থায় আরো কঠোরতা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকেও আরো কঠোর হতে হবে। তবে আইন হাতে তুলে নেব না। এই পণ করা যেতে পারে। আজ থেকে সব জেলে এক হয়ে আর চাঁদা দেব না। আপনাদের কষ্টের আয় আপনারাই ভোগ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *