×

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরে বেপরোয়া চোরাই সিন্ডিকেটে

মোহাম্মদ আলম : গাজীপুরে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা থেকে হোতাপাড়া পর্যন্ত দুইপাশে চোরাই তেল বেচা-কেনার রমরমা কারবার। প্রায় ২৫টি আখড়ায় মাসে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলে। আর দিনের পর দিন লোকসান গুনছে পরিবহন ব্যবসায়ীরা। একইভাবে অন্যান্য চোরাই পণ্য যেমন- কারখানার সুতা, কাপড়, গৃহস্থালী সামগ্রীসহ, যন্ত্রাংশও এখানে অবাধে বেচাকেনা চলে। দীর্ঘদিন মাসোহারায় চলা এই চোরাকারবার বর্তমানে পুলিশের টহলকে প্রতিদিন বখরা দিয়ে চলছে বলে অভিযোগ।

তবে বাধ সেধেছেন জিএমপির বর্তমান ওসি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গাজীপুর সদর থানার বর্তমান ওসিকে ম্যানেজ করতে চোরাকারবারি সকল সদস্যর কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকাও তুলা হয়েছে। এই টাকা মাসোহারা হিসাবে দেয়ার কথা। দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবেই চলছে। ‘সিন্ডিকেটের হোতা জামানের মাধ্যমে গাজীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলামকে ম্যানেজের চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারেনি বলে জানা গেছে। আর ওসির ভাষ্য, চোরাই দোকান চলার কথা তিনিও শুনেছেন। শিঘ্রই সেখানে অভিযান চালানো হবে জানালেন।

গাজীপুর জেলা ট্রান্সপোর্ট ঠিকাদার মালিক সামিতির সাধারণ সম্পাদক এবং শিলা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মালিক দ্বীন মোহাম্মদ নীল মিয়া জানান, চোরাই সিন্ডিকেটের দৌড়াত্মে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা অনেকেই পথের ফকির হয়েছে। কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও গাড়ির মালিক লাভের মুখ দেখে না। অথচ সামান্য কয়েকটি টাকার জন্য গাড়ির চালকরা চুরি করে তেল বেচে, আর এইসব চোরাকারবারিরা বছর না ঘুরতেই কোটিপতি হচ্ছে। লিভার ব্রাদার্সের ২০ টন হুইল পাউডার সহ তার একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। অনেক খোঁজাখোজির পর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে হুইল পাউডার উদ্ধার হয়। তবে প্রায় ২০ লাখ টাকার ট্রাকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই চোরাই সিন্ডিকেট দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়ক এবং সারাদেশে জাল বিস্তার করেছে বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, আমানত শাহ গ্রুপের শাড়ি ও লুঙ্গি বোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান টঙ্গী থেকে ছিনতাই হয়। পরে মালামালসহ খিলগাও থেকে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে। তবে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা ধরা ছোয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।

সোহেল অল্পদিন হলো চোরাকারবারের সাথে জড়িত হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজেকে সাধু সাজানোর ভান করে। অকাতরে বলে যায় এই চোরাই ব্যবসার আদ্যোপান্ত। সে জানায়, রাতদিন ২৪ ঘন্টাই এসব চোরাই খুপরি খোলা থাকে। দিনরাত সাধারণত গাড়ির চালকরা বাস, ট্রাক বা কার্ভাড ভ্যান থামিয়ে তেল (চুরি) বিক্রি করে। ফিড কোম্পানীর ভুট্টা এবং ফিডমিলও নিয়মিত বেচাকেনা হয়। তবে তার চেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে সারাদেশ থেকে চুরি বা ছিনতাই হওয়া ট্রাক কার্ভাড ভ্যানের মালামাল জামান-মাসুদ-আয়নাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেচাকেনা চলে।

চুরির উপর বাটপারি : সোহেলসহ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি লিটার ডিজেল চালকের কাছ থেকে কিনতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচ। আর বিক্রি ৬৩ টাকা। তাহলে প্রশ্ন লিটারে মাত্র ৩ টাকা লাভের জন্য কেন এত রিস্ক নেয় ? গাড়ির চালক চুরি করে তেল বিক্রির উদ্দেশে এলে চোরাই সিন্ডিকেট চুরির উপর বাটপারি করে। ট্যাংকি থেকে তেল নামানোর সময় ২ থেকে ৩ লিটার বেশী নিয়ে নেয়। অর্থাৎ ১০ লিটারের যায়গায় ১৩ লিটার। এতে লাভ প্রায় দ্বিগুন হয়। একইভাবে ভুট্টা, ফিডমিল, কারখানার কাপড়, স্পিনিং মিলের সুতা, সয়াবিন তেলসহ নানান চোরাই পণ্য এখানে কেনাবেচা হয়। আর চুরি বা ছিনতাই হওয়া ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান মালামালসহই কেনা-বেচা চলে।

কারা আছে চোরাই সিন্ডিকেটে : মহাসড়কের এই ভয়ংকর চোরাই সিন্ডিকেটের মালামাল ৪টি হাত বদল হয়। প্রথম হাত হচ্ছে গাড়ির চালক। বাস, ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান মালিকের অগোচরে চালক নিয়মিত তেল বিক্রি করে। প্রথম হাতের অপর সংগ্রাহক হচ্ছে মালামালসহ গাড়ি ছিনতাইকারী চক্র। এরা সারাদেশ থেকে আসে। দ্বিতীয় হাত হিসাবে মহাসড়কের পাশে চোরাই সিন্ডিকেটের আখড়া মালিকরা ২৪ ঘন্টা এসব চোরাই মালামাল অর্ধেক কখনো কখনো আরো কমে কিনে নেয়। তৃতীয় ধাপে পাইকার। আখড়া থেকে ৮/১০ জন পাইকার তেল বা অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করে। চতুর্থ ও শেষ ধাপের সিন্ডিকেট সদস্যরা সারাদেশে চোরাই পণ্য বিক্রির খুচরা দোকানদার। পাইকারের মাধ্যমে এসব চোরাই তেল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়। শেষধাপে গ্রামাঞ্চলে চোরাই পণ্য বা তেলের নির্দ্দিষ্ট দোকানে সরবরাহ করা হয়। তাছাড়া শিল্প কারখানায় জেনারেটর বা ব্রয়লার চালানোর তেল হিসাবেও এসব চোরাই তেল সাপ্লাই দেয়া হয় বলে জানা গেছে। অপরদিকে কারখানার কাপড়, পোশাক বা সুতা জাতীয় চোরাই পণ্য কেনা বেচার চক্রও রয়েছে।

মাসে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন : সালনা থেকে হোতাপাড়া পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ২৫ টি চোরাই পণ্য বেচা-কেনার খুপরি। এলাকাটি গাজীপুর সদর এবং জয়দেবপুর থানার আওতাধীন। এক খুপরিতে কম করে হলেও ২ থেকে ৩ ড্রাম তেল জমে। সেই হিসাবে দিনে প্রায় ৭৫ ড্রাম তেল চুরি হয়। এক ড্রামে ২২০ লিটার ডিজেল থাকে। প্রতি লিটার ৬৫ টাকা দরে এক ড্রামের মূল্য ১৪ হাজার ৩০০ টাকা। ৭৫ ড্রামের দাম পরে ১০ লাখ টাকার উপর। এই হিসাবে শুধুমাত্র ডিজেলের জন্য। সয়াবিন, ভুট্টা বা ফিডমিল চুরি হচ্ছে নিয়মিত। তাছাড়া প্রতিদিনি রাতে ১/২টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান ভর্তি চোরাই মালামাল বেচা-কেনা চলে। সেই হিসাবে সক্রিয় চোরাই সিন্ডিকেট মাসে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য করে।

মহাসড়কে চোরাই সিন্ডিকেট সদস্যরা : পোড়াবাড়ি এলাকায় বরিশাইল্যা জামান, আয়নাল এবং হোতাপাড়ায় মাসুদ হচ্ছে সিন্ডিকেটের মূল হোতা। এদের সহযোগী হিসাবে কাজ করে সিন্ডিকেটের সদস্য চালক, পাইকার। তাছাড়া সেলিম, রাজ্জাক, বাদশা, আবুল কাশেম, ফিরোজসহ প্রায় ২৫ জনের একটি চক্র সক্রিয়ভাবে আখড়া বসিয়েছে। তাছাড়া টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় রুবেল তেল চোরাকারবারী। আর প্রতিটি আখড়ায় সহযোগী হিসাবে ৫০০ টাকা রোজীতে খাটে করে আরো কয়েকজন যুবক। এরা গাড়ি থামানো, পাহাড়া দেয়ার কাজ করে।

সরজমিনে একদিন : বিভিন্ন সূত্রে চোরাই সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে পেরে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদক গত ১৪ সেপ্টেম্বর সারাদিন সালনা থেকে হোতাপাড়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে। বেলা ১২টার দিকে পোড়াবাড়ি এলাকায় মহাসড়কের পূর্বপাশে রাজ্জাকের আখড়া থেকে একটি পিকাআপ ভ্যানে ৫টি তেলের ড্রাম উঠাতে দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও ধারন করতে গেলে আখড়ার কর্মচারি বাধা দেয়। তার সাথে পিকাআপের চালক, পাইকার ও দোকানের মালিকও ভিডিও ধারনে বাধা দেবার চেষ্টা করে। তবে প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে ভিডিও ধারন অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে পাইকার পরে যোগাযোগের আশ^াস দিয়ে পিকআপ নিয়ে সটকে পরে। আর আখড়ার রাজ্জাক ও তার কর্মচারি সব ফেলে পালায়।
বেলা ১টার দিকে পোড়াবাড়ি এলাকায় আবুল কাশেমের আখড়ায় একজন যুবক একটি তেল ভরা ড্রাম লুকাচ্ছিলো। প্রতিবেদক গাড়ি থামিয়ে ভিডিও ধারন শুরু করতেই দৌড়ে পালায়।
বেলা ২টায় ফের রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা। সেখানে কথা হয় চোরা কারবারি মোঃ সোহেলের সাথে। নিজেকে সাধু সাজাতে সব কথা বলতে রাজি হয়। তার কাছ থেকে আদ্যোপান্ত অনেক কিছু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইতমধ্যে সাংবাদিক আসার খবর সিন্ডিকেটের সবার কাছে পৌছে যায়। আধাঘন্টা অপেক্ষার পর আড়াইটার দিকে এই প্রতিবেদক হোতাপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। শুরুতে উল্লেখিত জামানের আখড়ায় একটি কার্ভাড ভ্যান(নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট ১১-৮৪৮৫) থেকে তখন তেল চুরি চলছিলো। কাভার্ড ভ্যানের তেলের ট্যাংকির নীচে স্ক্রু খোলে একটি খোলা ড্রামে তেল নামানো হচ্ছে। আরএসকে ট্রান্সপোর্ট কোম্পানীর কাভার্ড ভ্যানের চালক আনিছ(ছদ্মনাম) ১০ লিটার ডিজেল ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছে। প্রতিবেদক ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। চোরাকারবারি জামানের কর্মচারি ভিডিও ধারনে বাধা দিতে চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ততক্ষনে সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য সেখানে হাজির হয়। সিন্ডিকেটের সদস্যরা জামানের কর্মচারীকে গালাগাল করে। ‘ওই শালার– ! তর মালিক বরিশাইল্যা না পুলিশ ম্যানেজ করছে। সবার কাছ থিকা ট্যাকা তুলছে। অহন আবার এইডা কি?’’

সেখান থেকে পোড়াবাড়ি এলাকায় তালুকদার সিএনজির পাশে আয়নালের আখড়ায় একটি কাভার্ড ভ্যান বের হতে দেখা যায়। কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চালকের কাছ থেকে জানা যায়, অভিযান চলছে তাই আজ তেল কিনবে না। আখড়ার ভিতরে আরো একটি কাভার্ড ভ্যান দেখা যায়। সেটি থেকে ভুট্টা নামানো হয়েছে। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়েই আয়নাল তার আখড়ার ঝাপ বন্ধ করে।
আয়নালের কাছে চোরা কারবারের কথা জানতে চাওয়া হয়। আয়নালের ভাষ্য, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সে ব্যবসা করে। তাছাড়া তেল ব্যবসার একটি ট্রেড লাইসেন্স আছেও বলেও জানায়। তবে কোনভাবেই আখড়ার ঝাপ খুলতে রাজি হয়নি।
বিকেল ৩টার পর হোতাপাড়ায় মাসুদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। যাচাই করার উদ্দেশে প্রতিবেদক তাকে ৩ ড্রাম চোরাই তেল বিক্রির প্রস্তাব করে। মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে মাসুদ তৎক্ষনাত তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। হোতাপাড়া নিউ বিলাশ হোটেলের পাশে তার দোকানে যেতে বলে। তবে ইতমধ্যে সাংবাদিক আসার খবরও তার কানেও পৌছে। অগত্যা সব বন্ধ করে সটকে পরে। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোন সারা পাওয়া যায়নি।

সিন্ডিকেট হোতা চোরা কারবারি জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি কর্মচারি পাঠিয়ে অনুরোধ করেন যাতে সংবাদ প্রকাশ না হয়। তবে জামান কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মাহতাব উদ্দিন বলেন, দ্রুত এব্যপারে ব্যবস্থা নিবেন।

ইতিপূর্বেও চোরাই সিন্ডিকেটের এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার(অপরাধ) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, এই চোরাই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে আর এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত হবার চেষ্টা না করে।

 

 

 

 

করোনাও গাসহা !

মোহাম্মদ আলম : বাংলাদেশে করোনা এখন অনেকটাই গাসহা হয়েছে। রাস্তায় বেরোলে যে কোন সচেতন মানুষেরই বিষয়টি দৃষ্টি এড়াবে না। প্রথম প্রথম একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য একটি গ্রাম বা ওয়ার্ড লকডাউনের ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হবার খবরে দেশই লকডাউন হলো। আর বাংলাদেশে যখন করোনা সংক্রমণের হাড় ৮ এর উপর অথবা প্রতিদিন প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হচ্ছে তখন জীবন-জীবিকার তাগিদে সবকিছু স্বাভাবিক। এটা সত্যিই মিরাকেল। মরনব্যধি ক্যান্সার, এইডস, ডায়াবেটিস এসব রোগের মতই করোনাও গাসহা হলো। বিষয়টা এমন, রোগ থাকবেই জীবনতো আর থেমে থাকবে না। যা হয় হোক। ছুটেচলো।

বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা বেশ টেকসই। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করেই টিকে আছে বাংলাদেশ। উপকূলে ঝড়-জলোচ্ছাস, মধ্যাঞ্চল থেকে ভাটি পর্যন্ত বন্যা আর উজানে পাহাড়ি ঢল। এসব বাংলাদেশের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার। আর এই দেশ-সমাজের চালিকাশক্তি মানুষগুলোর বিরত্বগাথা বিশে^র মানুষের পাঠেয়। সম্মুখ যুদ্ধ বা জীবন যুদ্ধ যাই আসুক হাড়ার পাত্র সে নয়। জীবন দিয়ে সামনে এগিয়ে চলার বাসনা নিয়েই বাঙালির পথচলা। স্বভাবজাত সহিংসু বাঙালি খুব সহজেই করোনাকে মানিয়ে নিয়েছে।

 

 

স্বাধীনতার কথা শুনি এবং আমার স্বাধীনতা

মোহাম্মদ আলম :  ‘‘আমি একজন আরব, আমি গোত্রপরিচয়হীন, আমি রোগাক্রান্ত এমন একটি দেশে, যেখানে সবকিছু বাঁচে ক্রোধের ঘূর্নিস্রোতে।’’

ফিলিস্তিনি নোবেল লরিয়েট কবি মাহমুদ দারবিশের কবিতা। স্বাধীনতা কি ? একজন পরাধীন মানুষ সব থেকে বেশী উপলব্দী করে। মাহমুদ দারবিশের কবিতায় আমৃত্যু কেবল উদগ্র স্বাধীনতার আকাঙ্খা ঝড়েছে। তিনি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তিনি বিশ্বের দরবারে ছুটে বেড়িয়েছেন নিজের এবং স্বজাতির স্বাধীনতার দাবিতে। তিনি দিনের পর দিন, যুগ যুগ লিখনির মাধ্যমে বিশ্ব বিবেককে শুনিয়েছেন মনোকষ্টের কথা। পরাধীনতার গ্লানি হৃদয়ে পুষেই তিনি গত হলেন। এখন তার সন্তান স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে লিপ্ত। ‘‘আমি শুধাই; ভদ্র মহিলা ও ভদ্র মহোদয়গণ, এ-কথা কি সত্য যে মানুষের এই মাটির পৃথিবী, সব মানুষেরই জন্য ? কবির এই প্রশ্নের উত্তর অধরা। আমি স্বাধীন। আমার পিতা মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে যুদ্ধ করেছেন। আমি গর্বিত। স্বাধীন বাংলাদেশ আমার ঠিকানা।

স্বাধীনতার কথা মুক্তিযোদ্ধার জবানীতেই ভাল শুনায়। আমার পিতা একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁর নাম মোহাম্মদ আলী। তিনিও গত হয়েছেন। কিন্তু তিনি আমাকে দিয়েছেন স্বাধীনতা। আমি তার মুখ থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা শুনতে শুনতে বেড়ে উঠেছি। তার মুখ থেকেই আমি অনেকবার শুনতে চাইতাম কিভাবে তিনি শহীদ ফাদার উইলিয়াম ইভন্সের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তিনি আবেগ জড়িত কন্ঠে বলতেন, ‘‘পাক হানাদার বাহিনী ফাদারকে গুলি করে হত্যা করে। লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। চারদিকে ছড়িয়ে পরে সেই খবর। তিনিও তা জনতেন। দুইদিন পর নদীর কয়েক মাইল ভাটিতে বাহ্রা ঘাটে ভেসে উঠে লাশ। খবর পেয়ে তিনি ও ময়নাল নামে তার বন্ধু দেখতে যান। তখন এই খবর দশ বারো মাইল দূরবর্তী গোল্লা চার্চে জানানোর সাহস কারো হচ্ছিল না। তারা দুই বন্ধু জীবনের ঝুকি নিয়ে পায় হেটে বিকেলে গোল্লা গীর্জায় ফাদারের মরদেহ পাওয়ার খবর দেন। তখন গীর্জা থেকে আরও কয়েকজনকে সাথে নিয়ে সেইদিন রাতে ফাদারের মরদেহ উদ্ধার করে গীর্জায় আনেন।’’ আমি গোল্লা গীর্জার রেকর্ড বইয়ে নিজ চোখেও দেখেছি সেদিনের ঘটনার বর্ণনা। আমি আবেগে আপ্লুত হয়েছি। আমার পিতাকে নিয়ে গর্ব হয়েছে। তারপর আমার পিতা ভারতে এক মাসের প্রশিক্ষণ নেন। তিনি যুদ্ধ করেছেন। আমাকে আরো শুনিয়েছেন, পাকিস্তানিরা কি আচরণ করেছে। আমার পিতার জন্য আমি গর্ববোধ করি। আমি প্রার্থনায় সৃষ্টিকর্তার কাছে পিতার জন্য বিশেষভাবে আবেদন করি। তিনি যেন পরলোকে উত্তম পুরস্কার লাভ করেন।

কবির কবিতায়ও স্বাধীনতার মর্মার্থ উপলব্দি সহজ । আর যারা কবি এবং মুক্তিযোদ্ধা। সেইসব মুক্তিযোদ্ধা কবিতার মাধ্যমে স্বাধীনতাকে জীবন্ত জীবাস্মের মত রুপ দিয়েছেন।

কবি রফিক আজাদ যুদ্ধ করেছেন। কবিতায় ঘোষণা করেছেন স্বাধীনতার কথা। ‘‘নেবে স্বাধীনতা? -নাও তোমাকে দিলাম সবুজ সংকেতময় নীল পাসপোর্ট- সুনিশ্চিত স্বাধীনতা, নেবে স্বাধীনতা? -নাও তোমার দু হাতে তুলে দিচ্ছি পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইলের ভিতরে যা- কিছু- জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে-সবকিছু তোমার, তোমার।’’

আত্মবিশ্বাস! গর্ব ! এবং একজন স্বাধীন মানুষের তৃপ্ত হৃদয়ের কথা। আমার স্বাধীনতার জন্য এইসব বীর মুক্তিযুদ্ধাদের কাছে আমি চিরঋণী। আমি উপলব্ধি করি আরো বেশী বেশী স্বাধীনতার কথা শুনতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে শুনতে হবে। স্বাধীনতার কবিতায় জানতে হবে। যতবেশী শুনবো যতবেশী জানবো। আমার দেশপ্রেম সমৃদ্ধ হবে। আমি বুঝবো আমার স্বাধীনতার মূল্য। দেখুন আমি বুক ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে বলছি-

‘‘আমি স্বাধীন।
আমি চিৎকার করি।
আমি হাসি।
আমি দিগ¦বিদীক ছুটে বেড়াই।
আমিই আমার নিজের আঙুল তুলি।
আমি মুক্ত মনে ভাবি।
আমি নিরুদ্বিগ্নভাবে লিখি।
নিজের ইচ্ছায় শশ্রু পরিপাটি করতে পারি।
আমার পরিচয় বাংলাদেশী।’’

এই যে আমি আমার স্বাধীনতার কথা বলছি। বঙ্গবন্ধুর জন্য। আমার পিতার জন্য। মুক্তিযুদ্ধাদের জন্য। আপনাদের সহস্র সালাম।

মাৎস আড়তে চাঁদাবাজি বন্ধ হোক

মোহাম্মদ আলম : চাঁদাবাজের কোন রকমফের নেই। চাঁদাবাজের কোন স্থানকালও থাকে না। সুযোগ পেলেই আকাশে-পাতালে, জলে-স্থলে সবখানে সে চাঁদাবাজি করবে। এটাই তার চরিত্র।

লক্ষীপুরের রায়পুরে ৯টি মাছের আড়তে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে মূল ইজারাদারের পাশাপাশি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ শতকরা ৮ টাকা চাঁদা নিচ্ছে। জেলেরা ভয়ে কিছু বলতে পারে না। আর প্রশাসন নিরব। মূল ইজারাদারগণও মুখে কুলুপ এটেছে। এভাবে চলতে পারে না।

জেলেদের ভাষ্য, পুরানবেড়ির ঘাটটিতে মাষ্টারের সঙ্গে আলাদা টেবিল রয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা খালেদ দেওয়ান, ওসমান খানের টেবিল, আওয়ামীলীগ নেতা মফিজ খাঁনের টেবিল, রতন হাওলাদারের টেবিল, বাচ্চু খাঁনের টেবিল। উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইজ উদ্দিন মোল্লা ও আওয়ামীলীগ নেতা বাবুল সরদারের মালিকানায় একটি। দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মনির হোসেন মোল্লা ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লার মালিকানায় পৃথক দু’টি মাছঘাট রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল রাহুলের মালিকানাধিন নতুন মাছঘাট ও যুবলীগ নেতা দিদার মোল্লার মালিকানাধীন টুনুরচরে মোল্লা মাছঘাট।

আমাদের প্রতিনিধি বেশ কিছুদিন অনুসন্ধান করে চাঁদাবাজির সত্যতা পেয়েছে। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন সহযোগীতা থাকে। বিনিময়ে তারাও কমিশন নেয়। তবে এক্ষেত্রে অনুসন্ধান চলছে।

চাঁদাবজি বন্ধ হোক। এটাই সবার প্রত্যাসা। শুধুমাত্র চাঁদাবাজ ছাড়া সবারই এক কথা। আমাদের প্রত্যাসাও তাই। প্রান্তিক এইসব জেলেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রোজগার করে। এই অর্থে হয়ত তার চাল-ডাল কেনা হবে। সন্তানের ভরন পোষন হবে। পিতা-মাতার ভরন পোষন হবে। কে যানে এসব হয়ত ঠিক মত করতে পারছে না জেলেরা।

এই করোনাকালের ভয়াবহতায়ও মানুষের লোভ কমেনি। মানুষের মিথ্যা অকাংখা দমেনি। চাঁদাবাজ আর উৎকোচ চক্র সমানে সক্রিয়। সমাজ ব্যবস্থায় আরো কঠোরতা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকেও আরো কঠোর হতে হবে। তবে আইন হাতে তুলে নেব না। এই পণ করা যেতে পারে। আজ থেকে সব জেলে এক হয়ে আর চাঁদা দেব না। আপনাদের কষ্টের আয় আপনারাই ভোগ করুন।

প্রাণহীন এই শহরের ইতিকথা

মোহাম্মদ আলম : ভোরে ঘুম থেকে জেগে আর মা’য়ের ডাক শুনিনা। মনটা ভারাক্রান্ত হয়। ভারাক্রান্ত মনেই স্মরণ করি আমৃত্যু যেন এভাবে মায়ের কথা মনে পরে। হৃদয়ে অনুভুত হয়। স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেক মা’ই প্রত্যাসা করেন তার সন্তান ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় কিছু হোক। আমার সহজ-সরল মা কখনো সেসব কিছু বলতেন না। ছোট বেলায় আমার মা প্রায়ই আমাকে বলতেন, ‘মানুষের মত মানুষ হ’। মা’ ছাড়া পৃথিবী ক্রমশই আমার হৃদয়ে প্রাণহীন লাগছে। মা আমাকে ক্ষমা করো। হে রহমতের মালিক পরোয়ারদিগার আমার মাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।

এক সপ্তাহ পূর্বে মা’য়ের ইন্তেকালের পর খুব অসহায়ত্ব বোধ করছিলাম। তখন সর্বাগ্রে গাজীপুর সিটি মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সান্তনার বাণী নিয়ে পাশে থেকেছেন। যখন আমি করোনা আক্রান্ত হয়ে গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। তখনো কিন্তু জানতে পেরে গাজীপুর থেকে মেয়র মহোদয় আমার সাথে কথা বলে খবর নিয়েছেন। প্রতিদিন কোন না কোন খবরের কাগজে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের খবর দেখে অভ্যস্ত। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ক্রল করলেই ভেসে উঠে মেয়রের কর্মকান্ডের চিত্র। কখনো ভিডিওতে দেখা যায় তিনি রাস্তায় বোল ডোজার চালাচ্ছেন। কখনোও বা ড্রেনে উকি দিয়ে দেখছেন। চারদিকে তার নজর। একজন প্রকৃত অভিভাবক যেমন সংসারের সব খবরা-খবর রাখেন। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমও তেমনি এই মহানগরের রাখেন।

গত কয়েকদিন যাবৎ মেয়র মহোদয় করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিরচেনা এই মহানগর কেমন যেন প্রাণহীন। গাজীপুর নগরের রাজপথে প্রাণের চাঞ্চল্য থমকে আছে। সবাই আছে। সবকিছু চলছে। কেন যেন মনে হচ্ছে । এই শহরের প্রাণ নেই।

মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন মানুষের মাধ্যমেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন করেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসাবে জাহাঙ্গীর আলম যখন অলিতে গলিতে বিচরণ করেন। তখন শুধুই একজন মানুষের পদচারণা বলে প্রতিয়মান হয়। কিন্তু ভুমি তার সন্তানকে কতটা আপন করে নিতে পারে কেবল তার অনুপস্থিতিতেই অনুধাবন হয়। আজ যখন তিনি কিছুদিনের জন্য ঘরে আছেন। তখন এই মাটি খাঁ খাঁ করছে তার প্রাণের স্পর্শের জন্য। গাজীপুরের সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখেই তা প্রকাশিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সংস্পর্শের কাতর আহ্বান। মেয়র মহোদয়ের পদচারনায় মুখরিত হবে এই জনপদ। এটাই সবার প্রত্যাসা।

করোনাকালের জীবন, আবুল কাশেমের সুখের ঘরে অভাবের আনাগোনা

মোহাম্মদ আলম : ৪৮ বছর কেটে গেলো। খবরের কাগজ বিলি করাই তার পেশা। যিনি অল্পতে সন্তুষ্ট থাকতে পারেন তার চেয়ে সুখি কেহ নাই। ৬৮ বছরের আবুল কাশেম তেমনই একজন সুখি মানুষ। প্রতিদিন শ’দেড়েক খবরের কাগজ আর গোটা কয়েক ম্যাগাজিন বিক্রিতেই তার সংসার ৬৭ বছর বেশ চলেছে। বাঁধ সেধেছে এই করোনা মহামারি। তার সুখের ঘরে কষ্টের হাতছানি।
‘এইটার প্রতি আমার একটা মমতা আছে। এখন আর চলতাছে না। কষ্ট হয় চলতে। দৈনিক পত্রিকা বিক্রি ২৫ পার্সেন্টে আইসা পরছে।’ জয়দেবপুর পৌর মার্কেটে সামনে খবরের কাগজের হকার আবুল কাশেম সকলের চেনা মুখ। একটি লোহার র‌্যাকে থরে থরে পেপার ও টেবিলে কিছু ম্যাগাজিন সাজিয়ে এই করোনাকালেও প্রতিদিন বসেন। অশ্রুসজল নয়নে এভাবেই করোনাকালে নিজের কষ্টের কথা ব্যক্ত করছিলেন আবুল কাশেম।

করোনায় প্রান্তিক মানুষের ক্ষতিটাই বেশী। এইসব মানুষ ফজরের পর জীবিকার উদ্দেশ্যে বের হন। সারাদিন খেটে কিছু রোজগার হলে সন্ধায় পরিবারের কাছে ফেরেন। এটাই তাদের জীবন। কিন্তু করোনা মহামারি এইসব মানুষদের বেঁচে থাকার অবলম্বনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এইসব অল্পতে সুখি মানুষদের একটা বৈশিষ্ট হচ্ছে মজুর তার মজুরের কাজ নিয়েই থাকে, রিক্সা চালক কেবলই প্যাডেল ঘুড়ায় অথবা কৃষক তার মাঠে কাজ করাকেই উত্তম মনে করে। দিন শেষে তিন বেলা খাবার জুটলেই তারা খুশি। কিনতু করোনা মহামারিতে তাদের সুখের ঘরে আগুন লেগেছে। না পরছে অন্য কিছু করতে। আর হাত পাতার অভ্যাস তাদের একদমই নেই। করোনাকালে এইসব মানুষদের অনেক কষ্ট যাচ্ছে। জয়দেবপুরের সব থেকে জৈষ্ঠ্য খবরের কাগজের হকার মোঃ আবুল কাশেম তাদেরই একজন।

একজন মানুষ সৎভাবে জীবন যাপন করলে তার সমাজ জীবনে কত সাফল্য ধরা দিতে পারে আবুল কাশেম তার জ¦জল্যমান দৃষ্টান্ত। নিজের অক্ষরজ্ঞান নাই। তবে তিন ছেলেকেই উচ্চ শিক্ষিত করেছেন। বড় ছেলে মাষ্টার্স শেষ করে নিজেই ফটো কম্পোজের দোকান চালায়। মেঝ ছেলে অনার্স পাশ। ছোটটা অনার্স পরে। পরের দুই জনই পোশাক কারখানায় চাকুরী করে। ছেলেরা তাকে বরাবরই কাগজ বিক্রি করতে নিষেধ করে। কিন্তু তিনি কারো কথা শুনেন না। খবর বিলি কেবলই তার রোজগারের নেশা না, এটার সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক। আবেগে ধরে আসা কন্ঠ সে কথাই জানান দেয়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আবুল কাশেমের আদি নিবাস। যুদ্ধের পরের বছরই রাজধানীর শাহাজাহান পুর এলাকায় খবরের কাগজ বিক্রি শুরু করেন। কয়েক বছর ট্রেনে খবরের কাগজ বিলি করতে করতে শ্রীপুর কাপাসিয়া পর্যন্ত যেতেন। ১৯৮৭ সালে গাজীপুরে চলে আসেন। ঘুরে ঘুরে বাড়ি বাড়ি পৌছে দিতেন খবরের কাগজ। ৭/৮ বছর হলো পৌর মার্কেটের সামনে থিতু হয়েছেন। মাঝে কত কিছু ঘটে গেলো। কত পরিবর্তন। সুখি আবুল কাশেম আনন্দের সাথে সব ভালমন্দ খবর বিলি করেই গেছেন। তার মাঝে কোন পরিবর্তন নেই। পরিবর্তন নিজের ঘরেও হয়েছে। উচ্চ শিক্ষিত ছেলেরা হকার পিতার কাজে একটু লজ্জা বোধ করে। কিন্তু আবুল কাশেম একই রকম। অর্থের লোভ, উচ্চাকাঙ্খা, ভোগ বিলাশ বা হিংসা কোন কিছুই তাকে প্রলুব্ধ করতে পারেনি। তিনি খবর বিলির মায়ায় জীবন কাটিয়ে দিলেন।

সরকার অথবা আমাদের মত পেশাজীবিদের অনেক সমস্যার মাঝে একটি হচ্ছে নীচের দিকে না তাকানো। আমরা(আমিও) ভোর হলে খবরের পেছনে ছুটি। আমাদের পিএম বিট, সচিবালয় বিট, স্বাস্থ্য বিট বা এমন অনেক বিট আছে। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বিট নেই। অথবা কৃষক বিট নেই। আমরা কিন্তু প্রতিদিন মেয়র, মন্ত্রী, ডিসি, কমিশনারদের খবর খুঁজি। আবুল কাশেমদের খবর খুঁজি না। অথচ দেখুন দেশের এইসব প্রান্তিক মানুষদের সংখ্যাটাই বেশী।
যদি সুখি জীবনের কাহিনি খুঁজেন তবে এইসব মানুষদের মাঝেই সুখের ঝলক পাবেন। সেই ছাত্র জীবনেই পড়েছি, ‘সুখি মানুষের জামা থাকে না’। আবুল কাশেমের মাথা গোজার ঠাই নাই। ভাড়া থাকেন। আবুল কাশেম ৪৮ বছর রোজগারে এক টুকরো মাথা গোঁজার ঠাই বানাতে পারেন নি। কিন্তু বেশ জোড় দিয়েই বললেন, ‘বাবা আল্লায় সুখেই রাখছে’। এটাই তার মনের কথা। সুঠাম দেহ আর শশ্রুমন্ডিত হাসি মাখা মুখ সে কথাই জানান দেয়।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির কোন পরিসংখ্যান নেই। সম্প্রতি গাজীপুরের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্মকর্তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তাদের কাছে তাতি বা কামারের পরিসংখ্যান নেই। হয়ত হকারেরও নেই। এটা থাকা উচিত। দেশ উন্নত হচ্ছে। উন্নয়নের পথে শুধুমাত্রই কি বড় বড় দালান কোঠা আর পিচ ঢালা পথের অবদান। এইসব প্রান্তিক মানুষের কি কোন অবদান নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আচরনে তেমনই মনে হলো। তাদের কাছে কারখানার হিসাব আছে। বড় বড় অট্রালিকার হিসাব আছে। বিপনি বিতানের হিসাব আছে। কিনতু এইসব অট্রালিকা শ্রমিক, কারখানা শ্রমিক আর হকারের হিসাব নেই। আমাদের এই উন্নয়ন টেকসই হবে না। টেকসই উন্নয়নের জন্য সব শ্রেনী পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।
আবুল কাশেম অথবা মনিন্দ্র কর্মকার হচ্ছেন সুখি জীবনের পাঠ। জীবনে সুখি হতে হলে নিজের কাজকে ভালবাসতে হবে। তারা যেমনটি করেছেন। আবুল কাশেমদের মত নিজ নিজ কাজ সততার সাথে সঠিক ভাবে সম্পন্ন করলে সমাজে কোন সমস্যাই থাকতো না। করোনা মহামারিতেও কোন সমস্যা হতো না। আবুল কাশেমের পথই দেশ ও দশের মঙ্গল পথ।

 

 

হেলেনার হেলে পড়া রাজনীতিবিদের সুদিনের বার্তা কি ?

মোহাম্মদ আলম : রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে। i will make politics dificult for the polititian. স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান একথা ঘোষণার মধ্য দিয়ে এমন অশুভ খেলা শুরু করেছেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে আমলা এবং ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে নামানোর এই খেলায় চরম মূল্য দিচ্ছে জাতি। ফেইসবুক লাইভে এসে হেলেনার দাম্ভিক আচরন এর সবশেষ নজির।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে লালিত আওয়ামী লীগ সেইক্ষেত্রে কিছুটা হলেও লাগাম টেনেছে। আশার কথা বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ওইসব দূর্বৃত্ত্বদের টুটি চেপেছেন। নিরবে নিভৃতে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় আশ্রয় প্রশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পাপিয়া-হেলেনা চক্র কারাগারের চার দেয়ালে পাপের পায়শ্চিত্ত ভোগ করছে।

তবে এই অশুভ চক্রের গুটি কয়েকজন কারাগারে বন্দি করার মানে রাজনীতির শুদ্ধাচার নয়। রাজনীতিতে বেড়ে উঠা ত্যাগীদের রাজনীতিতে জায়গা করে দিতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে বাধ্য। শাস্ত্রে আছে, ‘বন্যেরা বনে সুন্দর’। ব্যবসায়ী ব্যবসা সঠিকভাবে করলে জাতি লাভবান তথা বিত্তশালি হবে। শিক্ষক তার শিক্ষকতায়ই সঠিক সেবা দিলে জাতি শিক্ষিত হতে পারে। আর উন্নত জাতি গঠনের প্রধান শর্ত হচ্ছে জনসাধারণকে শিক্ষিত হিসাবে গড়ে তুলা। একজন মুচিও কিনতু সেবা দিচ্ছে। একজন সাংবাদিক বা সাহিত্যিককে তার লেখালেখি নিয়েই থাকা উচিত। মসজিদের ইমামও এখন রাজনীতি ছাড়া কথা বলেন না। এর কি প্রয়োজন আছে ? মোদ্যা কথা যে যে পেশায়ই থাকুক না কেন নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই কিনতু জাতির সেবা দিতে পারে। এখানে সবাই রাজনীতিবিদ সাজতে চায়। দেখা যাচ্ছে পত্রিকার সম্পাদক বা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকও এমপি হবার দৌড়ে ছুটছেন। অপরদিকে রাজনীতিবিদকেই বা কেন ব্যবসায় নামতে হবে। ভাসানি, বঙ্গবন্ধু কি ব্যবসা করেছেন। যদি অর্থ বানানোই লক্ষ্য হয় তবে শুরু থেকেই ব্যবসা করুন। ঠিকাদারি করুন। রাজনীতি কেন কলুশিত করছেন। আর রাজনীতি করতে হলে আদর্শ মেনেই করা উচিত। অঢেল ধন সম্পাদের মালিক হতে চাইলে রাজনীতিতে আসেন কেন! রাজনীতির আদর্শ হচ্ছে সেবার ব্রত।

এ কথার পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি তুলে ধরা যাবে। আমি সহজ ভাষায় বুঝি। যার যা কাজ সে তাই করুক। এটাই প্রকৃতির খেয়াল। অন্যথা হলেই পরিণতি ভয়াবহ। লাইভে হেলেনার ওই কথাই ঠিক থাক। ‘‘আমি দেখিয়ে দেব দলে না থেকেও মানুষের সেবা করা যায়’। হেলেনা আপনি তাই করুন। রাজনীতিতে তারাই থাক যারা শুরু থেকে মাঠে ময়দানে রাজনীতি করেছেন।

বাংলাদেশে আদর্শ রাজনীতি বা ত্যাগী রাজনীতিবিদের অভাব নেই। প্রতিটি এলাকায় এমন অসংখ্য মানুষ আছে। যারা নিজের খেয়ে দিন শেষে মানুষের সেবার ব্রত নিয়েই রাজনীতি করছেন। ওইসব দূর্বৃত্ত্বদের জাতাকলে ত্যাগীরা কুনঠাসা। শুধুমাত্র হেলেনা পাপিয়া বা সম্রাট নামের দূর্বৃত্তদের সরালেই হবে না। তাদের শুন্যস্থানে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা উচিত। তবেই রাজনীতিতে শুদ্ধাচার তরাণি¦ত হবে।

সাম্প্রতিককালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তেমনটাই করছেন। ঢাকা , কুমিল্লা বা সিলেটের উপ-নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে তা প্রকারন্তরে জনসাধারণ উপকৃত হবে। রাজনীতি রাজনীতিবিদের হাতেই থাকবে।

দুঃসময়ে মানুষের পাশে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম

মোহাম্মদ আলম : বিশ্বব্যাপি মানুষের চরম দুঃসময়। জনবহুল এবং শ্রমিক অধ্যুষিত গাজীপুর সিটিতে অসহায় মানুষের হাহাকার যেন আরো বেশী চোখে পরে। পথে পথে পোশাক শ্রমিকের আন্দোলন। বেসরকারি শিক্ষকদের আহাজারি। আর রোজি খাটা মানুষের হাহাকারে আকাশ ভারি হয়ে উঠে। আরও একবার এই চরম দুঃসময়ে ওইসব মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। সবাইকে নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। তিনি নিজে হাতে এসব অর্থ সহায়তা তুলে দেন।

প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ। বেসরকারি শিক্ষদের বেতন নাই। সরকারীভাবে প্রনোদনাও দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেটাতো বছরে মাত্র একবার। কোনদিন হয়ত এইসব শিক্ষক কল্পনাও করেননি এভাবে তাদের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হবে। অন্য কাজ করবেন করোনার কারনে সে সুযোগও নাই। পরিবারের ক্ষুধা মেটাতে তাই হাত পাতা ছাড়া কোন গতি ছিলো না। সোমবার ১৯ জুলাই মহানগরের হাজার হাজার বেসরকারি শিক্ষক মেয়রের অনুদানের টাকা পেয়েছেন। ওইসব শিক্ষক লাইনে দাড়িয়ে মেয়রের হাত থেকে অর্থ সহায়তা গ্রহন করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাপক ভাইরাল হয়। মাস্কের আড়ালেও ওইসব শিক্ষকের চোখে মুখে স্বস্তির ঝিলিক লক্ষ্য করা গেছে। অন্ততঃ ঈদে পরিবারের মুখে কিছু ভালোমন্দ তুলে দেয়া যাবে এই ভেবে।

তাছাড়া মেয়র মহানগরের সকল মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, সাংবাদিক, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার মানুষকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। টাকার অংকে তা কোটি কোটি। তবে তার থেকেও বড় কথা তিনি এটা সবসময় করছেন।

সবশেষ গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ৩ টায় মহানগরের তিন সড়ক এলাকায় আন্দোলনরত স্টাইল ক্রাফট কারখানার সারে চার হাজার শ্রমিক কর্মচারিকে আড়াই কোটি টাকা দেন।

মহানগরের যেখানেই অসহায় মানুষের কথা তার কানে আসে তিনি সেখানে ছুটে যান। মানুষের প্রয়োজন বুঝে নিজের সাধ্যমত সহায়তা করেন। এটা মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর মহানগরে অসহায় মানুষদের দুঃসময়ে পরিত্রাতা হয়ে পাশে দাড়াচ্ছেন।

এমন দুঃসময়ে ওইসব অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি সবসময় এ কাজটি করছেন। এটা সত্যিই অনেক ভাল কাজ। এভাবে সমাজের প্রতিটি বিত্তবান মানুষ অসহায়ের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ালে সমাজে একজন মানুষও অনাহারে থাকবে না। জাহাঙ্গীর আলম একজন সত্যিকার জনদরদী নেতা। একজন মানুষের মত মানুষ। এমনটাই মনে করেন গাজীপুর মহানগরের ওইসব জনসাধারণ।

প্রকৃতিও ঘরে রাখতে চায়

মোহাম্মদ আলম : বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই গাজীপুরের আকাশ ঘোর অন্ধকারময়। গত রাতেও থেকে থেকে বৃষ্টি ছিলো। সকাল আটটার পর বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এখানেও প্রকৃতির খেয়াল। পোশাক শ্রমিকরা আটটার আগেই কারখানায় হাজিরা দেয়। তাই হয়ত অন্ধকার হয়েও বর্ষেনি। এখন বৃষ্টি হচ্ছে। যাদের কাজ নেই ঘরে থাকাই বাঞ্ছনীয়। সরকারী লকডাউন, প্রকৃতির বৃষ্টি আর ভাইরাস সংক্রমণের উর্দ্ধমুখী পরিস্থিতি সবকিছুই মানুষকে ঘরে রাখার পক্ষে।

সাত দিনের কঠোর বিধিনিষেধ ও লকডাউন। সরকারের উদ্দেশ্য মানুষকে ঘরে রাখা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ। গুচ্ছ বিস্তার রোধ করা। মানুষকে মৃত্যুর বিভিষিকা থেকে পরিত্রাণ। প্রকৃতির এতে সাঁয় রয়েছে। তাইতো সকাল থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। প্রত্যাসা করছি এভাবে সাতদিনই থাক।

এমনিতেও বৃষ্টিতে বের হওয়া সমিচিন না। সামান্য বৃষ্টিতে সর্দি জ¦র হতে পারে। আর সর্দি জ¦র মানেই ভয়। এখন সিজনাল জ¦র সর্দি হলেও কিন্তু পরিবার ও স্বজনরা আড়েঠাড়ে তাকায়। এই বুঝি করোনা ধরেছে। তাই স্বজনদের বাঁকা নজর এড়াতে ঘরে নিরাপদে থাকাই ভালো।

বর্ষা ঋতু সব সময় রোমান্টিক। কবি সাহিত্যিকগণ নিশ্চয়ই খাতা কলম নিয়ে বসে আছেন। কখন একটা পঙক্তি আসে। আর বই প্রেমিকের জন্য এ যেন স্বর্গ হাতে পাওয়া। প্রিয় বই হাতে এক কাপ গরম কফির চুমুকে চোখ বুলাতে আনন্দই অন্যরকম। আর যাদের এইসব অভ্যেস নেই নিদেন পক্ষে টিভি দেখা যেতে পারে। তবে অবশ্যই কোন রুচিশীল ছবি। ইংরেজি- রোমান হলিডে, ক্লিউপেট্টা, ট্রয়, পারফিউম; হিন্দি-মাদার ইন্ডিয়া, মোঘল -ই- আজম, আন, কেয়ামত সে কেয়ামত, বাংলা উত্তম সুচিত্রার যে কোন রোমান্টিক ছবি এই বৃষ্টিতে ভাল লাগবে।
এসবও যদি মনে না ধরে তবে বাচ্চাদের নিয়ে লুডু খেলতে পারেন। গোল্লা ভরাটও বাচ্চারা খুব পছন্দ করে। তবে ইচ্ছাকৃত হারতে ভুলবেন না। বাচ্চারা খুশি হবে।

গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি মানেই বাঙালি রসনার বাহার। ভুনা খিচুরী সাথে থাকবে ভর্তা। কালোজিরা, কাঠাল বিচি, ধনিয়া পাতা, শুটকি, চ্যাপা আর বেগুন পুড়া। তবে গরুর মাংস ভুনা বা ইলিশ মাছা ভাজা হলেতো কথাই নেই। চলুন গিন্নির সাথে হাত মিলাই। অথবা আজ না হয় পরিবারের সবাইকে নিজের রাধুনী দক্ষতার প্রমান দেই। লবন চেখে দিতে ভুলবেন না। আমার অভিজ্ঞতা খুব একটা ভাল না। ঢেড়শ ভাজিতে পানি দেবার ঘটনা ছোট মেয়ে প্রায়ই বলতে বলতে হেসে কুটি কুটি হয়। আর সব তরকারিতেই গরম মশলা আমার দেয়া চাই। তা সে কাচকি মাছ বা রুই হোক। আর মাংস মানেই গরম মসলাদার হতে হবে। এটাতেও মেয়েদের কথা শুনতে হয়। কি আর করা। আমি এটাই চাই। একটু ব্যতিক্রম করে আনন্দ দেয়া আরকি। যা হোক লকডাউন উপভোগ করুন।

এই কঠিন সময়ে প্রতিবেশীকে ভুলে যাবেন না প্লিজ। যাদের ঘরে খাবার আছে। তাদের এমন অনেক কিছুই ভাল লাগবে। আর যে মানুষের ঘরে খাবারই নেই তার কাছে এইসব কথা অর্থহীন। পরিহাস মাত্র। আমরা যেন প্রত্যেকে নিজ নিজ প্রতিবেশীর খোঁজ নেই। তারা কেমন আছে। কি খাচ্ছে। অন্তত রান্না খাবার থেকে হলেও অপেক্ষকৃত দরিদ্র প্রতিবেশীর পরিবারে কিছু পরিমান পাঠিয়ে দেয়া যেতে পারে। বিশেষভাবে পরিবারের গিন্নিরা প্রতিবেশীর খোঁজখবর ভাল জানে। তাদের কাছে যেনে নিতে পারেন। বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ যেন দরিদ্র মানুষের পাশে থাকে। এটাতো কেবল রাজনীতিবিদদের কাজ না। মানুষ হিসাবে প্রতিবেশীর খবর রাখা আমাদের প্রত্যেকের সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা আরো মানবিক হই। আমরা আরো সামাজিক হবো। সবাই একসাথে আগামীর পথে এগিয়ে যাবো। এই হোক প্রত্যাসা।

করোনা জীবাণু বাণিজ্য মানব ইতিহাসের নির্মম খেলা

মোহাম্মদ আলম : পশ্চিমাদের জীবাণু ব্যবসা মানব ইতিহাসের সব থেকে নিষ্ঠুর খেলা। পরিতাপের বিষয় এই খেলায় বিশ্ব মোড়ল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ প্রত্যেকে নিজ দেশের নাগরিকদের গিনিপিগ হিসাবে ব্যবহার করতেও দ্বিধা করেনি। আর সারাবিশ্বে করোনা মহামারি জুজু ছড়িয়ে ব্যবসা ফেঁদেছে। মরার উপর খাড়ার ঘা ‘লকডাউন’। যেহেতু পশ্চিমাদের ভান্ডার অর্থ বিত্তে পরিপূর্ণ, সেহেতু লকডাউন নামে বস্তুটি তাদের জন্য কোন বিড়ম্বনা নয়। এক মাস বা বছর তাদের ব্যবসা বাণিজ্য স্থবির থাকলেও কোন সমস্যা হয়নি। ভান্ডার থেকে সামান্য নিজ নাগরিকদের দ্বারে দ্বারে পৌছে দিয়ে সব ঠান্ডা রেখেছে। নাগরিকরাও খুশি বসে বসে সরকারি খানাপিনা খেয়ে। আর মাস শেষে ব্যাংক একাউন্টে নগদ প্রাপ্তিতে। সমস্যা হয়েছে দরিদ্র দেশ এবং সেসব দেশের নাগরিকদের জন্য। ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দেশের অর্থনীতি তালানিতে ঠেকেছে। আর কর্ম হাড়িয়ে নাগরিকরা অর্ধাহারে অনাহারে দিন গুজরান করছে।

করোনার শুরু থেকেই ওইসব বুর্জুয়াদের ব্যবসা কিন্তু বন্ধ ছিলো না। প্রথম ব্যবসা শুরু মাস্ক দিয়ে। সম্ভবত বিশ্বের আট’শ কোটি মানুষের জন্য আট লাখ কোটি মাস্ক বানানো হয়ে গেছে। আর এই মাস্কের পুরো বাণিজ্যই পশ্চিমাদের পকেটে। বিশেষকরে করোনা বাণিজ্যে চীনের অর্থনীতি আরো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তারপর করোনা পিপিই। করোনা কিট। অক্সিজেন। আইসিইউ। সবকিছুতে পশ্চিমাদের এক চেটিয়া আধিপত্য। দরিদ্র দেশের মুষ্টিমেয় বুর্জুয়া শ্রেনী পশ্চিমাদের কিঞ্চিত দয়া দাক্ষিন্য পায় বৈকি। তবে তাদের সেই কিঞ্চিতও সুইস ব্যাংকে জমার নামে ফের পশ্চিমেই বিনিয়োগ হয়।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমের অভিযোগ ওহানের ল্যাবে কোভিড-১৯ ভাইরাসের সৃষ্টি এবং সেখান থেকে বিস্তার। যদি এমনটা হয়। তবে মানতে হবে কোন যুদ্ধ বিগ্রহ না লাগিয়েও চীনের এই বাণিজ্য কৌশল তাদের জন্য লাভজনক বৈকি। এখন পশ্চিমারা এই সুযোগে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে ব্যস্ত। বলা হচ্ছে করোনা যুক্তরাজ্য ভ্যারিয়েন্ট, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট, ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্ট। তারপর এলো ডেল্টা , আলফা, ডেল্টা প্লাস। হয়ত আরো আসবে ডেস্ট্রয়, ডেঞ্জারাস নানা বিধি ভ্যারিয়েন্ট। যত ভ্যারিয়েন্ট তত ব্যবসা। যতটা না বাস্তবে তার চেয়ে অনেক গুন বেশী মানুষের মাঝে মুর্তিমান আতংক ছড়ানো হচ্ছে। এসবই ব্যবসা। এখন ওহান ভাইরাসের মাধ্যমে বিশ^ মোড়লরা চিকিৎসা কিটের রমরমা ব্যবসা ফেঁদেছে।

যুদ্ধ বিগ্রহ লাগিয়ে অস্ত্র বাণিজ্য পশ্চিমাদের বহু পুরনো খেলা। সাম্রাজ্য বিস্তারকারী যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়ার সমৃদ্ধি অর্জনের হাতিয়ার যুদ্ধ ব্যবসা। সেই মধ্য যুগ থেকেই সাম্রাজ্যবাদিরা এই যুদ্ধ ব্যবসা নিজেদের সমৃদ্ধির হাতিয়ার বানিয়েছে। প্রথমে সম্পদশালী দূর্বল দেশ দখল নিয়ে লুটতরাজ চালানো হতো। অটোমান, গ্রীক, মোঘল, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সোভিয়েত রাশিয়া এসব সাম্রাজ্যবাদিরা তারই নজির রেখেছে পৃথিবীতে। এর পর দৃশ্যপটে হাজির যুক্তরাষ্ট্র। তাদের বাণিজ্য কায়দা একটু ভিন্ন। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধ থেকেই তাদের আধিপত্য শুরু। হিটলারের নেতৃত্বে অক্ষশক্তি দমাতে তারা যুদ্ধের নামে সারা বিশ^টাকে করতলগত করে নেয়। এর পর একের পর এক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মাঝে যুদ্ধ লাগিয়ে অস্ত্র ব্যবসা করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গ দিয়েছে ইউরোপ ও লাটিন আমেরিকার দোসররা। জাতিসংঘ নামে খয়ের খাঁ সামিতির মাধ্যমে এই যুদ্ধ বাণিজ্যকে বৈধ করে নিয়েছে।

চীনও এই খেলায় কম যায় না। সব কিছু ছাপিয়ে গেছে মহামারি আকারে করোনা জীবানু বাণিজ্য। পশ্চিমাদের দাবি অনুযায়ী, যদি কোভিড-১৯ জীবাণুর চীনের কোন ল্যাবে সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে তারা এই জীবানু বাণিজ্যে শতভাগ সফল। কারন বিশে^র সব থেকে জনবহুল দেশ হয়েও চীনে আক্রান্ত ও মৃত্যু একেবারেই নগন্য। তার মানে করোনা প্রতিরোধের সব ব্যবস্থাই তাদের ছিলো। পশ্চিমারা চীনের এই নব্য সাম্রাজ্যবাদি বাণিজ্য খেলা বুঝতে বুঝতে তাদের প্রযুক্তগত ত্রুটি জনসাধারণের সামনে ধরা পরেছে। সামান্য একটি জীবানু কোভিড-১৯ ছেড়ে দিয়েই চীন তাবত বিশ^কে নাস্তানাবুদ করেছে। চীনের সব থেকে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু দুই ক্ষেত্রে সবার উপরে যুক্তরাষ্ট্র। তার মানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে যতটা সুরক্ষিত ও সব্যসাচি ভাবে বাস্তবে তা নয়। তার মাঝে অনেক ফাঁকা বুলি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার নিজ দেশের জনসাধারণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতেই অপারগ। বিশ্বের প্রশ্নই আসে না। চীন সেদিক থেকে বেশ এগিয়ে। যুদ্ধ না করে বা যুদ্ধ না লাগিয়েও বিশ^ অর্থনীতিতে এটা চীনা মডেল বাণিজ্য। ভবিষ্যতে হয়ত পৃথিবীতে এমন আরো অনেক নতুন বাণিজ্য মডেল আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

এবার আসা যাক টিকা প্রসঙ্গে। বিশ্ব মোড়লদের করোনা বাণিজ্যের স্বরুপ আরো ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছি টিকা নিয়ে দরকষাকষিতে। একদিকে করোনা মহামারি ছড়িয়ে বিশ্ব মানবতাকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে। এখন টিকা নিয়ে বাণিজ্য মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেবার পায়তারা চলছে। টিকার ৯৫ ভাগই উন্নত ধনী দেশগুলো বুকিং দিয়ে রেখেছে। টিকা উৎপাদনে বিশে^র এক নম্বর দেশ ভারতও নিজ দেশের মানুষকে টিকা দিতে পারছে না। জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য নিজ দেশের নাগরিকের সংখ্যার চাইতেও বেশী টিকা বুকিং দিয়েছে। ১২ কোটি নাগরিকের দেশ জাপান টিকা বুকিং দিয়েছে ৪৪ কোটি। যুক্তরাষ্ট্রসহ জি-৭ বলছে তারা ১০০ কোটি ডোজ টিকা অপেক্ষকৃত দরিদ্র দেশগুলোকে সরবরাহ করবে। তবে এখানে তারা শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। সবশেষ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেমনটাই বলেছেন। টিকার বিনিময়ে বিশ^ ফোরামে তাদের ভোট দিতে হবে। এটাই পশ্চিমা মোড়লদের স্বরুপ। আসতেও কাটে যেতেও কাটে।

মনে কির, করোনা ভাইরাস নিয়ে এত আতংকিত হবার কিছু নেই। বঙ্গবন্ধু কণ্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে করোনা মোকাবেলা করেছে। এখনো করে যাচ্ছে। বিশ্ব পরিসংখ্যানেই তা স্পষ্ট। সারা বিশ্বে এক বছরে করোনায় মারা গেছে ৩৫ লাখ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল আর ভারতেই এর প্রায় ২০ লাখ। বুর্জুয়াদের আবিস্কৃত ভাইরাসে তাদের জনসাধারণই প্রথমে হতাহত হয়েছে। তাই করোনা নিয়ে ওরাই মেতে থাক না। করোনার চাইতেও ভয়ংকর হচ্ছে সিগারেট বা মাদক। এটাওতো পশ্চিমাদের আবিস্কার। সিগারেট বা মাদক জাতীয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বছরে মারা যায় ৮০ লাখের বেশী মানুষ। পাশাপাশি মাদক সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় হত্যা হচেছ আরো লাখ লাখ মানুষ। সিগারেট বা মাদক কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। এটাকে বিশ্বের যুবক শ্রেনীর কাছে এতটাই জনপ্রিয় করা হয়েছে যে এখন আর এর জন্য বিজ্ঞাপনও দিতে হয় না। প্রতিদিন ভোক্তা এবং আক্রান্ত বেড়েই চলেছে।

সবশেষে একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে সরকারের কাছে এটাই আবেদন রাখবো। আপনারাও হয়ত সবই জানেন ও বুঝেন। তবে সমাজের মতই বিশ্ব সমাজের বাহিরে কিছু করাও হয়ে উঠে না। তবে এটুকু অনুরোধ করবো। লকডাউন নামে প্রহসনে না যাওয়াই ভালো। কারন এটা এখন প্রমাণিত লকডাউন বা বিধি নিষেধ করোনা প্রতিরোধ বা বিনাশ কোনটাই করতে পারেনি। তাহলেতো আর যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি ব্রাজিলে এত মানুষ মারা যেত না। লকডাউন না দিয়ে কিভাবে মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জীবন যাপনে অভ্যস্ত করা যায় তা ভেবে দেখুন। কারন বুর্জুয় গোষ্ঠি এত সহজে করোনা থেকে মানুষকে নিস্তার দেব বলে মনে হচ্ছে না। তারা নিত্য নতুন দরকষাকষি করবে। সব কিছুই বাণিজ্য। এ কথা সত্য বাংলাদেশের মানুষ করোনাকে আর ভয় করে না। আমাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর একটা কথা এখন সত্যি সত্যি যুক্তিসঙ্গত মনে হচেছ। আমরা করোনার চাইতেও শক্তিশালী।