×

 মধুর দাম্পত্য সম্পর্কের রহস্য জেনে নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ হওয়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ততা। সম্পর্ক একঘেয়ে হতে থাকে।  একসময় সম্পর্কটা শ্রেফ অভ্যাসে পরিণত হয়। তবে তা এড়ানোরও উপায় আছে। কিছু সাধারণ অভ্যাসেই সুন্দর রাখতে পারেন আপনার দাম্পত্য জীবন। ধরে রাখতে পারেন সম্পর্কের উষ্ণতা। জেনে নিন তেমনি সাতটি অভ্যাসের কথা :-

নিজের সীমাবদ্ধতার তালিকা করুন 

মানুষ মাত্রেরই সীমাবদ্ধতা থাকবে। আপনি বা আপনার সঙ্গীও ব্যতিক্রম নন। দুজনে একত্রে বসে পরস্পরের সীমাবদ্ধতার তালিকা করুন। কার কোন স্বভাব অপরজনকে বিরক্ত করে, রাগিয়ে তোলে। যখনই কেউ তেমন কিছু করবেন, অন্যজন সেটা ধরিয়ে দিন। এভাবে পরস্পরকে সাহায্য করুন নিজেকে শোধরাতে।

কথা বলুন দুজন দুজনে

সম্পর্কে পরস্পরের প্রতি মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে সেটা আরও বেশি দরকার। সেই সঙ্গে দরকার আপনি যে সঙ্গীর প্রতি মনোযোগী, সেটা বোঝানো। সে জন্য দুজনে প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা কথা বলুন। মুখোমুখি। সময়টাতে দুজনেই অখণ্ড মনোযোগ দিন পরস্পরকে।

ঝগড়া হলে যা করবেন

সম্পর্কে মতানৈক্য হবেই। তা থেকে মাঝেমধ্যে উত্তাপও ছড়াবে। কিন্তু কুৎসিত ঝগড়ায় পরিণত হওয়ার আগেই বিরতি নিন। না, আচমকা কথা বন্ধ করে চলে যাবেন না। তাতে মনে হবে, আপনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। বরং সঙ্গীকে জানিয়ে দিন, বিরতির পরে আবার এ নিয়ে কথা বলবেন। পরে দুজনেই মাথা ঠাণ্ডা করে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করুন।

পরস্পরের প্রশংসা করুন

আপনার সঙ্গীর ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করুন। দিনে অন্তত একবার। পরস্পর এই চর্চা করলে তা এক ইতিবাচক বৃত্ত তৈরি করবে। দুজনকেই মানসিক ও শারীরিকভাবে চাঙা রাখবে। আপনাদের ইতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো বিকশিত হবে। আখেরে চাঙা থাকবে আপনাদের সম্পর্ক।

বানিয়ে ফেলুন বাকেট লিস্ট

মাঝে করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন কোথাও যাওয়া হয়নি। বাতিল হয়েছে অনেক পরিকল্পনা। দুজনে মিলে সেসবের তালিকা করে ফেলুন। তাতে রাখুন কোথায় কোথায় ঘুরতে যেতে চান। কোন কোন কনসার্ট বা প্রদর্শনীতে যেতে চান। কোন কোন সিনেমা বা মঞ্চনাটক দেখতে চান। না-করা কী কী করতে চান।

দূরে থেকেও কাছে থাকুন

এখনকার ব্যস্ত জীবনে দুজনকেই সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হয় নিজেদের কাজ নিয়ে। একসঙ্গে থাকার সুযোগ হয় কম। আবার যাঁদের নানা প্রয়োজনে ভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়, তাঁদের জটিলতা আরও বেশি। সেটা দূর করতে নিন প্রযুক্তির সাহায্য। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকুন সারাদিন। নিয়মিত কথা বলুন বা বার্তা দেওয়া–নেওয়া করুন।

নিয়মিত  বেড়াতে যান

বিয়ের আগে নিয়মিত দুজনে ঘুরতে যেতেন। কোথাও খেতে, বা সিনেমা কি মঞ্চনাটক দেখতে, বা ¯শ্রেফ ঘুরতে। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ডেট’-এ যাওয়া। তার জন্য দুজনেই তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতেন। বিয়ের পরও তা জারি রাখুন। পারলে প্রতি সপ্তাহে। নয়তো অন্তত মাসে একবার। এতে পরস্পরের সান্নিধ্যের প্রতি আপনাদের আকর্ষণও জারি থাকবে

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনায় ছাত্রনেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে করণীয় ঠিক করতে আলোচনায় বসেছেন ক্যাম্পাসে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। অপরদিকে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ থাকার পর আজ রোববার বেলা দুইটার দিকে বাসভবনে ফিরেছেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

জানা গেছে, শহীদুল্লাহ ভবনের সামনে আমতলায় ছাত্রলীগ, বাম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আলোচনায় বসেছেন। আলোচনা থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট দাবিদাওয়া ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন  ছাত্রনেতারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে বেলা ১১টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আসেন উপাচার্য। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দেন। দুপুর ১২টার দিকে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শাবাশ বাংলাদেশ মাঠে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মানতে রাজি হননি। শিক্ষার্থীদের দাবি, যেখানে শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরেছে, সেই বিনোদপুরে আলোচনায় বসতে হবে। তাঁরা মিছিল নিয়ে বিনোদপুরে যেতে চান। সঙ্গে উপাচার্যকেও যেতে হবে। একপর্যায়ে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা শাবাশ বাংলাদেশ মাঠের দিকে এলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় মানবঢাল তৈরি করে তাঁদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা।

পরে বেলা ২টার দিকে ছাত্রলীগ নেতারা উপস্থিত হওয়ার পর উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের অবরুদ্ধ দশা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে বেলা আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষিপ্তভাবে নানা জায়গায় অবস্থান নেন। দলবদ্ধ হয়ে কেউ কেউ প্যারিস রোডে বসে আছেন। কেউ শহীদুল্লাহ ও মমতাজউদ্দিন একাডেমিক ভবনের সামনে আমতলায় অবস্থান নিয়ে বসে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের হাতে এ সময় লাঠিসোঁটাও দেখা গেছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বেলা ৩টা ২০ মিনিটে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হন। তিনি বলেন, তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে শান্ত করতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিগগির মামলা হবে।

এদিকে বেলা ৩টার পর ঢাকা–রাজশাহী মহাসড়ক থেকেও সরে গেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বেলা ১২টার দিকে একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের এই সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেছিলেন।

গতকাল শনিবার বগুড়া থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পথে বাসের আসনে বসাকে কেন্দ্র করে চালক ও চালকের সহকারীর সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর ফটকে পৌঁছালে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে আবার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় স্থানীয় এক দোকানদার এসে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ওই দোকানদারের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। তখন শিক্ষার্থীরাও তাঁদের পাল্টা ধাওয়া করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

গাজীপুরে ২ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে পাষন্ড শিক্ষকের দ্বারা ২ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বলাৎকারের স্বীকার হয়েছেন। ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাছিমপুর এলাকায় জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক মোঃ শাহ আলম সোমবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে সন্ধা ৭ টার পর জিএমপি পূর্ব থানা পুলিশ শিশু দুটিকে উদ্ধার করে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষক শাহ আলম পলায়ন করে। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।

ভুক্তভোগী শিশুর পিতা মোঃ সোহেল মিয়া এবং দেলোয়ার হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা। ওই শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার নুরানী বিভাগের ছাত্র।

মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরে তার পুত্র বলাৎকারের ঘটনা জানায়। একইদিন সোহেল মিয়ার ছেলেকেও ওই শিক্ষক বলাৎকার করে। ঘটনা জানাজানি হবার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করে। তাছাড়া হুজুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে আখেরাতে পাপের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভুগি পিতা-মাতাকে মামলা করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। পরে মামলার উদ্দেশ্যে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া। বর্তমানে তার ছেলে মোতোয়াল্লী মোঃ মামুনুর রশিদের কাছে জানাতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত মাদ্রাসার খোঁজখবর রাখেন না। যখন যা প্রয়োজন শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে সহযোগীতা করেন।

জিএমপি টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাভেদ মাসুদ বলেন, ভুক্তভুগী শিশু দুইজনই ঘটনার সত্যতার বিবরণ দিয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরে বেপরোয়া চোরাই সিন্ডিকেটে

মোহাম্মদ আলম : গাজীপুরে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের সালনা থেকে হোতাপাড়া পর্যন্ত দুইপাশে চোরাই তেল বেচা-কেনার রমরমা কারবার। প্রায় ২৫টি আখড়ায় মাসে কয়েক কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন চলে। আর দিনের পর দিন লোকসান গুনছে পরিবহন ব্যবসায়ীরা। একইভাবে অন্যান্য চোরাই পণ্য যেমন- কারখানার সুতা, কাপড়, গৃহস্থালী সামগ্রীসহ, যন্ত্রাংশও এখানে অবাধে বেচাকেনা চলে। দীর্ঘদিন মাসোহারায় চলা এই চোরাকারবার বর্তমানে পুলিশের টহলকে প্রতিদিন বখরা দিয়ে চলছে বলে অভিযোগ।

তবে বাধ সেধেছেন জিএমপির বর্তমান ওসি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে গাজীপুর সদর থানার বর্তমান ওসিকে ম্যানেজ করতে চোরাকারবারি সকল সদস্যর কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকাও তুলা হয়েছে। এই টাকা মাসোহারা হিসাবে দেয়ার কথা। দীর্ঘদিন যাবৎ এভাবেই চলছে। ‘সিন্ডিকেটের হোতা জামানের মাধ্যমে গাজীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলামকে ম্যানেজের চেষ্টা করেও সুবিধা করতে পারেনি বলে জানা গেছে। আর ওসির ভাষ্য, চোরাই দোকান চলার কথা তিনিও শুনেছেন। শিঘ্রই সেখানে অভিযান চালানো হবে জানালেন।

গাজীপুর জেলা ট্রান্সপোর্ট ঠিকাদার মালিক সামিতির সাধারণ সম্পাদক এবং শিলা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মালিক দ্বীন মোহাম্মদ নীল মিয়া জানান, চোরাই সিন্ডিকেটের দৌড়াত্মে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা অনেকেই পথের ফকির হয়েছে। কোটি টাকা বিনিয়োগ করেও গাড়ির মালিক লাভের মুখ দেখে না। অথচ সামান্য কয়েকটি টাকার জন্য গাড়ির চালকরা চুরি করে তেল বেচে, আর এইসব চোরাকারবারিরা বছর না ঘুরতেই কোটিপতি হচ্ছে। লিভার ব্রাদার্সের ২০ টন হুইল পাউডার সহ তার একটি ট্রাক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। অনেক খোঁজাখোজির পর চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা থেকে হুইল পাউডার উদ্ধার হয়। তবে প্রায় ২০ লাখ টাকার ট্রাকটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই চোরাই সিন্ডিকেট দেশের প্রধান প্রধান মহাসড়ক এবং সারাদেশে জাল বিস্তার করেছে বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, আমানত শাহ গ্রুপের শাড়ি ও লুঙ্গি বোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান টঙ্গী থেকে ছিনতাই হয়। পরে মালামালসহ খিলগাও থেকে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে। তবে ছিনতাই চক্রের সদস্যরা ধরা ছোয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।

সোহেল অল্পদিন হলো চোরাকারবারের সাথে জড়িত হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজেকে সাধু সাজানোর ভান করে। অকাতরে বলে যায় এই চোরাই ব্যবসার আদ্যোপান্ত। সে জানায়, রাতদিন ২৪ ঘন্টাই এসব চোরাই খুপরি খোলা থাকে। দিনরাত সাধারণত গাড়ির চালকরা বাস, ট্রাক বা কার্ভাড ভ্যান থামিয়ে তেল (চুরি) বিক্রি করে। ফিড কোম্পানীর ভুট্টা এবং ফিডমিলও নিয়মিত বেচাকেনা হয়। তবে তার চেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে সারাদেশ থেকে চুরি বা ছিনতাই হওয়া ট্রাক কার্ভাড ভ্যানের মালামাল জামান-মাসুদ-আয়নাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেচাকেনা চলে।

চুরির উপর বাটপারি : সোহেলসহ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি লিটার ডিজেল চালকের কাছ থেকে কিনতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচ। আর বিক্রি ৬৩ টাকা। তাহলে প্রশ্ন লিটারে মাত্র ৩ টাকা লাভের জন্য কেন এত রিস্ক নেয় ? গাড়ির চালক চুরি করে তেল বিক্রির উদ্দেশে এলে চোরাই সিন্ডিকেট চুরির উপর বাটপারি করে। ট্যাংকি থেকে তেল নামানোর সময় ২ থেকে ৩ লিটার বেশী নিয়ে নেয়। অর্থাৎ ১০ লিটারের যায়গায় ১৩ লিটার। এতে লাভ প্রায় দ্বিগুন হয়। একইভাবে ভুট্টা, ফিডমিল, কারখানার কাপড়, স্পিনিং মিলের সুতা, সয়াবিন তেলসহ নানান চোরাই পণ্য এখানে কেনাবেচা হয়। আর চুরি বা ছিনতাই হওয়া ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান মালামালসহই কেনা-বেচা চলে।

কারা আছে চোরাই সিন্ডিকেটে : মহাসড়কের এই ভয়ংকর চোরাই সিন্ডিকেটের মালামাল ৪টি হাত বদল হয়। প্রথম হাত হচ্ছে গাড়ির চালক। বাস, ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান মালিকের অগোচরে চালক নিয়মিত তেল বিক্রি করে। প্রথম হাতের অপর সংগ্রাহক হচ্ছে মালামালসহ গাড়ি ছিনতাইকারী চক্র। এরা সারাদেশ থেকে আসে। দ্বিতীয় হাত হিসাবে মহাসড়কের পাশে চোরাই সিন্ডিকেটের আখড়া মালিকরা ২৪ ঘন্টা এসব চোরাই মালামাল অর্ধেক কখনো কখনো আরো কমে কিনে নেয়। তৃতীয় ধাপে পাইকার। আখড়া থেকে ৮/১০ জন পাইকার তেল বা অন্যান্য পণ্য সংগ্রহ করে। চতুর্থ ও শেষ ধাপের সিন্ডিকেট সদস্যরা সারাদেশে চোরাই পণ্য বিক্রির খুচরা দোকানদার। পাইকারের মাধ্যমে এসব চোরাই তেল দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে যায়। শেষধাপে গ্রামাঞ্চলে চোরাই পণ্য বা তেলের নির্দ্দিষ্ট দোকানে সরবরাহ করা হয়। তাছাড়া শিল্প কারখানায় জেনারেটর বা ব্রয়লার চালানোর তেল হিসাবেও এসব চোরাই তেল সাপ্লাই দেয়া হয় বলে জানা গেছে। অপরদিকে কারখানার কাপড়, পোশাক বা সুতা জাতীয় চোরাই পণ্য কেনা বেচার চক্রও রয়েছে।

মাসে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন : সালনা থেকে হোতাপাড়া পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ২৫ টি চোরাই পণ্য বেচা-কেনার খুপরি। এলাকাটি গাজীপুর সদর এবং জয়দেবপুর থানার আওতাধীন। এক খুপরিতে কম করে হলেও ২ থেকে ৩ ড্রাম তেল জমে। সেই হিসাবে দিনে প্রায় ৭৫ ড্রাম তেল চুরি হয়। এক ড্রামে ২২০ লিটার ডিজেল থাকে। প্রতি লিটার ৬৫ টাকা দরে এক ড্রামের মূল্য ১৪ হাজার ৩০০ টাকা। ৭৫ ড্রামের দাম পরে ১০ লাখ টাকার উপর। এই হিসাবে শুধুমাত্র ডিজেলের জন্য। সয়াবিন, ভুট্টা বা ফিডমিল চুরি হচ্ছে নিয়মিত। তাছাড়া প্রতিদিনি রাতে ১/২টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান ভর্তি চোরাই মালামাল বেচা-কেনা চলে। সেই হিসাবে সক্রিয় চোরাই সিন্ডিকেট মাসে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য করে।

মহাসড়কে চোরাই সিন্ডিকেট সদস্যরা : পোড়াবাড়ি এলাকায় বরিশাইল্যা জামান, আয়নাল এবং হোতাপাড়ায় মাসুদ হচ্ছে সিন্ডিকেটের মূল হোতা। এদের সহযোগী হিসাবে কাজ করে সিন্ডিকেটের সদস্য চালক, পাইকার। তাছাড়া সেলিম, রাজ্জাক, বাদশা, আবুল কাশেম, ফিরোজসহ প্রায় ২৫ জনের একটি চক্র সক্রিয়ভাবে আখড়া বসিয়েছে। তাছাড়া টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় রুবেল তেল চোরাকারবারী। আর প্রতিটি আখড়ায় সহযোগী হিসাবে ৫০০ টাকা রোজীতে খাটে করে আরো কয়েকজন যুবক। এরা গাড়ি থামানো, পাহাড়া দেয়ার কাজ করে।

সরজমিনে একদিন : বিভিন্ন সূত্রে চোরাই সিন্ডিকেটের বিষয়ে জানতে পেরে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই প্রতিবেদক গত ১৪ সেপ্টেম্বর সারাদিন সালনা থেকে হোতাপাড়া পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে। বেলা ১২টার দিকে পোড়াবাড়ি এলাকায় মহাসড়কের পূর্বপাশে রাজ্জাকের আখড়া থেকে একটি পিকাআপ ভ্যানে ৫টি তেলের ড্রাম উঠাতে দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও ধারন করতে গেলে আখড়ার কর্মচারি বাধা দেয়। তার সাথে পিকাআপের চালক, পাইকার ও দোকানের মালিকও ভিডিও ধারনে বাধা দেবার চেষ্টা করে। তবে প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে ভিডিও ধারন অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে পাইকার পরে যোগাযোগের আশ^াস দিয়ে পিকআপ নিয়ে সটকে পরে। আর আখড়ার রাজ্জাক ও তার কর্মচারি সব ফেলে পালায়।
বেলা ১টার দিকে পোড়াবাড়ি এলাকায় আবুল কাশেমের আখড়ায় একজন যুবক একটি তেল ভরা ড্রাম লুকাচ্ছিলো। প্রতিবেদক গাড়ি থামিয়ে ভিডিও ধারন শুরু করতেই দৌড়ে পালায়।
বেলা ২টায় ফের রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা। সেখানে কথা হয় চোরা কারবারি মোঃ সোহেলের সাথে। নিজেকে সাধু সাজাতে সব কথা বলতে রাজি হয়। তার কাছ থেকে আদ্যোপান্ত অনেক কিছু নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইতমধ্যে সাংবাদিক আসার খবর সিন্ডিকেটের সবার কাছে পৌছে যায়। আধাঘন্টা অপেক্ষার পর আড়াইটার দিকে এই প্রতিবেদক হোতাপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়। শুরুতে উল্লেখিত জামানের আখড়ায় একটি কার্ভাড ভ্যান(নম্বর ঢাকা মেট্রো-ট ১১-৮৪৮৫) থেকে তখন তেল চুরি চলছিলো। কাভার্ড ভ্যানের তেলের ট্যাংকির নীচে স্ক্রু খোলে একটি খোলা ড্রামে তেল নামানো হচ্ছে। আরএসকে ট্রান্সপোর্ট কোম্পানীর কাভার্ড ভ্যানের চালক আনিছ(ছদ্মনাম) ১০ লিটার ডিজেল ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছে। প্রতিবেদক ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। চোরাকারবারি জামানের কর্মচারি ভিডিও ধারনে বাধা দিতে চেষ্টা করেও সফল হয়নি। ততক্ষনে সিন্ডিকেটের কয়েকজন সদস্য সেখানে হাজির হয়। সিন্ডিকেটের সদস্যরা জামানের কর্মচারীকে গালাগাল করে। ‘ওই শালার– ! তর মালিক বরিশাইল্যা না পুলিশ ম্যানেজ করছে। সবার কাছ থিকা ট্যাকা তুলছে। অহন আবার এইডা কি?’’

সেখান থেকে পোড়াবাড়ি এলাকায় তালুকদার সিএনজির পাশে আয়নালের আখড়ায় একটি কাভার্ড ভ্যান বের হতে দেখা যায়। কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চালকের কাছ থেকে জানা যায়, অভিযান চলছে তাই আজ তেল কিনবে না। আখড়ার ভিতরে আরো একটি কাভার্ড ভ্যান দেখা যায়। সেটি থেকে ভুট্টা নামানো হয়েছে। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়েই আয়নাল তার আখড়ার ঝাপ বন্ধ করে।
আয়নালের কাছে চোরা কারবারের কথা জানতে চাওয়া হয়। আয়নালের ভাষ্য, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সে ব্যবসা করে। তাছাড়া তেল ব্যবসার একটি ট্রেড লাইসেন্স আছেও বলেও জানায়। তবে কোনভাবেই আখড়ার ঝাপ খুলতে রাজি হয়নি।
বিকেল ৩টার পর হোতাপাড়ায় মাসুদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। যাচাই করার উদ্দেশে প্রতিবেদক তাকে ৩ ড্রাম চোরাই তেল বিক্রির প্রস্তাব করে। মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে মাসুদ তৎক্ষনাত তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে। হোতাপাড়া নিউ বিলাশ হোটেলের পাশে তার দোকানে যেতে বলে। তবে ইতমধ্যে সাংবাদিক আসার খবরও তার কানেও পৌছে। অগত্যা সব বন্ধ করে সটকে পরে। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোন সারা পাওয়া যায়নি।

সিন্ডিকেট হোতা চোরা কারবারি জামানের সাথে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি কর্মচারি পাঠিয়ে অনুরোধ করেন যাতে সংবাদ প্রকাশ না হয়। তবে জামান কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মাহতাব উদ্দিন বলেন, দ্রুত এব্যপারে ব্যবস্থা নিবেন।

ইতিপূর্বেও চোরাই সিন্ডিকেটের এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে জানিয়ে জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার(অপরাধ) মোঃ জাকির হোসেন বলেন, এই চোরাই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে আর এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত হবার চেষ্টা না করে।

 

 

 

 

টঙ্গীতে উদয়ন টাওয়ারের পাইলিং কাজের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী : গাজীপুরের টঙ্গী মোক্তারবাড়ি এলাকায় উদয়ন টাওয়ারের পাইলিং কাজের উদ্বোধন আজ (শুক্রবার) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পশ্চিম থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম এম হেলাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা আবুল হোসেন, সৈকত পাঠান, শেখ নুরুজ্জামান শাহিদ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন উদয়ন টাওয়ারের পরিচালক মো. আবুল হোসেন, আলাউদ্দিন মাহমুদ, মো. সোহেল আরমান, আব্দুল আলীম, মো. আলমগীর হোসেন প্রমুখ। এসময় উদয়ন টাওয়ারের ফ্ল্যাটের মালিকগণসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, আমরা আশা করবো উদয়ন টাওয়ার কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাট ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভবন নির্মাণ করবেন। যাতে ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের পরবর্তী প্রজন্মের কোন সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়। বক্তারা উদয়ন টাওয়ার কর্তৃপক্ষের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। উদ্বোধন শেষে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন আল-মদিনা মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম।

উদয়ন টাওয়ারের পরিচালক মো. সোহেল আরমান বলেন, ফ্ল্যাট মালিকদের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদানে আমরা বদ্ধপরিকর। এটি আমাদের প্রজেক্টের প্রথম কাজ। পাশ্ব্র্ইে আরও একটি প্রজেক্ট রয়েছে আমাদের। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ হাতে নেব, ইনশাআল্লাহ।

টঙ্গীতে উদয়ন টাওয়ারের পাইলিং কাজের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী : গাজীপুরের টঙ্গী মোক্তারবাড়ি এলাকায় উদয়ন টাওয়ারের পাইলিং কাজের উদ্বোধন আজ (শুক্রবার) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পশ্চিম থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম এম হেলাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা আবুল হোসেন, সৈকত পাঠান, শেখ নুরুজ্জামান শাহিদ। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন উদয়ন টাওয়ারের পরিচালক মো. আবুল হোসেন, আলাউদ্দিন মাহমুদ, মো. সোহেল আরমান, আব্দুল আলীম, মো. আলমগীর হোসেন প্রমুখ। এসময় উদয়ন টাওয়ারের ফ্ল্যাটের মালিকগণসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা বলেন, আমরা আশা করবো উদয়ন টাওয়ার কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাট ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভবন নির্মাণ করবেন। যাতে ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের পরবর্তী প্রজন্মের কোন সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়। বক্তারা উদয়ন টাওয়ার কর্তৃপক্ষের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। উদ্বোধন শেষে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন আল-মদিনা মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম।

উদয়ন টাওয়ারের পরিচালক মো. সোহেল আরমান বলেন, ফ্ল্যাট মালিকদের সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা প্রদানে আমরা বদ্ধপরিকর। এটি আমাদের প্রজেক্টের প্রথম কাজ। পাশ্ব্র্ইে আরও একটি প্রজেক্ট রয়েছে আমাদের। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ হাতে নেব, ইনশাআল্লাহ।

করোনাও গাসহা !

মোহাম্মদ আলম : বাংলাদেশে করোনা এখন অনেকটাই গাসহা হয়েছে। রাস্তায় বেরোলে যে কোন সচেতন মানুষেরই বিষয়টি দৃষ্টি এড়াবে না। প্রথম প্রথম একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য একটি গ্রাম বা ওয়ার্ড লকডাউনের ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হবার খবরে দেশই লকডাউন হলো। আর বাংলাদেশে যখন করোনা সংক্রমণের হাড় ৮ এর উপর অথবা প্রতিদিন প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হচ্ছে তখন জীবন-জীবিকার তাগিদে সবকিছু স্বাভাবিক। এটা সত্যিই মিরাকেল। মরনব্যধি ক্যান্সার, এইডস, ডায়াবেটিস এসব রোগের মতই করোনাও গাসহা হলো। বিষয়টা এমন, রোগ থাকবেই জীবনতো আর থেমে থাকবে না। যা হয় হোক। ছুটেচলো।

বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা বেশ টেকসই। প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করেই টিকে আছে বাংলাদেশ। উপকূলে ঝড়-জলোচ্ছাস, মধ্যাঞ্চল থেকে ভাটি পর্যন্ত বন্যা আর উজানে পাহাড়ি ঢল। এসব বাংলাদেশের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যপার। আর এই দেশ-সমাজের চালিকাশক্তি মানুষগুলোর বিরত্বগাথা বিশে^র মানুষের পাঠেয়। সম্মুখ যুদ্ধ বা জীবন যুদ্ধ যাই আসুক হাড়ার পাত্র সে নয়। জীবন দিয়ে সামনে এগিয়ে চলার বাসনা নিয়েই বাঙালির পথচলা। স্বভাবজাত সহিংসু বাঙালি খুব সহজেই করোনাকে মানিয়ে নিয়েছে।

 

 

রাজশাহীতে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীসহ ৩ জন আটক  

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : রাজশাহী মহানগরীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটনের প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র করাকালে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীসহ ৩জনকে আটক করেছে আরএমপি এর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। জামায়াতের রাসিক ১৬নং ওয়ার্ড ইউনিটের জামায়াতের রোকন ও শিবির কর্মীসহ ৩ জনকে আটক করেছে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। এসময় আসামীদের কাছ থেকে জুম মিটিং এর সরঞ্জামাদি, বিপুল পরিমান জিহাদী বই, ব্যানার, ক্যাশ রেজিস্টার, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়।

জনগনের জানমালের নিরাপাত্তার দেয়ার সার্থে পুলিশ প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। একটি গোপন সংবাদের মাধ্যমে গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর (১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ দিবাগত) রাত্রী ৪.১৫ টায় বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন কয়েরদাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের বাড়ীতে অভিযান পরিচলনা করা হয়। ওই সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটনের প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র ও জুম মিটিং করাকালে আসামী কয়েরদাড়া বিলপাড়া গ্রামের মৃত লালু শেখের ছেলে জামায়াতের রাসিক ১৬নং ওয়ার্ড ইউনিটের রোকন মোঃ রবিউল শেখ (৪০), দরগাপাড়ার মৃত আঃ রশিদের ছেলে মোঃ পারভেজ (২২) ও মতিহার থানার নতুন বুথপাড়া গ্রামের মোঃ সিরাজের ছেলে মোঃ হাবিব (২৭) কে আটক করে। তবে পুলিশের উপস্তিতি টের পেয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনাস্থল থেকে ট্যাব, জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কার্যক্রমের বিভিন্ন রেকর্ডপত্র, জিহাদি বই, ব্যানার, ক্যাশ রেজিস্টার ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র সহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার হয়।

বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, তিনিসহ এসআই মোঃ শাহিন আকতার, এসআই ইফতেখার মোহাম্মদ আল আমিন ও তার টিম এই অভিযানটি পরিচালনা করেন।  আটককৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে

থানার পরিবেশও সুন্দর হতে পারে!

মোহাম্মদ আলম : ‘থানায় প্রবেশ করলে যে কারোরই মন ভাল হবে। আঙিনার একদিকে বাগানে লাল-হলুদ ফুল, পাশেই তীন ফলের গাছ। পুকুরের পারে মসজিদ। একইসাথে সেবার মানও বেড়েছে।’ এসব কথা বলছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানা মসজিদে ২০ বছর ইমামতির দায়িত্বে নিয়োজিত মাওলানা মোঃ মীর জালাল উদ্দিন আনছারী।

গত কয়েক মাসে জিএমপির টঙ্গী পূর্ব থানায় একটু একটু পরিবর্তনের চিত্র দর্শনার্থী বা এলাকাবাসি সবারই নজর কেড়েছে। সরজমিনে আমাদের সময় গত সোমবার দুপুরে সেবার বিষয় নিয়েও পর্যবেক্ষণ করে।

দেখা গেছে, ৬ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে দত্তপাড়া থেকে মোবাইল সেট হারানোর জিডি করতে এসেছেন মাসুম নামের এক যুবক। মাসুম থানা ভবনের প্রধান ফটকের সামনে আসতেই কাচের দরজার উপরে তাকালেন। সেখানে লেখা ‘‘আমি আপনাকে কি ভাবে সাহায্য করতে পারি’’। তিনি ডিউটি অফিসারের সামনে গিয়ে বসে খুব সহজেই জিডি করেন। ডিউটি অফিসারের পাশে দর্শনার্থী এবং বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের জন্য পরিপাটি সোফাসেট রয়েছে।

সরজমিনে থানার ভিতরের পরিবেশ আরো সুন্দর। সেখানে অন্য সব থানার মতই রয়েছে- নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক । তবে এখানে ব্যতিক্রম হচ্ছে প্রসূতি মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পান করানোর আলাদা কক্ষ। পাশেই করা হয়েছে ভুক্তভোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফাস্ট্র এইড কক্ষ।

জানা গেছে, পুলিশে কর্মরতদের সবথেকে বিব্রতকর হচ্ছে টয়লেট ব্যবস্থা। কারন থানার বাহিরে ডিউটিতে গিয়ে সুবিধাজনক স্থানে টয়লেট করা দূঢ়হ। সেই চিন্তা থেকেই টঙ্গী পূর্ব থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য আধুনিক এবং পরিপাটি টয়লেট করা হয়েছে।

সেবার মান বেড়েছে এ কথার যথার্থতা কিভাবে বুঝা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি মোঃ জাভেদ মাসুদ জানান, গত ৩ মাসে থানায় ১৫৭টি মামলা রুজু হয়েছে। তবে তারা পূর্বের পেন্ডিংসহ মোট ১৬১ টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। মানুষ বিপদে পরে থানায় আসে। থানায় এসে হয়রানি না হয়ে যেন সঠিক সেবা পায় বিষয়টি তিনি নিয়মিত তদারকি করেন বলে জানান।

একজন পরিবেশ সচেতন অফিসার ইনচার্জ হিসাবে মোঃ জাভেদ মাসুদের হাত ধরেই টঙ্গী পূর্ব থানায় এই পরিবর্তনের হাওয়া। তিনি বলেন, ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন বৃক্ষপ্রেমিক মানুষ। পৈত্রিক জমিতে আম, মালটা এবং ড্রাগন ফলের বাগান করেছেন। জিএমপির টঙ্গী পূর্ব থানায় বৃক্ষ রোপণের জন্য অনেক জায়গা। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসাবে আধুনিক থানা ভবন স্থাপিত হয়েছে। তিনি চেষ্টা করছেন যেন মানুষ সেবা নিতে এসে সত্যিকার সেবার পরিবেশ পায়।

জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার(দক্ষিণ) মোঃ ইলতুৎ মিশ বলেন, যে কোন সেবা কাজের প্রথম শর্তই হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ সুন্দর হলে মানুষ এমনিতেই খুশি হয়। পরে ভুক্তভোগি মানুষ যাতে সঠিক এবং কাঙ্খিত সেবা পায় এটা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর, জিএমপি কমিশনারের এমন নির্দেশ অনুযায়ী তারা কাজ করছেন।

 

টঙ্গীতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুনের অভিযোগ ॥ স্বামীসহ আটক দুই

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী :  গাজীপুরের টঙ্গী বড় দেওড়া ছয়তলা এলাকায় স্বামীর হাতে শাবনুর আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধু খুনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার ভোররাতে মৃত রেজাউল কবিরের ছেলে রেজওয়ান কবির মনিরের বাড়িতে। এঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামী আব্দুস সাত্তার (৩০) ও তার মামাতো ভাই দুলালকে (২৮) আটক করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।

নিহত শাবনুর নওগাঁ জেলা সদরের চারিপাড়া গ্রামের জরিফ উদ্দিনের মেয়ে।

এলাকাবাসী জানায়, টঙ্গী বেপারিবাড়ি এলাকার এআরএস ওয়াশিং কারখানার শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের দ্বিতীয় স্ত্রী শাবনুর। গত ৩ সেপ্টেম্বর ছয়তলা এলাকার রেজওয়ান কবিরদের একটি বিল্ডিংয়ে সাবলেট হিসেবে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন তিনি। ওই বাড়িতেই অপর একটি বিল্ডিংয়ের ৫তলায় মেস বাসায় থাকেন তার স্বামী আব্দুস সাত্তার এবং সাত্তারের মামাতো ভাই দুলাল। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুলাল শাবনুরকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গেলে সে আর বাসায় ফেরেনি। একপর্যায়ে গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শাবনুরের নিথর দেহ ওই বাসার পেছনের পরিত্যাক্ত জায়গায় পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজন টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতের লাশ উদ্ধার এবং নিহতের স্বামী আব্দুস সাত্তার ও দুলালকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বাড়ির ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করে জানান, একই মালিকের সাতটি বহুতল ভবন থাকা সত্ত্বেও এখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা নেই। তাই মদখোর, মাদক ব্যবসায়ীসহ অনেকের অবাধ বিচরণ রয়েছে এবাড়িতে। এখানে কে কি করছে তার কোন হদিস পাওয়া মুশকিল।
এব্যাপারে বাড়ির মালিক রেজাউল কবিরের ছেলে রেজওয়ান কবির মনির বলেন, আমরা সপরিবারে উত্তরায় থাকি। বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে ৩জন গার্ড রয়েছে। বাড়িতে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা না থাকলেও আগামী দুই/তিন দিনের মধ্যে সিসি ক্যামেরার সংযোগ দেব।

এবিষয়ে যোগাযোগ করা হলে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামীসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে।