×

খুলে দিন দুয়ার

মোহাম্মদ আলম : দেশে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। ইতিবাচক নেতিবাচক দুইভাবেই দেখা যেতে পারে বিষয়টি। ইতিবাচক হচ্ছে, মানুষ খেটে খেতে আগ্রহী। সরকারি বেসরকারি সহায়তার আশায় পথ চেয়ে নেই। মরন ঝুঁকি আছে জেনেও তাই কাজ চালিয়ে যাবার দাবিতে এই বিক্ষোভ। অপরদিকে নেতিবাচক হচ্ছে, সরকারিভাবে উন্নয়নশীল দেশ হলেও করোনার ধাক্কায় নিন্ম আয়ের মানুষের আর্থিক অবনতি হয়েছে। এখন রুটিরোজির যোগান বন্ধ হলে পেটের ভাত জোটবে না। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা বা কাজ চালু রাখার দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছে মানুষ।

রাজধানী ঢাকাতেই সবার আগে বিক্ষোভ হয়েছে। মিরপুর, নিউমার্কেট, উত্তরা, চিটাগাং রোড এসব স্থানে দোকান মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। দোকান মালিক সমিতির দাবি অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেয়া হোক। এছাড়া সারাদেশেই দোকান-পাট তথা ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর, ফরিদপুর থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভের খবর পাঠিয়েছে। তথ্য প্রবাহের অবাধ বিস্তারের যুগে খুব দ্রুতই মানুষের খবরাখবর ছড়িয়ে যাচ্ছে। যে কারনে মানুষের অধিকার আন্দোলন সহজতর। সরকার শুনতে পাচ্ছে। ইতমধ্যেই আজ থেকে নগর এলাকায় গণপরিবহন চালু হবে।

জীবনের ভয় সবারই আছে। তবে পেটের ক্ষুধা মরন ভয়কেও হার মানায়। দীর্ঘ করোনাকালের পর লকডাউন নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য বিষফোড়া। তার উপর সামনে মুসলমানদের সবথেকে বড় উৎসব ঈদ। তাই লকডাউন মানতে নারাজ মানুষ।

করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। বাঢ়ছে মৃত্যুর মিছিল। যে পরিবারে মৃত্যুর হানা দেয় তারাই কেবল উপলিব্ধ করতে পারে এর যন্ত্রণা। আর যদি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির মৃত্যু হয় তাহলে সেই পরিবারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। তবুও থেমে থাকে না জীবন। জীবনের ধর্মই হচ্ছে বার বার ঘুরে দাড়ানো।

মানসিক শক্তিই বড়ো। বাংলাদেশের মানুষের মনোবল অনেক দৃঢ় তা নতুন করে বলার নেই। বাঙালি যুদ্ধ বিজয়ী জাতি। করোনা মানুষকে থমকে দিয়েছিলো। সাময়িক আতংকও ভর করেছে। তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে সব উবে গেছে। মানুষের ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে কেহই আর করোনার ভয় আমলে নিচ্ছে না। মানসিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। বের যখন হয়েছেই হতে দেওয়াই ভাল। মানসিক শক্তিতেই করোনা মোকাবেলা করলে মন্দ কি! খুলে দিন দুয়ার।

‘লকডাউন’ আমাদের এগিয়ে নেবে

কোভিড-১৯ মহামারি থেকে জীবন বাঁচাতে সরকার সারাদেশ ৭ দিনের লকডাউন করেছে। আগামীকাল ভোর থেকে কার্যকর হচ্ছে তা। জীবনের ঝুকি নিয়ে রাজধানী থেকে মানুষ গ্রামে ছুটছে। একে চরম স্বস্থ্যঝুঁকি তার উপর ভয়ংকর ভাবে সড়কপথে পিকআপ বা ট্রাকে চড়ে, নদীতে লঞ্চবোঝাই এবং ট্রেনে।

আজ দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীতে কলেজ গেট এলাকায় এমনই চিত্র দেখা গেছে। মানুষ পিকআপে দাড়িয়ে ময়মনসিংহ যাত্রা করেছে। ছোট্র পিকআপে গাদাগাদি লোক বোঝাই করা। শুনতে খারাপ শুনালেও বলতে হচ্ছে কোরাবানিতে যেভাবে গরু ছাগল সাজানো হয় সেভাবে মানুষ দাড়িয়ে যাচেছ।

এক বিকেলে সারাদেশ থেকে নদীপথ, সড়ক পথে অসংখ্য দূর্ঘটনার খবর আসছে। আল্লাহ পাকই জানেন রাতে আরো কতো কি ঘটবে। নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষায় লঞ্চডুবিতে ইতিমধ্যে ৫ জন নিহত। নিখোজ প্রায় ৩০। মুন্সিগঞ্জে অটোকো চাপা দিয়েছে ট্রাক। নিহত ৩ আরোহী।

আমরা আর কবে সচেতন হবো। পাড়ার চা দোকানে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুনলে মনে হবে দেশের সব মানুষ উচ্চ মার্গের সচেতন। অথবা টিভির টকশো শুনলে ভাবি দেশ বুঝি উদ্ধার হয়েই গেলো। বাস্তবে এবং জনজীবনে এসবের কিছুই নেই। রাজনীতিবিদরা যেমন ফাঁকাবুলি ছাড়ে। জনসাধারণও তেমনি অর্বাচিনের মত আচরন করে। আমরা উন্নতি করছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখনো সভ্যতা ভব্যতার চরম ঘাটতি। ব্যক্তি সচেতনতার বালাই নাই। আর রাষ্ট্রাচারের ধার দারি না।
প্রিয় দেশবাসী আসুন সরকারের নির্দেশিত লকডাউন বিধি মেনে স্বাস্থ্যঝুকি কমাই। করোনা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে সবকিছু ভেঙে পরতে বাধ্য। আমরাই পারবো এই মহামারি থেকে সচেতন ও সর্তকভাবে এ সমাজকে টিকিয়ে রাখতে। অনেক দুর যেতে হলে কখনো কখনো থামতে হয়। দম নিতে হয়। আমাদের আরো এগিয়ে যেতেই হবে। একটু থামুন। লকডাউন আমাদের এগিয়ে নেবে।

‘লকডাউন’ বিধি মেনে চলাই মঙ্গলজনক

মানুষকে ‘লকডাউন’ বিধি মানতেও সচেতন করতে হচ্ছে। জনসাধারণ সরকারের কোন নির্দেশই মানতে চায় না। ‘লকডাউন’ ঘোষণা হতেই পড়িমড়ি ছুটাছুটি শুরু হয়েছে। দেশের নাগরিকদের বুঝা উচিত পৃথিবীর কোন স্থানই করোনার প্রাদূর্ভাব থেকে মুক্ত নয়। কেন শহর থেকে গ্রাম বা গ্রাম থেকে শহরে যেতে হবে ? যে যেখানে আছি সেখানে অবস্থান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে যেমন নিজের মঙ্গল তেমনি অন্যদের। পরিবারের কর্তা যিনি তারই প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে এটা বুঝা। তারপর অন্যদের বুঝানো। দল বেধে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আসা যাওয়া করলে আক্রান্ত হবার ঝুকি বাড়ে।

যাদের বিশেষ কোন কাজের প্রয়োজন তারা এখানে সেখানে যেতে দোষ নেই। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানা আবশ্যক। মাস্ক পরিধানে কোন অবহেলাই করা যাবে না। গণপরিবহনে দূরত্ব বজায় রেখে বসতে হবে। এক্ষেত্রে গাড়ির কন্ডাক্টর চাইবে নিজেদের মত বসাতে। জনসাধারণের উচিত নিজ দায়িত্বে সরকারি বিধি মেনে চলা। যত্রতত্র স্পর্শ থেকে বিরত থাকা উচিত। বাহিরের খাবার বর্জন করাই উত্তম। আরো একটি বিষয় সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আসুন সবাই নিজের পাশের মানুষটিকে এটা বলার অভ্যাস গড়ি। মুখে মুখে সচেতনতার কথা বলতে বলতেই একদিন অভ্যাসে পরিণত হবে।

মানুষ হিসাবে আমাদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য হচ্ছে সৃষ্টি জীবের কল্যাণ কামনা করা। তাই আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের মঙ্গলের স্বার্থে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। আসুন লকডাউন বিধি মেনে নিজে সুস্থ্য থাকি। অন্যদের সুস্থ্য থাকতে সহায়তা করি।

করোনা নিয়ে সচেতন হোন

 

গত ২৪ ঘন্টায় ৩ হাজার ৯০৮ জন কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। এই পরিসংখ্যানে আপনার ভাবান্তর না হলে একবার কোভিড হাসপাতাল গুলো ঘুরে আসতে পারেন। হাসপাতালে তিল ধারনের ঠাই নেই। খালি নেই আইসিইউ বেড। দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমনের মাত্রা। এখনো সময় আছে সচেতন হবার। সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করুন।

চারপাশ দেখে মনে হচ্ছে মানুষ কিছু মনেই করছে না। এক্কেবারে স্বাভাবিক চলাফেরা। বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা ব্যক্তিগত গাড়ি সবখানে মানুষের অনিরাপদ চলাফেরা। অনেকে যাও মাস্ক পরিধান করেন। কোন কোন সময় তাও সঠিক নিয়ম মানা হয় না।

করোনার প্রকোপ একটু কমতেই পর্যটন এলাকাগুলোতে ভিড় বেড়েছে। যখন করোনার প্রকোপ বাড়ছে তখনো পর্যটন এলাকায় ভিড় কমছে না। নিরব ঘাতক করোনা থেকে মুক্তি পেতে হলে এখনই সকলকে সচেতন হতে হবে। নচেত করোনা থেকে নিস্তার নেই।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহের উচিত অচিরেই জনসাধারণকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরো বাড়ানো। যতক্ষন করোনা সম্পূর্ণ নির্মূল না হচ্ছে ততদিন করোনা নিয়ে অবহেলা মোটেই না।

আরও ধৈর্য্যশীল হলে দোষ কি!

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল বাংলাদেশ। সবকিছুতেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অগ্রনী অবদান। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বে প্রশংসিত। আরো একটি বিষয়ে এই সরকারকে সর্তক এবং সচেতন থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। কোন বিষয়ে ধৈর্য্য ধারন। পরিস্থিতি সামালে জানমালের সর্ব্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

দুই দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশে মৃত্যুর মিছিল। একদিকে রাজশাহীতে বেপরোয়া সড়ক দূর্ঘটনায় ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে হাটহাজারী ও ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ায় পুলিশ, বিজিবি এবং বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৯ জন। আহত শতাধিক। আহতদের মাঝে জনতার পাশিপাশি পুলিশ সদস্যও রয়েছে।

সরকারি যন্ত্র ও জনতা সবার মাঝে ধৈর্য্যচুত্যির লক্ষণ স্পষ্ট। হুঙ্কার পাল্টা হুঙ্কার চলছে। ধর্মভিত্তিক দল হেফাজতে ইসলাম রাজপথে সরকারের মুখোমুখি। হরতাল ডেকেছে হেফাজত ইসলাম। শনিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হরতাল করতে দেয়া হবে না।’ অপরদিকে হরতালে বাধা দিলে লাগাতার কর্মসূচী দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক।

ধৈর্য্য ধারনের ক্ষেত্রে অবশ্য সরকারকেই অগ্রনী ভুমিকা রাখতে হবে। উগ্রবাদী মানুষটিও এ দেশের নাগরিক। আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচার গুলি কোন সমাধান না। গত দুইদিনে নিহত মানুষ হতে পারে যারা গুলি করছেন তাদেরই কারো না কারো আত্মীয় বা সন্তান। এখানে উগ্রবাদী নিরস্ত্র জনতার প্রতিপক্ষ স্বশস্ত্র পুলিশ।

অধৈর্য্য হলে এরকম মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের সকল অর্জন ধুলিস্যাত হতে পারে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনো সক্রিয়। ষড়যন্ত্রকারীগণ চায় সরকার অধৈর্য্য হোক। পরিকল্পিত উন্নয়ন হচ্ছে এবং মানুষের জীবন মান উন্নত। অধৈর্য্য হলে পরিকল্পনায় ছেদ পরবে। অধৈর্য্য হলে মনসংযোগ নষ্ট হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা ভাল করছেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের চোখ টাটায়। তারা ঘাপটি মেরে আছে। যে কোন মূল্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে।

যে ঘটনা নিয়ে এত তোলকালাম সেই মোদির দেশে ইসলাম শিক্ষার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ দারুল উলুম দেওবন্দ অবস্থিত। হেফাজতের কর্মীরা কি আর সেখানে যাবে না। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে ফিরে যদি বলে বসেন, হেফাজতে ইসলাম তার বাংলাদেশ সফরে বিরোধ করেছে! হেফাজতের কোন কর্মী ভারতের দেওবন্দে পড়ালেখা করতে পারবে না। আসা করি তিনি তা করবেন না।

তবে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের আরো সংযমি হওয়া কর্তব্য। নিরপরাধ হেফাজত কর্মীদের সাথে মিশে দুষ্কৃতিকারীগণ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড করার সুযোগ নিচ্ছে। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় এদের তান্ডবে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংশ হয়েছে। শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে প্রচারিত মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্য চরম উসকানীমূলক। তিনি বলতে পারেন না, যুদ্ধ করবো। আমার প্রশ্ন তিনি কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন। তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের জন্য যুদ্ধ করতে চান ? মাননীয় মামুনুল হক আপনি শান্ত হোন। আপনি সুবক্তা। আপনার সুললিত আহ্বানে সমাজের বিপথগামী যুবক সুপথে আসতে পারে। আবার হুংকারে ঝড়তে পারে এমন তাজা প্রাণ। যেভাবে গত দুইদিনে ৯ জন প্রাণ দিয়েছে। আপনাদের ভাষায় শহীদ হয়েছে। ওইসব নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সেই সাথে প্রত্যাসা আর যেন কোন তাজা প্রাণ এভাবে অকালে না ঝড়ে। আমাদের সকলকে আল্লাহ ধৈর্য্যধারনের ক্ষমতা দিন।

 

 

দোহার-নবাবগঞ্জ এসএসসি ১৯৯০ ব্যাচের মিলন মেলা অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ আলম : আমি সবসময়ই বলে থাকি সম্পর্কের গভিরতা বুঝাতে ‘বন্ধু’ শব্দটিই বোধ করি পৃথিবীর সবথেকে মর্যাদাবান এবং তাৎপর্যপূর্ণ । কারন মহান আল্লাহ প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কে ‘হাবিব’ দোস্ত সম্বোধন করেছেন।

দার্শনিক এরিস্টটল বলেছেন, প্রত্যেক নতুন জিনিসকেই উৎকৃষ্ট মনে হয়। কিন্তু বন্ধুত্ব যতই পুরাতন হয়, ততই উৎকৃষ্ট ও দৃঢ় হয়। দোহার-নবাবগঞ্জ এসএসসি ব্যাচ উনিশ’শ নব্বই ব্যাচের মিলন মেলায়  বন্ধুত্বের উচ্ছাস  মনিষিদের বানীকেও হার মানাবে।

সম্প্রতি ঢাকার নবাবগঞ্জে কোকিল প্যারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো দোহার-নবাবগঞ্জ এসএসসি ১৯৯০ ব্যাচের মিলন মেলা। সারাদিনব্যাপী মিলন মেলায় নানা আয়োজনে বন্ধুদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিলো সত্যিকার প্রাণের মেলা।

প্রেমের সাহিত্যিক উইলিয়াম সেক্সপিয়ারও স্বীকার করেছেন, প্রেম নয় বন্ধুত্বের বন্ধনই চির অম্লান। তিনি বলেছেন, ‘কাউকে সারাজীবন কাছে পেতে চাও ? তাহলে প্রেম দিয়ে নয় বন্ধুত্ব দিয়ে আগলে রাখো। কারন প্রেম একদিন হাড়িয়ে যাবে কিন্তু বন্ধুত্ব কোনদিন হারায় না। ’

ডিএন নাইনটি’র মিলন মেলায় ‘বন্ধুত্বের বন্ধন’ কতটা দৃঢ় হতে পারে তার জ্বজল্যমান দৃষ্টান্ত  দেখা গেলো। দল-মত, দ্বিধা -দ্বন্দ সবকিছু ভুলে বন্ধুরা একমন হয়েছিলো। একত্র হয়েছিলো

আর কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর মানব জীবনের সবকিছুর মতই বন্ধুত্ব নিয়েও বলতে ভুল করেন নি। তিনি বলেছেন, ‘গোলাপ যেমন একটি বিশেষ জাতের ফুল, বন্ধু তেমনি একটি বিশেষ জাতের মানুষ।’

ডিএন নাইনটি’র বন্ধুদের মাঝে আছে শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনীতিক, অভিনেতা, সাধারন কৃষক, প্রবাসি, গৃহিনী বা  এক্বেবারে  খাঁটি বেকার। তবে সব ছাপিয়ে সবার একটাই পরিচয় আমরা একে অন্যের বন্ধু। হৃদয়ের বন্ধণে যারা একআত্মা।

‘বন্ধু তুমার পথে সাথীকে চিনে নিও। মনের মাঝেতে চিরদিন তাকে ডেকে নিও।  ভুলো না তারে ডেকে নিতে ।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এর সেই বিখ্যাত গান শুনে কার না ভালো লাগে।

শেষ করবো  এমন একজন বন্ধুর কথা লিখে বন্ধু বলতেই যার প্রতিচ্ছবি মনের আয়নায় ভেসে উঠে। আমাদের বন্ধু মামুন। এই মিলন মেলায় মামুনই সবথেকে খুশি হতো। মামুনই সবথেকে এগিয়ে থাকতো। আদর, আপ্যায়ন, পরামর্শ বা আনন্দ উদযাপনে। রক্তমাংশের মামুন হয়ত নেই। মামুনের বন্ধুত্বের বন্ধন ইহকাল পরকাল সবখানে থাকবে। মামুনের সাথে আমরা পরকালে এমন মিলন মেলায় মিলিত হবো। কায়মন বাক্যে এই প্রার্থনা করি।

বন্ধু  এবং বন্ধুরা ভাল থাকিস।  স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে সকল বন্ধুদের প্রতি একে অন্যের শুভেচ্ছা।

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা :

‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’, ‘তোমার দেশ আমার দেশ, বাংলাদেশ বাংলাদেশ’, ‘তোমার নেতা আমার নেতা, শেখ মুজিব-শেখ মুজিব’ । ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা গৌরবের এক অনন্য দিন। ৫০ বছর আগের এ দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে গর্জে উঠেছিল রেসকোর্স ময়দানের উত্তাল জনসমুদ্র। অগ্নিঝরা সেই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহতী কাব্যের কবি হয়ে এলেন বঙ্গবন্ধু। তার বজ্রকণ্ঠের নিনাদে বাংলার আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হলো স্বাধীনতার ঘোষণা।

‘একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য কি দারুণ অপেক্ষা আর উত্তেজনা নিয়ে//কখন আসবেন কবি?’/ …শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে/রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে/অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন/…. কে রোধে তাঁহার বজ কণ্ঠ বাণী?/ গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর অমর-কবিতাখানি/এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম/ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।/ সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের।’ কবি নির্মলেন্দু গুণ অগ্নিঝরা একাত্তরের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ডাক দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের মুহূর্তটি এভাবে কবিতায় মূর্ত করে তুলেছেন। 

বঙ্গবন্ধু সেদিন শুধু স্বাধীনতার চূড়ান্ত আহ্বানটি দিয়েই চুপ থাকেননি, স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের রূপরেখাও দিয়েছিলেন। মূলত বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণই ছিল ৯ মাসব্যাপী বাংলার মুক্তি সংগ্রামের ঘোষণা ও মূল ভিত্তি। সেদিন বেলা ৩টা ২০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আরোহণ করেন। ফাগুনের সূর্য তখনও মাথার উপর। মঞ্চে আসার পর তিনি জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন। তখন পুরো রেসকোর্স ময়দান লাখ লাখ বাঙালির

প্রায় ১৯ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের পুরো ক্যানভাস তুলে ধরেন। বজ কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন, ‘… তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাক, কেউ কিছু বলবে না। গুলি চালালে আর ভালো হবে না। সাত কোটি মানুষকে আর দাবায়ে রাখতে পারবা না। বাঙালি মরতে শিখেছে, তাদের কেউ দাবাতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

বঙ্গবন্ধুর এ তেজোদীপ্ত ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। তিনি সেদিন জনতাকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।’ বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা মুক্তিকামী মানুষের কাছে লাল-সবুজ পতাকাকে মূর্তিমান করে তোলে। আর এ মাধ্যমে বাঙালির ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হয়। বঙ্গবন্ধু সেদিন ‘আমি যদি হুমুক দেবারও না পারি’ বলেও সাড়ে সাত কোটি বাঙালির উদ্দেশে স্বাধীনতার আহ্বান রেখে যান।

সেদিন সারা দেশ থেকে ছুটে আসা স্বাধীনতা-পাগল মানুষের ঢলে রেসকোর্স ময়দানের চতুর্দিকে জনবিস্ফোরণ ঘটে। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে নারী-পুরুষের স্রোতে তিলধারণের জায়গা ছিল না। বেলা ৩টায় রেসকোর্সে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকে মানুষের সমুদ্রে রূপ নেয়। রাজধানী ঢাকার চতুর্দিকে ছিলেন ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। আকাশে উড়তে থাকে হানাদারদের জঙ্গিবিমান।

শহীদ জননী জাহানার ইমামের লেখা একাত্তরের দিনলিপি গ্রন্থে ৭ মার্চের বর্ণনায় আছে, ‘রেসকোর্স মাঠের জনসভায় লোক হয়েছিল প্রায় তিরিশ লাখের মতো। কত দূরদূরান্ত থেকে যে লোক এসেছিল মিছিল করে, লাঠি আর রড ঘাড়ে করে- তার আর লেখাজোখা নেই। টঙ্গী, জয়দেবপুর, ডেমরা- এসব জায়গা থেকে তো বটেই, ২৪ ঘণ্টা হাঁটা পথ পেরিয়ে ঘোড়াশাল থেকেও বিরাট মিছিল এসেছিল গামছায় চিড়ে-গুড় বেঁধে। অন্ধ ছেলেদের মিছিল করে মিটিংয়ে যাওয়ার কথা শুনে হতবাক হয়ে গেলাম। বহু মহিলা, ছাত্রী মিছিল করে মাঠে গিয়েছিল শেখের বক্তৃতা শুনতে।’

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তিমূল, উজ্জ্বল প্রেরণাভূমি। কিন্তু ৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশে বারবার ইতিহাসের বিকৃতি ঘটেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস লুকিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধূলিস্যাৎ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নতুন প্রজন্মকে বিকশিত করার উদ্যোগ নেয়। বঙ্গবন্ধু, ৭ মার্চ ও মহান স্বাধীনতার প্রকৃত সত্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্বের স্মৃতি’ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। 

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে এবং বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণার অনির্বাণ শিখা হয়ে অফুরন্ত শক্তি ও সাহস জুগিয়ে আসছে। একইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল’ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বিশ্বে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এমন একটি ভাষণ যা যুগের পর যুগ, বছরের পর বছর, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেজে চলেছে। কিন্তু ভাষণটির আবেদন এতটুকু কমেনি। ৫০ বছর ধরে একই আবেদন নিয়ে টানা কোনো ভাষণ এভাবে শ্রবণের নজির বিশ্বের ইতিহাসে নেই। বরং যখনই প্রজন্মের পর প্রজন্ম এ ঐতিহাসিক ভাষণটি শোনে তখনই তাদের মানসপটে ভেসে ওঠে স্বাধীনতার গৌরবগাঁথা আন্দোলন-সংগ্রামের মুহূর্তগুলো, আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠে দেশপ্রেমের আদর্শে। দিনটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুধু বাঙালির নয়, বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ৭ মার্চ বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বজ কণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষে ৭ মার্চ এবার ভিন্ন আঙ্গিকে পালিত হবে। এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসাবে ৭ মার্চ উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান এবং দেশব্যপী জেলা-উপজেলায় ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ জানান, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হবে। কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নারী দিবস উপলক্ষে গ্রন্থী এবং সৌধ’র বিপুল আয়োজন

হামিদ মোহাম্মদ :

ব্রিটেনে দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য, দর্শন ও সমাজতত্ত্বের ছোট কাগজ গ্রন্থী এবং ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের সংস্থা সৌধ সোসাইটি অব পোয়েট্রি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান মিউজিকের উদ্যোগে ৭ মার্চ রোববার বেলা দুইটায় (যুক্তরাজ্য) অন্তর্জালে উদযাপিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে লা নিনফা একো নামের একটি ব্রিটিশ-আর্জেন্টাইন সাহিত্য পত্রিকা। অনুষ্ঠানটি গ্রন্থীর ফেসবুক পেজ এবং সৌধের ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।

এ অনুষ্ঠানে শিল্প, রাজনীতি, জীবনের অনুসরণীয় যাত্রা বা পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে গৌরবময় লড়াইয়ের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য তিনজন নারীকে নগদ অর্থ সম্মাননা ও পদক প্রদান করা হবে। বেগম রোকেয়া পুরস্কার নামে অভিহিত এই সম্মাননা এ বছর পাচ্ছেন কালা সংগমের যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা ড. গীতা উপাধ্যায় ওবিই (যুক্তরাজ্যে ভারতীয় শিল্পকলার প্রচারে অনন্য ভূমিকা রাখার জন্য), ভারত থেকে কত্থক নৃত্যশিল্পী নয়নিকা ঘোষ চৌধুরী (ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, তদুপরি অদম্য গতিতে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের পরিবেশনা ও প্রচারের জন্য) এবং বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে সাহসী সামরিক নেতা খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমের স্ত্রী সালমা খালেদ (স্বামীর মৃত্যুর পরে অনন্য লড়াই এবং সাহসী পথচলার জন্য)।

প্রায় ৩১ জন বক্তা ও শিল্পী যোগ দিচ্ছেন এই ভার্চ্যুয়াল উদযাপনে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকুল আরেফিন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গীতা সহগল, লেখক ও নারীবাদী ড. অমৃতা উইলসন, বাংলাদেশের সাবেক সাংসদ মাহজাবীন খালেদ, যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশমি ভার্মা, বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা।

সৌধ পরিচালক কবি টি এম আহমেদ কায়সারের সঞ্চালনা এবং গ্রন্থী সম্পাদক কবি শামীম শাহানের সমন্বয়ে এ অধিবেশনে কথা ও কবিতা পরিবেশনায় থাকছেন লাতিন আমেরিকার কবি ও নারীবাদী রোসি সুনে, আমেরিকা থেকে মরিয়াম তম্বোরেনিয়া ও নাট্যকার ন্যানসি গুয়েভেরা, ব্রিটিশ আর্জেন্টিনার কবি গ্যাবি সাম্বুসেসিটি, চিলির লেখক কারমেন বেরেনকুয়ার, মেক্সিকান কবি ক্লাউদিয়া পোসাদাস, কবি নন্দিনী মেহরা, ব্রিটিশ-ইউক্রেনীয় কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ভেরা গ্রাজিয়েদি, ব্রিটিশ–ভারতীয় লেখক গাঙ্গুলি, ভারতীয় বাঙালি কবি সেবন্তি ঘোষ ও বনানী চক্রবর্তী, ব্রিটিশ বাঙালি কবি তানজিনা নূর ই সিদ্দিক, ভারত থেকে আবৃত্তিশিল্পী স্বপ্না দে, বাংলাদেশ থেকে সুলতানা ইয়াসমিন এবং যুক্তরাজ্যের শাহীন মিতুলি।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন ইরানি সংগীতশিল্পী নিকনাজ মিরঘালামি, খ্যাতিমান ব্রিটিশ-ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার সুপ্রিয়া নাগারাজন এবং হিন্দুস্তানি উপশাস্ত্রীয় শিল্পী সুমনা মল্লিক বসু। এ ছাড়া ভারত থেকে কত্থক শিল্পী মায়া কুলশ্রেষ্ঠ, গৌড়ীয় নৃত্যশিল্পী রাচেল পেরিস, ভারতীয় কোরিওগ্রাফার এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী সোহিনী রায়চৌধুরী দাশগুপ্ত নৃত্য পরিবেশনায় যোগ দেবেন।

সৌধ পরিচালক টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নারীবাদী লেখক, শিল্পী এবং কবিদের সমন্বয়ে এই ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা বিংশ শতকের অন্যতম সেরা বাঙালি নারীবাদী লেখিকা বেগম রোকেয়ার কালজয়ী রচনা এবং নারীচিন্তাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে আসতে চাই। এ বছর থেকে বেগম রোকেয়া পুরস্কার নামে যে পদকের গোড়াপত্তন হলো, তা অব্যাহতভাবে নারীবাদী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি প্রদানে সক্রিয় থাকবে প্রতিবছর।

পরানপুরের মুনাফাখোর লালচান কাহিনী


ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী
রাজশাহী চারঘাট উপজেলার পরানপুরে এক সুদ ব্যবসায়ীর বেড়াজালে স্বল্প আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। পরানপুরে নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভয় আশ্রম গড়ে তুলেছে অভিযুক্ত লালচান। স্থানীয় প্রাশাসনের নেই জোরালো ভুমিকা।


সম্প্রতী চারঘাট ইউনিয়নের ৭ নং ওর্য়াড এর পরানপুর গ্রামের আজ্জলের ছেলে উজ্জল (২৭) এর স্ত্রীর সাথে সুদ-ব্যবসায়ী লালচানের অসামাজিক কাজের অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী উজ্জল অভিযোগ করে বলেন, লালচান সুদ ব্যবসা করে এলাকায় আদিপত্য বিস্তার করেছে। তার কোন অপরাধ বিরুদ্ধে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে পারছে না। গত শুক্রবার অনুমান রাত ১০টার সময় মায়েনসাহ এর ছেলে সুদ-ব্যবসায়ী লালচান উজ্জলের স্ত্রীরসাথে আপত্তিকর অবস্থায় উভয়কে আটক করে গ্রামের পাশর্^বর্তীরা। পরে ৭নং ওর্য়াড মেম্বার মতিউর রহমান ওই রাতের ঘটনার সিন্ধান্ত পরে নেয়া হবে বলে জানান।
অভিযুক্তের পিতা ময়েনসাহ ও চারঘাট ইউনিয়ন যুবলীগ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ওই ঘটনাকে তুচ্ছ বলে মন্তব্য করেছে। ৭নং ওর্য়াড মেম্বার মতিউর রহমান ও কোন সিন্ধান্ত দিতে পারেনি। মেম্বার এই প্রতিবেদককে বলেন, ওই রাতের ঘটনাটি তিনি মোবাইলের মাধ্যমে অবগত হয় এবং পরের দিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্ত আজ আবদি দুই পক্ষের কেউ কোন অভিযোগের সমাধান করার বিষয়ে কোন কথা বলেনি। ওই সময় উপজেলা ছাত্রলীহ সম্পাদক রায়হানুল হক রানা ঘটে যাওয়া ঘটনাটির তিব্র নিন্দা জানায়।  
স্থানীয় বিশেষ সূত্র এবং অনুসন্ধানে জানাযায় প্রায় ৩ কোটি টাকার সুদের কারবার চলে পরানপুর বাজারে। দিন মুজুরসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ তার কাছে জিম্মি। যার কারনে লালচান অনেক অপরাধ করলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছে না এমনটাই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী উজ্জল বলেন, সুদ ব্যবসায়ীর টাকার কাছে দলিয় নেতা কর্মী, মেম্বারসহ নানা পেশার মানুষ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। যার কারনে উপজেলা পরিষদ ও থানায় অভিযোগ হচ্ছে না। সার্বিক বিষয়ে জানার পর ইউএনও সৈয়দা সামিরা প্রতিবেদক বলেন, কোন লিখিত অভিযোগ না পেলে প্রশাসনের কিছুই করার থাকে না।  

টঙ্গীতে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী : গাজীপুরের টঙ্গীতে কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিকেলে আরিচপুর বেলতলা এলাকায় এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।


গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎ মিশ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পূর্ব থানার (ওসি) মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ওসি (তদন্ত) দেলোয়ার হোসেন, টঙ্গী পূর্ব থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এমএম নাসির উদ্দিন, ৫৬নং বিট পুলিশ কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক লিটন শরিফ প্রমুখ।


সভায় বক্তারা বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিপথগামী কিশোররা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন, চাঁদাবাজি এমনকি হত্যাকান্ডের মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটাচ্ছে। তাই এসব কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে থানা পুলিশকে তথ্য প্রদান করে এলাকার আইনশৃংখলা রক্ষায় জনগণকে ভূমিকা পালন করতে হবে। থানা পুলিশ কিশোর গ্যাং দমনে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।