×

খুলে দিন দুয়ার

মোহাম্মদ আলম : দেশে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। ইতিবাচক নেতিবাচক দুইভাবেই দেখা যেতে পারে বিষয়টি। ইতিবাচক হচ্ছে, মানুষ খেটে খেতে আগ্রহী। সরকারি বেসরকারি সহায়তার আশায় পথ চেয়ে নেই। মরন ঝুঁকি আছে জেনেও তাই কাজ চালিয়ে যাবার দাবিতে এই বিক্ষোভ। অপরদিকে নেতিবাচক হচ্ছে, সরকারিভাবে উন্নয়নশীল দেশ হলেও করোনার ধাক্কায় নিন্ম আয়ের মানুষের আর্থিক অবনতি হয়েছে। এখন রুটিরোজির যোগান বন্ধ হলে পেটের ভাত জোটবে না। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা বা কাজ চালু রাখার দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছে মানুষ।

রাজধানী ঢাকাতেই সবার আগে বিক্ষোভ হয়েছে। মিরপুর, নিউমার্কেট, উত্তরা, চিটাগাং রোড এসব স্থানে দোকান মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। দোকান মালিক সমিতির দাবি অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেয়া হোক। এছাড়া সারাদেশেই দোকান-পাট তথা ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর, ফরিদপুর থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভের খবর পাঠিয়েছে। তথ্য প্রবাহের অবাধ বিস্তারের যুগে খুব দ্রুতই মানুষের খবরাখবর ছড়িয়ে যাচ্ছে। যে কারনে মানুষের অধিকার আন্দোলন সহজতর। সরকার শুনতে পাচ্ছে। ইতমধ্যেই আজ থেকে নগর এলাকায় গণপরিবহন চালু হবে।

জীবনের ভয় সবারই আছে। তবে পেটের ক্ষুধা মরন ভয়কেও হার মানায়। দীর্ঘ করোনাকালের পর লকডাউন নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য বিষফোড়া। তার উপর সামনে মুসলমানদের সবথেকে বড় উৎসব ঈদ। তাই লকডাউন মানতে নারাজ মানুষ।

করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। বাঢ়ছে মৃত্যুর মিছিল। যে পরিবারে মৃত্যুর হানা দেয় তারাই কেবল উপলিব্ধ করতে পারে এর যন্ত্রণা। আর যদি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির মৃত্যু হয় তাহলে সেই পরিবারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। তবুও থেমে থাকে না জীবন। জীবনের ধর্মই হচ্ছে বার বার ঘুরে দাড়ানো।

মানসিক শক্তিই বড়ো। বাংলাদেশের মানুষের মনোবল অনেক দৃঢ় তা নতুন করে বলার নেই। বাঙালি যুদ্ধ বিজয়ী জাতি। করোনা মানুষকে থমকে দিয়েছিলো। সাময়িক আতংকও ভর করেছে। তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে সব উবে গেছে। মানুষের ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে কেহই আর করোনার ভয় আমলে নিচ্ছে না। মানসিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। বের যখন হয়েছেই হতে দেওয়াই ভাল। মানসিক শক্তিতেই করোনা মোকাবেলা করলে মন্দ কি! খুলে দিন দুয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *