×

 মধুর দাম্পত্য সম্পর্কের রহস্য জেনে নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : দাম্পত্য জীবন দীর্ঘ হওয়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ততা। সম্পর্ক একঘেয়ে হতে থাকে।  একসময় সম্পর্কটা শ্রেফ অভ্যাসে পরিণত হয়। তবে তা এড়ানোরও উপায় আছে। কিছু সাধারণ অভ্যাসেই সুন্দর রাখতে পারেন আপনার দাম্পত্য জীবন। ধরে রাখতে পারেন সম্পর্কের উষ্ণতা। জেনে নিন তেমনি সাতটি অভ্যাসের কথা :-

নিজের সীমাবদ্ধতার তালিকা করুন 

মানুষ মাত্রেরই সীমাবদ্ধতা থাকবে। আপনি বা আপনার সঙ্গীও ব্যতিক্রম নন। দুজনে একত্রে বসে পরস্পরের সীমাবদ্ধতার তালিকা করুন। কার কোন স্বভাব অপরজনকে বিরক্ত করে, রাগিয়ে তোলে। যখনই কেউ তেমন কিছু করবেন, অন্যজন সেটা ধরিয়ে দিন। এভাবে পরস্পরকে সাহায্য করুন নিজেকে শোধরাতে।

কথা বলুন দুজন দুজনে

সম্পর্কে পরস্পরের প্রতি মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সময়ে সেটা আরও বেশি দরকার। সেই সঙ্গে দরকার আপনি যে সঙ্গীর প্রতি মনোযোগী, সেটা বোঝানো। সে জন্য দুজনে প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা কথা বলুন। মুখোমুখি। সময়টাতে দুজনেই অখণ্ড মনোযোগ দিন পরস্পরকে।

ঝগড়া হলে যা করবেন

সম্পর্কে মতানৈক্য হবেই। তা থেকে মাঝেমধ্যে উত্তাপও ছড়াবে। কিন্তু কুৎসিত ঝগড়ায় পরিণত হওয়ার আগেই বিরতি নিন। না, আচমকা কথা বন্ধ করে চলে যাবেন না। তাতে মনে হবে, আপনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। বরং সঙ্গীকে জানিয়ে দিন, বিরতির পরে আবার এ নিয়ে কথা বলবেন। পরে দুজনেই মাথা ঠাণ্ডা করে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করুন।

পরস্পরের প্রশংসা করুন

আপনার সঙ্গীর ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করুন। দিনে অন্তত একবার। পরস্পর এই চর্চা করলে তা এক ইতিবাচক বৃত্ত তৈরি করবে। দুজনকেই মানসিক ও শারীরিকভাবে চাঙা রাখবে। আপনাদের ইতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো বিকশিত হবে। আখেরে চাঙা থাকবে আপনাদের সম্পর্ক।

বানিয়ে ফেলুন বাকেট লিস্ট

মাঝে করোনা মহামারিতে দীর্ঘদিন কোথাও যাওয়া হয়নি। বাতিল হয়েছে অনেক পরিকল্পনা। দুজনে মিলে সেসবের তালিকা করে ফেলুন। তাতে রাখুন কোথায় কোথায় ঘুরতে যেতে চান। কোন কোন কনসার্ট বা প্রদর্শনীতে যেতে চান। কোন কোন সিনেমা বা মঞ্চনাটক দেখতে চান। না-করা কী কী করতে চান।

দূরে থেকেও কাছে থাকুন

এখনকার ব্যস্ত জীবনে দুজনকেই সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হয় নিজেদের কাজ নিয়ে। একসঙ্গে থাকার সুযোগ হয় কম। আবার যাঁদের নানা প্রয়োজনে ভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়, তাঁদের জটিলতা আরও বেশি। সেটা দূর করতে নিন প্রযুক্তির সাহায্য। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত থাকুন সারাদিন। নিয়মিত কথা বলুন বা বার্তা দেওয়া–নেওয়া করুন।

নিয়মিত  বেড়াতে যান

বিয়ের আগে নিয়মিত দুজনে ঘুরতে যেতেন। কোথাও খেতে, বা সিনেমা কি মঞ্চনাটক দেখতে, বা ¯শ্রেফ ঘুরতে। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘ডেট’-এ যাওয়া। তার জন্য দুজনেই তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষা করতেন। বিয়ের পরও তা জারি রাখুন। পারলে প্রতি সপ্তাহে। নয়তো অন্তত মাসে একবার। এতে পরস্পরের সান্নিধ্যের প্রতি আপনাদের আকর্ষণও জারি থাকবে

গাজীপুরে ২ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে পাষন্ড শিক্ষকের দ্বারা ২ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বলাৎকারের স্বীকার হয়েছেন। ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে মাছিমপুর এলাকায় জামিয়া গাফুরিয়া মাখযানুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক মোঃ শাহ আলম সোমবার দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খবর পেয়ে সন্ধা ৭ টার পর জিএমপি পূর্ব থানা পুলিশ শিশু দুটিকে উদ্ধার করে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনা জানাজানি হলে শিক্ষক শাহ আলম পলায়ন করে। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।

ভুক্তভোগী শিশুর পিতা মোঃ সোহেল মিয়া এবং দেলোয়ার হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা। ওই শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার নুরানী বিভাগের ছাত্র।

মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুরে তার পুত্র বলাৎকারের ঘটনা জানায়। একইদিন সোহেল মিয়ার ছেলেকেও ওই শিক্ষক বলাৎকার করে। ঘটনা জানাজানি হবার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকরা বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করে। তাছাড়া হুজুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলে আখেরাতে পাপের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভুগি পিতা-মাতাকে মামলা করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। পরে মামলার উদ্দেশ্যে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মোঃ আব্দুর রশিদ মিয়া। বর্তমানে তার ছেলে মোতোয়াল্লী মোঃ মামুনুর রশিদের কাছে জানাতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত মাদ্রাসার খোঁজখবর রাখেন না। যখন যা প্রয়োজন শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে সহযোগীতা করেন।

জিএমপি টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাভেদ মাসুদ বলেন, ভুক্তভুগী শিশু দুইজনই ঘটনার সত্যতার বিবরণ দিয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

নারী দিবস উপলক্ষে গ্রন্থী এবং সৌধ’র বিপুল আয়োজন

হামিদ মোহাম্মদ :

ব্রিটেনে দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য, দর্শন ও সমাজতত্ত্বের ছোট কাগজ গ্রন্থী এবং ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের সংস্থা সৌধ সোসাইটি অব পোয়েট্রি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান মিউজিকের উদ্যোগে ৭ মার্চ রোববার বেলা দুইটায় (যুক্তরাজ্য) অন্তর্জালে উদযাপিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে লা নিনফা একো নামের একটি ব্রিটিশ-আর্জেন্টাইন সাহিত্য পত্রিকা। অনুষ্ঠানটি গ্রন্থীর ফেসবুক পেজ এবং সৌধের ইউটিউব চ্যানেল থেকে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।

এ অনুষ্ঠানে শিল্প, রাজনীতি, জীবনের অনুসরণীয় যাত্রা বা পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে গৌরবময় লড়াইয়ের ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য তিনজন নারীকে নগদ অর্থ সম্মাননা ও পদক প্রদান করা হবে। বেগম রোকেয়া পুরস্কার নামে অভিহিত এই সম্মাননা এ বছর পাচ্ছেন কালা সংগমের যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা ড. গীতা উপাধ্যায় ওবিই (যুক্তরাজ্যে ভারতীয় শিল্পকলার প্রচারে অনন্য ভূমিকা রাখার জন্য), ভারত থেকে কত্থক নৃত্যশিল্পী নয়নিকা ঘোষ চৌধুরী (ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, তদুপরি অদম্য গতিতে ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যের পরিবেশনা ও প্রচারের জন্য) এবং বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে সাহসী সামরিক নেতা খালেদ মোশাররফ বীর উত্তমের স্ত্রী সালমা খালেদ (স্বামীর মৃত্যুর পরে অনন্য লড়াই এবং সাহসী পথচলার জন্য)।

প্রায় ৩১ জন বক্তা ও শিল্পী যোগ দিচ্ছেন এই ভার্চ্যুয়াল উদযাপনে। এর মধ্যে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাদেকুল আরেফিন, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা গীতা সহগল, লেখক ও নারীবাদী ড. অমৃতা উইলসন, বাংলাদেশের সাবেক সাংসদ মাহজাবীন খালেদ, যুক্তরাজ্যের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাশমি ভার্মা, বাংলাদেশের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা।

সৌধ পরিচালক কবি টি এম আহমেদ কায়সারের সঞ্চালনা এবং গ্রন্থী সম্পাদক কবি শামীম শাহানের সমন্বয়ে এ অধিবেশনে কথা ও কবিতা পরিবেশনায় থাকছেন লাতিন আমেরিকার কবি ও নারীবাদী রোসি সুনে, আমেরিকা থেকে মরিয়াম তম্বোরেনিয়া ও নাট্যকার ন্যানসি গুয়েভেরা, ব্রিটিশ আর্জেন্টিনার কবি গ্যাবি সাম্বুসেসিটি, চিলির লেখক কারমেন বেরেনকুয়ার, মেক্সিকান কবি ক্লাউদিয়া পোসাদাস, কবি নন্দিনী মেহরা, ব্রিটিশ-ইউক্রেনীয় কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা ভেরা গ্রাজিয়েদি, ব্রিটিশ–ভারতীয় লেখক গাঙ্গুলি, ভারতীয় বাঙালি কবি সেবন্তি ঘোষ ও বনানী চক্রবর্তী, ব্রিটিশ বাঙালি কবি তানজিনা নূর ই সিদ্দিক, ভারত থেকে আবৃত্তিশিল্পী স্বপ্না দে, বাংলাদেশ থেকে সুলতানা ইয়াসমিন এবং যুক্তরাজ্যের শাহীন মিতুলি।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন ইরানি সংগীতশিল্পী নিকনাজ মিরঘালামি, খ্যাতিমান ব্রিটিশ-ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার সুপ্রিয়া নাগারাজন এবং হিন্দুস্তানি উপশাস্ত্রীয় শিল্পী সুমনা মল্লিক বসু। এ ছাড়া ভারত থেকে কত্থক শিল্পী মায়া কুলশ্রেষ্ঠ, গৌড়ীয় নৃত্যশিল্পী রাচেল পেরিস, ভারতীয় কোরিওগ্রাফার এবং শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী সোহিনী রায়চৌধুরী দাশগুপ্ত নৃত্য পরিবেশনায় যোগ দেবেন।

সৌধ পরিচালক টি এম আহমেদ কায়সার বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নারীবাদী লেখক, শিল্পী এবং কবিদের সমন্বয়ে এই ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা বিংশ শতকের অন্যতম সেরা বাঙালি নারীবাদী লেখিকা বেগম রোকেয়ার কালজয়ী রচনা এবং নারীচিন্তাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিয়ে আসতে চাই। এ বছর থেকে বেগম রোকেয়া পুরস্কার নামে যে পদকের গোড়াপত্তন হলো, তা অব্যাহতভাবে নারীবাদী কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি প্রদানে সক্রিয় থাকবে প্রতিবছর।

দরকার সাবধানতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : সদ্যোজাত শিশুটির জন্মের খবরে পরিবারের মানুষ তখন সবে মিষ্টি বিতরণ শুরু করেছেন। এমন সময়েই চিন্তার মেঘ ঘনিয়ে আসে। জানা যায়, ক’দিনের একরত্তির জন্ডিস হয়েছে। এই ‘নিয়োনেটাল জন্ডিস’ বহু শিশুরই হয়, তারা সেরে উঠে বাড়িও চলে আসে। তবে ওইটুকু শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নরম, অপরিণত, সংবেদনশীল। তাই, নিয়োনেটাল জন্ডিস ঠিক সময়ে ধরা না পড়লে বা বাড়াবাড়ি হলে কিছু দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। অসুখটির কারণ, রোগলক্ষণ চেনার উপায়, চিকিৎসা ও সাবধানতা বিষয়ে বুঝিয়ে দিলেন শিশু চিকিৎসক ডা. অপূর্ব ঘোষ।

কেন হয় এই জন্ডিস : গর্ভে থাকাকালীন মায়ের ধমনী থেকে রক্ত পায় সন্তান। তাই শিশুর অক্সিজেন স্যাচুরেশন এ সময় কম থাকে। লোহিত রক্তকণিকা থাকে বেশি। কিন্তু জন্মের পর যখন নিজের ফুসফুস মারফত নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই ওর অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ে। তখন আর অত লোহিত রক্তকণিকারও দরকার পড়ে না। ফলে ওই রক্তকণাগুলো ভেঙে যায়। সেই কণা ভেঙেই বিলিরুবিন তৈরি হয়। শিশুটির অপরিণত যকৃৎ ওই বিলিরুবিন বার করে দিতে পারে না। ফলে শরীরে বিলিরুবিন জমে জন্ডিস দেখা দেয়। এটি খুব স্বাভাবিক ঘটনা। তবে প্রি-ম্যাচিয়োর শিশু যার যকৃৎ বেশ অপরিণত, তার ক্ষেত্রে বা যে শিশু স্তন্যপান করছে তার ক্ষেত্রেও জন্ডিসটা একটু বেড়ে যায়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে রক্তের সমস্যার জন্যও নিয়োনেটাল জন্ডিস হয়। মা আর সন্তানের রক্তের গ্রুপ আলাদা হলে এমন হতে পারে। মায়ের রক্ত যদি ‘ও’ গ্রুপের হয়, আর বাচ্চার রক্ত ‘এ’ বা ‘বি’ গ্রপের হয় কিংবা মায়ের যদি আরএইচ নেগেটিভ হয় আর বাচ্চার যদি আরএইচ পজ়িটিভ হয়, তখনও বাচ্চার জন্ডিস হয়।

মাতৃগর্ভে থাকাকালীন অথবা জন্মের সময়ের কোনও সংক্রমণের জন্যও সদ্যোজাতের জন্ডিস হতে পারে। চিকিৎসকেরা এগুলিকে টর্চ ভাইরাস বলে চিহ্নিত করেন। রুবেলা, সাইটোমেগালো ভাইরাস, হারপিস সিম্পলেক্স, কনজেনিটাল সিফিলিস (এটি এখন কমে গিয়েছে) এই জন্ডিসের জন্য দায়ী। প্যারোসিনিমিয়া, গ্যালাক্টোসিমিয়া, সিস্টিক ফাইব্রোসিস ইত্যাদি মেটাবলিজ়ম সংক্রান্ত জন্মগত ত্রুটির জন্যও জন্ডিস হয়।

কখন এটি বিপজ্জনক  : দুই-তিনটা পরিস্থিতি নিয়ে চিকিৎসকেরা বেশি চিন্তায় থাকেন। যকৃৎ থেকে অন্ত্রে যাওয়ার পথটি যদি জন্ম থেকেই বন্ধ থাকে, তা হলেও সদ্যোজাতের জন্ডিস হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি এই রোগটি চিহ্নিত করে অস্ত্রোপচার করতে হয়।

আবার অনেক সময়ে জন্মগত ভাবে থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিছু শিশুর আবার মায়ের দুধ বা গরুর দুধ… কোনও দুধই সহ্য হয় না। সেটাও জন্ডিস হিসেবে দেখা দেয়। একে বলে গ্যালাক্টোসিমিয়া। তবে এটি খুবই বিরল ঘটনা। দেখা গিয়েছে ৪০,০০০-৬০,০০০-এ একটি বাচ্চার এই অসুখ হতে পারে। এই রোগ ধরতেও দেরি করা ঠিক নয়।

কতটা ভয়ের অসুখ : নিয়োনেটাল জন্ডিসের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা রোগীর মৃত্যু নিয়ে ভাবিত নন। তাঁদের চিন্তার কারণটা অন্য। জন্ডিস থাকে রক্তে। চিকিৎসকেরা লক্ষ রাখেন রোগটা যেন কোনও ভাবেই ‘ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার’ বা রক্ত আর মস্তিষ্কের মধ্যের বাধাটি না পেরোয়। অর্থাৎ রোগ যেন মাথায় উঠে না যায়। ব্রেনে জন্ডিস চলে গেলে মস্তিষ্কের কিছু ক্ষতি হতে পারে। ফলে কানে কম শোনা, ব্যালান্স হারিয়ে ফেলার মতো অসুবিধে দেখা দিতে পারে। ডা. ঘোষ বললেন, রোজ পরীক্ষা করলে অনেক সময়েই বাচ্চার মা-বাবা বিরক্ত হন। বলেন, এটুকু বাচ্চাকে খোঁচাখুঁচি করা কেন? আসলে চিকিৎসকদের জন্ডিস নিয়ে ভয় থাকে। আগেভাগেই জন্ডিস ধরে না ফেললে বাচ্চার মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শিশুর জন্মের পর প্রথম সাত দিন এই ভয়টা বেশি। সাত দিন পরে ‘ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার’ পরিণত হয়ে যায়। বিপদ কমে।

চিকিৎসা ও সতর্কতা : নিয়োনেটাল জন্ডিস নিযন্ত্রণে চিকিৎসকেরা ফোটোথেরাপির সাহায্য নেন। রোগের প্রকৃতি অনুযায়ী মোটামুটি ৭২ ঘণ্টার পর শিশু সেরে উঠতে শুরু করে। রোগের বাড়াবাড়ি হলে রক্ত পাল্টানোর প্রয়োজন হয়। সাত দিন বয়সের পর বাচ্চার সহনশক্তি বাড়তে শুরু করলে আর নিয়োনেটাল জন্ডিস হয় না।

জন্মানোর পরে শিশুদের গায়ে লাল আভা থাকে। তাই জন্ডিস বুঝতে অসুবিধে হয়। তবে ওর চোখ দেখলে জন্ডিস চেনা যাবে। চামড়ায় বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিলে যদি হলদেটে ভাব দেখা দেয়, সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

শিশুর জন্মের পর যদি হাসপাতাল থেকে তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেয়, তবে বাড়িতেও জন্ডিস হতে পারে। আমেরিকায় আজকাল আগেভাগেই ডিসচার্জ করা হচ্ছে বলে সেখানে জন্ডিসের ফলে শিশুর মস্তিষ্কের ক্ষতি হওয়ার সমস্যাও বাড়ছে। এ দেশে সাধারণত শিশুজন্মের পর হাসপাতাল থেকে খুব তাড়াতাড়ি ছুটি দেওয়া হয় না। প্রসঙ্গত, ওজন কম থাকলেও বাচ্চার জন্ডিস সহ্য করার ক্ষমতা কম হয়। ডা. ঘোষের পরামর্শ, ডিসচার্জের সময়ে বিলিরুবিন পরীক্ষা করাতে দ্বিধা করা ঠিক নয়। পরবর্তী কয়েক দিন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা উচিত

শিশুর ঋতু পরিবর্তনের জ্বর!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : সাধারণ জ্বর ঘোরাফরা করে ১০০-১০১ ডিগ্রির মধ্যে। নিজে থেকেই এ জ্বর ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সেরে যায়। ক্ষেত্রবিশেষে ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়। চোখ, নাক দিয়ে পানি বের হওয়া, গা, হাত-পা ব্যথা, মাংসপেশি টেনে ধরা এগুলিই পারিপার্শ্বিক লক্ষণ। তবে করোনার সময় অনেক বেশি মাত্রায় জ্বর আসে। তার সঙ্গে স্বাদ ও গন্ধও হারিয়ে যায়। তবে এই ভাইরাসে জ্বর হলে চোখ নাক দিয়ে পানি বের হয় না। 

আতঙ্ক ছড়ানোটা অবাস্তব নয়। কারণ কোভিডের প্রথম পর্য়ায়ে ভাবা হয়েছিল শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রকোপ হয়তো কম। কিন্তু পরে দেখা গেল যে শিশুদের মধ্যেও করোনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কোভিড হাসপাতালগুলির নিভৃতবাসে শিশুরাও ভর্তি হয়েছিল। ফলে সেই রোগের উপসর্গ ঋতু পরিবর্তনে দেখা দিলে আতঙ্ক তো তৈরি হবেই।

শীতকালীন সময়ে সূর্যরশ্মির তীব্রতা ক্রমশ হ্রাস পায়, দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে। এই সময় ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা, অ্যাডিনো ভাইরাস প্রভৃতির বংশবৃদ্ধি করে। এই সময়টা ভাইরাসের মহানন্দের সময়। তাই এই সময় সতর্ক থাকা অবশ্য প্রয়োজন।

করোনা প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে শিশুরা অন্তর্মুখী হয়ে বহির্জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। মেজাজ সপ্তমে চড়ে থাকছে। হঠাৎ শরীরে কম্পন অনুভূত হচ্ছে। এগুলিই শিশুদের অবসাদ ও আতঙ্কিত হওয়ার লক্ষ্মণ।

ঋতু পরিবর্তনের কারণে যে সব শিশু জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে আসছে, তাদের বাবা মায়ের মধ্যেও কোভিড আতঙ্ক গ্রাস করছে। আতঙ্কিত হবেন না।শিশুদের অনাক্রমতা বা ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য ফল আনাজ, ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেলে সংক্রমণ ছড়ানোর ভয় থাকবে না।

এই সময় শিশুদের অ্যালার্জি বেশি  দেখা যাচ্ছে। এটা মূলত তিন ধরনের—ড্রাগ অ্যালার্জি, ডাস্ট অ্যালার্জি এবং ফুড অ্যালার্জি। শিশুদের ক্ষেত্রে ডাস্ট অ্যালার্জির প্রভাব বেশি। এই ধরনের অ্যালার্জি যে সব বাচ্চাদের রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঠান্ডা লেগে জ্বর হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। বর্তমান প্রজন্মের বাচ্চারা বেশিরভাগ সময়ে ঘরের ভেতরে থাকায় তাদের শরীরে ভিটামিন-ডি এর অভাব রয়েছে। তাই জ্বরজ্বালায় সংক্রমণের প্রবণতা বেশি।

প্রথমত দিনের বেশির ভাগ সময়টা সূর্যের আলোয় কাটালে উপকার হবে। এ ছাড়া ঘন ঘন ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান না করা, ভোররাতে পাখা চালিয়ে না ঘুমনো, এসি না চালানো—এ সব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

জ্বর ভাইরাস ঘটিত একটি রোগ। ফলে তার জন্য শুধু প্যারাসিটামল ট্যাবলেটই যথেষ্ট। তবে ওষুধ না খেলেও নিজে থেকেই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই জ্বর সেরে যায়। বিশেষ ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল জাতীয় ট্যাবলেট প্রয়োজন হয়। তবে যদি তাতেও জ্বর না সারে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোভিড পরীক্ষা করা জরুরি। কোনও অবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকওষুধ খাওয়া উচিত নয়।

ঋতু পরিবর্তনের সাধারণ জ্বর এবং করোনার কারণে জ্বরের মধ্যে অনেক পার্থক্য। জ্বর হলে ভয় পাওয়া বা অযথা আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। মনে রাখা দরকার, মন দুর্বল হয়ে গেলে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমে যায়। ভিটামিন প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন। শিশুদের ক্ষেত্রে বেবি ফুড, এনার্জি ড্রিঙ্ক বা ফুড সাপ্লিমেন্ট কনও সুষম আহারের বিকল্প হতে পারে না।

শীতে শিশুর যত্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : শীত মৌসুমে কিভাবে শিশুর যত্ন নিবেন অনেকেই তা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। আমরা আপনাকে দিচ্ছি কিছু এক্সপার্ট পরামর্শ যা আপনার শিশুকে এই ঠাণ্ডা আবহাওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে এবং আপনাদের দু’জনকেই রাখবে নিশ্চিন্ত।

বুকের দুধ খাওয়ানো :  আপনার শিশুর রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো। যেসব শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় না তাদের আলাদা বাটি বা পাত্রে আলাদা খাবার দেয়া হয়ে থাকে।এতে করে জীবাণুর সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে এই ব্যাপারে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা যায়। 

টিকা দেয়া : টিকা দেবার সময়গুলো সঠিকভাবে মেনে চলার চেষ্টা করুন। এই ব্যাপারটি শিশুর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অনেক বড় ভূমিকা রাখে এবং বেশ কিছু মারাত্মক অসুখের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। যদি কোনোকারণে কোন একটি ডোজ মিস হয়ে থাকে, তবে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন এবং যত দ্রুত সম্ভব দেয়ার ব্যাবস্থা করুন।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা :  শীতকাল সাথে করে নিয়ে আসে ফ্লু এবং ঠাণ্ডা লাগার বাড়তি ঝুঁকি। শিশুকে খাওয়ানোর আগে, কোলে নেয়ার আগে এমনকি আদর করার পূর্বে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যাবহার করুন। যেন আপনার মাধ্যমে শিশু কোনো জীবাণুর সংস্পর্শে না আসে। শিশুর বিছানার চাদর এবং কাঁথা প্রতিদিন বদলাবার কথা মনে রাখবেন, এতে শিশুও থাকবে স্বস্তিতে।

উষ্ণতা :  আরামদায়ক গরম একটি পরিবেশ আপনার শিশুকে হাসিখুশি এবং আরামে রাখবে। আপনার শিশু উষ্ণতা অনুভব করবে এরকম একটি তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। যেসব দরজা-জানালা দিয়ে শিশুর ঘরে ঠাণ্ডা বাতাস ঢুকতে পারে সেগুলো সব বন্ধ রাখুন, কিন্তু আলো-বাতাস চলাচলের জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখুন। একইসাথে শুষ্কতা এবং ত্বক ফেটে যাওয়া এড়াতে সঠিক পরিমাণের আর্দ্রতা বজায় রাখুন।

পোশাক : আপনার শিশুর গায়ের পোশাকটি তার অনুভূতি এবং ব্যবহারের উপর প্রভাব ফেলে। আরামদায়ক গরম পোশাক আপনার বাবুকে ভালোভাবে ঘুমাতে সাহায্য করবে এবং এতে সে আরো আরাম অনুভব করবে। আবার মনে রাখবেন যে আপনি বাসার তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাই ভারী এবং আঁটসাঁট কাপড় ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। শীতের পোশাক বাছাই করার সময় খেয়াল রাখবেন তা যেন আরামদায়ক এবং নরম কাপড়ের হয়।

ম্যাসাজিং : আপনার বাবুকে প্রতিদিন একটি আরামদায়ক উষ্ণ ওয়েল ম্যাসাজ দিলে এটি তার শরীরের জন্য ভাল হবে। তেল এবং ময়েসচারাইজার শিশুকে রাখবে নরম এবং প্রাণবন্ত। যদিও শিশুদের যত্নের জন্য অনেক পণ্যই বাজারে রয়েছে তবে বাছাই করার ক্ষেত্রে  আপনার ডাক্তারের পরামর্শমত একটি বা দু’টি বেছে নিন।

আর এভাবেই এই ছোট্ট টিপসগুলো মনে রেখে আপনার শিশুর সাথে প্রথম শীতকালটি উপভোগ করুন নিশ্চিন্তে ।

ইনসমনিয়া কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দিনের তিন ভাগের দুই ভাগ কাজকর্মের জন্য, বাকি একভাগ ঘুমের জন্য বরাদ্দ। ওই একভাগের উপরে নির্ভর করছে বাকি দুই ভাগ। কারণ ঘুম মস্তিষ্ক ও শরীরকে পূর্ণ বিশ্রাম দেয়। দিনে ষোলো ঘণ্টা ঠিকমতো পরিশ্রম করার জন্য আট ঘণ্টার ঘুম যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, অনিদ্রার মতো কষ্ট যাদের আছে, তারাই বুঝতে পারেন। অনিদ্রা মানে ঘুম না আসা, ডাক্তারি পরিভাষায় একে বলে ইনসমনিয়া।

কেন হয় ইনসমনিয়া : আমাদের ঘুম পায়, কারণ ক্রমাগত কাজ করার ফলে আমাদের শরীরের এটিপি (অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট) অর্থাৎ শক্তি খরচ হয়। শরীর এই ঘাটতি পূরণ করার জন্য একটু সময় নেয়। এই সময়টাই হল ঘুমের সময়। তখনই শরীর এটিপি বা শক্তির পুনরুৎপাদন করে নেয়। প্রকৃতি আমাদের মস্তিষ্ক থেকে একটি রাসায়নিকের ক্ষরণ ঘটায়, যার নাম মেলাটোনিন। এই মেলাটোনিন শরীরে ঘুমের সাইকেল বা চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই মেলাটোনিন সব সময়ে তৈরি হয় ঠিকই, কিন্তু আলোর উপস্থিতিতে নষ্ট হয়ে যায়। তাই উজ্জ্বল আলোয় ঘুম পায় না। এখন অনেকেই দীর্ঘক্ষণ ল্যাপটপ বা মোবাইলে কাজ করেন, চোখের সামনে উজ্জ্বল আলো তাঁদের মেলাটোনিন নষ্ট করে ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। ফলে অল্টার্ড স্লিপ হ্যাবিট দেখা যায়। তিনি ভোর চারটে অবধি জেগে রইলেন, তার পর দুপুর এগারোটা অবধি ঘুমোলেন। এ সব ক্ষেত্রে ঘুমের সাইকেল উল্টে যায়।

অনিদ্রার লক্ষণ : রাতে ঘুম না হওয়া এই রোগের প্রধান লক্ষণ। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে যে সব উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সেগুলো হল, দিনের বেলা ঘুম ঘুম ভাব কিন্তু ঘুম না আসা, সর্বক্ষণ গভীর ক্লান্তি, খারাপ মেজাজ, কাজে মন না বসা, ইত্যাদি। এসব উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ীও হতে পারে। তবে দৈনিক কতটা ঘুম প্রয়োজন, তার মাপ কিন্তু বয়স অনুযায়ী এক রকম নয়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই মেলাটোনিন সংশ্লেষ ক্রমশ কমে আসতে থাকে। জন্মের পর এক মাস পর্যন্ত যেমন বাচ্চারা তেইশ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমায়, কারণ তখন মেলাটোনিন সংশ্লেষ সবচেয়ে বেশি। একজন স্কুলে পড়া বাচ্চার (ক্লাস এইট পর্যন্ত) দিনে ঘুম দরকার অন্তত নয় ঘণ্টা। বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে সেটা গিয়ে দাঁড়ায় পাঁচ ঘণ্টায়, কারণ মেলাটোনিন সংশ্লেষ তখন সবচেয়ে কম। যার যতটা ঘুম প্রয়োজন, তার কোটা পূরণ না হওয়াই অনিদ্রা রোগের লক্ষণ।

প্রতিরোধের কিছু সাধারণ উপায় :

 • ঘুমাতে যাওয়ার আগে অনেকক্ষণ ধরে মোবাইল, কম্পিউটার ইত্যাদিতে কাজ করবেন না

• ক্যাফেইন, নিকোটিন, অ্যালকোহল পরিত্যাগ করুন

• রাতে ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত তিন-চার ঘণ্টা আগে হালকা ব্যায়াম করলে সুফল পাবেন

• পরিমিত ডিনার করুন এবং বেশি রাত করে খাবেন না। পেট ভরে বা দেরিতে খেলে অনেক সময়ই ঘুমের অসুবিধা হয়

• শোবার ঘর যেন যথাসম্ভব আরামপ্রদ হয়। খুব বেশি গরম অথবা ঠান্ডা যেন না হয়। চোখ এবং কানের গার্ড পরে ঘুমোনোর অভ্যেসও করা যেতে পারে

• যেভাবে শুতে আপনি সবচেয়ে আরাম বোধ করছেন, সেভাবেই শোয়া উচিত। ঘুমের আগে বই পড়া, মৃদু লয়ের গান শোনা অথবা ঈষদুষ্ণ জলে স্নান করার অভ্যেস তৈরি করতে পারেন

• ওজনের উপরে নিয়ন্ত্রণ রাখুন। উচ্চতা অনুযায়ী ওজন যেন ঠিক থাকে।

কী করণীয় : প্রথমেই মনে রাখতে হবে, নিজে নিজে বা অন্য কারও কথা শুনে ঘুমের ওষুধ কিনে খাবেন না। ডাক্তার দেখিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রার ঘুমের ওষুধই খাওয়া উচিত। কিভাবে সে ওষুধ ধীরে ধীরে বন্ধ হবে, সে ব্যাপারেও চিকিৎসকের মতামতই শেষ কথা। ঘুম না এলে পড়তে বসতে হবে। এক্ষেত্রে গল্পের বই নয়, প্রত্যেককে তার মতো করে একটু কঠিন বিষয় নিয়ে পড়তে হবে। পড়ার মধ্য দিয়ে মস্তিষ্কের এটিপি বেশি পরিমাণে খরচ হবে, মস্তিষ্ক ক্লান্ত হবে এবং ঘুম এসে যাবে। কিন্তু ক্রনিক ইনসমনিয়া, যেমন সপ্তাহের অর্ধেক রাতেই ঘুম আসছে না, এ রকম তিন মাস ধরে চলছে, তখন চিকিৎসার প্রয়োজন।

স্বাভাবিক ঘুমের অভ্যেস ফিরে পেতে অকারণ দুশ্চিন্তা এবং যে কোনও ধরনের নেশা থেকে দূরে থাকুন। সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনের মধ্যেই রয়েছে পর্যাপ্ত ঘুমের চাবিকাঠি।

শিশুপুত্র হত্যার দায়ে পিতার মৃত্যুদণ্ড

রাজন্য রুহানি, জামালপুর: শিশুপুত্রকে ঢেঁকিতে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলার দায়ে পিতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার (২৯ নভেম্বর) জামালপুরের জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খান এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি হলেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার দুধনই গাজারি জুড়া গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র মো. মোস্তফা (৩৭)।

জামালপুর জজ আদালতের পিপি এডভোকেট নির্মল কান্তি ভদ্র জানান, বকশীগঞ্জ উপজেলার নতুন টুপকারচর গ্রামের উজির আলীর মেয়ে রোজিনা বেগমের সাথে মো. মোস্তফার বিয়ে হয়। তারা দুজনই ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০১০ সালে রোজিনা সন্তানসম্ভবা হলে চাকরি ছেড়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনই রোজিনার বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন।

ঘরজামাই হয়ে দিনমজুরি করে সংসার চালাতেন মোস্তফা। তাদের ঘরে জন্ম নেয় আশিক নামের এক পুত্র সন্তান। এরমধ্যেই ২০১১ সালের ২০ মে মোবাইল কেনা নিয়ে স্ত্রীর সাথে মোস্তফার ঝগড়া হয়। প্রচণ্ড রাগে তিনি ৫ মাসের পুত্র সন্তান আশিককে দুই পা ধরে ঢেঁকির সাথে আছাড় দেন। ঘটনাস্থলেই মারা যায় আশিক।

শিশুপুত্রকে মেরে ফেলায় রোজিনা বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত ৩০২ ধারায় মোস্তফাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন।

রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. মোস্তফা আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।

জ্বর-সর্দিতে প্রয়োজন ডাক্তারের পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা : একে তো কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ভয়, তার মধ্যেই সকালে এবং রাতের দিকে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ায় ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি এবং জ্বর! এই পরিস্থিতিতে ঠিক কী হয়েছে, তা না বুঝেই আতংকিত হয়ে পড়ছেন অনেকে। চিকিৎসকেরা যদিও অযথা আতংকিত না হওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন! তারা বলছেন, জ্বর এবং সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ থাকলে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজেকে কয়েক দিন অন্যদের থেকে পৃথক রাখুন বা আইসোলেশনে থাকুন। তারপরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শারিরিক পরীক্ষা করান।

চিকিৎসকদের মতে, অযথা বিভ্রান্ত হওয়া এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো রোগ ছড়ানোর থেকে কম নয়। প্রতি বছরই এই সময়টায় তাপমাত্রা দিনের বেলায় এক রকম থাকে, রাতে অন্য রকম। সেটা মাথায় রেখে প্রথমেই কোভিড হয়েছে ধরে না নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে কোনো রকম জ্বর-সর্দি-কাশিকেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। এটা ইনফ্লুয়েঞ্জাও হতে পারে, কোভিডও হতে পারে। ফলে যথাযথ পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

তাপমাত্রার এই ওঠানামার সময়ে নিজেকে ভাল রাখার পদ্ধতি এক-একটি বয়সের জন্য এক-এক রকম। সকলকেই মাথায় রাখতে হবে যে, রাতের দিকে ঠান্ডা পড়তে পারে ভেবে দুপুরেই যেমন গরম পোশাক গায়ে চাপানো যাবে না, তেমনই সকালে গরম পোশাক গায়ে চাপিয়ে বেলা পর্যন্ত তা নিয়ে ঘোরাও অনুচিত হবে। কোভিড পরিস্থিতিতে সংক্রমণ এড়াতে আগের চেয়ে পানির ব্যবহার অনেকটাই বেড়েছে। ফলে তাপমাত্রা পরিবর্তনের এই সময়ে কতটা উষ্ণ পানি ব্যবহার করা হবে, সেটাও মাথায় রাখা দরকার। সেই সঙ্গে যাদের অ্যাজ়মার সমস্যা বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদেরও আরো বেশি করে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কোভিডের টিকা কবে আসবে, সে জন্য অপেক্ষা না করে যার যা ভ্যাকসিন নেওয়ার কথা, সেটাও দ্রুত নিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

সৌন্দর্য-চিকিৎসায় মাইক্রোডার্মাব্রেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : যারা একটু বেশি সৌন্দর্য সচেতন, তারা ত্বকের মালিন্য দূর করতে ফেসিয়ালের পাশাপাশি মাইক্রোডার্মাব্রেশনের সহায়তা নিচ্ছেন। প্রায় ননইনভেসিভ (শরীরে ছুরি, কাঁচি, সূচ ঢোকানো হয় না) এই প্রক্রিয়ায় সহজে, কম সময়ে ও অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভাবে চেহারার সরু ভাঁজ, বলিরেখা, এজ স্পট, ফ্রেকলস, ওপেন পোরস, অসুখ বা ব্রনের দাগ সব ম্যাজিকের মতো মুছে ফেলা যায়। মুখে তো বটেই, পছন্দসই পোশাক পরার অভিপ্রায়ে অনেকে হাতে, পায়ে বা শরীরের অন্য অংশেও মাইক্রোডার্মাব্রেশন করিয়ে নেন।

মাইক্রোটেকনিকের কেরামতি : আগে ত্বক সুন্দর করে তোলার চিকিৎসার মধ্যে ডার্মাব্রেশনের খুব চল ছিল। ত্বকে দাগ, ছোপ, গর্ত থাকলে সেটিকে সমান করাতে গিয়ে ‘ডার্মিস’কে ‘অ্যাব্রেট’ করা হত। অর্থাৎ চামড়ার উপরের অংশটাকে কেটে তুলে ফেলা হত। আলু, বেগুনে পোকা থাকলে যেমন যে স্তরে পোকার অংশটি রয়েছে, সেটা বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, এ-ও অনেকটা তাই। শুনতে অদ্ভুত হলেও প্রক্রিয়াটি দারুণ কার্যকর। তবে ঝঞ্ঝাট ছিল প্রচুর। অজ্ঞান করার দরকার হত, ভর্তি থাকতে হত, বাইরে বেরোনোয় বিধিনিষেধ থাকত। এটিরই একটি স্বাচ্ছন্দ্যযুক্ত ও আধুনিকতর ‘মাইক্রোটেকনিক’ হল মাইক্রোডার্মাব্রেশন। সূক্ষ্ম যন্ত্র ও উচ্চমানের উপকরণের সাহায্যে দাগ-গর্তযুক্ত ত্বকের উপরের অংশ তুলে দেওয়া হয়।

পদ্ধতির প্রকারভেদ : এটি একটি ব্যথাহীন মাইক্রোইনভেসিভ পদ্ধতি। অর্থাৎ এফএনএসি (ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন সাইটোলজি)-র সাহায্যে ত্বক পরিষ্কার করা হয়। অজ্ঞান করার বা ইঞ্জেকশনের দরকার হয় না। তুলোয় অ্যালকোহল-বেসড ক্লিনার নিয়ে ত্বক ভাল ভাবে পরিষ্কার করে দাগ-গর্ত-ক্ষত মেরামত করা হয়।

ডায়মন্ডটিপ হ্যান্ডপিস : যন্ত্রের মুখে হিরে থাকে। চাপ প্রয়োগ করে ত্বকের এক্সফোলিয়েশন করায়। যে অংশটি উঠে গেল, তা যন্ত্রই সাফ করে দেয়। অ্যাপ্লিকেটর এতটাই নিরাপদ যে, চোখের কাছাকাছি অংশে অনায়াসে ব্যবহার করা যায়।

ক্রিস্টাল মাইক্রোডার্মাব্রেশন : অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড, সোডিয়াম ক্লোরাইড, সোডিয়াম বাইকার্বনেট ইত্যাদি স্ফটিকের সূক্ষ্ম গুঁড়ো স্প্রে করে চাপ দেওয়া হয়। ত্বকের মৃত কোষ উঠে আসে। মেশিনের ভ্যাকুয়াম সাকশন প্রক্রিয়ায় মৃত কোষ পরিষ্কার করে দেয়।

হাইড্রোডার্মাব্রেশন : পরিস্রুত জল ব্যবহার করে ডার্মাব্রেশন করা হয়।

মোটামুটি প্রত্যেক সিটিংয়ে পাঁচ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগে। এই চিকিৎসার খরচ নির্ভর করে কোন মেশিনে করছেন, ত্বকের অবস্থা কেমন, কতক্ষণ ধরে হচ্ছে ইত্যাদি বিষয়ের উপরে। প্রত্যেক সিটিংয়ে ৩০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

কয়েকটি সাবধানতা : এই প্রক্রিয়াগুলির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তবে লালচে বা ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে। বরফ ঘষলে ঠিক হয়ে যাবে। চিকিৎসার পরে বাড়িতে থাকলে দিনে অন্তত দুই-তিন বার ময়শ্চারাইজ়ার লাগাতে পারেন। অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম লাগাতে পারেন। তবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার দরকার নেই।

১৮ বছর হলে মাইক্রোডার্মাব্রেশন করানো যেতে পারে। এক মাস অন্তর এটি করালে ভাল। তবে, যাঁদের ত্বক ততটা সেনসিটিভ নয়, পিগমেন্টেশন বা ফোটোড্যামেজ (রোদে বেরোলে ক্ষতি) তেমন হয় না— তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার সুফল আরও কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতেই পারে।