×

আরও ধৈর্য্যশীল হলে দোষ কি!

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নশীল বাংলাদেশ। সবকিছুতেই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অগ্রনী অবদান। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বে প্রশংসিত। আরো একটি বিষয়ে এই সরকারকে সর্তক এবং সচেতন থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। কোন বিষয়ে ধৈর্য্য ধারন। পরিস্থিতি সামালে জানমালের সর্ব্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

দুই দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশে মৃত্যুর মিছিল। একদিকে রাজশাহীতে বেপরোয়া সড়ক দূর্ঘটনায় ১৭ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে হাটহাজারী ও ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ায় পুলিশ, বিজিবি এবং বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষে নিহত হয়েছে ৯ জন। আহত শতাধিক। আহতদের মাঝে জনতার পাশিপাশি পুলিশ সদস্যও রয়েছে।

সরকারি যন্ত্র ও জনতা সবার মাঝে ধৈর্য্যচুত্যির লক্ষণ স্পষ্ট। হুঙ্কার পাল্টা হুঙ্কার চলছে। ধর্মভিত্তিক দল হেফাজতে ইসলাম রাজপথে সরকারের মুখোমুখি। হরতাল ডেকেছে হেফাজত ইসলাম। শনিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হরতাল করতে দেয়া হবে না।’ অপরদিকে হরতালে বাধা দিলে লাগাতার কর্মসূচী দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক।

ধৈর্য্য ধারনের ক্ষেত্রে অবশ্য সরকারকেই অগ্রনী ভুমিকা রাখতে হবে। উগ্রবাদী মানুষটিও এ দেশের নাগরিক। আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচার গুলি কোন সমাধান না। গত দুইদিনে নিহত মানুষ হতে পারে যারা গুলি করছেন তাদেরই কারো না কারো আত্মীয় বা সন্তান। এখানে উগ্রবাদী নিরস্ত্র জনতার প্রতিপক্ষ স্বশস্ত্র পুলিশ।

অধৈর্য্য হলে এরকম মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের সকল অর্জন ধুলিস্যাত হতে পারে। স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনো সক্রিয়। ষড়যন্ত্রকারীগণ চায় সরকার অধৈর্য্য হোক। পরিকল্পিত উন্নয়ন হচ্ছে এবং মানুষের জীবন মান উন্নত। অধৈর্য্য হলে পরিকল্পনায় ছেদ পরবে। অধৈর্য্য হলে মনসংযোগ নষ্ট হয়। বঙ্গবন্ধু কন্যা ভাল করছেন। স্বাধীনতাবিরোধীদের চোখ টাটায়। তারা ঘাপটি মেরে আছে। যে কোন মূল্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ খুঁজছে।

যে ঘটনা নিয়ে এত তোলকালাম সেই মোদির দেশে ইসলাম শিক্ষার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ দারুল উলুম দেওবন্দ অবস্থিত। হেফাজতের কর্মীরা কি আর সেখানে যাবে না। এখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশে ফিরে যদি বলে বসেন, হেফাজতে ইসলাম তার বাংলাদেশ সফরে বিরোধ করেছে! হেফাজতের কোন কর্মী ভারতের দেওবন্দে পড়ালেখা করতে পারবে না। আসা করি তিনি তা করবেন না।

তবে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের আরো সংযমি হওয়া কর্তব্য। নিরপরাধ হেফাজত কর্মীদের সাথে মিশে দুষ্কৃতিকারীগণ রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ড করার সুযোগ নিচ্ছে। ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় এদের তান্ডবে সরকারি সম্পত্তি ধ্বংশ হয়েছে। শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে প্রচারিত মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্য চরম উসকানীমূলক। তিনি বলতে পারেন না, যুদ্ধ করবো। আমার প্রশ্ন তিনি কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন। তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের জন্য যুদ্ধ করতে চান ? মাননীয় মামুনুল হক আপনি শান্ত হোন। আপনি সুবক্তা। আপনার সুললিত আহ্বানে সমাজের বিপথগামী যুবক সুপথে আসতে পারে। আবার হুংকারে ঝড়তে পারে এমন তাজা প্রাণ। যেভাবে গত দুইদিনে ৯ জন প্রাণ দিয়েছে। আপনাদের ভাষায় শহীদ হয়েছে। ওইসব নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। সেই সাথে প্রত্যাসা আর যেন কোন তাজা প্রাণ এভাবে অকালে না ঝড়ে। আমাদের সকলকে আল্লাহ ধৈর্য্যধারনের ক্ষমতা দিন।

 

 

মহানায়কের প্রস্থান

ম্যারাডোনা। একজন মহান মহানায়ক। তিনি শুধুমাত্র খেলোয়ার ম্যারাডোনা নন। তিনি তাঁরও অনেক উর্দ্ধে। তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বর্জ্যকন্ঠ। তিনি বিপ্লবী। তিনি উচ্চকিত সব রকম শোষনের বিরুদ্ধে। তাইতো বার বার তাকে পুজিঁবাদের রোষানলে পড়তে হয়েছে। বলা হয়ে থাকে ১৯৯০ বিশ্বকাপে তাকে জোড় করেই বহিস্কার করা হয়েছে। মাদক একটি উছিলা মাত্র। প্রকৃত সত্য হচ্ছে তার প্রতিবাদি মনোভাব।

কিন্তু পুঁজিবাদের রোষানল বা সাম্রাজ্যবাদ কোন কিছুই ম্যারাডোনাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি বিশ্বের ম্যারাডোনা। তিনি মানবতার প্রতিক। তিনি শোষিতের কন্ঠস্বর। ম্যারাডোনা হয়ে উঠতে উঠতে ততদিনে চে’ গত হয়েছেন। ফিদেল ক্যাস্ট্রো, চে গুয়েভেরা, হুগো শ্যাভেজ সমসাময়িক এইসব বিপ্লবের মহানয়কদেরও নায়ক একজনই! তিনি ম্যারাডোনা।

ম্যারাডোনার মহাপ্রয়ানে কোন মাতম নয়। তিনি ইহলোক প্রস্থান করেছেন মাত্র। কিংবদন্তি পেলে ঠিকই বলেছেন, আমরা স্বর্গে একসাথে ফুটবল খেলবো। আমাদের পৃথিবীও আরো অনেকদিন ম্যারাডোনার সাথে থাকবে। অন্ততঃ বিশ্বের এই প্রজন্ম তাকে রাখবে হৃদয়ের মনিকোঠায়। ফুটবল যতদিন থাকবে ম্যারাডোনাও থাকবে। একজন মহানায়ক ম্যারাডোনা বেঁচে থাকবে অনন্তকাল।

ভর্তি নিয়ে অভিভাবকের উদ্বিগ্নতা দুর হলো

ভর্তি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ঘোষণায় অভিভাবকদের উদ্বিগ্নতা দুর হলো। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্কুলগুলোতে প্রথম শ্রেণির মতো সব শ্রেণিতেই লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি (শিক্ষামন্ত্রী)।

গত কয়েকদিন যাবৎ ভর্তিচ্ছু সন্তান রয়েছে এমন বেশ কয়েকজন অভিভাবকের ফোন পেয়েছি। ভর্তি নিয়ে তাদের উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করেছিল। করোনা মহামারির কারনে স্কুল কলেজ বন্ধ। বছরটিই এভাবে পার হলো। পরবর্তি ক্লাসে উন্নিত হওয়া নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে উদ্বিগ্নতা থাকাই স্বাভাবিক।

সরকার এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও অটো প্রমোশন দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছে। করোনা মহামারি সাময়িকভাবে জনজীবনে স্থবিরতা আনলেও সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারনে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থমকে যায়নি। দূর শিক্ষনের মাধ্যমে পাঠদান চলছে।

অভিভাবকদেরও শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। শিক্ষার্থী যাতে পাঠে মনোযোগী হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

অভিবাদন তথ্যমন্ত্রী, করোনা যুদ্ধে আমরা শেষ পর্যন্ত আছি

কাজের স্বীকৃতি সবারই ভাল লাগে। নিজেকে গর্বিত মনে হয়। বিশেষভাবে করোনা মহামারির প্রথম দিন থেকেই আমার অনেক সহকর্মীগণ স্বাভাবিকের চাইতে বেশী মনযোগে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করেছে। যুদ্ধ, মহামারি অথবা মানবিক বিষয়ে দ্রুত প্রতিকৃয়া জানানোই হচ্ছে একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিকের পরিচয়। এই করোনা মহামারিতে গণমাধ্যমকর্মীরা বেশ ভালভাবেই সেটি করেছে।

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ গণমাধ্যম কর্মীদের করোনাকালের নির্ভীক যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেছেন। মন্ত্রী বলেন, “করোনার শুরু থেকেই ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সাংবাদিকরা কাজ করে চলেছেন, সত্যিই তা প্রশংসনীয়। আমি কোনো সাংবাদিককে ভীতি নিয়ে হাতগুটিয়ে বসে থাকতে দেখি নাই। এতে করে আমার অনেক ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করেছেন, যা আমি কখনো ধারণা করতে পারিনি।

তথ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে করোনাকালে নিহত সাংবাদিকদের পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে। পাশাপাশি
চাকুরিচ্যুত সাংবাদিক যারা দীর্ঘদিন ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না, সেই সাংবাদিকদের এককালীন সহায়তা দেয়া হয়। সেটি এখনও অব্যাহত আছে। তাই বিজেসিকে তিনি অনুরোধ করেন তাদের তালিকা যদি দেন তাহলে তিনি সহায়তা করতে পারবেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা মানবতার জননী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাংবাদিক হিসেবে কৃতজ্ঞতা জানাই। করোনাকালে সাংবাদিকরা যেমন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে অগ্রনি ভুমিকা রেখেছে। তাদের বিপদেও তিনি(প্রধানমন্ত্রী) পাশে দাড়িয়েছেন।

মাননীয় তথ্যমন্ত্রীকে অভিবাদন জানিয়ে এই অঙ্গিকার করছি। আমরা গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে এভাবে সর্বদা সরকারের পাশে রয়েছি। একইসাথে করোনা মহামারির শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। এই প্রত্যাসা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহত পরিবারের সদস্যদের জন্য সমবেদনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহত কৃষক পরিবারের সদস্যদের জন্য সমবেদনা জানাই। পাশাপাশি চালকের ভুলে এভাবে অকালে প্রাণ হারানো কিভাবে রোধ করা যায় সে বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

আমরা জানতে পেরেছি ওই কৃষকরা বরেন্দ্র এলাকায় ধান কেটে মজুরি হিসেবে পাওয়া ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। প্রান্তিক ওইসব কৃষকের পরিবার এমনিতেই দারিদ্রতায় জর্জরিত। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অকাল প্রয়ানে না জানি কি গভির সমস্যায় পতিত হলো। প্রশাসনের প্রতি বিশেষভাবে আবেদন জানাচ্ছি নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে সহায়তার ব্যবস্থা করতে।

প্রকৃতার্থে দূর্ঘটনা রোধে সামাজিক সচেতনতা জরুরী। একদিকে ঝুকিপূর্ণ বাহন ভটভটি। তারপর অতিরিক্ত বোঝাই করে তার উপর চড়ে ভ্রমণ যে জীবনের জন্য কতটা নির্মম হতে পারে এই দূর্ঘটনা থেকে অনেকের শিক্ষা নেয়া উচিত। ধান কাটার সিজনে বরেন্দ্র অঞ্চলে বোঝাই ভটভটি দূর্ঘটনার কথা প্রায়ই আমরা শুনতে পাই। জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে এ ভয়ংকর যাতায়াত ব্যবস্থা রোধ করতে হবে।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে বের হলেই চোখ জুড়িয়ে যায়

বরিশাল-ঝালকাঠি-পিরোজপুরএ চলমান হাজার কোটি টাকার বর্দ্ধিত উন্নয়ন বরাদ্দ ৩০৫ কোটি টাকা একনেকে অনুমোদন হলো। একটি উন্নত রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রায় বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে সুপরিকল্পিতবাবে এগিয়ে নিচ্ছেন। দেশের প্রান্তিক জনপদে দৃশ্যমান হচ্ছে উন্নয়ন। এটি তার সবশেষ উদ্যোগ। এটি চলমান প্রকল্প। পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর-দক্ষিণ সব দিকে উন্নয়ন হচ্ছে। ঢাকা থেকে সড়কপথে যেদিকেই যাবেন অবকাঠামো উন্নয়নের দৃশ্যে চোখ জুড়িয়ে যায়।

সম্প্রতি বাগেরহাট যাওয়ার পথে গোপালগঞ্জ-ভাঙ্গা সড়ক হয়ে গিয়েছিলাম। বিশ্বাসই হচ্ছিল না আমরা বাংলাদেশের কোন সড়কে চলছি। মসৃণ এবং পরিচ্ছন্ন। পরিকল্পিততো অবশ্যই। এইতো দুদিন পূর্বে গেলাম ময়মনসিংহ সে পথও একই রকম। আর কিশোরগঞ্জের হাওড় সড়কতো বিশ্ব সেরা দৃষ্টিনন্দন সড়ক গুলোর একটি হবে।

আরও একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় তা হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন। অতিতে দেখেছি সড়ক নির্মাণের এক বছর বা বৃষ্টির এক সিজনেই আবার যেই-সেই অবস্থা। বর্তমানে অধিকাংশ সড়ক গুলো আরসিসি ঢালাই নির্মিত হচ্ছে। পাথর-রড-সিমেন্টের ঢালাই রাস্তা বোধকরি সহসাই ধুয়ে মুছে যাবে না। এতে সড়কগুলো দীর্ঘ মেয়াদে টেকসই থাকবে। পাশাপাশি আধুনিক সরঞ্জামে রাস্তা নির্মাণের ফলে তা মশ্রিনও বৈকি। সরকারের এমন পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই।

মুখেমুখে নৌকার বুলি, ভোট বাক্স খালি

মোহাম্মদ আলম : বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সবিনয় অনুরোধ করবো কর্মী সমর্থক নিয়ে নতুন করে ভাবতে । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে। নাগরিক সুবিধা অন্য যে কোন সময়ের চাইতে বেশি। করোনা মোকাবেলায় সরকার সাফল্যের সাক্ষর রেখেছে। অনেক কিছুতেই বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল। তারপরও জনগণ খুশি না কেন ? ঘরে ঘরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। মাঠে ঘাটে নৌকার গগনবিদারী স্লোগান। ভোট বাক্স কেন খালি। আওয়ামী লীগের হাজারে বিজারে নেতাকর্মী সমর্থকরা কোথায় গেলো।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে ঢাকা-১৮ আসনে মোট ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১১৬ জন ভোটার। ভোট পড়েছে মাত্র ৮০ হাজার।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন ভোট দিচ্ছে না। তাহলে কি আওয়ামী লীগের পতাকাতলে হাইব্রিড রুপি নেতা কর্মীরা শুধুই সুবিধার জন্য ভিড়েছে। সুযোগ পেলে তারা কি আবার মুখ ফেরাবে। তা না হলে ভোট দেবার ক্ষেত্রে এমন অনিহা কেন !

বিরোধী দলগুলোর সাংগঠনিক দূর্বলতা তলানিতে। অদুর ভবিষ্যতে আবার কতদিনে তারা সেই শক্তি অর্জন করবে তারও কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিরোধী দলগুলোর সাংগঠনিক ব্যর্থতাও এর জন্য দায়ি।

ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসনে মাত্র ১৪ দশমিক ৫৭ ভাগ ভোট পরেছে। তবে সেই তুলনায় সিরাজগঞ্জ-১ আসনে শতকরা ৫৫ ভাগ অনেক ভাল। সম্প্রতি ঢাকা-১০ আসনে ভোট পরেছিল ১৫ শতাংশ। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। নানা কারনে শুন্য হওয়ায় এসব স্থানে উপ-নির্বাচন হলো। হতে পারে উপ-নির্বাচন নিয়ে জনসাধারণের তেমন আগ্রহ ছিলো না। তবে এটা একটা কারন মাত্র। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোট প্রয়োগের জন্য জনসাধারণকে আসতে হবে। এটা নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

গতকাল নিজের ভোট প্রয়োগ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোটার কম হওয়ার অনেক সমীকরণ থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা এটা বিশ্লেষণ করে বলতে পারবেন।’ এটা স্রেফ দায় এড়ানো। জনসাধারণকে ভোট দিতে উদ্ভুদ্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের কর্মসুচি রয়েছে। তা জেনেও তিনি একথা বলেছেন।

ভোট নিয়ে সুশিল সমাজেরও তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। গণমাধ্যমে লেখালেখি বা আলোচনা তুলনামূলক কম। এটা অশনিসংকেত। সমস্যা রয়েছে। তবে নিরবতা কোন সমাধান নয়। নির্বাচনী বুথে কেহ এলোই না। এটা কেমন কথা।

ভোট নাগরিক অধিকার। ভোট প্রয়োগ করা একজন নাগরিকের দায়িত্ব। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজে ভোট দেব। অন্যকে ভোট দিতে উৎসাহিত করবো।

বন্ধুসভা আমার বন্ধু

শতাব্দী আলম : বন্ধুসভা। উচ্চারন করতেই সহজ-সরল-সুখময় অনুভুতি হয়। বন্ধুসভা একটি সংগঠন। এর সাথে সম্পৃক্ত বন্ধুরাই এর প্রাণ। আগ্রহী সবাইকে অতি সহজেই আপন করে নেবার অদ্ভুত ক্ষমতা বন্ধুসভায়। যে কোন প্রকার প্রতিভা বিকাশে বন্ধুসভা অকৃপণ। আমার বন্ধু বন্ধুসভা।

একেবারে শুরুর দিকে নবাবগঞ্জ বন্ধু সভার সাথে আমি সম্পৃক্ত হই। সেবছরই মৌচাক স্কাউট জাম্বুরীতে ক্যাম্পিংএ যাবার সুযোগ হয়। মনের পর্দায় স্লাইডিং হচ্ছে। তাবুতে রাত কাটানো। সেই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত শেষ। মঞ্চে পরিবেশনা, প্রতিযোগীতা, ক্যাম্প ফায়ার। প্রিয় লেখক আনিসুল হকের সাথে মেয়েদের ছবি এখনো স্মৃতি হিসেবে ফ্রেমে বাঁধানো।

ও হ্যাঁ ! আমার কাছে আরো একটি কারনে বিশেষ সেই স্মৃতি। কারন আমার দুই কন্যা আয়শা ও মনিকাকে সাথে নিয়েছিলাম। একই তাবুতে আমরা ৭/৮ জন ঘুমিয়েছি। মেয়েদেরও মনে সেই স্মৃতি এখনো অমলিন।

বন্ধুসভার সাথে থাকতে থাকতেই টঙ্গীতে প্রথম আলোর সাথে সাংবাদিকতা শুরু করি। সেই যে শুরু। সাংবাদিকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি। যতই দিন যাচ্ছে বন্ধুসভার প্রাসঙ্গিকতা প্রবল হয়।

একজনের কথা না বললেই নয়। রওশন ভাই। দুঃখিত আমাদের বন্ধু। একদিন জানতে চাইলাম, ভাই ভাল কাজ করতে চাই। কি করা যায়? তিনি মুহুর্তেই উত্তর দিলেন, রাস্তায় যখনই কলার চোকলা দেখবা পরিস্কার করবা। হ্যাঁ রওশন ভাই। আমি এটা সব সময় করি। শুধু চোকলাই না । আমার আশপাশের ময়লা আবর্জনা আমি পরিস্কার করি। আমার বাসার সব কিছু নিয়মিত আমি পরিস্কার করি। প্রতি সপ্তাহে বাথরুম চার দেয়াল এবং বেসিনগুলোসহ পরিস্কার করি। ভাল কাজ করতে বন্ধুসভা থেকে অনুপ্রাণিত হই। বন্ধুসভার কাছে অনেক ঋনী। বন্ধুসভা আমার ভাল বন্ধু।


১১/১১/২০২০

প্রকৃতি, ঐতিহ্য এবং ভালবাসার হাতছানিতে বাগেরহাট

শতাব্দী আলম : ষাটগম্বুজ মসজিদের মেঝেতে সেজদায় মনে অপার্থিব শিহরণ ছিলো। দেয়ালের ভাঁজে ভাঁজে কারুকার্জমন্ডিত ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের গৌরবময় শোভায় দৃষ্টির গভিরতা থমকে দাড়ায়। তালাপের নির্মল জল, শান বাঁধানো ঘাট আর মহিরুহ বৃক্ষগুলো শান্তির সুবাতাসে প্রান জুড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের জেলা বাগেরহাট। সাগর, সুন্দরবন আর খানজাহান আলী (র.) এর আধ্যাত্মিকতার পুন্যভুমি বাগেরহাট। বাংলাদেশ জুড়ে যে শান্তির দখিনা বাতাস বয়ে যায়। এই প্রকৃতি আর আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে তার উৎপত্তি। বাংলাদেশে বেড়ে উঠা হৃদয়বান মাত্রই এই মেলবন্ধনের উপলব্দি রয়েছে। হয়ত পার্থিব টানাপোড়েনে দখিনের প্রতি এই অপার্থিব টান কখনো অনুভুত হয় না। তবু মনের অজান্তেই ক্লান্ত পথিক একটু প্রশান্তির খোঁজে ছুটে আসে বার বার। আমরাও সেই টানে ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের দশ জন বাগেরহাট এলাম দেখলাম প্রান জুড়ালাম ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার।

বুধবার রাত দশটায় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে যাত্রা শুরু। যদি হয় সুজন তেতুল পাতায় তিন জন। প্রবাদের যথার্থতা প্রমান দিতে ৭ সিটের মাইক্রো গাড়িতে গাদাগাদিভাবে আমরা ১০ জন চড়ে বসলাম। সামনে চালকের পাশে বসা জাকির হোসেন ইমন ভাইকে সর্তক করা হলো কোনভাবেই ঘুমানো যাবে না। বুলবুল ভাই একথা বলার সাথে সাথে সবাই সমস্বরে সহমত। সফরের প্রধান সমণ¦য়ক সুমন ইসলাম। তিনি বার বার পরখ করছিলেন সবাই এলো কিনা। নিশ্চিত হতে একবার গণনাও করে নিলেন- ‘আচ্ছা পেছনের সিটে মনসুর- কাউছার আর সাফায়েত, মাঝে আলম-ফিরোজ ও বুলবুল ভাই, সামনে আছি আমি, ভিপি কুদ্দুস ও মেয়র জসিম ভাই (তিনি কটিয়াদিতে মেয়র নির্বাচন করবেন)। এক ফাঁকে সংক্ষিপ্তভাবে সফরের কিছু বিধান বাতলে খরচের টাকা তুলে নিলেন। বাঙালি মাত্রই কাজের আগে অতিত নিয়ে ঘাটাঘাটি করবে। আমরাও আগের আরো সফর নিয়ে আলোচনায় বেশ ছিলাম। বাধ সাধলো সিঙ্গাইরের গ্যারাইদা এলাকায় দূর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের প্রতিবন্ধকতায়। পুলিশ র‌্যাকারে প্রায় এক ঘন্টার কসরতে ট্রাক সরিয়ে আবার রাস্তা চলাচলের জন্য মুক্ত করলেন। দ্বিতীয় চিন্তা কিভাবে দ্রুত পাটুরিয়া ঘাটে ফেরিতে পারাপার করা যাবে। এ নিয়ে কমবেশী সবাই নিজ নিজ মতামত ব্যক্ত করলেন। বিধি বাম। ফেরিঘাটের কাছাকাছি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নাই। গ্যাসের খোঁজে আবার ঢাকার দিকে উল্টো ছুট। কাজে-অবসরে আমরা যতই এগিয়ে যেতে চাই। দেশের আমলাতান্তিক জটিলতা কোন না কোনভাবে পেছনে টানে। গ্যাস স্টেশন আছে গ্যাস নাই। দশ কিলোমিটার পেছনে এসে গ্যাস পাওয়া গেলো। যা হোক ভোর ছয়টায় বাগেরহাট সার্কিট হাউজে এনডিসি মহোদয়ের সৌজন্যে আন্তরিক অভ্যর্থনা পেলাম। ঘন্টা দু’য়েকের বিশ্রামে দেহের ক্লান্তি আর আমলাভ্রান্তি দুইই কাটলো।

শুভসকাল বাগেরহাট। সার্কিট হাউজের সামনে পতাকা বেদিতে গ্রুপ ছবির মাধ্যমে আমাদের সফর কর্মসুচি শুরু। খানজাহান আলী (র.) এর দরগা যেতে প্রধান সড়কে মেইন গেটের উল্টো দিকে একটি হোটেলে সকালের নাস্তার জন্য বসলাম। সকাল সকাল একসাথে দশ জন খদ্দের পেয়ে ছোট্ট হোটেল মালিকের মুখে চওড়া হাসি। বড় মাটির চুলায় লাকড়ির ধুমায়িত আগুনে আটা রুটি শেকা শুরু করলেন। মাটির মটকা থেকে লোটা দিয়ে পানি তুলে প্লাস্টিকের মগে ঢালা হলো। আমি মটকার পানি লোটা থেকেই গ্লাসে ঢেলে নিলাম। এক ঢুক পানি গলা দিয়ে নামতে যেন দেহ-মনে শান্তির নহর ছড়ায়। রুটির সাথে ঘন করে রান্না মশারির ডাল। আন্তরিক পরিবেশনা আর এক্কেবাড়ে খাঁটি স্বাদে সত্যিই তৃপ্তির সকাল। দেশের প্রান্তিক মানুষগুলো এখনো নিজেদের কাজে আন্তরিক বলেই আমরা যান্ত্রিকতায় অভ্যস্তরা ক্ষনিকের জন্য তাদের সংস্পর্শেই সুখ পাই। কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার সব শ্রেনী পেশার মানুষের মাঝেই এটা পাওয়া যায়। এই যে আজকের সকালে একজন মানুষ আটা রুটি শেকে খাওয়াচ্ছেন। তার মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। পড়নের লুঙ্গিটা আগোছালো। স্যান্ডো গেঞ্জিটা কাঁধের কাছে ফুটো। অথচ কি নির্মল হাসিমাখা মুখখানা। হাসিমুখে রুটি সেঁকে সেঁকে একটা একটা পাতে তুলে দিচ্ছেন। আমরা তৃপ্তি সহকারে খেলাম। গাড়ির চালকসহ এগারজনের নাস্তা খরচ মাত্র ২০০ টাকা। পাশের দোকানে খেলাম গরুর খাটি দুধের মালাই চা। চা বানানোর কায়দা একটু অন্যরকম। চাপাতা গরম পানিতে কড়াভাবে ফুটিয়ে গরম দুধের সাথে মিক্স করা হলো। তারপর ভালভাবে ফিটে আবার একটা মগে নিয়ে গরম করা হয়। সে বললো, কারন দুধ-চা মিক্স ফিটার সময় কিছুটা ঠান্ডা হয়। ঠান্ডা চা’এ আসল স্বাদ থাকে না। কাপে ঢেলে সাথে কিছুটা মালাই ভাসিয়ে খেতে দিলো। হ্যাঁ আমরা খুশি। বাগেরহাটে সকালটা বেশ ভাল শুরু হয়েছে।

হযরত খানজাহান আলী (র.) এর কথা নতুন করে আর বলার নেই। উপমহাদেশে যে ক’জন আউলিয়া ইসলাম ধর্ম প্রচারে এসেছেন তিনি তাদের মাঝে অন্যতম। আউলিয়ার দরগা জিয়ারত শেষে আমরা গ্রুপ ছবি তুললাম। দরগা পুকুরের ঘাটলায়ও গ্রুপ ছবি তুলা হলো। পুকুরে এখনো কুমির আছে। তবে আমাদের দেখার সৌভাগ্য হয়নি। পুকুরপাড়ে নারকেল বেদিতে তুলা ছবি ফেইসবুকে সর্বাধিক লাইক পরেছে। হতে পারে আমাদের জিয়ারতে মহান সাধকের সন্তুষ্টি এর কারন। এসব কিছু পার্থিব বিষয় শুধুই বিশেষন। আল্লাহ’র বান্দা আউলিয়া গণের কামালিয়াত্ম আরো অনেক উচ্চ মার্গের যা আমাদের মত সাধারণের বোধগম্যের উর্দ্ধে। একটি জনপদে কত শ্রেনী পেশার মানুষ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠি থেকে উচ্চবিত্ত, রাজনীতিক বা উচ্চ শিক্ষিত। তারা কিন্তু কালের গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। যুগের পর যুগ শতাব্দিকাল ধরে আল্লাহর সাধকগণ মানুষের মুক্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে স্মরণীয় বরনীয়।

আমাদের পরের গন্তব্য ষাটগম্বুজ মসজিদ। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রতীক ষাটগম্বুজ মসজিদ। ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত বিশ্ব ঐতিহ্য। মূল ফটকের ডানদিকে বাগেরহাট জাদুঘর। জাদুঘরে দেখার সময় দর্শনার্থীদের একজন নারী বুঝাচ্ছিলেন, ছাদগম্বুজ থেকে ষাটগম্বুজ নামকরণ। জানতে চাই, এর ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা কি? আপনাকে কে এই তথ্য দিয়েছে। তিনি বলতে পারলেন না। প্রত্নতাত্তিক নিদর্শনের মনগড়া ইতিহাস বলা কোনভাবেই ঠিক না। কর্তৃপক্ষের এব্যপারে নজর দেয়া উচিত। প্রবেশমুখের বামদিকে শিশুদের জন্য কিছু রাইড রয়েছে। ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন একইসাথে এটি খানজাহান আলী (র.) এর আধ্যাত্মিক সধানার প্রতীক। এখানে বিনোদনের এই বিষয়গুলো পরিবেশের ভাবগাম্ভির্য ক্ষুন্ন করে। প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনকে তার আদি রুপে সংরক্ষণ করার প্রতি মনযোগী হওয়া প্রয়োজন, সাথে এর পরিবেশ প্রকৃতিও। প্রত্নতত্ত্ব কর্তৃপক্ষ এ বিষয়গুলোতে নজর দিবেন আশা করি। আমরা ষাটগম্বুজ মসজিদের স্থাপত্যশৈলী খুটিয়ে খুটিয়ে দেখেছি। চারদেয়ালের প্রবেশদ্বার, দেয়ালের গঠন, গম্বুজের ভিন্ন ভিন্ন আকার, মিম্বরের কারুকাজ, পশ্চিমদিকের দেয়ালে খিলান, বাহির প্রাচীর, মসজিদের পশ্চিমের দেয়াল পুকুরপাড় কোন কিছুই বাদ দেইনি। মসজিদের সামনে দুইদিকে দুটি রেইনট্রি বৃক্ষ। পেছনে দুটি পাম গাছ। ঠিক জানিনা এগুলোর বয়স কত ? আমরা অনেকক্ষণ ছিলাম। মসজিদে দুইরাকাত নফল নামাজ আদায় করেছি।
আমাদের পরবর্তী গন্তব্য চন্দ্রমহল ইকোপার্ক। ভুলবশত দশানী পার্ক ঘুরা হলো। সেখান থেকে চন্দ্রমহল ইকোপার্কে। স্ত্রীর প্রতি ভালবাসার নিদর্শন চন্দ্রমহল। ঠিক করেছি চন্দ্রমহল নিয়ে আলাদা নিবন্ধ লিখবো। কারন একজন মানুষের ভালবাসার মাহাত্ম বুঝাতে এত স্বল্প পরিসরে কুলোবে না। শুধু এটুকু বলবো বাগেরহাট এলে ক্ষনিকের জন্য হলেও চন্দ্রমহলে ঘুরে যাবেন। মহলের মেঝেতে দাড়িয়ে একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন। আপনার জীবনে এমন কেহ কি ছিলো বা আছে যাকে উৎসর্গ করে একটি মহল বানাতে পারেন। আমার কিন্তু এমন একজন প্রেমিকা রয়েছে। পার্কের মাঝে একজন কুমার মাটির সুভ্যেনিউর তৈরী করেন। ফুলদানি, কলমদানি, হাড়ি, কলস, শরা। যা কিছু নিবেন ৩০ টাকা মূল্য। শিল্পির দাবি ভেষজ গুনসম্বলিত কুমোর মাটি দিয়ে তিনি এসব তৈরী করছেন। আমরা অনেকেই বিশ্বাস করে কমবেশী সুভ্যেনিউর সংগ্রহ করলাম।

বিকেলে মোংলা বন্দর পরিদর্শন করার কথা । সন্ধার পর ফেরার পথে মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেছি। বিকেলে মোংলা বাস স্ট্যান্ডে একটি হোটেলে গলদা চিংড়ি ভোনা দিয়ে ভাত খেয়েছি। ঘাষিয়াখালি চ্যানেল পাড় হয়ে মোংলা পৌরসভা। সেখানে পশুর নদীর বেড়িবাধে হেটে বিকেল কাটালাম। সন্ধায় দেখা করতে আসেন মোংলার সাংবাদিক মোঃ নুরুল আমিন। তিনি সবাইকে মোংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি দুলাল ভাইয়ের অফিসে নিলেন। এর আগে মোংলা প্রেসক্লাব দেখেছি। দুলাল ভাই খুবই আন্তরিক। আতিথিয়েতা করে যেন কোনভাবেই তৃপ্ত হচ্ছিলেন না। বার বার বললেন, রাতে থাকার ব্যবস্থা করি, নিজের বোটে সুন্দরবন ঘুড়াবো। আবার ফিরে আসার আকর্ষন রাখতেই যেন সুন্দরবন ঘুড়ার ইচ্ছা রহিত করলাম। সুন্দরবন আগেও দেখেছি। তাইবলে একটুকুও আকর্ষন কমেনি। প্রকৃতি এমনই। বার বার তার কাছে ফিরে যেতে মন চায়। সুন্দরবন ঘুরে যে কবিতা সাজিয়েছিলাম ‘সোনারং হৃদয়’ গ্রন্থে আছে। একটি পঙক্তি মনে পড়ে গেলো। ‘‘বনের মাঝে পদচিহ্ন এঁকে দিয়েছি, কবিকে এখানেই মানায়, আমাকে পাবে বনের পদচিহ্ন খুঁজে, তোমাদের মাঝে আসবো নকল সাজে।’’ জীবনানন্দের কথাতো আর ফেলতে পারি না। ‘‘সব পাখি ঘরে ফেরে, ফুরায়ে জীবনের সব লেনদেন…’’আমরা পরিকল্পনামাফিক সন্ধা ৭টায় ঘরে ফেরার উদ্দ্যেশে রওনা করি।

শতাব্দী আলম
৩১/১০/২০২০

‘শেখ হাসিনা’ উদ্ধাস্তু থেকে মানবতার জননী

শতাব্দী আলম : ‘এদের (রোহিঙ্গা) দুঃখ-দুর্দশা আমি গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করার পর আমার ছোট বোনকে নিয়ে ছয় বছর উদ্ধাস্তু জীবন কাটিয়েছি।’ জাতিসংঘের ৭২তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেছেন। শেখ হাসিনার পক্ষেই এমন অবলিলায় নিজের জীবনের দুঃসময়ের কথা বলা সম্ভব। আজ ২৮ সেপ্টেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিন। বিশ্ব যখন শরণার্থী সমস্যায় হাবুডাবু খাচ্ছে তখন একজন সরকার প্রধান হিসাবে নিজের উদ্ধাস্তু জীবনের কথা স্মরণ করে মানবিক মূল্যবোধকে সম্মাণিত করেছেন। উদ্ধাস্তু বা শরণার্থী মানে একজন মানুষের জীবনের সব শেষ নয়। উদ্ধাস্তু জীবন থেকে সাহস ও শক্তি সঞ্চয় করে আবার ঘুরে দাড়ানো সম্ভব। বিশ্বের সর্বোচ্চ ফোরামে দাড়িয়ে সে কথাই বিশ্ব বিবেককে স্মরণ করিয়ে দিলেন। বিশ্বের লাখ লাখ উদ্ধাস্তু শরণার্থী শিশুর মাঝেই লুকিয়ে আছে নতুন কোন শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালিও ভারতে উদ্ধাস্তু বা শরণার্থী হিসাবে আশ্রয় পেয়েছিল। রোহিঙ্গা উদ্ধাস্তুদের আশ্রয় দিয়ে বাঙালি তার জাতীয় মানবিক ঋণ লাঘব করেছে। বিশ্ব দরবারে একজন সত্যিকারের মানবতার জননী হিসাবে শেখ হাসিনার অবদান দিন দিন উজ্জল্য ছাড়াচ্ছে। শুভজন্মদিনে সৃষ্টিকর্তার কাছে কায়মন বাক্যে প্রার্থনা করছি তিনি যেন দ্রুত সুস্থতা লাভ করেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বারবার আমরা শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা সময়োপযোগী নেতৃত্বের প্রতিফলন প্রত্যক্ষ করেছি। কোন দ্বিধাদ্বন্দে না ভোগেই শরণার্থীদেয় আশ্রয় ও সহযোগীতার হাত বাড়ানো এর সর্বশেষ উদাহরণ। প্রতিবেশী ভারত সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। যেমন গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বললেন, ‘রোহিঙ্গারা হচ্ছে অনুপ্রবেশকারী।’ অনুপ্রবেশকারী, উদ্ধাস্তু বা শরণার্থী যে নামেই ডাকা হোক না কেন! আশ্রয় পাওয়া ওইসব মানুষের অধিকার। ১৯৭১’এর বাঙালি উদ্ধাস্তু আর ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা উদ্ধাস্তুদের মধ্যে কোন তফাৎ নেই। বাঙালি পল্লিকবি জসিমউদ্দিনের ‘দগ্ধ গ্রাম’ কবিতার একটি পঙতিতে ১৯৭১ এর বাস্তব চিত্র যেমন জ্বজল্যমান রয়েছে তেমনি ২০১৭ সালের রাখাইন রাজ্যের নারকীয় ধ্বংশযজ্ঞের চিত্রও ফুটে উঠেছে। ‘‘কিসে কি হইল, পশ্চিম হতে নরঘাতকেরা আসি, সারা গাঁও ভরে আগুন জ্বালায়ে হাসিল অট্টহাসি, মুহুর্তে সব শেষ হয়ে গেল ভষ্মাবশেষ গ্রাম, দাড়ায়ে রয়েছে দগ্ধ দুটি আধ পোড়া খাম।’’ পশ্চিম পাকিস্তানের দূর্বৃত্ত্ব শাসকের লালায়িত সেনাবাহিনীর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুটপাট থেকে রক্ষা পেতে বাঙালি উদ্ধাস্ত হয়েছে। ঠিক একইভাবে মায়ানমার সেনাবাহিনী দ্বারা রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট, ধর্ষণ চলছে। গ্রামের পর গ্রাম আগুনে ভষ্মিভুত। বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ নচেৎ নৃশংস হত্যার শিকার। বাধ্য হয়েই হিন্দু- মুসলিম- খ্রীস্টান ওইসব রোহিঙ্গা মানুষ উদ্ধাস্তু হয়েছে। তাঁরা কোনভাবেই অনুপবেশকারী হতে পারে না। ভারত সরকার ১৯৭১ সালে বাঙালি উদ্ধাস্তুদের আশ্রয় দিয়েছিল। সেজন্য বাঙালি হিসাবে আমরা অবশ্যই তাদের কাছে ঋণী এবং চিরকৃতজ্ঞ। কিন্তু সেখানে তাদের ঐতিহাসিক স্বার্থ জড়িত ছিল। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদেও ঘিওে বাংলাদেশের কোন স্বার্থ নেই। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় কেবলই মানবিক দায়বদ্ধতা। শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে দাড়িয়ে সে কথাই বলেছেন।
লেখার শিরোনাম ‘উদ্ধাস্তু থেকে মানবতার জননী’ শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবন এবং সাফল্যের ইঙ্গিত বহন করে। শেখ হাসিনা কেবল তাঁর উদ্ধাস্তু জীবনের কথা বলেছেন। কিন্তু বাঙালি মাত্রই জানেন বঙ্গবন্ধু কণ্যার বাল্যকাল, কৈশর, যৌবন থেকে রাজনৈতিক জীবনও নানান চড়াই-উৎড়াই সংগ্রামের মাঝে যাচ্ছে। প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি অত্যন্ত সততা, দৃঢ়তা এবং সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করেছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যাও তিনি দৃঢ়তা এবং সাফল্যের সাথে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। রোহিঙ্গারা যদি কোনদিন তাদের অধিকার ফিরে পায় সেজন্য শেখ হাসিনার অবদানই সব থেকে বেশী স্মরণ করা হবে। এই মানুষটি শিশু কিশোর বেলায় বিপ্লবী পিতার সংসর্গ আদর স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। পিতা বঙ্গবন্ধু জীবনের ১৮টি বছর কাটিয়েছেন কারাগারে। মুক্তজীবনে বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষের অধিকারের প্রশ্নে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই খুব বেশী সময় পরিবারের সংস্পর্শে থাকার সুযোগ পাননি। তিনি যৌবনে পিতা মাতাসহ পরিবারের সব সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হতে দেখলেন। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট হত্যা চেষ্টা ছিল ভয়াবহতম। এত কঠিন জীবন সংগ্রামের শিড়ি মাড়িয়ে টিকে থাকা এবং নিজ জাতির নেতা হওয়া মহান আল্লাহপাকে নেক রহমতেই সম্ভব। ২০০৭ সালে শেরেবাংলা নগরের সাব জেলে বসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের ভুমিকা লিখতে গিয়ে ব্যক্তি শেখ হাসিনার আবেগের কিছুটা প্রতিফলিত হয়েছে। ‘‘ছোট বোন শেখ রেহানাকে ডাকলাম। দুই বোন চোখের পানিতে ভাসলাম। হাত দিয়ে ছুঁয়ে ছুঁয়ে পিতার স্পর্শ অনুভব করলাম। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি; তারপরই এই প্রাপ্তি। মনে হল যেন পিতার আশীর্বাদের পরশ পাচ্ছি। আমার যে এখনও দেশের মানুষের জন্য- সেই মানুষ, যারা আমার পিতার ভাষায় ‘দুঃখী মানুষ’, – সেই দুঃখী মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ বাকি, তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার কাজ বাকি, সেই বার্তাই যেন আমাকে পৌছে দিচ্ছেন। যখন খাতাগুলোর পাতা উল্টাছিলাম আর হাতের লেখাগুলো ছুঁয়ে যাচ্ছিলাম আমার কেবলই মনে হচ্ছিল আব্বা আমাকে যেন বলছেন, ভয় নেই মা, আমি আছি, তুই এগিয়ে যা, সাহস রাখ। আমার মনে হচ্ছিল, আল্লাহর তরফ থেকে ঐশ্বরিক অভয় বাণী এসে পৌঁছাল আমার কাছে। এত দুঃখ-কষ্ট-বেদনার মাঝে যেন আলোর দিশা পেলাম।’’ আজকে যখন সদ্য প্রসূত রোহিঙ্গা শিশুর নাম রাখা হয় ‘শেখ হাসিনা’। তখন বলতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি সত্যিই শান্তির দূত যিনি পিতার আর্শীবাদে মানবিকতার মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। একজন সত্যিকারের ‘মানবতার জননী’
সেপ্টেম্বর এলেই বিশ্বে ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার’ দেওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কারন ৬ অক্টোবর শুক্রবার সকাল এগারটায় নরওয়ের নোবেল কমিটি সে বছরের শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে। আশান্ত পৃথিবীতে যে কোন শান্তি পুরস্কারেরই আবেদন অনেক বেশী। মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিই হচ্ছে শান্তিতে থাকা। সুখে থাকা। বিশ্বের এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনা অবদান রেখেছেন। ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদি মাওবাদি নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করে হাসিনা সরকার। মাওবাদিদের সাথে ভারতের বিজেপি সরকার আলোচনা শুরু করে। বর্তমানে মাওবাদিরা রাজনীতির মুলধারায় ফিরে আসছে। যা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার সহায়ক। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উপজাতি অধ্যুসিত পার্বত্য চট্রগ্রামে বিচ্ছিন্ন সংহিসতা লেগেই থাকত। শেখ হাসিনা সরকার ‘পার্বত্য শান্তি চুক্তি’র মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধান করেন। বর্তমানে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীন রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদি গোষ্ঠিারা চিরতরে বিদায় হয়েছে। বিশ্বে জঙ্গি ও সন্ত্রসবাদী একটি প্রকট সমস্যা। মধ্যপ্রাচ্যে আইএস বা আলকায়েদা, মায়ানমারের মগ-উগ্র রাখাইন বৌদ্ধ, ভারতের উগ্র হিন্দুত্যবাদী, ইসরাইলের ইহুদীবাদি গোষ্ঠি, ইউরোপ-আমেরিকায় সাদা-কালো মানুষের ভেদাভেদসহ কোথায় নেই সন্ত্রাসবাদ। বিগত বছর গুলোতে বাংলাদেশের ভূখন্ডেও এমন কয়েকটি সন্ত্রাসবাদের ঘটনা মাথা চাড়া দিয়েছে। সাম্প্রতিক অতিতে বাংলাভাইয়ের নেতৃত্বে জেএমবির আর্বিভাব হয়েছে। সব জঙ্গি সংগঠন এবং জঙ্গি দলের সদস্যদের কঠোরভাবে দমন করতে সমর্থ হয়েছে শেখ হাসিনা সরকার। গোয়েন্দা তৎপড়তার মাধ্যমে চিন্থিত করে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে জঙ্গি আস্তানা। সবশেষে এসেছে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা। শেখ হাসিনা প্রথম দিন থেকেই রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় এবং নিজ দেশে পূর্ণবাসনের লক্ষ্যে আত্ম নিবেদিত হয়েছেন। নিজের উদ্ধাস্তু জীবনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রোহিঙ্গাদের সহমর্মী-সহযাত্রী। জার্মান চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলও ইউরোপে নিজ দেশে শরণার্থী আশ্রয় দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। কিন্তু প্রিয় পাঠক বাংলাদেশ এবং জার্মানির আর্থ সামাজিক অবস্থা এক নয়। সীমিত ভুখন্ড এবং দেশে খাদ্য সংকট থাকা সত্বেও বাংলাদেশ সরকার শরণার্থীদের আশ্রয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। দল-মত নির্বিশেষ সর্বস্তরের মানুষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা করছে। ইতমধ্যেই জাতিসংঘের অধিবেশনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা অত্যন্ত সফলভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের প্রশংসা করেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য সম্মানের এবং শেখ হাসিনার জন্য গর্বের। এবার নোবেল শান্তি পুরস্কার যে কেহই পেতে পারে। তবে বিশ্বের বিবেকবান মানুষের হৃদয়ে নবজাতক ‘রোহিঙ্গা শেখ হাসিনা’ শান্তির প্রতীক হিসাবে বেঁচে থাকবে।

লেখক ঃ সাংবাদিক ও কলাম লেখক