×

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মুক্তি দিন

মোহাম্মদ আলম : মানবতার জননী শেখ হাসিনা আপনার কাছে আবেদন রোজিনা ইসলামকে মুক্তির ব্যবস্থা করুন। ওইসব আমলাগণ দূর্ণীতি পরায়ন । দূর্ণীতি করতে করতে তাদের লোভ লালসা এতটা বেড়েছে যে এখন সরকার যন্ত্রটাই খেতে চায়। নিজেদের অপরাধ লোকাতে গণমাধ্যমকর্মীদের অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকারের মুখোমুখি দাড় করাচ্ছে। আপনি কি দেখছেন না একের পর এক আমলার দূর্ণীতির কারনে আপনার অনেক ভাল অর্জন ম্লান হচ্ছে। সাংবাদিক রোজিনাকে মুক্ত রেখে ওইসব দূর্নীতিবিদ আমলাকে কারাগারে দিলে দেশ সত্যিকার এগিয়ে যাবে।

নথি চুরির যে কারনে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা যে সাজানো তা খুব সহজেই বুঝা যায়। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়েও তিনি যেভাবে আমলাদের সাফাই গেয়েছেন তা অনভিপ্রেত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনার সরকারের গতিশীল ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছেন। তিনি বির্তক সৃষ্টি করছেন। নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা লুকাতে সাংবাদিকদের সরকারের মুখোমুখি দাড় করিয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন জেবুন্নেসার হাতে স্বাস্থ্য নামে আলাদিনের চেরাগ। যেখানে ঘষাও লাগে না কলমের খোঁচা দিলেই ধন সম্পদের নহর বয়। কই আপনার ত্যাগী নেতারা যাদের দিন রাত পরিশ্রমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তারাতো সম্পদের পাহাড় গড়তে পারেনি। আর আপনার সরকারে অধিকাংশ মন্ত্রীও বেশ সুনামের সাথেই জনসেবা করে আসছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রলায়ের দূর্ণীতি এমন পর্যায়ে পৌছেছে। আপনার হস্তক্ষেপ জরুরী।
হে বঙ্গবন্ধু কণ্যা যাদের কারনে সাংবাদিকরা রাজপথে নামার সুযোগ পায় তারা আপনার সরকারের শুভাকাঙ্খি না। সাংবাদিকরাই আপনার এবং আপনার সরকারের শুভাকাঙ্খি। রোজিনা ইসলাম বা যারাই ওইসব আমলাদের দূর্ণীতির খবর অনুসন্ধান করে বের করে। তারাতো তাদের কাজটাই করে থাকে। আমাদের কাজটাই করতে দিন।

আবারো আবেদন হে মানবতার জননী রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিন। সাবেক একজন স্বাস্থ্য সচিবের বিরুদ্ধে এই রোজিনা ইসলামই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মুখোশ উন্মোচন করেছেন। তা কিন্তু সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোজিনা ইসলাম বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিকতা করে। সরকারের ভিতরে নিভৃতে বেড়ে উঠা আমলারুপি হায়েনাদের বিরুদ্ধে। সরকার যত স্বাস্থ্যবান হচ্ছে ওইসব হায়েনারা ততই খুবলে নিচ্ছে। রোজিনারা তাদের স্বরুপ উন্মোচন করে। এটা কোনভাবেই সরকার বিরোধী কাজ হতে পারে না। আজ রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার মানে গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তার। আমরা সাংবাদিক সমাজ আজ কারারুদ্ধ।

হে মানবতার জননী আপনি একজন সাংবাদিক বান্ধব হিসাবে আমাদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার। আপনিইতো এই করোনাকালের ঈদে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিলেন। সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আপনিই আমাদের শেষ ভরসাস্থল। আপনাকে বলছি। গণমাধ্যমকে যারা সরকারের মুখোমুখি দাড় করাচ্ছে তাদের ক্ষান্ত করুন। গণমাধ্যমকে নয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মুক্তি দিন।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

শ্রদ্ধাঞ্জলি, আদর্শের বাতিঘর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার

মোহাম্মদ আলম : ইতিহাসের বিয়োগান্তক সাক্ষি হিসাবে গাজীপুরের সর্বস্তরের মানুষ ৭ মে পালন করে আসছে। ২০০৪ সালের ৭ মে ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার ঘাতকের বুলেটের আঘাতে শহীদ হন। আজ গাজীপুরের মানুষ দুয়া ও স্মরণ সভার মাধ্যমে তাদের প্রিয় নেতার ১৭তম শহাদত বার্ষিকী পালন করছে।

মানুষ তার সৎ কর্ম ও মানবিক আদর্শের মাধ্যমে চিরকাল বেঁচে থাকে। শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার মানুষের মাঝে বেঁচে আছেন। মুক্তিযুদ্ধের দেশপ্রেমিক বীর সেনানী, একজন আদর্শ শিক্ষক, কর্মদক্ষ শ্রমিক নেতা, জনহিতৈসী রাজনীতিবিদ, সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজ সংস্কারক, একজন সৎ ও দক্ষ জনপ্রতিনিধি হিসাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সফলতার সাক্ষর রেখে গেছেন। প্রতিটি পদক্ষেপে তার আদর্শ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসাবে সমাদৃত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের বাতিঘর শহিদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার। প্রয়ান দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার গাজীপুর মহানগরের হায়দারাবাদ পৈত্রিক নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, তাঁতিলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় নেতার সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এই মহান নেতার কর্ম ও জীবন নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্কুল কলেজ স্মরণসভার আয়োজন করে । মহানগরের মসজিদ ও মাদ্রাসায় বিশেষ দুয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

যুব ও ক্রিড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল এমপি পিতার আদর্শ উত্তরসুরী। যিনি পিতার আদর্শকে গাজীপুরের সীমানা ছাড়িয়ে দেশব্যাপি বিস্তৃত করেছেন।

মাতৃভাষা পরিবারের পক্ষ থেকে এই মহান নেতার প্রতি বিনম্রশ্রদ্ধাঞ্জলি।
০৭/০৫/২০২১

মহান মে’ দিবস- শ্রমিকের সন্তান অনাথ নয়, মাতৃস্নেহ তার অধিকার

মোহাম্মদ আলম : কাকলি আক্তার নামের দুধের শিশু মেয়েটি শেরপুরের নকলা থানার বাইন্নাপাড়া গ্রামে নানা-নানির কাছে থাকে। কাকলির মা অজুফা গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। বাবা গাজীপুরেই পিকআপ ভ্যান চালক। মাত্র দেড় বছর বয়স থেকেই শিশুটি মা বাবা ছাড়া। বর্তমানে কাকলির বয়স আড়াই। বাবা মা থেকেও নেই। অনাথ শিশুর মতই বাল্যকাল কাটছে শিশু কাকলীর। এই বয়সের শিশুর প্রধান খাদ্য মায়ের বুকের দুধ। নিয়তির পরিহাস ও দারিদ্রের অভিশাপ কাকলীকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করেছে। সন্তানের কথা জানতে চাওয়ায় স্নেহময়ী মা’র কন্ঠ ধরে আসে। মমতাময়ী মা চোখ মুছ্তে মুছ্তে অস্ফুট স্বরে জানায়, তিন মাস কখনো কখনো আরও দীর্ঘ সময় পর মেয়েকে দেখতে গ্রামে যায়।

অজুফা’র মুখ থেকে তার শিশু কন্যার করুন কাহিনি শুনে আমাকে এমন নিষ্ঠুর ‘অনাথ’ শব্দকথা লিখতে হলো। মহান মে দিবসে শ্রমিকের হাড়ির খোঁজ খবর নিতে গিয়ে কাকলির মত এমন অসংখ্য শিশুর খুঁজ পেলাম যারা জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই পিতা-মাতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তাহলে কেনইবা পিতা মাতা থাকতেও একটি শিশুকে অনাথ বলব।

যে বয়সে শিশুর প্রধান খাদ্য মায়ের বুকের দুধ। মা-বাবার আদর স্নেহে গড়ে উঠবে শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ। পোশাক কারখানার অসংখ্য নারি শ্রমিকের দুধের শিশু সেই বয়সে মা-বাবার স্নেহ-মমতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কি লিখব ওই সব শিশুর করুন জীবন নিয়ে। অজুফা’র ভারাক্রান্ত মুখ থেকে তার সন্তান দুরে থাকার কাহিনি শুনে নিজের আবেগ দমাতে স্তব্ধ ছিলাম। যখন লিখছি তখনো ওইসব শিশুর করুন মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠে। শিশুর অনুসন্ধিৎসু বিবেক মানবতার কাছে প্রশ্ন করে কি অপরাধে সে অনাথ জীবন-যাপন করছে।

সে যেন এই বলে ধিক্কার দেয় ‘‘তুমাদের লেখায় তুমাদের ‘মে দিবস’ আমাদের ভাগ্যে কোনই পরিবর্তন আনতে পারেনি। আমরা অনাথ হয়ে জন্মেছি।’’

সৃষ্ঠিকর্তা পৃথিবীর কোন কিছুকেই অবিনশ্বরতা দেননি। মহামহিম সৃষ্টিকর্তা নিজেও মানব জাতির সঠিক জীবন বিধানের জন্য কালে কালে নবী রাসুল(সাঃ)’র মাধ্যমে ধর্মের আধুনিকিকরন করেছেন। আল্লাহ্’র প্রেরিত সকল ধর্মমতই মানবজাতির জন্য সুন্দর জীবন বিধানের পথ দেখিয়েছে। মহানবী(সাঃ) এর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবশেষ ধর্ম ‘ইসলাম’ মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ জীবন বিধান।

মহান আল্লাহ পাক কুরআনে শ্রমিকদের বিষয়ে এরশাদ করিয়াছেণ,‘‘নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে হযরত মুসা(আঃ) সর্বহারা অবস্থায় হযরত শোয়েব (আঃ)’র নিকট চাকুরি নিয়া ভেড়া, ছাগল চড়ানো ও গৃহস্থালির কাজে নিযুক্ত হইয়াছিলেন। পাক কুরআনে আছে, হযরত শোয়েব(আঃ) হযরত মুসা(আঃ) কে বলিলেন,‘ আমি তোমার উপর কষ্টের বোঝা চাপাইয়া দিতে চাই না। আল্লাহর মর্জিতে তুমি আমাকে সজ্জনদের মধ্যে পাইবে।’’ হযরত শোয়েব(আঃ) যা খাইতেন পরিতেন, হযরত মুসা(আঃ) কে তাই খাইতে, পরিতে দিতেন। এমনকি নিজের মেয়েকে পর্যন্ত বিবাহ দিয়েছিলেন। মুসা(আঃ) এত সৎ ছিলেন যে মালিক তার মেয়েকে বিবাহ দিতে কুণ্ঠিত হইলেন না। এখানে হযরত শোয়েব(আঃ) আদর্শ মালিক ও হযরত মুসা(আঃ) আদর্শ শ্রমিক।

আল্লাহ্র রাসূল হযরত মুহম্মদ(সাঃ) অধিনস্ত শ্রমিক সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘এরা তোমাদের ভাই, তোমাদের খেদমত করিতেছে। আল্লাহ ইহাদের তোমাদের অধীন করিয়া দিয়েছেন। যার যে ভাই তাহার অধীনে আছে, যাহা সে নিজে খায়, তাহা খাইতে দিবে, যাহা সে নিজে পরে তাহাই পরতে দিবে। যে কাজ নিজের জন্য কষ্টকর, মনে কর, সেই কাজের বোঝা তাহার উপর চাপাইয়া দিওনা। অগত্যা যদি সেই কাজ করিতেই হয়, তবে নিজে তাহাকে সাহায্য কর।’’ আল্লাহর রাসূল(সাঃ) তাঁহার অধিনস্ত শ্রমিক হযরত জায়েদ(রাঃ) কে নিজের ছেলে বলিতেন এবং একটি জেহাদের সেনাপতি করেছিলেন। হযরত বেলাল(রাঃ) মর্যাদা এমনই যে কিয়ামত পর্যন্ত তিনি সকল মুয়াজ্জিনের নেতা ও চোখের মনি। হযরত সুলায়মান(রাঃ) পরবির্ত জীবনে মদায়েনের গভর্ণর হইয়া ছিলেন।

শিশু সন্তানের লালন পালন ও ভরণ পোষণ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ কুরাআন পাকে এরশাদ করিয়াছেন, ‘‘বল হে প্রভু তাহাদের প্রতি দয়া কর, কেননা আমি যখন শিশু ছিলাম তাহারা আমাকে লালন পালন করিয়াছে।’’ ১৭ঃ২৩। আল্লাহপাক শিশুর লালন পালনের ভার মাতা পিতার উপর দিয়েছেন। আল্লাহ্ পাক এক আয়াতে এরশাদ করেছেন, ‘‘জননীগণ দুই বৎসর কাল পর্যন্ত তাদের সন্তানকে স্তন্য দান করিবেন।’’ সন্তানের ভরণ পোষণ, পোষাক পরিচ্ছদ, ইসলামী শিক্ষার ব্যবস্থা পিতাই বহন করিবেন। তাহলে আল্লাহ পাক প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম গ্রন্থ পাক কুরআনে ও তাঁর রাসূলের(সাঃ) এর জীবন বিধানে শ্রমিক, মালিক সর্ম্পক ও সন্তান সন্ততির উপর পিতা মাতার দায়িত্ব কর্তব্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে। যা মানবতার শ্রেষ্ঠ মাপকাঠি। শ্রমিকের সন্তান অনাথ হিসাবে কেন বেড়ে উঠবে। মাতৃস্নেহ ও পিতার ভরণ পোষণ তার অধিকার।

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্টের শিকাগো শহরের শ্রমিকরা যুক্তিযুক্ত শ্রমঘন্টা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগকে স্মরণ রাখতে প্রতিবছর ১ মে আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হয়। প্রতিবছর আমরা এই দিনে জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি যে আমাদের দেশের শ্রমিকরা মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। ন্যায্য মুজরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বা মানুষের মত সদাচরণ পাওয়া নিয়ে বছরের পর বছর ঢোল পিটিয়ে তা বলেও যাচ্ছি। গত কয়েক বছরে এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সাফল্য এসেছে। অপরদিকে পারিবারিক বন্ধণ ছিন্ন হয়ে শিশুরা অনাথের মত বড় হচ্ছে সেদিকে কারোর খেয়াল নেই। সরকার, মালিক, শ্রমিক সকলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধির জন্য পরিশ্রম করেন। আমিও লিখছি বর্তমান বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করার জন্য। কিন্তু শ্রমিকের সন্তান দেশের একটি প্রজন্ম কিভাবে বেড়ে উঠছে তা দেখার কেউ নেই। ভারতে এই ধরনের কর্মজীবি মা বাবার শিশুদেরকে সারাদিন স্কুলে রাখার ব্যবস্থা আছে। শিশুদের দুপুরের খাবারও স্কুলে দেওয়া হয়। মা বাবা কাজে যাওয়ার সময় সন্তানকে স্কুলে রেখে যায় আবার কাজ থেকে ফেরার সময় নিয়ে যায়।

গাজীপুরে সরকারি হিসাবে ১৮৫৭টি পোশাক কারখানা আছে। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই স্বামী স্ত্রী একসাথে কাজ করে। অজুফার মতই ময়মনসিংহের আকলিমা, নেত্রকোনার নাছিমাসহ অসংখ্য মায়ের দুধশিশু মা’থেকে দুরে গ্রামের বড়িতে আত্মীয় স্বজনের কাছে থাকে। আমি গত দুই বছরে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ঘুরে শ্রমিক, মালিক, শ্রমিক সংগঠনের সাথে জড়িত নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছি। সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন শ্রমিকের সন্তান যেভাবে মাতা পিতার সান্নিধ্য ছাড়া বেড়ে উঠছে তা অমানবিক। শ্রমিকের লাখ লাখ শিশু সন্তান তার মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে অনাথের মত বেড়ে উঠছে এর কি প্রতিকার। মাতা পিতার মায়া মমতায় বেড়ে না উঠার কারনে ওই শিশুরা মানসিক ভাবে নিষ্ঠুর প্রকৃতির হবে। ইতিমধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি নাশকতা ও সহিংসতার কাজে সমাজের কিশোর বয়সী ছেলেরা জড়িয়ে পরেছে। এব্যপারে সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই কতজন শ্রমিকের সন্তান মা বাবা ছেড়ে দুরের কোন আত্মীয়ের কাছে আছে। তবে কয়েকটি কারখানার মালিক শ্রমিকের জীবন বৃত্তান্ত পর্যালোচনা করে এর একটি আনুমানিক ধারনা দিয়েছেন। এতে দেখা যাচ্ছে কারখানার যেসব শ্রমিকের সন্তান আছে তাদের প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ শ্রমিকের শিশু সন্তান পিতা মাতাকে ছেড়ে গ্রামে থাকে। অধিকাংশ শিশুরা বৃদ্ধ নানা-নানি, দাদা-দাদির কাছে থাকে।

হৃদয়বিদারক হচ্ছে এক, দেড় বছরের দুধের শিশুও মা বাবাকে ছেড়ে থাকে। বিষয়টি ভেবে কারখানা মালিকরাও মর্মাহত। কোন কোন কারখানা, শিশুর জন্য ডে কেয়ার সেন্টার করে দিয়েছে। কিন্তু ডে কেয়ার সেন্টারে শুধুমাত্র হামাগুড়ি দেওয়া শিশুরাই থাকতে পারে। তারপরও সন্তান আছে এমন শতভাগ শ্রমিকের চাইল্ড ডে কেয়ার সুবিধা নেই। শিশু হাটতে শুরু করলেই অন্যত্র রাখতে হয়। বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা সন্তানকে গ্রামের বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেয়। কারখানা মালিকই বা কি করবে। আমি দেখেছি ১২’শ শ্রমিক আছে এমন একটি করখানায় প্রায় ৫৪০জন শ্রমিকের সন্তান আছে। তাহলে কারখানা কতৃপক্ষ কেয়ার সেন্টার করে কিভাবে এত শিশুর দায়িত্ব নেবে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি কারখানার কাছাকাছি শ্রমিকের আবাসিক ব্যবস্থা হলে এসমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। সেইসাথে কারখানার আশপাশেই ভারতের মতো ডে কেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিশুদের শিক্ষা গ্রহন নিশ্চিত করাও জরুরী।

আমাদের দেশেও সরকার শ্রমিকের আবাসিক ব্যবস্থা করার ব্যপারে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। কিন্তু তার কোন পদক্ষেপ এখনো আলোর মুখ দেখেনি। শ্রমিকের মৌলিক মানবাধিকার নিয়ে আমরা গলাবাজি করি। অর্থনৈতিক মুক্তির পেছনে ছুটে শিশুর মানবিক অবক্ষয় হোক এটা কোন ভাবেই মানা যায় না। শ্রমিক কিভাবে পারিবারিক বন্ধনে সন্তানকে বড় করবে তা নিয়েও ভাবা দরকার। মাতৃস্নেহ ও পিতার ভরণ পোষণের মত শিশুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অটোতে চলতি পথ অচল

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী ব্রীজ থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত যাতায়াতে ভয়ংকর পরিস্থিতি। চলছে সীমিত লকডাউন। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ। সিটি বাসও কম। অফিসগামী মানুষের চরম ভোগান্তি। ব্যাটারি চালিত অটোর দখলে মহাসড়ক। মানুষ নিরুপায় হয়েই অটোতে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। অটোতে জনসাধারণের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি। একদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি। অন্যদিকে ধুলাবালি। ধুলাবালিতে চারদিক অন্ধকার থাকে। ধুলাবালিতে ডুবে হুড খোলা অটো রিক্সায় পথচারিরা ঝুঁকিতে চলাচলে বাধ্য হচ্ছেন।

জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় সরকার এক সপ্তাহের সাধারণ ছুটির মাধ্যমে সর্বাত্মক লকডাউন দিতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। তবে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। তাছাড়া ঔষধ ও খাদ্য পণ্যসহ জরুরী সেবা চালু রাখা হবে। এই সংবাদে মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে। এখনো বাংলাদেশের মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব আছে। নচেৎ স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে লকডাউন ভঙ্গ করে এভাবে ছুটাছুটি করতো না।

আজ বিকালে ফিলিপাইনে প্রবাসী এক বন্ধুর সাথে কথা হলো। তার ভাষ্য, ফিলিপাইনের মানুষ অনেক বেশী স্বাস্থ্য সচেতন। লকডাউন ঘোষণার সাথে সাথে সেখানকার মানুষ নিজ নিজ অবস্থানে থিতু হয়েছে। কেউ এভাবে শহর থেকে গ্রাম বা অন্যদিকে ছুটাছুটি করেনি। তারপরও ফিলিপাইনে প্রতিদিন করোনা ভাইরাসে নতুন সনাক্ত হার দশ হাজারের উপর। সেখানে বাংলাদেশে যেভাবে মানুষ অসেচতন। দল বেঁধে ভ্রমণ করে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি ভয়ংকর হতে বাধ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক পরিস্থিতি নিয়ে বার বার সর্তক করছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বার বার বলছেন। প্রজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ শুনেও মানে না। বুঝেও আমলে নেয় না। এ যেন স্বেচ্ছা মৃত্যুর মিছিলে নাম লেখানোর হিড়িক।

মহাসড়কে অটোর অত্যাচার নিয়ে শুরু করেছি। অটোর ভাড়া নিয়েও কিছু বলা দরকার। টঙ্গী কলেজ গেট থেকে টঙ্গী বাজার স্বাভাবিক ভাড়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সেখানে তিন গুণ বা আরো বেশী নেয়া হয়। এব্যপারে প্রশাসনের নজর দেয়া জরুরি।

মোহাম্মদ আলম
১২/০৪/২০২১

মানব ইতিহাসে করোনা মাহামারির সাক্ষি হলাম

মোহাম্মদ আলম : মৃত্যু সংবাদে ঘুম ভেঙেছে। গাজীপুরে সাংবাদিক রোমান শাহ আলমের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই সম্মুখ সারির করোনাযোদ্ধা। একদিন আগে মারা গেছেন নাজমা খালা। তিনিও করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ছিলেন। করোনা মহামারি বিশ^কে টালমাটাল করেছে। মানুষ অন্য অনেক কিছুর মত করোনা নিয়েও হেলা-ফেলায় মেতেছিলো। করোনা ভাইরাস সাক্ষাত যমদু হয়ে হেলাফেলার প্রতিশোধ নিচ্ছে।

গত আগষ্ট মাসের ১৮ তারিখে আমি করোনা আক্রান্ত হই। তখন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। প্রথমে হালকা জ্বর জ্বর ভাব ও ক্ষুধামন্দা। ধীরে ধীরে জ্বর তীব্র হতে থাকে। টাকা ১৫ দিন জ্বরে ভুগেছি। পুরোপুরি সুস্থ বলতে পারবো না। এখনো শরীরে ক্লান্তি ভর করে। তবে চেষ্টা করছি স্বাভাবিক হতে। আমি নিজেও করোনার ভয়াবহতার সাক্ষি। এটা যে কতোটা যন্ত্রণাদায়ক। একমাত্র ভুক্তভোগিই জানে।

জীবন থেমে থাকে না। আমরাও এগিয়ে চলেছি। আজ হতে শত বছর বা আরো পরে মানব জাতি এই করোনা মহামারি নিয়ে কতো গবেষনাই না করবে। আমরা আতংকে আছি। আমরা আক্রান্ত হয়েছি। তবে থমকে যাইনি। আমরাও নিত্য বাজারে যাই। কাজকর্ম করি। বেড়াতেও গিয়েছিলাম। করোনা মহামারি মানব ইতিহাসে হয়ত ক্ষত সৃষ্টি করবে। তবে চুড়ান্ত বিজয়ী হিসাবে মানুষেরই অস্তিত্ত্ব টিকে থাকবে। ওই শত বছর পরে আপনারা আমাদের জ¦জল্যমান সাক্ষি হিসাবে এই লেখা পরবেন।

জীবন বেশ স্বাচ্ছন্দেই কেটেছে। দুই সপ্তাহ পর আজ ৯ এপ্রিল ২ হাজার ২১ টঙ্গী সফিউদ্দিন বাজারে গিয়েছি। গলির ভ্যান থেকেই কাঁচা সবজি খরিদ করতে। আর মুদিতো আছেই। তবে মাছ মাংসের জন্য বাজারে যেতেই হয়। চেষ্টা করি বাজারে কম যেতে। আগে সপ্তাহে একবার যেতাম। এখন ১৫ দিনে যাচ্ছি। করোনাকালের বাজারও যেন হাফিয়ে উঠেছে। মাছ মাংস সব কিছুর দাম চড়া। রুই মাছ কিনেছি ২৬০ টাকা কেজি দরে। নদীর বেলে মাছ নিলাম আধা কেজি ৩৫০ টাকা। গুদা চাপিলা ২৫০ গ্রাম ৫০ টাকা। পাকিস্তানি কক জাতের মুরগি কিনলাম দুটা ২৮০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৬০০ টাকা কেজি দরে দেড় কেজি। তিতা পাট শাক দুই মুটা ২৫ টাকা। টমেটো এক কেজি ২৫ টাকা। পোলাও চাল এক কেজি ১০০ টাকা। আড়াইশ গ্রাম কাঁচা মরিচ, আধা কেজি লম্বা বেগুন, দশ টাকার ধনিয়া পাতা, আধা কেজি গাজর, আধা কেজি শশাও নিলাম। এক ফানায় ১৪টা বেশ পুষ্ট শবরি কলা নিয়েছি।

বাজার নিয়ে রিক্সায় ফেরার পথে প্রতিবেশী মমিনউল্লাহ ভাই ডাকলেন। টঙ্গী আউচপাড়ায় কলেজ রোডে তার বাড়ির সিড়ির নীচে একটা চা দোকান আছে। পরে বাজার বাসায় পৌছে তার সাথে চায়ের আড্ডা দিলাম। মমিনউল্লাহ ভাই ব্যবসায়ী। টঙ্গী বিসিকে তার কারখানা। দেশের হাল হকিকত নিয়ে বেশ খবরা খবর রাখেন। স্বাভাবিকভাবেই দেশের আলোচিত মামুনুল হকের কথা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আড্ডায় আরো জনা চারেক মানুষ ছিলো। সবাই দেখলাম মামুনুল হকের ব্যপারে খোঁজ রাখেন। রিসোর্টে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ বা কল রেকর্ড প্রচারের বিষয়টি এসব মানুষ ভালভাবে নেয়নি। সাধারণ মানুষ রাজনীতি করে না। তবে আমাদের দেশের একজন চা দোকানী বা রিক্সা চালকও রাজনীতি সচেতন। সুযোগ পেলেই মতামত ব্যক্ত করে। এখানেও সবাই বিষয়টি নিয়ে সরকারের বাড়াবাড়ি বলে মতামত ব্যক্ত করলেন। তবে এটা বলতেও ভুল করলেন না যে, মামুনুল হকের মত একজন মানুষের বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে রিসোর্টে যাওয়া ঠিক হয়নি।

শেষ করবো করোনা অ-সচেতনতার বিষয়ে বলে। আমরা করোনা ভাইরাসকে থোরই কেয়ার করছি। সরকার বিভিন্নভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করেও কুল কিনারা পাচ্ছে না। কারন মানুষ মানছে না। বাজারে গিয়ে তাই দেখলাম। মানুষের প্রচন্ড ভির। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। বাজারও মিলেছে স¦াভাবিকভাবে। কালই করোনায় রোমান আলমের মত পরিচিত কারো জীবনাবসান হতে পারে। তবে জীবন থেমে থাকবে না। জীবন চলমান। আজীবন।
০৯/০৪/২০২১

মাস্ক ব্যবহার বেড়েছে তবে জনসমাগম কমেনি

মোহাম্মদ আলম : দেখা যায় না! ছোঁয়া যায় না! গুতায়ও না! এর নাম করোনা! বাংলার মানুষ করোনাকে ভয় করে না। জনসমাগম আর চলাচলের ভাবগতিক দেখে তাই মনে হয়। সরকারি বিধিনিষেধ বা স্বাস্থ্যবিধি মানতে চরম অনিহা মানুষের। মাস্ক ব্যবহার কিছুটা বেড়েছে। তবে জনসমাগম কমেনি।

ছোটবেলা পাগলা ষাড়ের কাছি (পাটের দড়ি) ছেড়া দেখতে যেতাম। পাগলা ষাড় দেখলেই ভয়ে শিহড়ন জাগে। তাতে কি! হাজার হাজার মানুষ হুমড়ি খেতে দেখেছি। দু’একটি উন্মত্ত ষাড় দড়ি ছিড়ে পালানোর সময় মানুষের ভিরে তেড়ে আসে। গুঁতিয়ে মানুষকে সিং-এ ঝুলিয়ে আছড়ে ফেলে। ষাড়ের লাথিতে, লাফালাফিতে মানুষ ভর্তা হয়। ষাড়ের গুতায় মানুষের পেট পিঠ চিড়ে রক্ত ঝড়ে। তবু আমরা প্রতিবছরই ষাড়ের দৌড় দেখতে যেতাম। প্রতিবছরই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। মানুষ সুন্দরবন যায় বাঘ দেখতে। আফ্রিকা যায় সিংহ দেখতে। এখন করোনা দেখতে জনসমাগম করে। করোনা সেবা দিতে বের হয়। করোনা তাড়াতে বের হয়।

জনসাধারণ জনসমাগমে খুব উৎসাহি। আর যখন বলা হচ্ছে জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। কি কারনে নিষেধ! তা জানতে আরো বেশী ভিরে ! উঁকি মারে ওখানে কি ঘটে ? কোথায় করোনা ? একজন আরেকজনের ঘারের উপর ভর করে উঁকি মারে। সর্বংসহা বাঙালি। করোনা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন সংক্রমণ বাড়ছে। মৃত্যুর মিছিল। সবইতো শুনা যাচ্ছে। চারপাশে এতো মানুষ এবং এতো মতামত যে শুনা কথায় আর বিশ^াস নেই। কিছু মানুষ এমনও আছে তিনি সংক্রমিত হইয়াও ক্ষান্ত নন। অন্যকে সংক্রমিত করিয়া তবেই প্রমান করিবেন করোনা ভাইরাস বলে মহামারি আছে।
আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে ১৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯০৭ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু বরণ করেছে ২৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৪ জন মানুষের। ভাবার বিষয় হচ্ছে এই মৃত্যুর মিছিলে সব থেকে বেশী মানুষ ৫ লাখ ৭১ হাজার ১২৪ জন পৃথিবীর পরাক্রমশালী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এই পরিসংখ্যান এটাই প্রমাণ করে পৃথিবীর ক্ষমতার দাম্ভিকতা নেহাত অসাঢ়।

আমার দেখা জ্ঞানী এবং ভাল মানুষদের একজন ওমান প্রবাসী চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের সাথে প্রায়ই কথা হয়। গতকাল রাতে কথায় কথায় জানতে চাই, মানুষ কি করোনা থেকে পরিত্রাণ পাবে না ? তিনি তার উপলব্ধি ব্যখ্যা করলেন এভাবে, ‘‘ করোনা শুধুমাত্র কোন মরনব্যাধী জীবাণু নয়। করোনা মহান রাব্বুল আলামিনের আজাবের নজির। পৃথিবীর মানুষের মাঝে চরম পরকাল বিমুখতা। মানুষের মনে লোভ এবং হিংসা রাজত্ব করছে। চরম দূর্নীতিতে নিমজ্জিত। ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ধরাকে স্বরাজ্ঞান করে। জে¦না করা, বলাৎকার বা ধর্ষণ মহামারি আকাড়ে সমাজে ছড়িয়েছে। মানুষকে তার মানবিক গুনাবলি চর্চা করতে হবে। ধর্মীয় বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। একইভাবে জীবনাচারে ধর্মীয় আদেশ উপদেশ পালন করতে হবে। তবেই পরিত্রাণ।’’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘‘ওমানের চিকিৎসা সেবা এবং বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা যোজন যোজন তফাত। উন্নত যে সব দেশে চিকিৎসা পদ্ধতি আবিস্কার বা ঔষধ আবিস্কার হয় তাদের আগেই কোটি কোটি ডলার খরচে আরবের শেখরা সেসব নিয়ে আসে। ওমানের নাগরিকরা মাসের পর মাস হাসপাতালে থাকছে। বাংলাদেশের হিসাবে তাদের কোটি কোটি টাকা খরচ হতো। এখানে সবই সরকারি খরচে। চিকিৎসার কোন ঘাটতি নেই। তারপরও মানুষ মরছে।’’

এই যে আরবের শেখদের পেট্রো ডলারের চিকিৎসা বা যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের সংক্রমণ বা মৃত্যুর পরিসংখ্যানই বলে দেয় করোনা কোন স্বাভাবিক রোগ না। আজকে আলেম সমাজও কলুশতায় নিমজ্জিত। মামুনুল হকের রিসোর্ট বিলাসিতা বা রফিকুল মাদানির পর্ণো ভিডিও দর্শন আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য হতাশার বৈকি। করোনার টিকা প্রয়োগের পর থেকে বিশে^ করোনা সংক্রমণ আশংকাজনক হারে বেড়েছে। এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য সর্তক বার্তা। সততাই উত্তম পন্থা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্তক ও সচেতনতাই করোনা প্রতিরোধের মূল মন্ত্র।

০৮-০৪-২০২১

খুলে দিন দুয়ার

মোহাম্মদ আলম : দেশে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। ইতিবাচক নেতিবাচক দুইভাবেই দেখা যেতে পারে বিষয়টি। ইতিবাচক হচ্ছে, মানুষ খেটে খেতে আগ্রহী। সরকারি বেসরকারি সহায়তার আশায় পথ চেয়ে নেই। মরন ঝুঁকি আছে জেনেও তাই কাজ চালিয়ে যাবার দাবিতে এই বিক্ষোভ। অপরদিকে নেতিবাচক হচ্ছে, সরকারিভাবে উন্নয়নশীল দেশ হলেও করোনার ধাক্কায় নিন্ম আয়ের মানুষের আর্থিক অবনতি হয়েছে। এখন রুটিরোজির যোগান বন্ধ হলে পেটের ভাত জোটবে না। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা বা কাজ চালু রাখার দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছে মানুষ।

রাজধানী ঢাকাতেই সবার আগে বিক্ষোভ হয়েছে। মিরপুর, নিউমার্কেট, উত্তরা, চিটাগাং রোড এসব স্থানে দোকান মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। দোকান মালিক সমিতির দাবি অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেয়া হোক। এছাড়া সারাদেশেই দোকান-পাট তথা ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, জামালপুর, ফরিদপুর থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষোভের খবর পাঠিয়েছে। তথ্য প্রবাহের অবাধ বিস্তারের যুগে খুব দ্রুতই মানুষের খবরাখবর ছড়িয়ে যাচ্ছে। যে কারনে মানুষের অধিকার আন্দোলন সহজতর। সরকার শুনতে পাচ্ছে। ইতমধ্যেই আজ থেকে নগর এলাকায় গণপরিবহন চালু হবে।

জীবনের ভয় সবারই আছে। তবে পেটের ক্ষুধা মরন ভয়কেও হার মানায়। দীর্ঘ করোনাকালের পর লকডাউন নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য বিষফোড়া। তার উপর সামনে মুসলমানদের সবথেকে বড় উৎসব ঈদ। তাই লকডাউন মানতে নারাজ মানুষ।

করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। বাঢ়ছে মৃত্যুর মিছিল। যে পরিবারে মৃত্যুর হানা দেয় তারাই কেবল উপলিব্ধ করতে পারে এর যন্ত্রণা। আর যদি পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির মৃত্যু হয় তাহলে সেই পরিবারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। তবুও থেমে থাকে না জীবন। জীবনের ধর্মই হচ্ছে বার বার ঘুরে দাড়ানো।

মানসিক শক্তিই বড়ো। বাংলাদেশের মানুষের মনোবল অনেক দৃঢ় তা নতুন করে বলার নেই। বাঙালি যুদ্ধ বিজয়ী জাতি। করোনা মানুষকে থমকে দিয়েছিলো। সাময়িক আতংকও ভর করেছে। তবে অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে সব উবে গেছে। মানুষের ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে কেহই আর করোনার ভয় আমলে নিচ্ছে না। মানসিক শক্তিতে বলিয়ান হয়ে মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে। বের যখন হয়েছেই হতে দেওয়াই ভাল। মানসিক শক্তিতেই করোনা মোকাবেলা করলে মন্দ কি! খুলে দিন দুয়ার।

‘লকডাউন’ আমাদের এগিয়ে নেবে

কোভিড-১৯ মহামারি থেকে জীবন বাঁচাতে সরকার সারাদেশ ৭ দিনের লকডাউন করেছে। আগামীকাল ভোর থেকে কার্যকর হচ্ছে তা। জীবনের ঝুকি নিয়ে রাজধানী থেকে মানুষ গ্রামে ছুটছে। একে চরম স্বস্থ্যঝুঁকি তার উপর ভয়ংকর ভাবে সড়কপথে পিকআপ বা ট্রাকে চড়ে, নদীতে লঞ্চবোঝাই এবং ট্রেনে।

আজ দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীতে কলেজ গেট এলাকায় এমনই চিত্র দেখা গেছে। মানুষ পিকআপে দাড়িয়ে ময়মনসিংহ যাত্রা করেছে। ছোট্র পিকআপে গাদাগাদি লোক বোঝাই করা। শুনতে খারাপ শুনালেও বলতে হচ্ছে কোরাবানিতে যেভাবে গরু ছাগল সাজানো হয় সেভাবে মানুষ দাড়িয়ে যাচেছ।

এক বিকেলে সারাদেশ থেকে নদীপথ, সড়ক পথে অসংখ্য দূর্ঘটনার খবর আসছে। আল্লাহ পাকই জানেন রাতে আরো কতো কি ঘটবে। নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষায় লঞ্চডুবিতে ইতিমধ্যে ৫ জন নিহত। নিখোজ প্রায় ৩০। মুন্সিগঞ্জে অটোকো চাপা দিয়েছে ট্রাক। নিহত ৩ আরোহী।

আমরা আর কবে সচেতন হবো। পাড়ার চা দোকানে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুনলে মনে হবে দেশের সব মানুষ উচ্চ মার্গের সচেতন। অথবা টিভির টকশো শুনলে ভাবি দেশ বুঝি উদ্ধার হয়েই গেলো। বাস্তবে এবং জনজীবনে এসবের কিছুই নেই। রাজনীতিবিদরা যেমন ফাঁকাবুলি ছাড়ে। জনসাধারণও তেমনি অর্বাচিনের মত আচরন করে। আমরা উন্নতি করছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখনো সভ্যতা ভব্যতার চরম ঘাটতি। ব্যক্তি সচেতনতার বালাই নাই। আর রাষ্ট্রাচারের ধার দারি না।
প্রিয় দেশবাসী আসুন সরকারের নির্দেশিত লকডাউন বিধি মেনে স্বাস্থ্যঝুকি কমাই। করোনা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে সবকিছু ভেঙে পরতে বাধ্য। আমরাই পারবো এই মহামারি থেকে সচেতন ও সর্তকভাবে এ সমাজকে টিকিয়ে রাখতে। অনেক দুর যেতে হলে কখনো কখনো থামতে হয়। দম নিতে হয়। আমাদের আরো এগিয়ে যেতেই হবে। একটু থামুন। লকডাউন আমাদের এগিয়ে নেবে।

‘লকডাউন’ বিধি মেনে চলাই মঙ্গলজনক

মানুষকে ‘লকডাউন’ বিধি মানতেও সচেতন করতে হচ্ছে। জনসাধারণ সরকারের কোন নির্দেশই মানতে চায় না। ‘লকডাউন’ ঘোষণা হতেই পড়িমড়ি ছুটাছুটি শুরু হয়েছে। দেশের নাগরিকদের বুঝা উচিত পৃথিবীর কোন স্থানই করোনার প্রাদূর্ভাব থেকে মুক্ত নয়। কেন শহর থেকে গ্রাম বা গ্রাম থেকে শহরে যেতে হবে ? যে যেখানে আছি সেখানে অবস্থান করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে যেমন নিজের মঙ্গল তেমনি অন্যদের। পরিবারের কর্তা যিনি তারই প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে এটা বুঝা। তারপর অন্যদের বুঝানো। দল বেধে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আসা যাওয়া করলে আক্রান্ত হবার ঝুকি বাড়ে।

যাদের বিশেষ কোন কাজের প্রয়োজন তারা এখানে সেখানে যেতে দোষ নেই। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানা আবশ্যক। মাস্ক পরিধানে কোন অবহেলাই করা যাবে না। গণপরিবহনে দূরত্ব বজায় রেখে বসতে হবে। এক্ষেত্রে গাড়ির কন্ডাক্টর চাইবে নিজেদের মত বসাতে। জনসাধারণের উচিত নিজ দায়িত্বে সরকারি বিধি মেনে চলা। যত্রতত্র স্পর্শ থেকে বিরত থাকা উচিত। বাহিরের খাবার বর্জন করাই উত্তম। আরো একটি বিষয় সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আসুন সবাই নিজের পাশের মানুষটিকে এটা বলার অভ্যাস গড়ি। মুখে মুখে সচেতনতার কথা বলতে বলতেই একদিন অভ্যাসে পরিণত হবে।

মানুষ হিসাবে আমাদের প্রথম এবং প্রধান কর্তব্য হচ্ছে সৃষ্টি জীবের কল্যাণ কামনা করা। তাই আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের মঙ্গলের স্বার্থে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। আসুন লকডাউন বিধি মেনে নিজে সুস্থ্য থাকি। অন্যদের সুস্থ্য থাকতে সহায়তা করি।

করোনা নিয়ে সচেতন হোন

 

গত ২৪ ঘন্টায় ৩ হাজার ৯০৮ জন কোভিড-১৯ সংক্রমিত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের। এই পরিসংখ্যানে আপনার ভাবান্তর না হলে একবার কোভিড হাসপাতাল গুলো ঘুরে আসতে পারেন। হাসপাতালে তিল ধারনের ঠাই নেই। খালি নেই আইসিইউ বেড। দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনা সংক্রমনের মাত্রা। এখনো সময় আছে সচেতন হবার। সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করুন।

চারপাশ দেখে মনে হচ্ছে মানুষ কিছু মনেই করছে না। এক্কেবারে স্বাভাবিক চলাফেরা। বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা ব্যক্তিগত গাড়ি সবখানে মানুষের অনিরাপদ চলাফেরা। অনেকে যাও মাস্ক পরিধান করেন। কোন কোন সময় তাও সঠিক নিয়ম মানা হয় না।

করোনার প্রকোপ একটু কমতেই পর্যটন এলাকাগুলোতে ভিড় বেড়েছে। যখন করোনার প্রকোপ বাড়ছে তখনো পর্যটন এলাকায় ভিড় কমছে না। নিরব ঘাতক করোনা থেকে মুক্তি পেতে হলে এখনই সকলকে সচেতন হতে হবে। নচেত করোনা থেকে নিস্তার নেই।

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমুহের উচিত অচিরেই জনসাধারণকে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরো বাড়ানো। যতক্ষন করোনা সম্পূর্ণ নির্মূল না হচ্ছে ততদিন করোনা নিয়ে অবহেলা মোটেই না।