ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী ব্রীজ থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত যাতায়াতে ভয়ংকর পরিস্থিতি। চলছে সীমিত লকডাউন। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ। সিটি বাসও কম। অফিসগামী মানুষের চরম ভোগান্তি। ব্যাটারি চালিত অটোর দখলে মহাসড়ক। মানুষ নিরুপায় হয়েই অটোতে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। অটোতে জনসাধারণের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি। একদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি। অন্যদিকে ধুলাবালি। ধুলাবালিতে চারদিক অন্ধকার থাকে। ধুলাবালিতে ডুবে হুড খোলা অটো রিক্সায় পথচারিরা ঝুঁকিতে চলাচলে বাধ্য হচ্ছেন।
জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় সরকার এক সপ্তাহের সাধারণ ছুটির মাধ্যমে সর্বাত্মক লকডাউন দিতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। তবে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। তাছাড়া ঔষধ ও খাদ্য পণ্যসহ জরুরী সেবা চালু রাখা হবে। এই সংবাদে মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে। এখনো বাংলাদেশের মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব আছে। নচেৎ স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে লকডাউন ভঙ্গ করে এভাবে ছুটাছুটি করতো না।
আজ বিকালে ফিলিপাইনে প্রবাসী এক বন্ধুর সাথে কথা হলো। তার ভাষ্য, ফিলিপাইনের মানুষ অনেক বেশী স্বাস্থ্য সচেতন। লকডাউন ঘোষণার সাথে সাথে সেখানকার মানুষ নিজ নিজ অবস্থানে থিতু হয়েছে। কেউ এভাবে শহর থেকে গ্রাম বা অন্যদিকে ছুটাছুটি করেনি। তারপরও ফিলিপাইনে প্রতিদিন করোনা ভাইরাসে নতুন সনাক্ত হার দশ হাজারের উপর। সেখানে বাংলাদেশে যেভাবে মানুষ অসেচতন। দল বেঁধে ভ্রমণ করে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি ভয়ংকর হতে বাধ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক পরিস্থিতি নিয়ে বার বার সর্তক করছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বার বার বলছেন। প্রজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ শুনেও মানে না। বুঝেও আমলে নেয় না। এ যেন স্বেচ্ছা মৃত্যুর মিছিলে নাম লেখানোর হিড়িক।
মহাসড়কে অটোর অত্যাচার নিয়ে শুরু করেছি। অটোর ভাড়া নিয়েও কিছু বলা দরকার। টঙ্গী কলেজ গেট থেকে টঙ্গী বাজার স্বাভাবিক ভাড়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সেখানে তিন গুণ বা আরো বেশী নেয়া হয়। এব্যপারে প্রশাসনের নজর দেয়া জরুরি।
মোহাম্মদ আলম
১২/০৪/২০২১
