×

টঙ্গীতে জাতীয় পার্টির ইফতার মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী : গাজীপুরের টঙ্গীতে পশ্চিম থানা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে শুক্রবার বিকেলে আউচপাড়া বেপারিবাড়ি রোডে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

পশ্চিম থানা জাতীয় পার্টির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম ইউনুসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
কেন্দ্রীয় ছাত্রসমাজের সাবেক নেতা সাইফুল ইসলাম খান।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পশ্চিম থানা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ফকির নজরুল ইসলাম, শাহজাহান সরকার, টঙ্গী পূর্ব থানা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক ওমর ফারুক, জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা ওমর ফারুক সুজন, ফয়েজ মুন্না, রফিকুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম বাবু, মিজানুর রহমান, সফিকুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলামসহ টঙ্গী পশ্চিম থানা জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ।

এসময় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

টঙ্গীতে দুস্থ অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী : গাজীপুরের টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাষ্টারের ১৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে মাছিমপুর সমাজ কল্যাণ ভবন প্রাঙ্গণে অন্তিম আলো ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে দুস্থ-অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি, দুধ, সেমাই ও চিনিসহ বিভিন্ন সামগ্রী চারশত পরিবারকে দেয়া হয়।

অন্তিম আলো ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন এর নেতৃত্বে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অন্তিম আলো ফাউন্ডেশন এর উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম সোহেল, সংগঠনের সভাপতি আসাদুর জামান নূর রায়হান, সাধারণ সম্পাদক সজিব আহম্মেদ, সদস্য কবির হোসেন, সাহেদ, ফয়সাল ও তোফায়েল প্রমূখ।

অন্তিম আলো ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান রোটারিয়ান বিল্লাল হোসেন বলেন, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার স্মৃতি রয়ে গেছে। তাকে আমরা কোনদিন ভুলতে পারবো না। তার উত্তরসূরি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপিও তার পিতার মতো এলাকার জনগণের সেবার মাধ্যমে অবদান রেখে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দুস্থ-অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

টঙ্গীতে দুস্থ অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, টঙ্গী : গাজীপুরের টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ্ মাষ্টারের ১৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে মাছিমপুর সমাজ কল্যাণ ভবন প্রাঙ্গণে অন্তিম আলো ফাউন্ডেশন এর উদ্যোগে দুস্থ-অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি, দুধ, সেমাই ও চিনিসহ বিভিন্ন সামগ্রী চারশত পরিবারকে দেয়া হয়।

অন্তিম আলো ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন এর নেতৃত্বে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অন্তিম আলো ফাউন্ডেশন এর উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম সোহেল, সংগঠনের সভাপতি আসাদুর জামান নূর রায়হান, সাধারণ সম্পাদক সজিব আহম্মেদ, সদস্য কবির হোসেন, সাহেদ, ফয়সাল ও তোফায়েল প্রমূখ।

অন্তিম আলো ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান রোটারিয়ান বিল্লাল হোসেন বলেন, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার স্মৃতি রয়ে গেছে। তাকে আমরা কোনদিন ভুলতে পারবো না। তার উত্তরসূরি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এমপিও তার পিতার মতো এলাকার জনগণের সেবার মাধ্যমে অবদান রেখে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দুস্থ-অসহায়দের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

শ্রদ্ধাঞ্জলি, আদর্শের বাতিঘর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার

মোহাম্মদ আলম : ইতিহাসের বিয়োগান্তক সাক্ষি হিসাবে গাজীপুরের সর্বস্তরের মানুষ ৭ মে পালন করে আসছে। ২০০৪ সালের ৭ মে ভাওয়াল বীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার ঘাতকের বুলেটের আঘাতে শহীদ হন। আজ গাজীপুরের মানুষ দুয়া ও স্মরণ সভার মাধ্যমে তাদের প্রিয় নেতার ১৭তম শহাদত বার্ষিকী পালন করছে।

মানুষ তার সৎ কর্ম ও মানবিক আদর্শের মাধ্যমে চিরকাল বেঁচে থাকে। শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার মানুষের মাঝে বেঁচে আছেন। মুক্তিযুদ্ধের দেশপ্রেমিক বীর সেনানী, একজন আদর্শ শিক্ষক, কর্মদক্ষ শ্রমিক নেতা, জনহিতৈসী রাজনীতিবিদ, সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজ সংস্কারক, একজন সৎ ও দক্ষ জনপ্রতিনিধি হিসাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি সফলতার সাক্ষর রেখে গেছেন। প্রতিটি পদক্ষেপে তার আদর্শ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসাবে সমাদৃত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের বাতিঘর শহিদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার। প্রয়ান দিবসে বিনম্র শ্রদ্ধা।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার গাজীপুর মহানগরের হায়দারাবাদ পৈত্রিক নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ, তাঁতিলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় নেতার সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এই মহান নেতার কর্ম ও জীবন নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, স্কুল কলেজ স্মরণসভার আয়োজন করে । মহানগরের মসজিদ ও মাদ্রাসায় বিশেষ দুয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

যুব ও ক্রিড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল এমপি পিতার আদর্শ উত্তরসুরী। যিনি পিতার আদর্শকে গাজীপুরের সীমানা ছাড়িয়ে দেশব্যাপি বিস্তৃত করেছেন।

মাতৃভাষা পরিবারের পক্ষ থেকে এই মহান নেতার প্রতি বিনম্রশ্রদ্ধাঞ্জলি।
০৭/০৫/২০২১

ধেয়ে আসছে দৈত্যাকার গ্রহাণু

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে দৈত্যাকার একটি গ্রহাণু। বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুটির নাম দিয়েছেন ২০২১পিডিসি। তারা জানিয়েছেন, আগামী ২০ অক্টোবর পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারে পাথরখণ্ডটি।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, বিশালাকার গ্রহাণুটিকে সম্প্রতি সাড়ে তিন কোটি মাইল দূরে শনাক্ত করা হয়েছে। আর সেটি থামাতে উপযুক্ত পরিকল্পনা করার জন্য হাতে রয়েছে মাত্র ছয় মাস।

গত ২৬ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল- এই চারদিন বিজ্ঞানীরা উন্নত রাডার সিস্টেম, ডেটা ইমেজিং সিস্টেমসহ বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেলিস্কোপ ব্যবহার করে টানা গবেষণার মাধ্যমে গ্রহাণুটি আঘাত হানার সম্ভাব্য সময় বের করেছেন।

ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, গ্রহাণুটি পৃথিবীর ইউরোপ অথবা উত্তর আফ্রিকার কোনো অঞ্চলে আঘাত হানার শতভাগ আশঙ্কা রয়েছে।

মুনিয়ার বোনকে হত্যার হুমকি, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় করা মামলার বাদী নুসরাত জাহান মুঠোফোনে ক্রমাগত হত্যার হুমকি পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ।

শনিবার কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে ওই জিডি করেন তিনি।

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল গুলশান-২-এর একটি ফ্ল্যাট থেকে মোসারাত জাহান মুনিয়া নামের এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান বাদী হয়ে গুলশান থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে আসামি করেন।

নুসরাত জাহান জিডিতে লিখেছেন-

যথাযথ সম্মান পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্নস্বাক্ষরকারী নুসরাত জাহান (৩৪), পিতা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শফিকুর রহমান, স্বামী মো. মিজানুর রহমান। থানায় হাজির হইয়া উপরোক্ত মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারী ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণদের হুমকি প্রদানের ব্যাপারে লিখিতভাবে জানাইতেছি।

আমার ছোট বোন মোসারাত জাহান মুনিয়া (২১) এর হত্যা সংক্রান্ত ঘটনার আলোকে আমি বাদী হইয়া গুলশান থানায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা করি। যাহার গুলশান থানার মামলা নং ২৭, তারিখ ২৭/০৪/২০১১ইং ধারা ৩০৬ পেনাল কোড।

উক্ত ঘটনার আলোকে প্রিন্ট মিডিয়াসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত ঘটনা হিসাবে চলমান রহিয়াছে। উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করিয়া মামলা দায়েরের পর হইতে বিবাদী পক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি একত্রিত হইয়া আমাকে ও আমার স্বামীসহ পরিবারবর্গের সদস্যদের মামলা প্রত্যাহার করিয়া নেওয়ার জন্য অথবা বিবাদী পক্ষের সহিত উক্ত বিষয়ে সমঝোতা করার জন্য চাপ প্রযোগ অব্যাহত রাখে।

উক্ত বিষয়ে কর্ণপাত না করায় উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে বর্তমান ঠিকানার বাসায় অবস্থান কালে মোবাইল নম্বর ০১৫৭১-৪২৫০৩৩, ০১৫৩৮-১৯৫৭৫১ আরও অন্য কয়েকটি নম্বর হইতে আমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করিয়া মামলা প্রত্যাহারসহ বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতঃ উক্ত বিষয়ে সুষ্ঠুভাবে সুরাহা না করিলে টাকার বিনিময়ে আমাকে অথবা আমার স্বামীসহ পরিবারবর্গের সদস্যদের যেকোনোভাবে যেকোনো উপায়ে বিপদে ফেলিয়া অথবা যেকোনো অঘটন ঘটাইয়া আমাদেরকে খুন জখম করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলিবে।

যেকোনো ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা মোকদ্দমা দিয়া হয়রানি ও নাজেহাল করিবে বলিয়া একাধিকবার কল করিয়া হুমকি প্রদান অব্যাহত রাখে। তাহারা যেকোনো সময় আমাকে অথবা আমার পরিবারবর্গের সদস্যদের কুমিল্লাসহ বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে যাতায়াতের পথে সময় সুযোগমতো পাইলে আক্রমণ করিয়া বা করাইয়া মারপিট ও খুন জখম করিতে পারে বলিয়া আশঙ্কা করিতেছি।

বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারবর্গের সদস্যদের নিয়া চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছি। তাহাদের দ্বারা ভবিষ্যতে আমিসহ আমার পরিবারবর্গসহ আত্মীয়-স্বজনদের জানমালের যেকোনো প্রকার অপূরণীয় ক্ষতি হওয়াসহ হয়রানির শিকার হইতে পারি বলিয়া আশঙ্কা করিতেছি।

অতএব, প্রার্থনা যে, উল্লেখিত ঘটনার আলোকে ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরিভুক্ত করার আদেশ দানে মর্জি হয়।

মহান মে’ দিবস- শ্রমিকের সন্তান অনাথ নয়, মাতৃস্নেহ তার অধিকার

মোহাম্মদ আলম : কাকলি আক্তার নামের দুধের শিশু মেয়েটি শেরপুরের নকলা থানার বাইন্নাপাড়া গ্রামে নানা-নানির কাছে থাকে। কাকলির মা অজুফা গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। বাবা গাজীপুরেই পিকআপ ভ্যান চালক। মাত্র দেড় বছর বয়স থেকেই শিশুটি মা বাবা ছাড়া। বর্তমানে কাকলির বয়স আড়াই। বাবা মা থেকেও নেই। অনাথ শিশুর মতই বাল্যকাল কাটছে শিশু কাকলীর। এই বয়সের শিশুর প্রধান খাদ্য মায়ের বুকের দুধ। নিয়তির পরিহাস ও দারিদ্রের অভিশাপ কাকলীকে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করেছে। সন্তানের কথা জানতে চাওয়ায় স্নেহময়ী মা’র কন্ঠ ধরে আসে। মমতাময়ী মা চোখ মুছ্তে মুছ্তে অস্ফুট স্বরে জানায়, তিন মাস কখনো কখনো আরও দীর্ঘ সময় পর মেয়েকে দেখতে গ্রামে যায়।

অজুফা’র মুখ থেকে তার শিশু কন্যার করুন কাহিনি শুনে আমাকে এমন নিষ্ঠুর ‘অনাথ’ শব্দকথা লিখতে হলো। মহান মে দিবসে শ্রমিকের হাড়ির খোঁজ খবর নিতে গিয়ে কাকলির মত এমন অসংখ্য শিশুর খুঁজ পেলাম যারা জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই পিতা-মাতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তাহলে কেনইবা পিতা মাতা থাকতেও একটি শিশুকে অনাথ বলব।

যে বয়সে শিশুর প্রধান খাদ্য মায়ের বুকের দুধ। মা-বাবার আদর স্নেহে গড়ে উঠবে শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ। পোশাক কারখানার অসংখ্য নারি শ্রমিকের দুধের শিশু সেই বয়সে মা-বাবার স্নেহ-মমতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। আমি ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। কি লিখব ওই সব শিশুর করুন জীবন নিয়ে। অজুফা’র ভারাক্রান্ত মুখ থেকে তার সন্তান দুরে থাকার কাহিনি শুনে নিজের আবেগ দমাতে স্তব্ধ ছিলাম। যখন লিখছি তখনো ওইসব শিশুর করুন মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠে। শিশুর অনুসন্ধিৎসু বিবেক মানবতার কাছে প্রশ্ন করে কি অপরাধে সে অনাথ জীবন-যাপন করছে।

সে যেন এই বলে ধিক্কার দেয় ‘‘তুমাদের লেখায় তুমাদের ‘মে দিবস’ আমাদের ভাগ্যে কোনই পরিবর্তন আনতে পারেনি। আমরা অনাথ হয়ে জন্মেছি।’’

সৃষ্ঠিকর্তা পৃথিবীর কোন কিছুকেই অবিনশ্বরতা দেননি। মহামহিম সৃষ্টিকর্তা নিজেও মানব জাতির সঠিক জীবন বিধানের জন্য কালে কালে নবী রাসুল(সাঃ)’র মাধ্যমে ধর্মের আধুনিকিকরন করেছেন। আল্লাহ্’র প্রেরিত সকল ধর্মমতই মানবজাতির জন্য সুন্দর জীবন বিধানের পথ দেখিয়েছে। মহানবী(সাঃ) এর সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবশেষ ধর্ম ‘ইসলাম’ মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ জীবন বিধান।

মহান আল্লাহ পাক কুরআনে শ্রমিকদের বিষয়ে এরশাদ করিয়াছেণ,‘‘নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে হযরত মুসা(আঃ) সর্বহারা অবস্থায় হযরত শোয়েব (আঃ)’র নিকট চাকুরি নিয়া ভেড়া, ছাগল চড়ানো ও গৃহস্থালির কাজে নিযুক্ত হইয়াছিলেন। পাক কুরআনে আছে, হযরত শোয়েব(আঃ) হযরত মুসা(আঃ) কে বলিলেন,‘ আমি তোমার উপর কষ্টের বোঝা চাপাইয়া দিতে চাই না। আল্লাহর মর্জিতে তুমি আমাকে সজ্জনদের মধ্যে পাইবে।’’ হযরত শোয়েব(আঃ) যা খাইতেন পরিতেন, হযরত মুসা(আঃ) কে তাই খাইতে, পরিতে দিতেন। এমনকি নিজের মেয়েকে পর্যন্ত বিবাহ দিয়েছিলেন। মুসা(আঃ) এত সৎ ছিলেন যে মালিক তার মেয়েকে বিবাহ দিতে কুণ্ঠিত হইলেন না। এখানে হযরত শোয়েব(আঃ) আদর্শ মালিক ও হযরত মুসা(আঃ) আদর্শ শ্রমিক।

আল্লাহ্র রাসূল হযরত মুহম্মদ(সাঃ) অধিনস্ত শ্রমিক সম্পর্কে বলেছেন, ‘‘এরা তোমাদের ভাই, তোমাদের খেদমত করিতেছে। আল্লাহ ইহাদের তোমাদের অধীন করিয়া দিয়েছেন। যার যে ভাই তাহার অধীনে আছে, যাহা সে নিজে খায়, তাহা খাইতে দিবে, যাহা সে নিজে পরে তাহাই পরতে দিবে। যে কাজ নিজের জন্য কষ্টকর, মনে কর, সেই কাজের বোঝা তাহার উপর চাপাইয়া দিওনা। অগত্যা যদি সেই কাজ করিতেই হয়, তবে নিজে তাহাকে সাহায্য কর।’’ আল্লাহর রাসূল(সাঃ) তাঁহার অধিনস্ত শ্রমিক হযরত জায়েদ(রাঃ) কে নিজের ছেলে বলিতেন এবং একটি জেহাদের সেনাপতি করেছিলেন। হযরত বেলাল(রাঃ) মর্যাদা এমনই যে কিয়ামত পর্যন্ত তিনি সকল মুয়াজ্জিনের নেতা ও চোখের মনি। হযরত সুলায়মান(রাঃ) পরবির্ত জীবনে মদায়েনের গভর্ণর হইয়া ছিলেন।

শিশু সন্তানের লালন পালন ও ভরণ পোষণ সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ কুরাআন পাকে এরশাদ করিয়াছেন, ‘‘বল হে প্রভু তাহাদের প্রতি দয়া কর, কেননা আমি যখন শিশু ছিলাম তাহারা আমাকে লালন পালন করিয়াছে।’’ ১৭ঃ২৩। আল্লাহপাক শিশুর লালন পালনের ভার মাতা পিতার উপর দিয়েছেন। আল্লাহ্ পাক এক আয়াতে এরশাদ করেছেন, ‘‘জননীগণ দুই বৎসর কাল পর্যন্ত তাদের সন্তানকে স্তন্য দান করিবেন।’’ সন্তানের ভরণ পোষণ, পোষাক পরিচ্ছদ, ইসলামী শিক্ষার ব্যবস্থা পিতাই বহন করিবেন। তাহলে আল্লাহ পাক প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম গ্রন্থ পাক কুরআনে ও তাঁর রাসূলের(সাঃ) এর জীবন বিধানে শ্রমিক, মালিক সর্ম্পক ও সন্তান সন্ততির উপর পিতা মাতার দায়িত্ব কর্তব্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা রয়েছে। যা মানবতার শ্রেষ্ঠ মাপকাঠি। শ্রমিকের সন্তান অনাথ হিসাবে কেন বেড়ে উঠবে। মাতৃস্নেহ ও পিতার ভরণ পোষণ তার অধিকার।

১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্টের শিকাগো শহরের শ্রমিকরা যুক্তিযুক্ত শ্রমঘন্টা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগকে স্মরণ রাখতে প্রতিবছর ১ মে আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হয়। প্রতিবছর আমরা এই দিনে জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি যে আমাদের দেশের শ্রমিকরা মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত। ন্যায্য মুজরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা বা মানুষের মত সদাচরণ পাওয়া নিয়ে বছরের পর বছর ঢোল পিটিয়ে তা বলেও যাচ্ছি। গত কয়েক বছরে এক্ষেত্রে কিছুটা হলেও সাফল্য এসেছে। অপরদিকে পারিবারিক বন্ধণ ছিন্ন হয়ে শিশুরা অনাথের মত বড় হচ্ছে সেদিকে কারোর খেয়াল নেই। সরকার, মালিক, শ্রমিক সকলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধির জন্য পরিশ্রম করেন। আমিও লিখছি বর্তমান বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন করার জন্য। কিন্তু শ্রমিকের সন্তান দেশের একটি প্রজন্ম কিভাবে বেড়ে উঠছে তা দেখার কেউ নেই। ভারতে এই ধরনের কর্মজীবি মা বাবার শিশুদেরকে সারাদিন স্কুলে রাখার ব্যবস্থা আছে। শিশুদের দুপুরের খাবারও স্কুলে দেওয়া হয়। মা বাবা কাজে যাওয়ার সময় সন্তানকে স্কুলে রেখে যায় আবার কাজ থেকে ফেরার সময় নিয়ে যায়।

গাজীপুরে সরকারি হিসাবে ১৮৫৭টি পোশাক কারখানা আছে। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক কাজ করে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই স্বামী স্ত্রী একসাথে কাজ করে। অজুফার মতই ময়মনসিংহের আকলিমা, নেত্রকোনার নাছিমাসহ অসংখ্য মায়ের দুধশিশু মা’থেকে দুরে গ্রামের বড়িতে আত্মীয় স্বজনের কাছে থাকে। আমি গত দুই বছরে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় ঘুরে শ্রমিক, মালিক, শ্রমিক সংগঠনের সাথে জড়িত নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেছি। সবাই একবাক্যে স্বীকার করেছেন শ্রমিকের সন্তান যেভাবে মাতা পিতার সান্নিধ্য ছাড়া বেড়ে উঠছে তা অমানবিক। শ্রমিকের লাখ লাখ শিশু সন্তান তার মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে অনাথের মত বেড়ে উঠছে এর কি প্রতিকার। মাতা পিতার মায়া মমতায় বেড়ে না উঠার কারনে ওই শিশুরা মানসিক ভাবে নিষ্ঠুর প্রকৃতির হবে। ইতিমধ্যেই আমরা দেখতে পাচ্ছি নাশকতা ও সহিংসতার কাজে সমাজের কিশোর বয়সী ছেলেরা জড়িয়ে পরেছে। এব্যপারে সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই কতজন শ্রমিকের সন্তান মা বাবা ছেড়ে দুরের কোন আত্মীয়ের কাছে আছে। তবে কয়েকটি কারখানার মালিক শ্রমিকের জীবন বৃত্তান্ত পর্যালোচনা করে এর একটি আনুমানিক ধারনা দিয়েছেন। এতে দেখা যাচ্ছে কারখানার যেসব শ্রমিকের সন্তান আছে তাদের প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ শ্রমিকের শিশু সন্তান পিতা মাতাকে ছেড়ে গ্রামে থাকে। অধিকাংশ শিশুরা বৃদ্ধ নানা-নানি, দাদা-দাদির কাছে থাকে।

হৃদয়বিদারক হচ্ছে এক, দেড় বছরের দুধের শিশুও মা বাবাকে ছেড়ে থাকে। বিষয়টি ভেবে কারখানা মালিকরাও মর্মাহত। কোন কোন কারখানা, শিশুর জন্য ডে কেয়ার সেন্টার করে দিয়েছে। কিন্তু ডে কেয়ার সেন্টারে শুধুমাত্র হামাগুড়ি দেওয়া শিশুরাই থাকতে পারে। তারপরও সন্তান আছে এমন শতভাগ শ্রমিকের চাইল্ড ডে কেয়ার সুবিধা নেই। শিশু হাটতে শুরু করলেই অন্যত্র রাখতে হয়। বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা সন্তানকে গ্রামের বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দেয়। কারখানা মালিকই বা কি করবে। আমি দেখেছি ১২’শ শ্রমিক আছে এমন একটি করখানায় প্রায় ৫৪০জন শ্রমিকের সন্তান আছে। তাহলে কারখানা কতৃপক্ষ কেয়ার সেন্টার করে কিভাবে এত শিশুর দায়িত্ব নেবে। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি কারখানার কাছাকাছি শ্রমিকের আবাসিক ব্যবস্থা হলে এসমস্যার অনেকটা সমাধান হবে। সেইসাথে কারখানার আশপাশেই ভারতের মতো ডে কেয়ার স্কুল প্রতিষ্ঠা করে শিশুদের শিক্ষা গ্রহন নিশ্চিত করাও জরুরী।

আমাদের দেশেও সরকার শ্রমিকের আবাসিক ব্যবস্থা করার ব্যপারে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে। কিন্তু তার কোন পদক্ষেপ এখনো আলোর মুখ দেখেনি। শ্রমিকের মৌলিক মানবাধিকার নিয়ে আমরা গলাবাজি করি। অর্থনৈতিক মুক্তির পেছনে ছুটে শিশুর মানবিক অবক্ষয় হোক এটা কোন ভাবেই মানা যায় না। শ্রমিক কিভাবে পারিবারিক বন্ধনে সন্তানকে বড় করবে তা নিয়েও ভাবা দরকার। মাতৃস্নেহ ও পিতার ভরণ পোষণের মত শিশুর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

অটোতে চলতি পথ অচল

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী ব্রীজ থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত যাতায়াতে ভয়ংকর পরিস্থিতি। চলছে সীমিত লকডাউন। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ। সিটি বাসও কম। অফিসগামী মানুষের চরম ভোগান্তি। ব্যাটারি চালিত অটোর দখলে মহাসড়ক। মানুষ নিরুপায় হয়েই অটোতে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। অটোতে জনসাধারণের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি। একদিকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি। অন্যদিকে ধুলাবালি। ধুলাবালিতে চারদিক অন্ধকার থাকে। ধুলাবালিতে ডুবে হুড খোলা অটো রিক্সায় পথচারিরা ঝুঁকিতে চলাচলে বাধ্য হচ্ছেন।

জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় সরকার এক সপ্তাহের সাধারণ ছুটির মাধ্যমে সর্বাত্মক লকডাউন দিতে যাচ্ছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। তবে উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানা লকডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। তাছাড়া ঔষধ ও খাদ্য পণ্যসহ জরুরী সেবা চালু রাখা হবে। এই সংবাদে মানুষ রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে। এখনো বাংলাদেশের মানুষের মাঝে সচেতনতার অভাব আছে। নচেৎ স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ে লকডাউন ভঙ্গ করে এভাবে ছুটাছুটি করতো না।

আজ বিকালে ফিলিপাইনে প্রবাসী এক বন্ধুর সাথে কথা হলো। তার ভাষ্য, ফিলিপাইনের মানুষ অনেক বেশী স্বাস্থ্য সচেতন। লকডাউন ঘোষণার সাথে সাথে সেখানকার মানুষ নিজ নিজ অবস্থানে থিতু হয়েছে। কেউ এভাবে শহর থেকে গ্রাম বা অন্যদিকে ছুটাছুটি করেনি। তারপরও ফিলিপাইনে প্রতিদিন করোনা ভাইরাসে নতুন সনাক্ত হার দশ হাজারের উপর। সেখানে বাংলাদেশে যেভাবে মানুষ অসেচতন। দল বেঁধে ভ্রমণ করে। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি ভয়ংকর হতে বাধ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক পরিস্থিতি নিয়ে বার বার সর্তক করছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বার বার বলছেন। প্রজ্ঞাপন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ শুনেও মানে না। বুঝেও আমলে নেয় না। এ যেন স্বেচ্ছা মৃত্যুর মিছিলে নাম লেখানোর হিড়িক।

মহাসড়কে অটোর অত্যাচার নিয়ে শুরু করেছি। অটোর ভাড়া নিয়েও কিছু বলা দরকার। টঙ্গী কলেজ গেট থেকে টঙ্গী বাজার স্বাভাবিক ভাড়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। সেখানে তিন গুণ বা আরো বেশী নেয়া হয়। এব্যপারে প্রশাসনের নজর দেয়া জরুরি।

মোহাম্মদ আলম
১২/০৪/২০২১

মানব ইতিহাসে করোনা মাহামারির সাক্ষি হলাম

মোহাম্মদ আলম : মৃত্যু সংবাদে ঘুম ভেঙেছে। গাজীপুরে সাংবাদিক রোমান শাহ আলমের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই সম্মুখ সারির করোনাযোদ্ধা। একদিন আগে মারা গেছেন নাজমা খালা। তিনিও করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ছিলেন। করোনা মহামারি বিশ^কে টালমাটাল করেছে। মানুষ অন্য অনেক কিছুর মত করোনা নিয়েও হেলা-ফেলায় মেতেছিলো। করোনা ভাইরাস সাক্ষাত যমদু হয়ে হেলাফেলার প্রতিশোধ নিচ্ছে।

গত আগষ্ট মাসের ১৮ তারিখে আমি করোনা আক্রান্ত হই। তখন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। প্রথমে হালকা জ্বর জ্বর ভাব ও ক্ষুধামন্দা। ধীরে ধীরে জ্বর তীব্র হতে থাকে। টাকা ১৫ দিন জ্বরে ভুগেছি। পুরোপুরি সুস্থ বলতে পারবো না। এখনো শরীরে ক্লান্তি ভর করে। তবে চেষ্টা করছি স্বাভাবিক হতে। আমি নিজেও করোনার ভয়াবহতার সাক্ষি। এটা যে কতোটা যন্ত্রণাদায়ক। একমাত্র ভুক্তভোগিই জানে।

জীবন থেমে থাকে না। আমরাও এগিয়ে চলেছি। আজ হতে শত বছর বা আরো পরে মানব জাতি এই করোনা মহামারি নিয়ে কতো গবেষনাই না করবে। আমরা আতংকে আছি। আমরা আক্রান্ত হয়েছি। তবে থমকে যাইনি। আমরাও নিত্য বাজারে যাই। কাজকর্ম করি। বেড়াতেও গিয়েছিলাম। করোনা মহামারি মানব ইতিহাসে হয়ত ক্ষত সৃষ্টি করবে। তবে চুড়ান্ত বিজয়ী হিসাবে মানুষেরই অস্তিত্ত্ব টিকে থাকবে। ওই শত বছর পরে আপনারা আমাদের জ¦জল্যমান সাক্ষি হিসাবে এই লেখা পরবেন।

জীবন বেশ স্বাচ্ছন্দেই কেটেছে। দুই সপ্তাহ পর আজ ৯ এপ্রিল ২ হাজার ২১ টঙ্গী সফিউদ্দিন বাজারে গিয়েছি। গলির ভ্যান থেকেই কাঁচা সবজি খরিদ করতে। আর মুদিতো আছেই। তবে মাছ মাংসের জন্য বাজারে যেতেই হয়। চেষ্টা করি বাজারে কম যেতে। আগে সপ্তাহে একবার যেতাম। এখন ১৫ দিনে যাচ্ছি। করোনাকালের বাজারও যেন হাফিয়ে উঠেছে। মাছ মাংস সব কিছুর দাম চড়া। রুই মাছ কিনেছি ২৬০ টাকা কেজি দরে। নদীর বেলে মাছ নিলাম আধা কেজি ৩৫০ টাকা। গুদা চাপিলা ২৫০ গ্রাম ৫০ টাকা। পাকিস্তানি কক জাতের মুরগি কিনলাম দুটা ২৮০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৬০০ টাকা কেজি দরে দেড় কেজি। তিতা পাট শাক দুই মুটা ২৫ টাকা। টমেটো এক কেজি ২৫ টাকা। পোলাও চাল এক কেজি ১০০ টাকা। আড়াইশ গ্রাম কাঁচা মরিচ, আধা কেজি লম্বা বেগুন, দশ টাকার ধনিয়া পাতা, আধা কেজি গাজর, আধা কেজি শশাও নিলাম। এক ফানায় ১৪টা বেশ পুষ্ট শবরি কলা নিয়েছি।

বাজার নিয়ে রিক্সায় ফেরার পথে প্রতিবেশী মমিনউল্লাহ ভাই ডাকলেন। টঙ্গী আউচপাড়ায় কলেজ রোডে তার বাড়ির সিড়ির নীচে একটা চা দোকান আছে। পরে বাজার বাসায় পৌছে তার সাথে চায়ের আড্ডা দিলাম। মমিনউল্লাহ ভাই ব্যবসায়ী। টঙ্গী বিসিকে তার কারখানা। দেশের হাল হকিকত নিয়ে বেশ খবরা খবর রাখেন। স্বাভাবিকভাবেই দেশের আলোচিত মামুনুল হকের কথা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আড্ডায় আরো জনা চারেক মানুষ ছিলো। সবাই দেখলাম মামুনুল হকের ব্যপারে খোঁজ রাখেন। রিসোর্টে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ বা কল রেকর্ড প্রচারের বিষয়টি এসব মানুষ ভালভাবে নেয়নি। সাধারণ মানুষ রাজনীতি করে না। তবে আমাদের দেশের একজন চা দোকানী বা রিক্সা চালকও রাজনীতি সচেতন। সুযোগ পেলেই মতামত ব্যক্ত করে। এখানেও সবাই বিষয়টি নিয়ে সরকারের বাড়াবাড়ি বলে মতামত ব্যক্ত করলেন। তবে এটা বলতেও ভুল করলেন না যে, মামুনুল হকের মত একজন মানুষের বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে রিসোর্টে যাওয়া ঠিক হয়নি।

শেষ করবো করোনা অ-সচেতনতার বিষয়ে বলে। আমরা করোনা ভাইরাসকে থোরই কেয়ার করছি। সরকার বিভিন্নভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করেও কুল কিনারা পাচ্ছে না। কারন মানুষ মানছে না। বাজারে গিয়ে তাই দেখলাম। মানুষের প্রচন্ড ভির। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। বাজারও মিলেছে স¦াভাবিকভাবে। কালই করোনায় রোমান আলমের মত পরিচিত কারো জীবনাবসান হতে পারে। তবে জীবন থেমে থাকবে না। জীবন চলমান। আজীবন।
০৯/০৪/২০২১

মাস্ক ব্যবহার বেড়েছে তবে জনসমাগম কমেনি

মোহাম্মদ আলম : দেখা যায় না! ছোঁয়া যায় না! গুতায়ও না! এর নাম করোনা! বাংলার মানুষ করোনাকে ভয় করে না। জনসমাগম আর চলাচলের ভাবগতিক দেখে তাই মনে হয়। সরকারি বিধিনিষেধ বা স্বাস্থ্যবিধি মানতে চরম অনিহা মানুষের। মাস্ক ব্যবহার কিছুটা বেড়েছে। তবে জনসমাগম কমেনি।

ছোটবেলা পাগলা ষাড়ের কাছি (পাটের দড়ি) ছেড়া দেখতে যেতাম। পাগলা ষাড় দেখলেই ভয়ে শিহড়ন জাগে। তাতে কি! হাজার হাজার মানুষ হুমড়ি খেতে দেখেছি। দু’একটি উন্মত্ত ষাড় দড়ি ছিড়ে পালানোর সময় মানুষের ভিরে তেড়ে আসে। গুঁতিয়ে মানুষকে সিং-এ ঝুলিয়ে আছড়ে ফেলে। ষাড়ের লাথিতে, লাফালাফিতে মানুষ ভর্তা হয়। ষাড়ের গুতায় মানুষের পেট পিঠ চিড়ে রক্ত ঝড়ে। তবু আমরা প্রতিবছরই ষাড়ের দৌড় দেখতে যেতাম। প্রতিবছরই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়। মানুষ সুন্দরবন যায় বাঘ দেখতে। আফ্রিকা যায় সিংহ দেখতে। এখন করোনা দেখতে জনসমাগম করে। করোনা সেবা দিতে বের হয়। করোনা তাড়াতে বের হয়।

জনসাধারণ জনসমাগমে খুব উৎসাহি। আর যখন বলা হচ্ছে জনসমাগম এড়িয়ে চলুন। কি কারনে নিষেধ! তা জানতে আরো বেশী ভিরে ! উঁকি মারে ওখানে কি ঘটে ? কোথায় করোনা ? একজন আরেকজনের ঘারের উপর ভর করে উঁকি মারে। সর্বংসহা বাঙালি। করোনা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিদিন সংক্রমণ বাড়ছে। মৃত্যুর মিছিল। সবইতো শুনা যাচ্ছে। চারপাশে এতো মানুষ এবং এতো মতামত যে শুনা কথায় আর বিশ^াস নেই। কিছু মানুষ এমনও আছে তিনি সংক্রমিত হইয়াও ক্ষান্ত নন। অন্যকে সংক্রমিত করিয়া তবেই প্রমান করিবেন করোনা ভাইরাস বলে মহামারি আছে।
আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে ১৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯০৭ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু বরণ করেছে ২৮ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৪ জন মানুষের। ভাবার বিষয় হচ্ছে এই মৃত্যুর মিছিলে সব থেকে বেশী মানুষ ৫ লাখ ৭১ হাজার ১২৪ জন পৃথিবীর পরাক্রমশালী যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। এই পরিসংখ্যান এটাই প্রমাণ করে পৃথিবীর ক্ষমতার দাম্ভিকতা নেহাত অসাঢ়।

আমার দেখা জ্ঞানী এবং ভাল মানুষদের একজন ওমান প্রবাসী চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল কুদ্দুস সাহেবের সাথে প্রায়ই কথা হয়। গতকাল রাতে কথায় কথায় জানতে চাই, মানুষ কি করোনা থেকে পরিত্রাণ পাবে না ? তিনি তার উপলব্ধি ব্যখ্যা করলেন এভাবে, ‘‘ করোনা শুধুমাত্র কোন মরনব্যাধী জীবাণু নয়। করোনা মহান রাব্বুল আলামিনের আজাবের নজির। পৃথিবীর মানুষের মাঝে চরম পরকাল বিমুখতা। মানুষের মনে লোভ এবং হিংসা রাজত্ব করছে। চরম দূর্নীতিতে নিমজ্জিত। ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ধরাকে স্বরাজ্ঞান করে। জে¦না করা, বলাৎকার বা ধর্ষণ মহামারি আকাড়ে সমাজে ছড়িয়েছে। মানুষকে তার মানবিক গুনাবলি চর্চা করতে হবে। ধর্মীয় বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। একইভাবে জীবনাচারে ধর্মীয় আদেশ উপদেশ পালন করতে হবে। তবেই পরিত্রাণ।’’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক এই চিকিৎসক আরও বলেন, ‘‘ওমানের চিকিৎসা সেবা এবং বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা যোজন যোজন তফাত। উন্নত যে সব দেশে চিকিৎসা পদ্ধতি আবিস্কার বা ঔষধ আবিস্কার হয় তাদের আগেই কোটি কোটি ডলার খরচে আরবের শেখরা সেসব নিয়ে আসে। ওমানের নাগরিকরা মাসের পর মাস হাসপাতালে থাকছে। বাংলাদেশের হিসাবে তাদের কোটি কোটি টাকা খরচ হতো। এখানে সবই সরকারি খরচে। চিকিৎসার কোন ঘাটতি নেই। তারপরও মানুষ মরছে।’’

এই যে আরবের শেখদের পেট্রো ডলারের চিকিৎসা বা যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকদের সংক্রমণ বা মৃত্যুর পরিসংখ্যানই বলে দেয় করোনা কোন স্বাভাবিক রোগ না। আজকে আলেম সমাজও কলুশতায় নিমজ্জিত। মামুনুল হকের রিসোর্ট বিলাসিতা বা রফিকুল মাদানির পর্ণো ভিডিও দর্শন আমাদের মত সাধারণ মানুষের জন্য হতাশার বৈকি। করোনার টিকা প্রয়োগের পর থেকে বিশে^ করোনা সংক্রমণ আশংকাজনক হারে বেড়েছে। এসবই আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের জন্য সর্তক বার্তা। সততাই উত্তম পন্থা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সর্তক ও সচেতনতাই করোনা প্রতিরোধের মূল মন্ত্র।

০৮-০৪-২০২১