×

রাজশাহী কলেজ অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করেছে কিশোর গ্যাং

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : রাজশাহী কলেজের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রকে কিশোর গ্যাং এর ছেলেরা হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে আহত করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ওই শিক্ষার্থী। বর্তমান শিক্ষার্থী ও তার আত্মিয় স্বজনরা কিশোর গ্যাং এর উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন। ইতোপূর্বে এই দলের ছেলেরা বিজিবির উপর হামলা চালায়। এছাড়া বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে মারধর, কখনও বা পদ্মা নদীর তীর ঘুরতে আশা অতিথিদের উপর হামলা চালিয়ে চুরি ও ছিনতাই করা তাদের দৈনন্দিন কাজ।

জেলার চারঘাট উপজেলার কুঠিপাড়া গ্রামের আকবর পাপ্পুর ছেলে শরিফকে (২২) শনিবার সন্ধ্যায় বিশাল নামে এক কিশোর মোবাইল ফোন করে পদ্মা নদীর (অচিন তলা) তীরে দেখা করতে বলে। ঘটনার পরস্পর টুটুল নামের একজনের প্রসঙ্গ নিয়ে শরিফকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলােপাতারি মারধর শরু করে। একপর্যায় শরিফের চিৎকারে স্থানীয় কিছু লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
শনিবার রাত ৯টায় আহত শরিফের বক্তব্যে জানাযায়, সে রাজশাহী কলেজের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের পরিক্ষার্থী। বর্তমান তার পরিক্ষা চলমান রয়েছে। গত শুক্রবার গ্রামের জামে মসজিদের কাছে মৃত সিদ্দিকের ছেলের সাথে বাকবিতন্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়। তখন টুটুল দাবি করে উচ্চ স্বরে বলে, তোকে গুন্ডা দিয়ে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিব। কথা কাজের মিলে শনিবার সন্ধ্যায় শরিফকে হত্যার উদ্দ্যেশে হামলা করা হয়। হামলাকারিরা হলো-উপজেলা থানাপাড়া গ্রামের (বর্তমান নতুনপাড়া) কালামের ছেলে বিশাল, নুতনপাড়া গ্রামের সাজ্জুলের ছেলে রবিন, সবুজের ছেলে জিবন, মঞ্জরের ছেলে অন্তর, এক্কাবরের ছেলে সিজার এবং কাজুর ছেলে রাতুল। এই বিষয়ে পৌরসভার ৪ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর মোজাফ্ফর বলেন, শুক্রবার ঘটনাস্থলে তিনি উপস্থিত থেকে বিষয়টি মিটিয়ে দেন।
আনিত অভিযোগ বিষয়ে টুটুল বলে, কে বা কারা তাকে মারধর করেছে তা সে জানে না। শনিবার তাদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায় শরিফের আত্মিয় স্বজন। এছাড়া ওই শরিফ তার ভাগিনাকে ইভটিজিং করে বলে দাবি করেছে। প্রায় এক বছর যাবত এই কাজ সে করে যাচ্ছে। যার দরুন তার বাবা পাপ্পুকে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের পাল্টা জবাবে পাপ্পু বলেন, তার ছেলে রাজশাহী কলেজে অর্নাস শেষ বর্ষের ছাত্র। সে এই ধরনের জঘন্য কাজ করতে পারে না। সর্বোপরি তার ছেলে অপরাধি হলে আইনের আশ্রয় নিবে, কিন্ত শরিফকে হত্যার উদ্দ্যেশে হামলা করা হয়েছে।
চারঘাট মডেল থানার ওসি জাহাঙ্গির আলম বলেন, উভয় পক্ষের বিষয়টি তিনি অবগত আছেন। এই বিষয়ে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।