ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : ভারতের মালদোহা জেলার কালী মন্দির সীমান্তবর্তী নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলায় মাদকের ছোঁবলে বেপরয়া হয়ে উঠেছে মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীরা। উপজেলার প্রায় ৮২ টি পয়েন্টের বিভিন্ন প্রকার মাদক দ্রব্যের সিন্ডিকেটে সাধারন মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ । চলামান করোনা ভাইরাসের লকডাউনে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার নতুন মাদক সেবকদের আনাগোনা প্রায় দেখা যায়। পবিত্র মাহে রমমজানেও বন্ধ নেই মাদক বেচা কেনা।
উপজেলার সীমান্তবর্তী পাতাড়ী ইউনিয়নের কলমুডাঙ্গা, বলদিয়াঘাট, সাঁতালপাড়া, চৌমুহনী, মুচিপাড়া, কাড়িয়া পাড়া, শিমুলডাঙ্গা, পাতাড়ী দক্ষিনপাড়াসহ মোট ১০টি স্পটে, আইহাই ইউনিয়নের আশড়ন্দ তাঁতপুকুর, মুংরইল, বেলপুকুর, কল্যানপুর, কোঁচপুকুর, সরলী, সুন্দরইল, মধইল, মালিপুর কুচিন্দরী, আইহাই বরোয়ালীতলাসহ মোট ১২টি স্পটে, শিরন্টি ইউনিয়নের বাউলডাঙ্গা, শিতলডাঙ্গা তালতলা, লালডাঙ্গা, মরাডাঙ্গা, পাগলার মোড়, শিরন্টি আদিবাসী পাড়া, রাইপুর আদিবাসীপাড়া, বিণ্যাকুড়ী, কৈকুড়ী, রামরামপুর আশ্রয়ন ও আবাসন প্রকল্পসহ মোট ১৫টি স্পটে, গোয়ালা ইউনিয়নের হাপানীয়া, বিরামপুর, ফজিলাপুর, কামাশপুর, নিশ্চিস্তপুর, আদমা দিঘী, গোয়ালা আদিবাসীপাড়া, হিন্দুপাড়া, রোদগ্রাম, দিঘীর হাট টাওয়ার পাড়া, মোন্না পাড়া, দিঘীরহাট কাঁচা বাজার, কোঁচকুড়লিয়া, ভিকনা, দিঘীপাড়া, হিন্দুপাড়া, লক্ষিতলাসহ ১৫টি স্পটে, তিলনা ইউনিয়নের, দোয়াস দিঘীপাড়া, তিলনা বাজার, তিলনা ধন্ডিপাড়া, তেলীহার শষান, চ্যাংকুড়ী, জামালপুর, জিনারপুর আদিবাসীপাড়াসহ মোট ১০টি স্পটে। সাপাহার সদর ইউনিয়নের গোডাউন পাড়া, লালমাটিয়া, করল ডাঙ্গাপাড়া, মানিকুড়া, জয়পুর গুচ্ছগ্রাম, তুড়িপাড়া, হাড়িপাড়া, পালপাড়া, বাহাপুর, তাজপুর, জয়পুর, নতুন বাসস্ট্যান্ড, সিএন্ডবিপাড়া, মরাপুকুর, ফুরকুটিডাঙ্গা, লক্ষিপুর দিঘীর পাড়, নুরপুর গুচ্ছগ্রামসহ মোট ২০টি স্পটে দীর্ঘ দিন ধরে বাংলা মদ, চোলাই মদসহ বিভিন্ন ধরনের নেশা দ্রব্য যেমন হিরোইন, ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল, ভারতীয় মদ অবাধে ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, লালডাঙ্গা গ্রামের এক মাদক ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রী উভয় মিলে গত ৩০ বছর যাবত তার মাদকের ব্যবসা চলমান রয়েছে। নতুন নতুন কৌশলে মাদক কেনাবেচা করছে। এছাড়াও কিছু পয়েন্টে বংশানুক্রমে চলছে মাদক ব্যবসা। মাদকসেবীরা সকাল- সন্ধ্যায় বিভিন্ন ফলের বাগানে, শপিংমলের সৌচাগার, কলেজ মাঠগুলোর কোনাকানিতে, সড়ক, মহাসড়কের পাশে, মার্কেটের পিছনে মাদকসেবন করছে নতুন প্রজন্মসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নওগাঁ কার্যালয়ের পরিদর্শক সবুজ চন্দ্র দেবনাথ জানান, ১১ টি থানায় মাত্র ৬ ব্যক্তি দিয়ে চলছে মাদক নিয়ন্ত্রণের কাজ। জনবল সংকটের কারণে পুরোপুরি মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সঠিক তথ্য পেলে আমরা মাদক ব্যবসায়ীদের কবজায় নিতে পারব। গত মাসে প্রাইভেটকারসহ ৬১ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেকুর রহমান সরকার জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে সাড়াশি অভিযান চলামান আছে। মাদকাসক্তি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। উপজেলার ৩৪ কিলোমিটার জুড়ে সীমান্ত এলাকা। এই এলাকার কিছু অংশে ভারতীয় তার কাঁটা নেই। চলমান সময়ে করোনা নিয়ন্ত্রণের মাঝেও পুলিশের কঠোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ওসি সাপাহারবাসীর কাছে মাদক নিয়ন্ত্রনে সঠিক তথ্য প্রত্যাশা করেছেন। মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গত ছয় মাসে মাদক সংক্রান্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষ থেকে ও গত ৩মাসে মাস কোন মামলা থানায় হয়নি।
