×

বাঘার চাঞ্চল্যকর মোবাইল ব্যবসায়ীর হত্যার রহস্য উদঘাটন

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলার মোবাইল ব্যবসায়ী মৃত জহুরুল ইসলাম হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিহত ব্যাক্তি জেলার বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম এলাকার রফিকুলের ছেলে। রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার জনাব এ বি এম মাসুদ হোসেন, বিপিএম (বার) বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে এ বিষয়ে বিভিন্ন রকম দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অতঃপর পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিউর রহমান সিদ্দিকি এর দিকনির্দেশনায় চারঘাট সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার নুরে আলম একটি টিম নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে আসামি মাসুদ রানা ও আমিনুল ইসলাম শাওনকে তাদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা আসামীরা হলো আকমল নাটের জেলার লালপুর থানাধীন বালিতিতা ইসলামপুর গ্রামের হোসেনের ছেলে মাসুদ রানা (২৬), আমিনুল ইসলাম শাওন (৩০) সে নাটোর জেলার লালপুর থানাধীন কাজিপাড়ার মৃত সানাউল্লাহর ছেলে এবং রাজশাহী জেলার বাঘা থানাধীন জোতকাদিরপুর গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে মেহেদী হাসান রকি (২৩)।

আসামিদ্বয়ের দেয়া তথ্যমতে আসামি মহেদী হাসান রকিকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময় আসামি রকির বাড়ি থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ২৮ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিগণ স্বীকার করে জানায়, ভিকটিম জহুরুলের নিকট থেকে আসামি মাসুদ রানা ও আমিনুল ইসলাম শাওন বাকিতে মোবাইল ফোন ক্রয় করে। জহুরুল মোবাইলের টাকার জন্য তাদের চাপ দিলে তারা টাকা না দেওয়ার জন্য জহুরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। অতঃপর ঘটনার ৫ তারিখ সন্ধ্যাবেলা ভিকটিম জহুরুল আড়ানী হতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে আসামি মাসুদ রানা ও আমিনুল ইসলাম শাওন তাদের পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক মোবাইলের টাকা দিতে চেয়ে কৌশলে ভিকটিম জহুরুলকে ঘটনাস্থলের আম বাগানে ডেকে নেন। ভিকটিম জহুরুল ঘটনাস্থলে আসলে আসামিদ্বয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জহুরুল ইসলামকে হত্যা করে তার নিকটে থাকা ২৫,০০০/-(পঁচিশ হাজার) টাকা ও বিভিন্ন কোম্পানির ২৮ টি মোবাইল নিয়ে যায়। এরপর আসামিরা উক্ত ২৮ টি মোবাইল আসামি মেহেদী হাসান রকির নিকট রাখে। গ্রেফতারকৃত আসামি মাসুদ রানা ও আমিনুল ইসলামকে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। বর্তমানে আসামিগণ জেল হাজতে রয়েছে।

ভিকটিম জহুরুল ইসলাম বাঘা থানাধীন পানিকুমড়া বাজারে মেহেদী হাসান মনি এর টেলিকম ও ইলেক্ট্রনিক্সের দোকানে সেলস্ ম্যান হিসেবে চাকরি করতো। ভিকটিম জহুরুল প্রতিদিন সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার দিকে মনি এর দোকান হতে বিভিন্ন কোম্পানীর মোবাইল ফোন নিয়ে বিভিন্ন বাজারে মোটর সাইকেল যোগে দোকানে দোকানে গিয়ে বিক্রি করে এবং টাকা পয়সাসহ ফিরে আসে। কিন্ত গত ০৫-০১-২০২১ খ্রিঃ জহুরুল মোবাইল বিক্রি করতে গিয়ে আর ফিরে না আসায় তার পরিবারের লোকজন মোবাইলে ভিকটিমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করতে থাকে। ০৬ তারিখ সকাল অনুমান ০৭.০০ ঘটিকার দিকে ভিকটিমের মৃতদেহ বাঘা থানাধীন তেথুলিয়া শিকদারপাড়া (কামারপাড়া) গ্রামস্থ আলহাজ্ব সাবাজ উদ্দিন পিতা-মৃত রমজান আলীর আম বাগানের মধ্যে পাওয়া গেলে ভিকটিম এর ভাই রুহুল আমিন বাদী হয়ে গত ৬ তারিখ অজ্ঞাতনামা আসামি করে বাঘা থানার মামলা নং-০৬ ৩৯৪/৩০২/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করে।