ওবায়দুল ইসলাম রবি ও হাসনুজ্জামান, রাজশাহী : বাংলাদেশে সরকার নির্ধারিত মূল্যে জমির দলিল নিবন্ধনের নজির নেই বললেই চলে। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী জমি কেনার দলিল নিবন্ধন করতে গিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে রাজশাহীর পবা উপজেলার লোকজন।
পূর্বে দলিলের মূল্যের ২ শতাংশ হারে রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হতো। তবে দলিলে লেখা মূল্য ৫ হাজার টাকার বেশি না হলে সর্বনিম্ন ফি ছিল ১০০ টাকা। জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য বর্তমান সরকারের আইন মন্ত্রণালয় আগের আদেশ সংশোধন করে জমির রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) ফি দলিলে লেখা দামের ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করেছে। নতুন এই আদেশে আরও বলা হয়েছে, দলিলে লেখা মূল্য ১০ হাজার টাকার বেশি না হলে জমির দামের ১ শতাংশ রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। দলিলে লেখা মূল্য ১০ হাজার টাকার বেশি হলেও রেজিস্ট্রেশন ফি ১ শতাংশই থাকবে। তবে সেক্ষেত্রে কোনও নূন্যতম ফি নির্ধারণ করা হয়নি।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে পবা উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসে যাবার পর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী ও দলিল লেখক বলেন, ‘নতুন আইন অনুসারে প্রতি এক হাজারে দশ টাকা নেওয়ার নিয়ম হলেও পূর্বের আইন অনুসারে প্রতি এক হাজারে বিশ টাকা রেজিষ্ট্রেশন ফি বাবদ আদায় করা হচ্ছে। অর্থাৎ দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারির নির্দেশক্রমে প্রতি হাজারে যে দশ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে তার শতকরা ত্রিশ টাকা যে দলিল লেখক দলিল লেখেন তিনি পান আর বাঁকি সত্তর টাকা দলিল লেখক সমিতিতে জমা রাখা হয়। মাস শেষে কোন দলিল লেখক কতগুলো দলিল লিখেছেন তার উপর ভিত্তি করে বন্টন করা হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে পবা মোহরি বার সভাপতি আয়নাল হক বলেন, ‘অভিযোগ ভিত্তিহীন। পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া হয়।বেশি টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।’ অভিযোগে বিষয়ে পবা সাব-রেজিষ্টার বাদল কৃষনো বলেন, ‘আনিত অভিযোগের বিষয়টি বানোয়াট। টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী জেলা রেজিস্ট্রার ইলিয়াস ফকির বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
