রাজন্য রুহানি, জামালপুর: অভিনব কায়দায় গিলে পেটের ভেতরে ইয়াবার প্যাকেট রেখে তা মলদ্বার দিয়ে বের করে বেচাকেনা করছিল একটি চক্র। গোপনে এই তথ্য পেয়ে অভিযান চালায় র্যাব। সন্দেহভাজন ওই চক্রের দুই যুবককে আটক করে হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করানোর পর পেটে ইয়াবার অস্তিত্ব মেলে। তারপর মলদ্বার দিয়ে বের করে আনা হয় ৯৭৫ টি ইয়াবা।
আটক দুই যুবকের একজন মো. আনোয়ার সাদেক (১৮) বান্দরবনের লামা উপজেলার ভূলা হাজরা গ্রামের মো. ইমাম হোসেনের ছেলে। আরেকজন কক্সবাজারের ঈদগাহ উপজেলার ভাদিতলা কলেজ গেইট এলাকার মো. নাসির আলমের ছেলে মো. রিয়াজ উদ্দিন (১৮)।
রোববার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জামালপুর সদর উপজেলার গহেরপাড়ায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই ইয়াবা কারবারিকে আটক করে র্যাব-১৪। সোমবার (৮ নভেম্বর) ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিক উজ্জামান গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
র্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, আটককৃত আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্নস্থানে ইয়াবা বেচাকেনা করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় জামালপুর সদর উপজেলার গহেরপাড়ায় এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় জানা যায় যে, আসামি আনোয়ার সাদেক ৯৭৫ পিস ইয়াবা পেটের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে রিয়াজ উদ্দিনের সহযোগিতায় কক্সবাজার থেকে জামালপুর আসার পর পায়ুপথ দিয়ে ইয়াবাগুলো বের করে ক্রেতার কাছে দেয়ার কথা ছিল। তাদের আটক করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে আনোয়ার সাদেককে শারীরিক পরীক্ষা করানো হলে তার পেটে ইয়াবার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। হাসপাতালের সার্জারী বিভাগে ভর্তি করে রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার পেটের অভ্যন্তরে থাকা ৯৭৫ পিস ইয়াবা মলদ্বার দিয়ে বের করেন। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ঘটনায় রাতেই জামালপুর সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আজ সোমবার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
