মোহাম্মদ আলম, গাজীপুর : ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে ১১ জন ছুটি নিয়েছে নতুন ভর্তি হয়েছে ১৭ জন। তাছাড়া পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ পাওয়া গেছে ৫৫ জন। ৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতালে ৩০ শয্যা ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ওয়ার্ডের চিত্র এটি। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সময়মত ডেঙ্গু মশার লার্ভা বিস্তার রোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক(আরএমও) মোঃ পারভেজ হোসেন জানান, টঙ্গীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়ায় গাজীপুরের জন্য গত ১ জুলাই এই হাসপাতালে ৩০ শয্যা ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করা হয়েছে। সেদিন থেকে একটি শয্যাও খালি নেই। রোগীর লাইন লেগে আছে। সবশেষ ১১ সেপ্টেম্বর ২৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে।
জানা গেছে, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালিগঞ্জ, সদর সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, তায়েরুন্নেছা হাসপাতাল, ইমপেরিয়াল হাসাপাতাল, ক্যাথারসিস হাসাপাতালেও ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। সাধারণত অবস্থা বেশী খারাপ হলেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে রোগীরা। অধিকাংশ রোগি বাড়িতে চিকিৎসা নেয়।
সরজমিনে দেখা গেছে, হাসাপাতালের নতুন ভবনের ৬ষ্ঠ তলার ডেঙ্গু ওয়ার্ডের ফ্লোরে রেখে রোগীকে স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। পুরুষ এবং নারী দুই ওয়ার্ডেই কোন শয্যা খালি নেই। অপরদিকে হাসাপাতালের পরীক্ষাগারে ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে রোগীদের লম্বা লাইন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ল্যাব সহকারি জানান, ০৯ সেপ্টেম্বর ৫৫ জন ডেঙ্গু পজিটিভ পাওয়া গেছে। প্রতিদিনের পরীক্ষায় গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী ডেঙ্গু পজিটিভ হচ্ছেন।
ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের অধিকাংশই ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাছাড়া গাজীপুরের অন্যান্য এলাকার রোগিও আছে।
৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ আবুল হোসেন জানান, নিয়মিত মশার ঔষধ ছিটানো হচ্ছে। তাছাড়া বাড়ির চারপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে মানুষকে সচেতন করার কাজও চলছে পুরোদমে।
তবে বাস্তবতার সাথে কাউন্সিলরের কথার সত্যতা পাওয়া যায়নি। মধ্য আরিচপুর এলাকার পায়েল ঘোষ এবং কাজল নামের দুইজন রোগী ডেঙ্গ পজিটিভ হেয় ১১ সেপ্টেম্বর হাসাপাতাল ভর্তি হয়েছেন। একইভাবে আরিচপুর এলাকার খোরশেদা (৪৫) ৩ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে কিছুটা সুস্থ। তাদের ভাষ্য, গত ৩/৪ দিন এলাকায় মশার ঔষধ স্প্রে করা তাদের নজরে পরেনি। কেহ কোন খোঁজও নেয়না। এলাকায় মশার প্রকোপ কোনভাবেই কমছে না।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ নম্বর জোন(টঙ্গী) এলাকার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ সোহারাব হোসেন মুঠোফোনে জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে ২ট করে ফগার মেশিনে নিয়মিত মশার ঔষধ স্প্রে করা হচ্ছে। তাছাড়া মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃস্টির জন্য ক্র্যাশ প্রগ্রাম চলমান।
গত কয়েক বছরের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ একটু বেশী জানিয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ খায়রুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু রোগ প্রতিকারের চাইতে মশার লার্ভার বিস্তার প্রতিরোধ করা বেশী জরুরী। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের সাথে নিয়মিত সমণ¦য় করা হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসায়ই ভালো হচ্ছে। গাজীপুরে হাসপাতালে ভর্তিদের মাঝে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে কোভিড-১৯ কে বেশী গুরুত্ব দেয়ায় ডেঙ্গুর বিষয়টি অবহেলার কারনে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
