ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : রাজশাহী নগরীতে অনুমোদনহীন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো চিকিৎসার নামে রোগীদের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের প্রাচীরের সংলগ্ন এবং পায়ে হাটা দূরত্বে ওই ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কৌশলে এসব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কাছে জিম্মি হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের এই প্রতরাণা ফাঁদ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রকৃত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, রাজশাহী সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দপ্তরকে ম্যানেজ করেই এসব প্রতিষ্ঠানে চলছে রোগীর মাণহীন চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের কাজ। ফলে অনেকাংশে প্রতারণার শিকারও হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, রাজশাহী বিভাগে মোট ৯৬০ টি বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল রয়েছে। যার মধ্যে রাজশাহী জেলায় ১৫৭টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। তবে নগরীর ৪০টি ক্লিনিক ও হাসপাতাল এবং ৮০ ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে (১২০টি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান) নিয়ে গঠিত করা হয়েছে রাজশাহীর প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।
স্বাস্থ্য অধিপ্তরের নির্দেশে গতকাল রবিবার থেকে অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার কথা রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক বিভাগের পরিচালক ডাক্তার ফরিদ হোসেন মিঞা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৯ নভেম্বর ওই চিঠিটি প্রতিটি বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সিভিল সার্জনকে দেওয়া হয়েছে। ওই চিঠির সূত্র মতে আগামী ০৩ দিনের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলার অনিবন্ধিত, অবৈধ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে পরিচালিত এবং সেবার মান খারাপ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক স্বাস্থ্য অধিপ্তরের পরিচালকের দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেয়া আছে।
সোমবার সকালে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানাযায়, রাজশাহীর অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার হলো দালাল কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। দালালদের মাধ্যমেই রোগীদের প্রতারণা করে চিকিৎসার নামে ব্যবসা করছে ওই সকল প্রতিষ্ঠান। ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবন্ধনহীন বা নবায়নযোগ্য নয় এমন অন্তত ১৪টি প্রতিষ্ঠানের তালিকার সন্ধান পাওয়া গেছে। তাছাড়া অধিকাংশই প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নিলেও পরবর্তিতে নবায়নযোগ্য নয়। জনবল ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের সংকট এবং অধিকাংশ ক্লিনিকের নেই নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। রাজশাহীর প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মখলেসুর রহমান বলেন, ‘অনেকে ক্লিনিক চিকিৎসা সেবার নামে প্রতারণা করছে। অবৈধ কোনো প্রতিষ্ঠান যেন ব্যবসা করতে না পারে সে জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ১০ থেকে ৫০ বেডের হাসপাতাল বা ক্লিনিকের জন্য লাইসেন্স বা নবায়ন ফি বিভাগীয় বা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫০ হাজার টাকা, জেলা পর্যায়ে ৪০ হাজার ও উপজেলা পর্যায়ে ২৫ হাজার টাকা। ৫১ থেকে ১০০ বেডের বেসরকারী হাসপাতালের জন্য ফি একইভাবে পর্যায়ক্রমে ০১ লাক্ষ টাকা, ৭৫ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা। তবে নগরীর অনুমোদন প্রাপ্ত অধিকাংশ ক্লিনিকই কাগজে-কলমে ১০ বেডের কিন্ত বাস্তবে প্রয়োজনীয় এর চাইতে বেশি বেড বসিয়ে রোগী ও সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
রাজশাহী জেলার সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক বলেন, রাজশাহী মহানগরীসহ জেলার ৯টি উপজেলার রেজিস্ট্রেশন বিহীন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তালিকা করা হয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান করা হবে ।
