×

মানব ইতিহাসে করোনা মাহামারির সাক্ষি হলাম

মোহাম্মদ আলম : মৃত্যু সংবাদে ঘুম ভেঙেছে। গাজীপুরে সাংবাদিক রোমান শাহ আলমের মৃত্যু হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এই সম্মুখ সারির করোনাযোদ্ধা। একদিন আগে মারা গেছেন নাজমা খালা। তিনিও করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধিন ছিলেন। করোনা মহামারি বিশ^কে টালমাটাল করেছে। মানুষ অন্য অনেক কিছুর মত করোনা নিয়েও হেলা-ফেলায় মেতেছিলো। করোনা ভাইরাস সাক্ষাত যমদু হয়ে হেলাফেলার প্রতিশোধ নিচ্ছে।

গত আগষ্ট মাসের ১৮ তারিখে আমি করোনা আক্রান্ত হই। তখন গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। প্রথমে হালকা জ্বর জ্বর ভাব ও ক্ষুধামন্দা। ধীরে ধীরে জ্বর তীব্র হতে থাকে। টাকা ১৫ দিন জ্বরে ভুগেছি। পুরোপুরি সুস্থ বলতে পারবো না। এখনো শরীরে ক্লান্তি ভর করে। তবে চেষ্টা করছি স্বাভাবিক হতে। আমি নিজেও করোনার ভয়াবহতার সাক্ষি। এটা যে কতোটা যন্ত্রণাদায়ক। একমাত্র ভুক্তভোগিই জানে।

জীবন থেমে থাকে না। আমরাও এগিয়ে চলেছি। আজ হতে শত বছর বা আরো পরে মানব জাতি এই করোনা মহামারি নিয়ে কতো গবেষনাই না করবে। আমরা আতংকে আছি। আমরা আক্রান্ত হয়েছি। তবে থমকে যাইনি। আমরাও নিত্য বাজারে যাই। কাজকর্ম করি। বেড়াতেও গিয়েছিলাম। করোনা মহামারি মানব ইতিহাসে হয়ত ক্ষত সৃষ্টি করবে। তবে চুড়ান্ত বিজয়ী হিসাবে মানুষেরই অস্তিত্ত্ব টিকে থাকবে। ওই শত বছর পরে আপনারা আমাদের জ¦জল্যমান সাক্ষি হিসাবে এই লেখা পরবেন।

জীবন বেশ স্বাচ্ছন্দেই কেটেছে। দুই সপ্তাহ পর আজ ৯ এপ্রিল ২ হাজার ২১ টঙ্গী সফিউদ্দিন বাজারে গিয়েছি। গলির ভ্যান থেকেই কাঁচা সবজি খরিদ করতে। আর মুদিতো আছেই। তবে মাছ মাংসের জন্য বাজারে যেতেই হয়। চেষ্টা করি বাজারে কম যেতে। আগে সপ্তাহে একবার যেতাম। এখন ১৫ দিনে যাচ্ছি। করোনাকালের বাজারও যেন হাফিয়ে উঠেছে। মাছ মাংস সব কিছুর দাম চড়া। রুই মাছ কিনেছি ২৬০ টাকা কেজি দরে। নদীর বেলে মাছ নিলাম আধা কেজি ৩৫০ টাকা। গুদা চাপিলা ২৫০ গ্রাম ৫০ টাকা। পাকিস্তানি কক জাতের মুরগি কিনলাম দুটা ২৮০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৬০০ টাকা কেজি দরে দেড় কেজি। তিতা পাট শাক দুই মুটা ২৫ টাকা। টমেটো এক কেজি ২৫ টাকা। পোলাও চাল এক কেজি ১০০ টাকা। আড়াইশ গ্রাম কাঁচা মরিচ, আধা কেজি লম্বা বেগুন, দশ টাকার ধনিয়া পাতা, আধা কেজি গাজর, আধা কেজি শশাও নিলাম। এক ফানায় ১৪টা বেশ পুষ্ট শবরি কলা নিয়েছি।

বাজার নিয়ে রিক্সায় ফেরার পথে প্রতিবেশী মমিনউল্লাহ ভাই ডাকলেন। টঙ্গী আউচপাড়ায় কলেজ রোডে তার বাড়ির সিড়ির নীচে একটা চা দোকান আছে। পরে বাজার বাসায় পৌছে তার সাথে চায়ের আড্ডা দিলাম। মমিনউল্লাহ ভাই ব্যবসায়ী। টঙ্গী বিসিকে তার কারখানা। দেশের হাল হকিকত নিয়ে বেশ খবরা খবর রাখেন। স্বাভাবিকভাবেই দেশের আলোচিত মামুনুল হকের কথা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আড্ডায় আরো জনা চারেক মানুষ ছিলো। সবাই দেখলাম মামুনুল হকের ব্যপারে খোঁজ রাখেন। রিসোর্টে যাওয়ার ঘটনা প্রকাশ বা কল রেকর্ড প্রচারের বিষয়টি এসব মানুষ ভালভাবে নেয়নি। সাধারণ মানুষ রাজনীতি করে না। তবে আমাদের দেশের একজন চা দোকানী বা রিক্সা চালকও রাজনীতি সচেতন। সুযোগ পেলেই মতামত ব্যক্ত করে। এখানেও সবাই বিষয়টি নিয়ে সরকারের বাড়াবাড়ি বলে মতামত ব্যক্ত করলেন। তবে এটা বলতেও ভুল করলেন না যে, মামুনুল হকের মত একজন মানুষের বর্তমান পরিস্থিতিতে এভাবে রিসোর্টে যাওয়া ঠিক হয়নি।

শেষ করবো করোনা অ-সচেতনতার বিষয়ে বলে। আমরা করোনা ভাইরাসকে থোরই কেয়ার করছি। সরকার বিভিন্নভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করেও কুল কিনারা পাচ্ছে না। কারন মানুষ মানছে না। বাজারে গিয়ে তাই দেখলাম। মানুষের প্রচন্ড ভির। অনেকের মুখে মাস্ক নেই। সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। বাজারও মিলেছে স¦াভাবিকভাবে। কালই করোনায় রোমান আলমের মত পরিচিত কারো জীবনাবসান হতে পারে। তবে জীবন থেমে থাকবে না। জীবন চলমান। আজীবন।
০৯/০৪/২০২১

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *