মোহাম্মদ আলম : মানবতার জননী শেখ হাসিনা আপনার কাছে আবেদন রোজিনা ইসলামকে মুক্তির ব্যবস্থা করুন। ওইসব আমলাগণ দূর্ণীতি পরায়ন । দূর্ণীতি করতে করতে তাদের লোভ লালসা এতটা বেড়েছে যে এখন সরকার যন্ত্রটাই খেতে চায়। নিজেদের অপরাধ লোকাতে গণমাধ্যমকর্মীদের অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সরকারের মুখোমুখি দাড় করাচ্ছে। আপনি কি দেখছেন না একের পর এক আমলার দূর্ণীতির কারনে আপনার অনেক ভাল অর্জন ম্লান হচ্ছে। সাংবাদিক রোজিনাকে মুক্ত রেখে ওইসব দূর্নীতিবিদ আমলাকে কারাগারে দিলে দেশ সত্যিকার এগিয়ে যাবে।
নথি চুরির যে কারনে রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটা যে সাজানো তা খুব সহজেই বুঝা যায়। একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী হয়েও তিনি যেভাবে আমলাদের সাফাই গেয়েছেন তা অনভিপ্রেত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনার সরকারের গতিশীল ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছেন। তিনি বির্তক সৃষ্টি করছেন। নিজের ব্যক্তিগত সমস্যা লুকাতে সাংবাদিকদের সরকারের মুখোমুখি দাড় করিয়েছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একজন জেবুন্নেসার হাতে স্বাস্থ্য নামে আলাদিনের চেরাগ। যেখানে ঘষাও লাগে না কলমের খোঁচা দিলেই ধন সম্পদের নহর বয়। কই আপনার ত্যাগী নেতারা যাদের দিন রাত পরিশ্রমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তারাতো সম্পদের পাহাড় গড়তে পারেনি। আর আপনার সরকারে অধিকাংশ মন্ত্রীও বেশ সুনামের সাথেই জনসেবা করে আসছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রলায়ের দূর্ণীতি এমন পর্যায়ে পৌছেছে। আপনার হস্তক্ষেপ জরুরী।
হে বঙ্গবন্ধু কণ্যা যাদের কারনে সাংবাদিকরা রাজপথে নামার সুযোগ পায় তারা আপনার সরকারের শুভাকাঙ্খি না। সাংবাদিকরাই আপনার এবং আপনার সরকারের শুভাকাঙ্খি। রোজিনা ইসলাম বা যারাই ওইসব আমলাদের দূর্ণীতির খবর অনুসন্ধান করে বের করে। তারাতো তাদের কাজটাই করে থাকে। আমাদের কাজটাই করতে দিন।
আবারো আবেদন হে মানবতার জননী রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিন। সাবেক একজন স্বাস্থ্য সচিবের বিরুদ্ধে এই রোজিনা ইসলামই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মুখোশ উন্মোচন করেছেন। তা কিন্তু সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বাধ্যতামূলক অবসরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোজিনা ইসলাম বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ভিত্তিতে সাংবাদিকতা করে। সরকারের ভিতরে নিভৃতে বেড়ে উঠা আমলারুপি হায়েনাদের বিরুদ্ধে। সরকার যত স্বাস্থ্যবান হচ্ছে ওইসব হায়েনারা ততই খুবলে নিচ্ছে। রোজিনারা তাদের স্বরুপ উন্মোচন করে। এটা কোনভাবেই সরকার বিরোধী কাজ হতে পারে না। আজ রোজিনা ইসলামকে গ্রেপ্তার মানে গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তার। আমরা সাংবাদিক সমাজ আজ কারারুদ্ধ।
হে মানবতার জননী আপনি একজন সাংবাদিক বান্ধব হিসাবে আমাদের কাছে অত্যন্ত শ্রদ্ধার। আপনিইতো এই করোনাকালের ঈদে ১০ কোটি টাকা অনুদান দিলেন। সেজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। আপনিই আমাদের শেষ ভরসাস্থল। আপনাকে বলছি। গণমাধ্যমকে যারা সরকারের মুখোমুখি দাড় করাচ্ছে তাদের ক্ষান্ত করুন। গণমাধ্যমকে নয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মুক্তি দিন।
লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
