×

প্রাণহীন এই শহরের ইতিকথা

মোহাম্মদ আলম : ভোরে ঘুম থেকে জেগে আর মা’য়ের ডাক শুনিনা। মনটা ভারাক্রান্ত হয়। ভারাক্রান্ত মনেই স্মরণ করি আমৃত্যু যেন এভাবে মায়ের কথা মনে পরে। হৃদয়ে অনুভুত হয়। স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেক মা’ই প্রত্যাসা করেন তার সন্তান ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় কিছু হোক। আমার সহজ-সরল মা কখনো সেসব কিছু বলতেন না। ছোট বেলায় আমার মা প্রায়ই আমাকে বলতেন, ‘মানুষের মত মানুষ হ’। মা’ ছাড়া পৃথিবী ক্রমশই আমার হৃদয়ে প্রাণহীন লাগছে। মা আমাকে ক্ষমা করো। হে রহমতের মালিক পরোয়ারদিগার আমার মাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন।

এক সপ্তাহ পূর্বে মা’য়ের ইন্তেকালের পর খুব অসহায়ত্ব বোধ করছিলাম। তখন সর্বাগ্রে গাজীপুর সিটি মেয়র মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সান্তনার বাণী নিয়ে পাশে থেকেছেন। যখন আমি করোনা আক্রান্ত হয়ে গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। তখনো কিন্তু জানতে পেরে গাজীপুর থেকে মেয়র মহোদয় আমার সাথে কথা বলে খবর নিয়েছেন। প্রতিদিন কোন না কোন খবরের কাগজে মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের খবর দেখে অভ্যস্ত। সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ক্রল করলেই ভেসে উঠে মেয়রের কর্মকান্ডের চিত্র। কখনো ভিডিওতে দেখা যায় তিনি রাস্তায় বোল ডোজার চালাচ্ছেন। কখনোও বা ড্রেনে উকি দিয়ে দেখছেন। চারদিকে তার নজর। একজন প্রকৃত অভিভাবক যেমন সংসারের সব খবরা-খবর রাখেন। মেয়র জাহাঙ্গীর আলমও তেমনি এই মহানগরের রাখেন।

গত কয়েকদিন যাবৎ মেয়র মহোদয় করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিরচেনা এই মহানগর কেমন যেন প্রাণহীন। গাজীপুর নগরের রাজপথে প্রাণের চাঞ্চল্য থমকে আছে। সবাই আছে। সবকিছু চলছে। কেন যেন মনে হচ্ছে । এই শহরের প্রাণ নেই।

মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন মানুষের মাধ্যমেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন করেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসাবে জাহাঙ্গীর আলম যখন অলিতে গলিতে বিচরণ করেন। তখন শুধুই একজন মানুষের পদচারণা বলে প্রতিয়মান হয়। কিন্তু ভুমি তার সন্তানকে কতটা আপন করে নিতে পারে কেবল তার অনুপস্থিতিতেই অনুধাবন হয়। আজ যখন তিনি কিছুদিনের জন্য ঘরে আছেন। তখন এই মাটি খাঁ খাঁ করছে তার প্রাণের স্পর্শের জন্য। গাজীপুরের সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখেই তা প্রকাশিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার সংস্পর্শের কাতর আহ্বান। মেয়র মহোদয়ের পদচারনায় মুখরিত হবে এই জনপদ। এটাই সবার প্রত্যাসা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *