মোহাম্মদ আলম : ‘থানায় প্রবেশ করলে যে কারোরই মন ভাল হবে। আঙিনার একদিকে বাগানে লাল-হলুদ ফুল, পাশেই তীন ফলের গাছ। পুকুরের পারে মসজিদ। একইসাথে সেবার মানও বেড়েছে।’ এসব কথা বলছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পূর্ব থানা মসজিদে ২০ বছর ইমামতির দায়িত্বে নিয়োজিত মাওলানা মোঃ মীর জালাল উদ্দিন আনছারী।
গত কয়েক মাসে জিএমপির টঙ্গী পূর্ব থানায় একটু একটু পরিবর্তনের চিত্র দর্শনার্থী বা এলাকাবাসি সবারই নজর কেড়েছে। সরজমিনে আমাদের সময় গত সোমবার দুপুরে সেবার বিষয় নিয়েও পর্যবেক্ষণ করে।
দেখা গেছে, ৬ সেপ্টেম্বর (সোমবার) দুপুরে দত্তপাড়া থেকে মোবাইল সেট হারানোর জিডি করতে এসেছেন মাসুম নামের এক যুবক। মাসুম থানা ভবনের প্রধান ফটকের সামনে আসতেই কাচের দরজার উপরে তাকালেন। সেখানে লেখা ‘‘আমি আপনাকে কি ভাবে সাহায্য করতে পারি’’। তিনি ডিউটি অফিসারের সামনে গিয়ে বসে খুব সহজেই জিডি করেন। ডিউটি অফিসারের পাশে দর্শনার্থী এবং বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের জন্য পরিপাটি সোফাসেট রয়েছে।
সরজমিনে থানার ভিতরের পরিবেশ আরো সুন্দর। সেখানে অন্য সব থানার মতই রয়েছে- নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সার্ভিস ডেস্ক । তবে এখানে ব্যতিক্রম হচ্ছে প্রসূতি মায়েদের জন্য মাতৃদুগ্ধ পান করানোর আলাদা কক্ষ। পাশেই করা হয়েছে ভুক্তভোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ফাস্ট্র এইড কক্ষ।
জানা গেছে, পুলিশে কর্মরতদের সবথেকে বিব্রতকর হচ্ছে টয়লেট ব্যবস্থা। কারন থানার বাহিরে ডিউটিতে গিয়ে সুবিধাজনক স্থানে টয়লেট করা দূঢ়হ। সেই চিন্তা থেকেই টঙ্গী পূর্ব থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের জন্য আধুনিক এবং পরিপাটি টয়লেট করা হয়েছে।
সেবার মান বেড়েছে এ কথার যথার্থতা কিভাবে বুঝা যাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি মোঃ জাভেদ মাসুদ জানান, গত ৩ মাসে থানায় ১৫৭টি মামলা রুজু হয়েছে। তবে তারা পূর্বের পেন্ডিংসহ মোট ১৬১ টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। মানুষ বিপদে পরে থানায় আসে। থানায় এসে হয়রানি না হয়ে যেন সঠিক সেবা পায় বিষয়টি তিনি নিয়মিত তদারকি করেন বলে জানান।
একজন পরিবেশ সচেতন অফিসার ইনচার্জ হিসাবে মোঃ জাভেদ মাসুদের হাত ধরেই টঙ্গী পূর্ব থানায় এই পরিবর্তনের হাওয়া। তিনি বলেন, ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন বৃক্ষপ্রেমিক মানুষ। পৈত্রিক জমিতে আম, মালটা এবং ড্রাগন ফলের বাগান করেছেন। জিএমপির টঙ্গী পূর্ব থানায় বৃক্ষ রোপণের জন্য অনেক জায়গা। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের অংশ হিসাবে আধুনিক থানা ভবন স্থাপিত হয়েছে। তিনি চেষ্টা করছেন যেন মানুষ সেবা নিতে এসে সত্যিকার সেবার পরিবেশ পায়।
জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার(দক্ষিণ) মোঃ ইলতুৎ মিশ বলেন, যে কোন সেবা কাজের প্রথম শর্তই হচ্ছে পরিবেশ। পরিবেশ সুন্দর হলে মানুষ এমনিতেই খুশি হয়। পরে ভুক্তভোগি মানুষ যাতে সঠিক এবং কাঙ্খিত সেবা পায় এটা নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর, জিএমপি কমিশনারের এমন নির্দেশ অনুযায়ী তারা কাজ করছেন।
