×

যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ছুটছে মালবাহি ট্রাক

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : করোনাভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সরকারী নির্দেশে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ রযেছে । সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী, সংস্থা প্রতিদিনই তাদের আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন গনমাধ্যমকে। দেশে বাড়ছে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট টাইপের সংক্রমিত রোগী। সংশ্লিষ্ট থানা ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যদের মদদেই এই সিন্ডিকেট চলছে বলে মন্তব্য করেছে সচেতন নাগরীক।

সময় সরকারী নির্দেশ ঊপেক্ষা করে রাজশাহীসহ উত্তর বঙ্গের গণপরিবহন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ট্রাক, প্রাইভেট কার ও মাইক্রো যাত্রী সংগ্রহ কওে ঢাকায় যাচ্ছে। অনেক সময় রাতের অন্ধকারে অনেক নামিদামি পরিবহনের চলাচল করতে দেখা যায়। প্রতিদিন এই পরিবহন গুলো ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই ছুটে চলছে দুরপাল্লার যাত্রী পরিবহন, এমনটাই বলছেন স্থানীয়রা। রবিবার সকালের দিকে রাজশাহী ও বগুড়ার ঢাকা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার কাউন্টার খোলা রয়েছে। তবে যাত্রী পরিবহন গুলো সন্ধার পর থেকেই চলা শুরু হয়। যাত্রীবাহী পরিবহন গুলো মহাসড়ক ব্যবহার না করে নানা বাইপাস সড়ক ব্যবহার করে যাত্রীদের নিয়ে গন্তব্যস্থলে যাচ্ছে।

রবিবার রাজশাহী দেশ ট্রাভেলস কাউন্টার থেকে বের হয়ে আসা সাহিদা খাতুন (৩০) যাত্রীর সাথে কথা বলে জানাযায়, তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারী সংস্থায় চাকুরী করেন, ছুটি শেষ ঢাকায় চাকুরীতে যোগদান দিতে হবে। যাত্রী আসন প্রতি ২ হাজার করে টাকা নিচ্ছে। রাত ১০ টার সময় দেশ ট্রাভেলস এর ব্যবস্থাপনায় (রাত সাড়ে দশ টার দিকে মাইক্রো এসে থামলো কাউন্টারের সামনে যার নং-ঢাকা মেট্রো- চ – ১৯-২১৩০) মাইক্রো করে ঢাকায় যাবেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশ ট্রাভেলস রাজশাহী থেকে প্রতিদিন মাইক্রোবাসের চারটি ট্রিপে যাত্রী পরিবহন করছে। সকাল ১০ টায় প্রথম ট্রিপ, এরপর দুপুর ১২ টায়, ৩টায় এবং রাত্রী ১০ টায়।

এ বিষয়ে দেশ ট্রাভেলস রাজশাহীর প্রধান কাউন্টার এর নম্বরে (০১৭৬২৬৮৪৪০০) মোবাইলে জানতে চাইলে দেশ ট্রাভেলস এর কাউন্টার মাস্টার জাহিদ বলেন, আমাদের কোন মাইক্রো এধরনের সার্ভিস দিচ্ছে না। রবিবার রাতের ট্রিপের মাইক্রোবাসের ড্রাইভার রাজুকে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে রবিবার দিবাগত রাত ১ টা ৭ মিনিটের সময় সে সচেতন বার্তা প্রতিনিধিকে বলেন, আমি অলরেডী দেশ ট্রাভেলসের ভাড়া নিয়ে সিরাজগঞ্জে। পরক্ষনে তিনি জানান, প্রতিদিন বাস টার্মিনাল থেকে অনেক মাইক্রোবাসে যাত্রী নিয়ে ঢাকা যাচ্ছে। ঢাকা বাস টার্মিনালে দেশ ট্রাভেলসের মাইক্রোবাস সার্ভিসের বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নিবারণ চন্দ্র বলেন, এমন কোন তথ্য তাদের কাছে নেই। পুলিশ পিকআপ সবসময় টার্মিনালে অবস্থান করছে। রাজপাড়া থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান গনমাধ্যমকে বলেন, মাইক্রোবাস যাত্রী বহনের বিষয়ে কোন তথ্য তাদের কাছে নেই।

সোমবার বিকালে বগুড়া ঢাকা ট্রার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় সচিত্র। অপরদিকে বগুড়া জেলার চারমাথার মোড়ে জনসমূদ্র ঢেউ খেলছে। মরিয়া হযেছে উঠেছে ঢাকা মুখি মানুষ গুলো। কভিড-১৯ এর কোন ভীতি তাদের মধ্যে নেই। জীবন জীবিকার তাগিদে গাদাগাদি করে ছুটে চলেছে বিভিন্ন পরিবহনে। ট্রাফিক সার্জেন ও ট্রাফিক পুলিশের সামনেই চলছে এই ধরনের র্কাযকলাপ। এই বিষয়ে পথচারীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ট্রাফিক সার্জেন ও পুলিশ উৎকোচ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। করোনাভাইরাস নির্দেশনায় তাদের কর্ত্যব ভুলে গেছে। তারা শুধু সাধরন মানুষ গুলোকে হয়রানি করে, পরামর্শ বা সচেতন মূলক কোন বার্তা তাদের কাছে নেই। বিভাগীয় শহর রাজশাহীসহ উত্তন বঙ্গের একই চিত্র চলমান রয়েছে।