নিজস্ব প্রতিবেদক: আগুনে ভষ্মীভূত হওয়ার আটদিন পর চৌকি বসিয়ে অস্থায়ীভাবে বেচাকেনা শুরু করেছেন রাজধানীর বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। বুধবার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বেচাকেনা শুরু করেন তারা। ঈদের বাকি দুসপ্তাহেরও কম। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের কিছুটা হলেও ব্যবসার সুযোগ করে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। এরই অংশ হিসেবে বঙ্গবাজারের পোড়া আবর্জনা সরিয়ে বালি ছড়িয়ে সমান করা হয়েছে মাটি; এর ওপর বিছানো হয়েছে ইট।
সরেজমিনে বঙ্গবাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে ছোটো ছোটো চৌকি বসানো হয়েছে। চৌকির ওপর বিক্রির জন্য মালামাল গোছাতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা। অনেকে আবার ছাতা মাথায় বেচাকেনা শুরু করেছেন। অনেক ব্যবসায়ী মাথায় করে চৌকি নিয়ে আসছেন। ঈদ সামনে রেখে দ্রুত ব্যবসা শুরু করতে তাদের এই কর্মযজ্ঞ।
রোববার (৯ এপ্রিল) বঙ্গবাজারের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দক্ষিণের মেয়র তাপস সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “মঙ্গলবারে না হলেও বুধবার নাগাদ যেনো তারা (ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা) সেখানে চৌকি বিছিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারে, এ জন্য পরিষ্কার করার পরে সেই জায়গাটা সমতল করবো। পুরো ব্যবস্থাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন করে দেবে। তারপর চৌকি বিছিয়ে তারা সেখানে ব্যবসা শুরু করতে পারবে।”
এদিকে মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মুখপাত্র মো. আবু নাছের এ বিষয়ে জানান, ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী সালেহ আহম্মেদের তত্ত্বাবধানে, কর্পোরেশন গঠিত তদন্ত কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় অঞ্চল-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী মিঠুন চন্দ্র শীলের নেতৃত্বে অগ্নিকাণ্ডস্থল ব্যবসায়ীদের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রস্তুতির লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বঙ্গবাজারের ১.৭৯ একর জায়গাজুড়ে বালি ফেলে ও ইট বিছানো হচ্ছে। এরইমধ্যে সেখানে ৪০ গাড়ি বালি ফেলা এবং প্রায় ৯০ হাজার ইট বিছানো হয়েছে। এছাড়া পুরো এলাকায় প্রায় ২.৫ লাখ ইট বিছানো এবং প্রায় ১৫০ গাড়ি বালি ফেলা হবে। পুরো এলাকায় বালি ফেলা ও ইট বিছানোর লক্ষ্যে করপোরেশনের সংশ্লিষ্টরা নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। সোমবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকে অগ্নিকাণ্ডস্থলে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. হায়দর আলীর নেতৃত্ব এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ১০৬০ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তহবিলে সোমবার পর্যন্ত ২ কোটি ১২ লাখ টাকা জমা পড়েছে উল্লেখ করে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, “এই তহবিলের পুরো টাকা সরকারের কাছে যাবে। আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে একটা বড় অনুদান আসবে। সব মিলিয়ে এই টাকা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরকারি উদ্যোগেই বণ্টন করা হবে।”
গত ৪ এপ্রিল সকালে বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫০টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনা, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সম্মিলিত চেষ্টা চালায়। দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। কিন্তু তার আগেই আগুনে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হন বঙ্গবাজারের কয়েক হাজার ব্যবসায়ী।
