×

চারঘাট পৌর অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সরকারী অর্থের অপব্যবহার

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী (শহর): রাজশাহী চারঘাট পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়নের নামে সরকারী অর্থের অপব্যবহার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সি বিষয় শ্রেনীতে ১৯৯৮ সালে ৪ হাজার ৬শত ২৯ একর এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী চারঘাট পৌরসভা। বি শ্রেনীতে উন্নতি হয় ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে। বর্তমান প্রথম শ্রেনীতে অবস্থান এই পৌরসভার। শহর অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়ন-৩ (ইউজিপ-৩) এর কাজ চলামন রয়েছে। কিন্ত টেকশয় কাজ এবং স্থানীয় ভোগান্তীর কমতি নেই।

পৌরসভা কার্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নয়ন থাকলেও জনর্দূভোগ থেকে পরিত্রান পাচ্ছে না পৌর এলাকার বাসিন্দারা। জলাবদ্ধতা, অপরিচ্ছন্ন এবং মশার প্যানপ্যানীতে বুঝার উপায় নেই এটা প্রথম শ্রেনীর পৌরসভা। ৯টি ওর্য়াডে ৩৮ হাজার ৪ শত ৯ জন লোকের বসবাস। যার ১৯ হাজার ৮ শত ৬০ পুরুষ ও ১৮ হাজার ৫শত ৪৯জন নারী। সেবার মান শূন্যের কোটায়।

এজেলার মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্ব রয়েছে এই পৌরসভার। চারঘাট পৌরসভার মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ, একটি সরকারী কলেজসহ মোট ৫টি কলেজ, ৮টি বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, ৪টি বেসরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছ। কিন্ত প্রতিচুক্ষু দিয়ে দেখতে হচ্ছে উন্নয়ন কোথায় হচ্ছে। এই পৌরসভার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ২ যুগ পার হয়ে গেলেও সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি দায়িত্বরত মেয়রগন। পৌরবাসীদের সেবার মান উন্নয়ন না হলেও মেয়র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পারিপার্শিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। পৌর ভ্যাট ট্যাক্স নেয়ার বেলায় ষোল আনা আদায়, কিন্ত সেবার বেলায় দু-আনাও জোটে না পৌরবাসীদের।

পৌর এলাকার প্রায় ৪০ হাজার লোকের সেবার মান নিশ্চিত করতে মেয়রসহ সকল কর্মকর্তা অসহায়াত্ব প্রকাশ করছে। প্রথম শ্রেনীর পৌরসভায় অদক্ষ্য ও স্বজন প্রীতি জনবল দিয়ে সার্বিক সেবা আশা করা যায় না। ২ যুগ অতিবাহিত হতে চলেছে এই পৌরসভার কিন্ত একটি ও সেবা সর্ম্পূন নিশ্চিত করতে পারেনি তারা। জলাবদ্ধতা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মশা নিধন কর্মসূচী, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন ভ্যাকসিন সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি চারঘাট পৌরসভা।

চারঘাট পৌর আ’লীগ সভাপতি সাজ্জাত হোসেন, সাধারন সম্পাদক একরামুল হক, যুবলীগ সভাপতি কাজী মাহমুদুল হাসান (মামুন), ছাত্রলীগ সভাপতি আল-মামুন তুষার, ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক রায়হানুল হক রানাসহ দলীয় রাজনীতি অঙ্গন, শিক্ষক, সমাজ সেবক এবং সর্বসাধারণ জনগন গনমাধ্যমকে বলেন, সকল নিয়ম নীতি মেনে উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা উচিত। জনগনের ভ্যাট ট্রাক্স এবং শহর উন্নয়নের সরকারী বরাদ্দের অর্থ সঠিক প্রন্থায় ব্যবহার করা নৈতিক দায়িত্ব।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়ন্ত্রনে জেলার বানেশ^র হতে চারঘাট-বাঘা হয়ে নাটোর জেলার ঈশ^রদী পর্যন্ত পাকা সড়কের নির্মাণ কাজ শিগ্রই শুরু হবে। যা কারনে চারঘাট পৌরসভার মধ্যে বেশ কিছু এলাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুজ্জোহা। কিন্ত পৌর মেয়র এবং প্রকৌশলী দপ্তর ওই নিষেজ্ঞাগা অমান্য করে নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছেন। পৌরসভার উন্নয়ন নির্মাণ নিয়ে সহকানী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ইউজিপ-৩ সকল নির্মাণ কাজ সঠিক নিয়মে করা হচ্ছে। এবিষয়ে রাজশাহী সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী সামছুজ্জোহা বলেন, চারঘাট পৌরসভাকে কিছু নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে, কিন্ত তারা কেন কাজ চলমান রেখেছেন তা তিনি জানেন না।

সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সবায়কে বক্তব্য দিতে হবে। দায়িত্বরত মেয়র সময়কালিন সকলের কাজের বাস্তবায়ন পরিমাপ করতে হবে। এই পৌরবাসীর চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ থাকার প্রয়োজন আছে। সম্প্রতী ইউজিপ-৩ এর প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে চলেছে। পৌর উন্নয়নের কাজের সম্পাতি হওয়ার পর এলাকবাসীর প্রাপ্তী থাকবে না বলে দাবি করেছেন মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল।