×

চারঘাটে বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যার রহস্য উদঘাটন॥ দুই আসামী আটক

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ৭০ বছরের এক বৃদ্ধকে হত্যার ঘটনায় দুই আসামীকে আটক করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, বিপিএম (বার) এর দিকনির্দেশনায় চারঘাট সার্কেলের সিনিয়র এএসপি নূরে আলম এর নেতৃত্বে চারঘাট মডেল থানা পুলিশ ওই আসামীদের গ্রেফতার করে চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে।


গত ১৩ তারিখ রোববার উপজেলা চারঘাট থানাধীন শলুয়া ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকায় রাত্রি অনুমান ০৯ টার সময় মানসুর রহমানকে (৭০) তার নিজ বাড়িতে হত্যা করে। নিহত মানছুর দৌলতপুর গ্রামের মৃত হবিবর রহমানের ছেলে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হচ্ছে-দৌলতপুর গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেন মোফার ছেলে রোমান হোসেন সেতু (২১), মোজাম্মেল হকের ছেলে ইবনে আকাওয়াদ শাওন (২৭)।

স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানাযায়, আসামী রোমান হোসেন সেতু ছাত্রলীগের কর্মী এবং ইবনে আকাওয়াদ শাওন ছাত্রদলের কর্মী ছিল। দলের নাম ব্যবহার করে তারা প্রায় সময় বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল। বর্তমান সরকারী দলের কর্মীর হওয়ার কারনে স্থানীয়রা তাদের কর্মকান্ডের বিষয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাইনি। এবিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল-মামুন তুষার এ প্রতিনিধিকে বলেন, ইবনে আকাওয়াদ শাওন ছাত্র দলের এবং রোমান হোসেন সেতু ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করতো তবে সে ছাত্রলীগের কোন পদে ছিলনা। তবে অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।


গ্রেফতারকৃত আসামীদের বৃহস্পতিবার বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। মূলত অর্থের লোভে গ্রেফতারকৃত ০২জন এই হত্যা কান্ডের ঘটনাটি ঘটায়। তারা উভয়েই স্থানীয়ভাবে বখাটে এবং বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। মৃত মানসুর রহমান এলাকায় তার নিজ বাড়িতে একাই থাকতেন। আটককৃতরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঘটনার দিন তার বাসায় চুরির পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসাবে শাওনের সহায়তায় আসামী সেতু সীমানা প্রাচীর টপকিয়ে বাসার ভিতরে প্রবেশ করে এবং শাওন বাসার বাইরে অবস্থান করে। মৃত মানসুর দরজা খুলে বাথরুমের দিকে গেলে সুযোগ বুঝে সেতু বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে পরে এবং বিছানা, টেবিলের ড্রয়ার ইত্যাদি ওলট-পালট করে টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী খুঁজতে থাকে। বিষয়টি মৃত মানসুর রহমান টের পেলে রুমে কে আছে বলে চিৎকার দেয়।


এ সময় সেতু মৃত মানসুরকে জাপটে ধরে এবং ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার হাতে থাকা এনট্রি কার্টার দিয়ে গলায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে সীমানা প্রাচীর টপকিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে আসামী আটককৃতরা জেল হাজতে আটক আছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম ।