ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি: রফিকুল ইসলাম খান (৫০) ও তার স্ত্রী ইতি আক্তার (২৫) পেশায় দুজনই সাংবাদিক। তিনি এবং তার স্ত্রী ঢাকায় দুটি জাতীয় দৈনিকে বর্তমানে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এদের দুজনারই গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নের পশ্চিম গাবগাছিয়া গ্রামের দেবিপুর এলাকায়।
গত তিন মাস পূর্বে মটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রফিকুল ইসলামের এক পা ভেঙ্গে যায়। দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর এখন তিনি তার গ্রামের বাড়িতে অসুস্থ্য অবস্থায় রয়েছেন। এছাড়া তার স্ত্রী ইতি আক্তারও বর্তমানে আট মাসের অন্ত:স্বত্তা। অসুস্থ্য থাকা এ সাংবাদিক দম্পত্তি সহ তাদের পরিবারের আরো তিন সদস্যের বিরুদ্ধে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মারামারিতে আহত হওয়ার ঘটনা সাজিয়ে প্রতিপক্ষরা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ সাংবাদিক পরিবারের। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উক্ত মামলার বাদী মো: জামাল হাওলাদার। ফুফাতো ভাইয়েরা তার বৃদ্ধ পিতাকে লাথি ও এলোপাথারি ভাবে কিল ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে হাতের একটি আঙ্গুল ভেঙ্গে দেয়ার ঘটনা কারনে মুলত তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে আহতের অভিযোগ আনা ঐ বৃদ্ধ জয়নাল হওলাদারকে হাতে ব্যান্ডিস ছাড়াই বর্তমানে রাস্তাঘাটে সুস্থ্য-স¦াভাবিক অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই দুপুরে বসতবাড়ির জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের ঘটনায় মামা জয়নাল হাওলাদারের সাথে (৭০) ব্যাড়ের এপার ওপার বসে কথার কাটাকাটি হয় ভাগ্নে জিল্লুর রহমান শুকুরের (৩৫)। এদের দুজনার বসত বাড়ির উঠানের মাঝখান দিয়ে একটি ব্যাড় রয়েছে যেটি বেড়া দ্বারা বিভক্ত। ঘটনার দিন মামা জয়নাল হাওলাদার মাটি দিয়ে ব্যাড়ের (ডোবা) পাশের কিছু অংশ লোক দিয়ে ভরাট করে তার পাশে কয়েকটি সুপারি গাছ লাগাতে গেলে ভাগ্নে শুকু জমির ঐ অংশ নিজেদের দাবি করে কাজে বাধা দেয়। এসময় উভয়ের মধ্যে কিছুক্ষন কথার কাটাকাটি হয়।
এঘটনায় পরে জয়নাল হাওলাদারকে শুকু কর্তৃক জীবন নাশের হুমকি প্রদান ও এলোপাথারি কিল ঘুষি মারা সহ ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল ভেঙ্গে যাওয়ার অভিযোগ এনে গত ২ আগস্ট জয়নাল হাওলাদারের ছেলে জামাল হাওলাদার থানায় শুকু ও তার স্ত্রী মোসা: হাসি আক্তার (২৫) সহ তার বড় ভাই চট্রগ্রামে চাকুরিতে কর্মরত মাকসুদুর রহমান, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম ও তার ভাবি অন্ত:স্বত্তা ইতি আক্তারকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ইন্দুরকানী থানা পুলিশ শুকুকে আটক করে কোর্টে চালান দিলে আদালত থেকে তিনি পরে জামিন নেন।
এ ব্যাপারে জিল্লুর রহমান শুকু জানান, গত ৩১ জুলাই আমাদের বাড়ির ভিতরে একটা ব্যার রয়েছে সেই ব্যার আমাদের জমির সীমানার মধ্যে। সেখানে আমার মামা জয়নাল ব্যারের পাড় ভরাট করে সুপারি গাছ লাগাতে গেলে তাকে নিষেধ করি। পরে এক দুই কথায় এ নিয়ে ঝগড়াঝাটির সৃষ্টি হয়। দুজন ব্যারের এপার ওপার থাকায় কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু জামাল তার বৃদ্ধ পিতার ডান হাতের আঙ্গুল ভাঙ্গার জন্য ভূয়া ব্যান্ডিস করে থানায় অবহিত করে পরে আমাদের ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরো বলেন, মামলা দায়েরের দুই তিন দিন পর জয়নাল হাওলাদারের হাতে কোন ব্যান্ডিস নেই এবং ঐ হাত দিয়ে দিয়ে এখন বাড়ির সব কাজ করেন। সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা মারামারির ঘটনা সাজিয়ে তারা আমাদেরকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।
সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম খানের স্ত্রী ইতি আক্তার বলেন, আমি আট মাসের অন্ত:স্বত্তা। রাস্তার পাশে আমাদের বসতঘর। জমির সীমানা নিয়ে যেখানে ঝগড়াঝাটি হয় সেখানে আমার বাসা থেকে কিছুটা দুরে। আমি ঘটনার সময় ওখানে উপস্থিত ছিলাম না অথচ আমাকেও মামলায় আসামী করা হয়েছে।
সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম খান জানান, আমি তিন মাস যাবত সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে গুরুতর আহত হয়ে ঘরে পড়ে আছি অথচ মারামারির মিথ্যা অভিযোগ এনে প্রতিপক্ষ জামাল আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানি মূলক মামলা দিয়েছে।
তিনি আরো জানান, আমার বড় ভাই মাকসুদুর রহমান চট্রগ্রামে চাকরি করেন। তিনি গত এক বছর যাবত গ্রামের বাড়িতে আসেননা। তাকেও মারামারির অভিযোগে এখানে আসামী করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী মো: জামাাল হাওলাদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, শুকুর পরিবার আমার নিকট আত্নীয়। দীর্ঘ বছর ধরে তাদের সাথে আমাদের জমাজমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। আমার ঘর সংলগ্ন ব্যারের পাশে তাদের জমিতে কিছু মাটি দিতে গেলে শুকু তার অন্যান্য ভাই ভাবিদের উপস্থিতিতে তার পিতাকে প্রথমে গালাগালি করে এবং পরে লাথি ও এলোপাথারি ভাবে কিল ঘুষি দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার পিতার হাতের একটি আঙ্গুল ভেঙ্গে দেয়। আর এ ঘটনা নিয়েই মুলত তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমাকে এখন হুমকি ধামকিও দিচ্ছেন বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ইন্দুরকানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, বসতবাড়ির সীমানায় মাটি ভরাট করা নিয়ে কিছুদিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে সৃষ্ঠ বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে মারধর করা হয়েছে মর্মে ঐ বৃদ্ধের ছেলে জামাল হাওলাদার বাদী হয়ে থানায় ৫জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে ।
