×

হেলেনার হেলে পড়া রাজনীতিবিদের সুদিনের বার্তা কি !

মোহাম্মদ আলম : রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে। I will make politics difficult for the politician. স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান একথা ঘোষণার মধ্য দিয়ে এমন অশুভ খেলা শুরু করেছেন। ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে আমলা এবং ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে নামানোর এই খেলায় চরম মূল্য দিচ্ছে জাতি। ফেইসবুক লাইভে এসে সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে বিষোদগার এবং হেলেনার দাম্ভিক আচরন এর সবশেষ নজির। একজন দলীয় কর্মী কোনভাবেই এভাবে বলতে পারবে না।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে লালিত আওয়ামী লীগ সেইক্ষেত্রে কিছুটা হলেও লাগাম টেনেছে। আশার কথা বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ওইসব দূর্বৃত্ত্বদের টুটি চেপেছেন। নিরবে নিভৃতে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় আশ্রয় প্রশ্রয় নিলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পাপিয়া-হেলেনা চক্র কারাগারের চার দেয়ালে পাপের পায়শ্চিত্ত ভোগ করছে।

তবে এই অশুভ চক্রের গুটি কয়েকজন কারাগারে বন্দি করার মানে রাজনীতির শুদ্ধাচার নয়। রাজনীতিতে বেড়ে উঠা ত্যাগীদের রাজনীতিতে জায়গা করে দিতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে বাধ্য। শাস্ত্রে আছে, ‘বন্যেরা বনে সুন্দর’। ব্যবসায়ী ব্যবসা সঠিকভাবে করলে জাতি লাভবান তথা বিত্তশালি হবে। শিক্ষক তার শিক্ষকতায়ই সঠিক সেবা দিলে জাতি শিক্ষিত হতে পারে। আর উন্নত জাতি গঠনের প্রধান শর্ত হচ্ছে জনসাধারণকে শিক্ষিত হিসাবে গড়ে তুলা। একজন মুচিও কিনতু সেবা দিচ্ছে। একজন সাংবাদিক বা সাহিত্যিককে তার লেখালেখি নিয়েই থাকা উচিত। মসজিদের ইমামও এখন রাজনীতি ছাড়া কথা বলেন না। এর কি প্রয়োজন আছে ? মোদ্যা কথা যে যে পেশায়ই থাকুক না কেন নিজ নিজ অবস্থানে থেকেই কিনতু জাতির সেবা দিতে পারে। এখানে সবাই রাজনীতিবিদ সাজতে চায়। দেখা যাচ্ছে পত্রিকার সম্পাদক বা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকও এমপি হবার দৌড়ে ছুটছেন। অপরদিকে রাজনীতিবিদকেই বা কেন ব্যবসায় নামতে হবে। ভাসানি, বঙ্গবন্ধু কি ব্যবসা করেছেন। যদি অর্থ বানানোই লক্ষ্য হয় তবে শুরু থেকেই ব্যবসা করুন। ঠিকাদারি করুন। রাজনীতি কেন কলুশিত করছেন। আর রাজনীতি করতে হলে আদর্শ মেনেই করা উচিত। অঢেল ধন সম্পাদের মালিক হতে চাইলে রাজনীতিতে আসেন কেন! রাজনীতির আদর্শ হচ্ছে সেবার ব্রত।

এ কথার পক্ষে বিপক্ষে অনেক যুক্তি তুলে ধরা যাবে। আমি সহজ ভাষায় বুঝি। যার যা কাজ সে তাই করুক। এটাই প্রকৃতির খেয়াল। অন্যথা হলেই পরিণতি ভয়াবহ। লাইভে হেলেনার ওই কথাই ঠিক থাক। ‘‘আমি দেখিয়ে দেব দলে না থেকেও মানুষের সেবা করা যায়’। হেলেনা আপনি তাই করুন। রাজনীতিতে তারাই থাক যারা শুরু থেকে মাঠে ময়দানে রাজনীতি করেছেন।

বাংলাদেশে আদর্শ রাজনীতি বা ত্যাগী রাজনীতিবিদের অভাব নেই। প্রতিটি এলাকায় এমন অসংখ্য মানুষ আছে। যারা নিজের খেয়ে দিন শেষে মানুষের সেবার ব্রত নিয়েই রাজনীতি করছেন। ওইসব দূর্বৃত্ত্বদের জাতাকলে ত্যাগীরা কুনঠাসা। শুধুমাত্র হেলেনা পাপিয়া বা সম্রাট নামের দূর্বৃত্তদের সরালেই হবে না। তাদের শুন্যস্থানে ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা উচিত। তবেই রাজনীতিতে শুদ্ধাচার তরাণি¦ত হবে।

সাম্প্রতিককালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তেমনটাই করছেন। ঢাকা , কুমিল্লা বা সিলেটের উপ-নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে তা প্রকারন্তরে জনসাধারণ উপকৃত হবে। রাজনীতি রাজনীতিবিদের হাতেই থাকবে।