×

শ্রমজীবিদের বেজায় কষ্ট

মোহাম্মদ আলম : শ্রমিকের অধিকার নিয়ে এত জল গড়িয়েছে যে এখন আর নতুন করে মে দিবসের কোন তাৎপর্য নেই। বিশেষভাবে মহামারি করোনাকালে বেশ ভালভাবেই বিষয়টি শ্রমিকরা উপলব্ধি করেছে। কারন করোনাকালে শ্রমজীবি মানুষের কষ্ট বেড়েছে বহুগুন। করোনার সংক্রমণ বা করোনা ভাইরাস শ্রমিককে তাড়া করেনি। তাড়িয়েছে পেটের ক্ষুধা। শ্রমিকের কাজ নেই তার পেটে ভাতও নেই। সারা জীবন যে সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছে। এই করোনা মহামারির কোভিড-১৯ ভাইরাসের চেয়েও নিষ্ঠুর মালিকের হৃদয়। লকডাউন ডেকে সে প্রাসাদে খিল দিয়েছে। তার প্রাসাদের পরতে পরতে যাদের শ্রমঘাম মিশে আছে তাদের খোজ নেই। তারা লকডাউনে অনাহারে অর্ধাহারে।

সকাল হলেই গলির মোড়ে চা দোকানে আড্ডা জমায় কয়েকজন শ্রমিক। বাসা বদলানোর কাজে ফার্নিচার উঠা-নামা করে। ভাড়ায় ভ্যান খাটায়। তিন চারজন একসাথে কাজ করে। করোনার কারনে মানুষ পারত পক্ষে বাসা বদলায়নি। বাড়ি মালিক ভাড়া কমিয়ে হলেও ভাড়াটে রেখে দিয়েছে। ওইসব শ্রমিকের কাজও নেই। দিন শেষে পেটপুরে খাবারও জোটেনি। মুদি দোকানে বাকি করে কোন রকমে দিন চলছে। তবে কবে বকেয়া পরিশোধ হবে তার ঠিক নেই।

এধরনের শ্রমিকদের তবু একটা সুবিধা রয়েছে। তারা যা পায় তাই করে। বেশী কষ্ট ক্ষুদ্র ব্যবসায় নিয়োজিত শ্রমিকদের। একটি ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপে যে শ্রমিক কাজ করে লকডাউনে তার কাজ বন্ধ। সে হঠাৎ নতুন কিছু করবে তাও পারে না। তাছাড়া বাহিরে জনে জনে শ্রমিকের কাজে অনেকের লজ্জাও থাকে।

এইতো সেদিন ২৫ এপ্রিল সংবাদ সংগ্রহে গাজীপুর যাচ্ছিলাম। পথে বোর্ডবাজারে পরিবহণ শ্রমিকরা আবরোধ করে। ভিআইপি, বলাকাসহ গণপরিবহন শ্রমিকরা কাজের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেছে। লিটন নামে একজন শ্রমিকের সাথে কথা হয়। সে জানায়, ঘরে একমুঠো চালও নেই। পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরার জোগাড় হয়েছে। কেউ খোজ রাখেনি। না মালিক না সরকার। আর নেতারাতো শ্রমিকের নাম ভাঙিয়ে পকেট ভারি করে। এটাও জানে তারা। তাদের কথা কেউ ভাবে না। করোনাকালের লকডাউনে গণপরিবহন শ্রমিকদের পেটে লকডাউন হয়েছে।
শতবছর আন্দোলন সংগ্রামে শ্রমিকের ভাগ্যের শিকে ছিড়েনি। করোনাকাল এটাই চোখে আঙুল দিখিয়ে দিয়েছে। এক সপ্তাহ কাজ না থাকলেই শ্রমিকের ঘরে আহার থাকে না। তা সে পরিবহন শ্রমিক, শিল্প কারখানার শ্রমিক বা দিন মজুর সবারই এক দশা।

শ্রমিকের শ্রম ঘন্টা স্রেফ নষ্ট হয়েছে। শ্রমিকের ঘাম ঝড়েছে। কিন্তু সেই ঘামে নহর বয়নি। শ্রমিকের কষ্টার্জিত অর্জন ভোগ করছে মালিক শ্রেনী। কিছু সুফল পায় শ্রমিক নেতা আর জননেতা। শ্রমিকের নিয়তি এখনো ভুখা নাঙা।

মে দিবস আজ। ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্টের শিকাগো শহরের শ্রমিকরা যুক্তিযুক্ত শ্রমঘন্টা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানাতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মত্যাগকে স্মরণ রাখতে প্রতিবছর ১ মে আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হয়। এই করোনাকালেও মে দিবস পালিত হচ্ছে। লকডাউনেও মে দিবস পালনের নামে বুদ্ধিজীবি লিখছে, শ্রমিক নেতা সভা করবে আর সরকার বিবৃতি প্রকাশ করবে। সব কিছুর জন্যই পারিশ্রমিক আছে। কেবল শ্রমিকের ভাগ্যের কোন পরবর্তন নেই।