×

রাজশাহী শিক্ষা নগরীকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক

ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীতে একটি আইটি ভিলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পিএম’র প্রতিশ্রুতি ১৯ মার্চ ২০১৭ তারিখে একনেকে অনুকুলে সরকারী আদেশ জারি হয়। রাজশাহী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক ১৪ সেপ্টম্বর ২০১৭ তারিখে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

রাজশাহী জেলার পবা উপজেলায় ৩১ একর জমিতে ২৩ হাজার ৮২৪.৭০ লক্ষ টাকা ব্যায়র পরে সংশোধিত ২ লাখ ৮৭ হাজার ৭৭১.০৮ লক্ষ টাকা হাইটেক পার্ক নির্মাণ ব্যায় ধরা হয়। এই কাজের নির্ধারিত মেয়াদ ছিল ২০১৬ থেকে ২০১৯ জুন পর্যন্ত। তবে প্রকল্প এলাকায় ৭২০টি পরিবার পুর্নবাসন এবং স্থানান্তর কার্যক্রমের কারনে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত সিন্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

প্রকল্পে ১০ তলা ২ লক্ষ বর্গফুট বিশিষ্ট এমপিবি (সাল্টি পারপাস ভবন) এর নির্মাণ সংক্রান্ত কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ৬০ শতাংশ কাজ সর্ম্পূন হয়েছে। ডিপ টিউবওয়েল ও রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং সংক্রান্ত কার্যক্রম চলামন রয়েছে। যার আনুমানিক ৮৫% কাজ সর্ম্পণ হয়েছে। কার্পেটিং রোড, আরসিসি ইন্টারানাল রোড এবং আরসিসি কম্পাউন্ড ড্রেইন সংক্রান্ত চুক্তি গত ১৮ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়। যার আনুমানিক ৫০% কাজ শেষ হয়েছে। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় এবং রাজশাহী প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে যথাক্রমে একটি এঅর/ভিআর/এমআর এবং একটি আইওটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। রাজশাহী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক প্রকল্পটি আগামী মার্চ ২০২১ তারিখে শেষ হবে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।    

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ তত্ত্বাবধানে ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্য প্রযুক্তির স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে। রাজধানী থেকে আড়াইশ কিলোমিটার দূরে হলেও  একটি বিশ্বমানের অবকাঠামো এই পার্ক। এর নির্মাণ কাজ শেষ হলে ২০২৫ সালের মধ্যে ১৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যা হবে কর্মসংস্থান বিকেন্দ্রীকরণে মাইলফলক। উত্তরবঙ্গের তথ্য প্রযুক্তির হার হিসাবে রাজশাহীতে ৩১ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক। এই ক্যাম্পাসে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ইনকিউবেটর, আশা জাগানিয়া জয় সিলিকন টাওয়ার রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের প্রধান সমন্বয়কারী কল্যাণ কুমার সরকার বলেন, ‘এখানে ট্রেনিং এবং ইনিকিউবেশন হবে। যারা নতুন উদ্যোক্তা তাদের এখানে কাজের সুযোগ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে তারা ইনোভেশন জ্ঞান, চিন্তা চেতনাগুলো পরিস্ফুটন করতে পারবে। খুব শীঘ্রই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বড় অবদান রাখবে এই প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষন প্রাপ্ত শিক্ষির্থীরা।

রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আইটি সম্পর্কে যাদের জ্ঞান সর্ম্পূন রয়েছে তাদের ‘রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে কাজ করার সুযোগ হবে। রাজশাহীতে ৩১ একর জায়গায় শেখ কামাল আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। জয় সিলিকন টাওয়ারসহ সবগুলোর কাজ ৭০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এটি বাস্তবায়ণ হলে শিক্ষার নগরী রাজশাহীর প্রায় ১৪ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে। হাইটেক পার্কটি দেশের অগ্রযাত্রাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে।