নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে রকেট হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধির ২৮ নাবিককে নিরাপদে রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রোববার সকালে তারা রোমানিয়ায় পৌঁছান।
রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফেসবুক পেজেও তাদের নিরাপদে রোমানিয়ায় পৌঁছানোর খবর জানানো হয়।
ইউক্রেইনের অলভিয়া বন্দর থেকে মালদোভা সীমান্ত প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ওই পথ পাড়ি দিয়ে রোমানিয়া পৌঁছাতে তাদের সময় লাগল তিন দিন।
আপাতত রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্টের একটি হোটেলে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।
তিনি বলেন, উনারা বুখারেস্টে পৌঁছানোর পর এখানে থাকবেন। পরে ফ্লাইটে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। তার আগে নাবিকদের সাথে আমরা কথা বলব।
রাষ্ট্রদূত বলেন, উনারা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসছেন, বিশ্রাম প্রয়োজন। উনাদের সাথে আলাপ করেই দেশে ফেরানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী জানান, রকেট হামলায় নিহত বাংলার সমৃদ্ধির থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমানের মরদেহ ইউক্রেইনেই সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখান থেকে মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়টি পোল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস দেখাশোনা করছে।
পোল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুলতানা লায়লা হোসেন শনিবার রাতে জানিয়েছিলেন, নাবিকরা ইউক্রেইন সীমান্ত পেরিয়ে মালদোভায় পৌঁছানোর পর রোমানিয়ার পথে রওনা হয়ে গেছেন।
বিএসসির মালিকানাধীন জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেইনে পৌঁছায়। সেখান থেকে পণ্য নিয়ে জাহাজটির ইতালি যাওয়ার কথা ছিল।
এর আগেই রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হলে যুদ্ধ বেঁধে যায়। পণ্য নেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে তখন ‘চ্যানেল ক্লিয়ার’ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল জাহাজটি।
এর মধ্যেই গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহাজে রকেট হামলায় মারা যান হাদিসুর রহমান। জাহাজের ব্রিজও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরদিন বিকালে জাহাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় এবং বাকি ২৮ জনকে সরিয়ে নিতে কাজ শুরু হয়।
