×

ফের পেছালো মডেল তিন্নি হত্যা মামলার রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ১০ বছর আগে আলোচিত মডেল সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নি হত্যা মামলার রায় ফের পিছিয়েছে। তিনি বাবা ও চাচার সাক্ষ্য দেয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার রায় পেছানো হয়। আজ ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ কেশব রায় চৌধুরীর আদালতে এই রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত ছিল।

গত ২৬শে অক্টোবর এ মামলার রায়ের দিন থাকলেও রাষ্ট্রপক্ষ নতুন করে যুক্তিতর্ক শুনানির আবেদন করলে রায় পিছিয়ে ১৫ই নভেম্বর নতুন তারিখ রেখেছিলেন বিচারক। কিন্তু সোমবার সেই নির্ধারিত তারিখে তিন্নির বাবা সৈয়দ মাহবুবুল করিম এবং চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম আদালতে হাজির হয়ে তাদের জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করেন।

এ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর ভোলা নাথ দত্ত বলেন, “তিন্নির বাবার আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছিল, চাচা আগে সাক্ষ্য দেননি। তারা আদালতে এসে বলেছেন তারা সাক্ষ্য দিতে চান। সেজন্য আদালত সময় দিয়েছে। ফলে রায় আজ হচ্ছে না।

তিন্নির চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী যে বদলে গেছে, সেটা আমরা জানতাম না। আগের পিপি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য কোনো সমনও যায়নি। আমরা পত্রিকায় রায়ের তারিখ দেওয়ার খবর দেখে আজ আদালতে এসেছি।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০২ সালের ১০ই নভেম্বর রাতে খুন হন তিন্নি। এর আগে ৬ই নভেম্বর তিন্নিকে তার স্বামী সাফকাত হোসেন পিয়ালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে অভির ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে উঠেন।

১০ই নভেম্বর রাতে মাথায় আঘাত করে তিন্নিকে হত্যা করা হয়। এরপর গুমের উদ্দেশ্যে ওই রাতে বুড়িগঙ্গার ১ নম্বর চীন মৈত্রী সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয় মরদেহ। কিন্তু পানিতে নয়, মরদেহটি পড়ে পিলারের উঁচু অংশে। পরদিন সকালে মরদেহ ঘিরে উৎসুক জনতা ভিড় করে। কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহালের পর ময়নাতদন্ত করে। মর্গে চারদিন রাখার পর ১৫ই নভেম্বর অজ্ঞাত হিসেবে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয় তিন্নিকে।

এদিকে তিন্নির চাচা সৈয়দ রেজাউল করিম কেরানীগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। মরদেহ উদ্ধারের দিন একই থানায় একটি হত্যা মামলা করেন থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. শফি উদ্দিন।