×

জো বাইডেন হাল না ছাড়া এক বীর

মোহাম্মদ আলম : ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ফের লেগে পড়ুন। নিজের ভুল গুলো অকপটে স্বীকার করুন।লক্ষ্য স্থির করে আপনার কাজ করুন। বলা যত সহজ করা ততই কঠিন। যিনি এটা করতে পারেন তিনিইতো অনুপ্রেরণার প্রতিক। এটা করতেও একটা বয়সের ব্যপার থাকে। সেখানেও তিনি সবকিছু ছাপিয়ে। বয়স ৭৭! দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবন তার। হোয়াইট হাউসে যাবার যে স্বপ্ন বহুদিন থেকে লালন করে আসছেন।বলছিলাম যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কথা। রুপকথাকেও হার মানিয়েছেন তিনি।

২০২০ সালের যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনেও তিনি হারতে হারতে জিতেছেন। যখন একের পর এক অঙ্গরাজ্য থেকে পরাজয়ের খবর পেয়েছেন তিনি বলেছেন শেষ ভোট গণনা পর্যন্ত দেখবো। তিনি সংযম প্রদর্শন করলেন। তিনি কঠিন প্রতিদ্বন্দীতাপূর্ণ মুহুর্ত অত্যন্ত শান্তভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন। বিজয়ীর বেশে শেষ হাসি হাসলেন। তিনি হতে যাচ্ছেন যুকতরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট।

এই পথ পরিক্রমা মোটেও সহজ ছিলো না। ১৯৮৭ সালে একবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য মাঠে নামেন। ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে, তিনি অন্যের লেখা চুরি করে নিজর নামে চালিয়েছেন! এই অভিযোগের সূত্র ধরে আরেকটা অভিযোগ সামনে আনা হয়। ছাত্র জীবনের একটি ঘটনা, যখন তিনি আইনের ছাত্র হিসাবে তার সাইটেশন পেপারে আরেকজনের লেখা হুবহু ব্যবহার করেছিলেন। তিনি তখন বলেছিলেন, সেটা যে নিয়ম বহির্ভূত তা তিনি জানতেন না।এমন অসততার অভিযোগ আনা হলে তিনি প্রচারণা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন!

পরে তার এক জীবনীকারকে মি. বাইডেন বলেছিলেন, ওই ঘটনা তাকে “কুরে কুরে খেয়েছে। নিজেকে আমি চিরকাল একজন সৎ মানুষ হিসাবে মনে করেছি। সেই জায়গাটা বিরাট ধাক্কা খেয়েছে।”

আরেক জায়গায় তিনি লিখেছেন, “এর জন্য দায়ী আমি নিজে। নিজের ওপর রাগ আর হতাশায় ভুগছি। আমেরিকার মানুষকে আমি কীভাবে বোঝাবো এটাই জো বাইডেনের আসল পরিচয় নয়। এটা শুধু আমার মস্ত একটা ভুল”!

এরপর স্বজন হারানো, স্ত্রী-পুত্রবিয়োগ, নিজের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ সহ নানা সংকটে আর ২০ বছর নিজের সঙ্গে সংগ্রাম করেন বাইডেন। এর মাঝে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয়ে গেছেন তার থেকে বয়সে কনিষ্ঠ অনেকে, যেমন- বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা ও ট্রাম্প!

২০০৮ সালে দলীয় মনোনয়ন দৌঁড়ে নামেন। তবে বারাক ওবামার সঙ্গে পেরে উঠেননি। যদিও ওবামার তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করে নেন। ফের ২০১৬ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পাননি, হিলারির কাছে হেরে যান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হন রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কিন্তু হাল ছাড়েননি জো বাইডেন! তার স্বপ্ন ছিলো আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন। অবশেষে ২০২০ সালের প্রেনিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন লাভ করেন। সেখানেও অনিশ্চয়তা ছিলো। পেতে পেতেই যেন হেরে যাচ্ছিলেন। তবে একেবারে শেষ মুহুর্তে এসে মনোনয়ন পান“

এমনই হাল না ছাড়া মানুষ জো বাইডেন। তার জীবনী পড়ে অভিভূত হয়ে গিয়েছি! মানুষ স্বপ্ন কীভাবে লালন করতে পারে দীর্ঘ সময় ধরে তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন।

জো বাইডেন প্রায়ই একটা কথা বলেন, “বাবার একটা কথা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা – কে তোমাকে কতবার ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিল, সেটা বড় কথা নয়, কত দ্রুত তুমি উঠে দাঁড়াতে পারলে, মানুষ হিসাবে সেটাই হবে তোমার সাফল্যের পরিচয়।”

এমন সংগ্রামমুখর যার জীবন, এমন সুন্দর কথা যিনি বলেন, তার হওয়া উচিত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।

সূত্র : সিএনএন, ফোর্বস, বিবিসি