গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী হতে চান আসাদুর রহমান কিরণ। আজ আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে তার সাথে কথা হয়। সাক্ষাতকার নিয়েছেন আমাদের জৈষ্ঠ্য প্রতিবেদক আরাফাত মাহমুদ–
মাতৃভাষা : আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভে কতটা আশাবাদি?
কিরণ: প্রথমেই বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই আমাকে দুইবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশেনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি অত্যন্ত সফলভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছি। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত প্রকল্পের মাধ্যমে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের একটি মাষ্টার প্ল্যান করার কাজ ৫৫ ভাগ সমাপ্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এই মাষ্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে একটি স্মার্ট গাজীপুর মহানগর গড়তে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিবেন বলে আমি আশাবাদি।
মাতৃভাষা: কি কি কারণে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে পারেন বলে মনে করেন?
কিরণ: প্রথমত মহানগর এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে আমার বরাবরই ভালো সর্ম্পর্ক। গাজীপুর মহানগরে টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করার কাজ করেছি। শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টারের সাহচার্যে কাজ করেছি। স্যারের কাছ থেকে সততা এবং আদর্শের রাজনীতির শিক্ষা পেয়েছি। একইভাবে তার সুযোগ্য সন্তান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল আমার অভিভাবক। আমাকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিলে কোন কোন্দল থাকবে না বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় গাজীপুর সিটির দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা। গাজীপুর মহানগর ব্যবসায়িক হাব। আমি নিজে রাজনীতির পাশাপাশি একজন ব্যবসায়ী। আমি ভারপ্রাপ্ত মেয়র থাকার সময় চেষ্টা করেছি ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে। এতে বৈদেশিক আয়ের পাশাপাশি সরকারের ভাবমুর্তি বেড়েছে। এছাড়াও অনেক কারণ রয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ অবগত রয়েছেন। এসব কারণে আমি মনোনয়ন পাওয়ার ব্যপারে আশাবাদি।
মাতৃভাষা : সরকার চাচ্ছে সিটিতে সুষ্ঠু ভোট হোক! কিন্তু ভোটের সময় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। এ বিষয়ে কি বলবেন?
কিরণ: আমি মনে করি গাজীপুরে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। ইভিএম ও সিসি ক্যমেরায় নির্বাচন হবে। প্রশাসন বেশ সজাগ। গাজীপুর আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাটি। নৌকার বিপুল ভোটে জয়লাভ করে থাকে। এখানে আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে সজাগ থাকতে হবে যেন কোন গোষ্ঠি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে না বললেও তাদের নেতাকর্মীরা প্রার্থী হতে ব্যানার পোষ্টার করেছে। জাতীয় পার্টি, ইসলামী শাসনতন্ত্র, বাম জোট সহ সতন্ত্র প্রার্থীও থাকবে। আমি প্রার্থী হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব রকম সহযোগীতা করবো।
মাতৃভাষা: গাজীপুরে নৌকা সুরক্ষিত রাখার চ্যালেঞ্জ নিতে কতটা প্রস্তুত?
কিরণ: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গাজীপুর আওয়ামী লীগ অত্যন্ত শক্তিশালী। গাজীপুরকে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ বলা হয়। এখানে নৌকা প্রতীকের একটি ভোট ব্যাংক আছে। আমি টঙ্গী পৌর ও গাজীপুর সিটিতে পর পর ৫ বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছি। গাজীপুর সিটিতে বিজয়ের জন্য নির্বাচনী কৌশল আমার বেশ ভালো ভাবে জানা আছে। নির্বাচনে আমি কখনো পরাজিত হইনি। আমাকে মনোনয়ন দিলে নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত।
মাতৃভাষা : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
কিরণ : আপনাদের মাধ্যমে গাজীপুর মহানগরের সর্বস্তরের জনসাধারণের দুওয়া চাই। আপনাকেও ধন্যবাদ। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
