×

গাজীপুর সিটিতে নৌকা সুরক্ষিত রাখতে কিরণের বিকল্প নেই

মোহাম্মদ আলম :   একটি উন্নত বাংলাদেশ বির্ণিমানে সবার আগে শেখ হাসিনার হাতে সমুন্নত রাখতে হবে। বিজয়ের মাধ্যমে নৌকা সুরক্ষিত রাখতে হবে। সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় রাজনীতিতে জনসাধারণের অংশগ্রহন নিশ্চিত করতে হবে। দেশের ৫ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন হলেও সবার চোখ গাজীপুর সিটিতে। কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি ? কোন নেতার হাতেই বা নৌকা সুরক্ষিত থাকবে।

২০১৩ সালের নির্বাচনে নৌকা পরাজিত হয় এবং ২০১৮ সালে নির্বাচিত মেয়রের নানামুখি বির্তকিত কর্মকাণ্ডে সরকার তথা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও বিব্রত হয়েছিলেন। যে কারণে সামনের নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে অনেকটাই সর্তক অবস্থানে আওয়ামী লীগ। গাজীপুর সিটি মেয়র শুধুমাত্র নগর পিতা হয়ে বসলেই হবে না, তাকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রথমে গাজীপুরে সিটিতে পরে সংসদ নির্বাচনে নৌকা সুরক্ষিত রাখার চ্যালেঞ্জও নিতে হবে। গাজীপুর সিটি এবং মহানগর এলাকায় নৌকা সুরক্ষিত রাখতে কিরণই হতে পারেন যোগ্য প্রার্থী বলে সবার অভিমত।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে গাজীপুরকে দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ বলা হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ গাজীপুর আওয়ামী লীগকে এই অনন্য মর্যাদায় সমুন্নত করেছেন। বঙ্গতাজের সাথে সাথে পরবর্তি সময়ে শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার, শহীদ ময়েজ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট রহমতউল্লাহ, কাজী মোজাম্মেল হক, আ ক ম মোজাম্মেল হক, মেহের আফরোজ চুমকি, সিমিন হোসেন রিমি, মো. জাহিদ আহসান রাসেল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ নিজ অবস্থানে গাজীপুর আওয়ামী লীগের রাজনীতি সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছেন। যখন সারাদেশে নৌকার দুর্দিন তখনো এখানে নৌকা সুরক্ষিত ছিলো।

কিন্তু গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠন হওয়ার পর থেকে নানা কারণে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন আলোচিত সমালোচিত। দলের আভ্যন্তরিন জটিলতার কারণে ২০১৩ সালের নির্বাচনে নৌকার ভরাডুবি হয়। ২০১৮ সালে নির্বাচিত মেয়রও মাত্র ৩ বছরের মাথায় বির্তকিত কর্মকাণ্ডের কারণে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’বারই আসাদুর রহমান কিরণের হাতে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব দেন। স্থানীয় জনসাধারণের ভাষ্য অত্যন্ত সফলভাবে কিরণ তার দায়িত্ব পালন করেছেন। একইভাবে আওয়ামী লীগের আদর্শ সমুন্নত রাখতে কিরণের হাতে গাজীপুর সিটিতে নৌকা সুরক্ষিত বলে মনে করছেন সুশিল  সমাজ।

সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য হচ্ছে নিজ যোগ্যতায় বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টঙ্গীর স্বনামধন্য একটি কলেজের অধ্যক্ষ অভিমত ব্যক্ত করেন, গাজীপুর সিটির নির্বাচনে জনবল এবং অর্থবল দুইই থাকতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলের সাথে সক্ষতা রাখতে হবে। এ কথা না বললেও সবাই জানে বর্তমানে নির্বাচন মানেই অর্থের ছড়াছড়ি। পাশাপাশি প্রযুক্তিগতভাবে স্মার্ট হতে হবে। তার ভাষ্য, এই প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারপ্রাপ্ত মেয়র কিরণের যোগ্যতা আছে। অন্য সব প্রার্থীদের মাঝে অনেক বিষয়ে যোগ্য-বিশেষজ্ঞ আছেন। কিন্তু নির্বাচনে সবদিকে সমান যোগ্যতা থাকা আবশ্যক। তার কথা বিবেচনা করলে সমসাময়িক রাজনীতির ধারায় গাজীপুর সিটিতে আসাদুর রহমান কিরণই যোগ্য প্রার্থী।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ১৬ মাসে সিটির রাজস্ব ফাণ্ড ১১১ কোটি টাকা। যেখানে দায়িত্ব নেওয়ার সময় ছিল মাত্র ১৮ কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দে ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের একটি মাষ্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সিটির সব কর্মকাণ্ড ডিজিটাল করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেন। স্মার্ট গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠনের জন্য একজন স্মার্ট মেয়র দরকার। যিনি একইভাবে প্রযুক্তিগতভাবে যোগ্যতা রাখেন। এ ক্ষেত্রে কিরণ হতে পারেন যোগ্য প্রার্থী।

শেষ করবো দেশের রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে কাজ করা একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও  আমার অনুকরণীয় একজন সিনিয়র সাংবাদিকের মন্তব্য দিয়ে। ১১ এপ্রিল তিনি মেয়র প্রার্থী হিসেবে আসাদুর রহমান কিরণের সাক্ষাৎকার গ্রহন করে যাওয়ার সময় আমাকে কাছে ডেকে বলেন, কিরণের মত একজন যোগ্য প্রার্থীকে এতদিন কেন লুকিয়ে রেখেছেন। কিরণের মত প্রার্থীরই এই মুহুর্তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া উচিত।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, ২০১৮ সালে গাজীপুর সিটি নির্বাচনে নৌকার মিডিয়া উইং হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।