নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরের আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা মোঃ রেজাউল করিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রেজাউল টঙ্গী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।
জিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) ইলতুৎ মিশ মুঠোফোনে রেজাউলকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘ছাত্রলীগ নেতার হাতে টঙ্গীর ইয়াবা কারবার’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, রেজাউলের বিরুদ্ধে জিএমপির টঙ্গী পশ্চিম থানায় চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। গোপন সংবাদে খবর পেয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত সারে বারটায় রেজাউলকে মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন দত্তপাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, একইদিন নবিন হোসেন নামে একজন মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশ। তার কাছ থেকে ৭’শ ৭০ গ্রাম গাজা এবং ৫০০ পিস্ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে নবিন পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে উদ্ধারকৃত ৫০০ ইয়াবা বড়ি বিক্রির উদ্দেশ্যে রেজাউল করিম তাকে সরবরাহ করেছে।
উল্লেখ্য, আলোচিত এই ছাত্রলীগ নেতার মূল ব্যবসা ইয়াবার। কক্সবাজার থেকে মাদকটি এনে টঙ্গীর বিভিন্ন কারবারিদের হাতে পৌঁছে দেন রেজাউল করিম। চাঁদাবাজিতেও সিদ্ধহস্ত ছাত্রলীগের এই নেতা। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল রেজাউল স্থানীয় ব্যবসায়ী সাজ্জাদুল ইসলাম মনিরের কাছে দাবি করে বসেন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীর স্ত্রী শিল্পী আক্তার বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
গাজীপুরের টঙ্গীর ব্যাংকের মাঠ বস্তি ও কেরানীর টেক বস্তি এলাকার মাদক ব্যবসার অন্যতম হোতা সাঈদা বেগম ইয়াবাসহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাকে ঘিরেই রেজাউলের মাদক সম্পৃক্ততার বিষয়টি আমাদের সময়ের নজরে আসে। জামিনে থাকা সাঈদার সাথে রেজাউলের মুঠোফোন আলাপে সাঈদার কথাতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, রেজাউলের মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে এক লাখ পিস ইয়াবা বড়ি এনে টঙ্গীতে সরবরাহ করা হয়েছে।
ওই এক লাখ ইয়াবা বেহাত হওয়ার জন্য সাঈদাকেই দায়ী করেন এ ছাত্রলীগ নেতা। এ নিয়ে দুজনের কথোপকথনে পুরো চিত্র উঠে আসে। রেজাউল ও সাঈদার কথোপকথনের বিস্তারিত আমাদের সময়ে প্রকাশিত হবার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। গোপনে ব্যাপক অনুসন্ধান চলতে থাকে। গ্রেপ্তার মাদক কারবারি নবিন হোসেনও স্বীকার করে ডিলার রেজাউলের কাছ থেকে সে ৫০০ পিস ইয়াবা পেয়েছে।
অবশেষে উপ-পুলিশ কমিশনার ইলতুৎ মিশের নেতৃত্বে এক দল চৌকস পুলিশ মহানগরের দত্তপাড়ায় অভিযান চালিয়ে রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
এমভি/মোআ
