নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা: করোনার সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেলেন প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চারদিন ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন ৭১-এর এই কণ্ঠযোদ্ধা। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তার বাঁ ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে গত শুক্রবার। পাশাপাশি রক্তেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।
এতে করে শঙ্কিত হয়ে পড়েন চিকিৎসকরা। এই অবস্থায় রাত সাড়ে নয়টার দিকে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। গত ১৪ই জুলাই এই সংগীতশিল্পীর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনি করোনাভাইরাসের দুই ডোজ টিকা নিয়েছিলেন। ষাট-এর দশক থেকে গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ফকির আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।
১৯৬৯ সনে গণ-অভ্যুত্থানে শামিল হন এই গণসংগীতশিল্পী। ১৯৭১ সনে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের সূচনা করেন। গড়ে তুলেন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী।
সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৯৯ সনে তাকে একুশে পদক প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ২০২০ সালের জুন মাসে ভয়েস অফ আমেরিকাকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন ফকির আলমগীর। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন আহসানুল হক।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
বঙ্গভবন প্রেস উইং জানায়, শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক, দেশবরেণ্য গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, একুশে পদকপ্রাপ্ত এ শিল্পীর মৃত্যুতে এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, এ দেশের সংগীতাঙ্গনে বিশেষ করে গণসংগীতকে জনপ্রিয় করে তুলতে তার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
