নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে রেহানা বেগম(৫৮) নামে এক বৃদ্ধ নারী ঋণের দায়ে জেল খাটছেন। ভুক্তভোগি পরিবারের দাবি তিনি ঋণই নেননি। টঙ্গী নুপুর মাল্টিপারপাস সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ প্রতারক চক্র টাকা নিয়ে পালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, টঙ্গীতে মাছিমপুর এলাকায় নুপুর মাল্টিপারপাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামিউল হক, সহযোগী খালেক ও শাহিদা বেগম প্রতারণা মাধ্যমে এলাকায় বহু মানুষের টাকা নিয়েছে। একইভাবে সমিতি থেকে ঋণ দেবার অজুহাতে সহজ-সরল মানুষের সাক্ষর নিয়ে নিজেরাই সেই ঋণ আত্মসাত করেছেতাদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় তিনটি সাধারণ ডায়রী করা হয়েছে। নম্বর -১২৭২/২৯-২০১৩, ১১৫৬/২৩-২০১৪ এবং ১৪৪০/২৭-২০১৫।
উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান(বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলায় কর্মরত) মুঠোফোনে জানান, প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গিয়েছিলো। বিষয়টি জানাজানি হবার পর থেকে ওই প্রতারক চক্রের সদস্যরা পলাতক। পলাতক অবস্থায় রেহানার বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা করেছে। যে মামলায় ২৯ জুলাই রেহানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভুগি রেহানার ছেলে মোঃ মাসুম জানান, ২০১৩ সালের ১০ মার্চ টঙ্গীর মাছিমপুরস্থ নুপুর মাল্টি পারপাস নামের সমিতির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সামিউল হক, সহযোগী খালেক ও শাহিদা বেগম মিলে স্থানীয় রেহানা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ প্রদানের নামে তার কাছ থেকে দুটি সাদা ব্যাংক চেক এর পাতা (যার নম্বর-এসবি-১০-পিএইচ ৩৯৯১৫০২ জনতা ব্যাংক টঙ্গী কর্পোরেট শাখা), জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং ২ কপি ছবি নেন। ঋণ চুক্তিপত্রের জন্য দুটি একশত পঞ্চাশ টাকা মূল্যের নন জুডিশিয়াল (রেহানা টিপসই যুক্ত) স্ট্যাম্পে রেহানার টিপসইও নেয়া হয়। । পরবর্তীতে উক্ত ঋণের ৫০ হাজার টাকা রেহানা বেগমকে না দিয়ে বরং শাহিদা বেগম উত্তোলন করেন। পরে একই কায়দায় শাহিদা নিজেও ৫০ হাজার টাকা নেন। অথচ সাদা ব্যাংক চেক এর পাতাগুলোতে এবং ১৫০ টাকা মূল্যের সাদা নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে রেহানা ও শাহিদা দু-জনকেই আলাদা আলাদা ভাবে এক লক্ষ করে দুই লক্ষ টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে মর্মে নিজেদের ইচ্ছে মতো লিখে নেন সামিউল হক এবং তার সহযোগী খালেক।
বিষয়টি জানতে পেরে রেহানা বেগম থানায় তিনিটি সাধারণ ডায়রী করেন। ক্ষুদ্ধ প্রতারক মো. সামিউল হক, মো. খালেক, শাহিদা বেগম এবং জনৈক মর্জিনা বেগম মিলে রেহানা বেগমের ভাড়া বাসায় গিয়ে রেহানা বেগমসহ তার ছেলে মাসুম ও অন্যান্যদের মারধর করে। পরবর্তিতে প্রতারক মো. সামিউল হক রেহানা বেগম এবং শাহিদা বেগমের নামে জমাকৃত চেক ডিজ অনার করে দুজনের কাছে দু-লক্ষ টাকা ধার দেয়া এবং উত্তোলন করতে না পারার অজুহাতে বিজ্ঞ সিনি: জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-২ গাজীপুরে বরাবর সিআর মোকদ্দমা নং-৪১০/২০১৩ রজু করে এলাকার বিভিন্ন লোকজনের টাকা নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই মামলায় শাহিদা বেগম জামিনে থাকলেও বৃদ্ধ রেহানা বেগম জেলখানায় বন্ধি রয়েছে বলে তার ছেলে মাসুম জানায়। চক্রের সদস্য শাহিদার সাথে সামিউল প্রতারাণা করায় তিনি প্রকৃত ঘটনা স্বীকার করেন।
মাসুম দাবী করেন, তার বৃদ্ধ মা কোন টাকা পায়নি, বরং সামিউল চক্র ষড়যন্ত্র করে মায়ের কাছ থেকে সাদা ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প নিয়ে এখন মামলায় জড়িয়ে টাকা দাবী করছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক এর বিচার চাই।
