নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘যেকোনো নাগরিকের তার ঘরের ভিতর স্বাধীনভাবে বসবাস করার এখতিয়ার আছে। একজন কাফের মোনাফেক ছাড়া কারো ঘরের ভিতর কেউ অস্ত্র, বোমা ও ক্যামেরা পাঠাতে পারে না। আমাকে মারার জন্যে খুনিরা বিভিন্নভাবে পরিকল্পনা করছে, যারা আমাকে পূর্বে থেকে খুন করতে চেয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘২০১২ ও ২০১৩ সালে যারা আমাকে হত্যা করার জন্যে পাঁয়তারা করেছিল তারা এখনো সক্রিয় আছে। আমাকে ও আমার পরিবারকে মারার জন্য আমার ঘরের ভিতর ক্যামেরা পাঠানো হয়েছে। আমার মেয়র পদ ও আওয়ামী লীগকে কলঙ্কিত করার জন্য, আমার চল্লিশ লাখ নগরবাসীকে অপমান করার জন্য কিভাবে তারা বেডরুমে ক্যামেরা পাঠায় তার বিচার আমি রাষ্ট্রের কাছে চাই
গাসিক মেয়র বলেন, ‘রাস্তাঘাট ও নগরের উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে আজ আমি তাদের শত্রু ও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছি। আজকে আমার শত্রু কারা নগরবাসী এখন জেনে গেছে। রাজনীতির নামে অপরাজনীতি দিয়ে আজ আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে সেই টাকা দিয়ে আপনারা রাস্তায় আগুন দিচ্ছেন। রাস্তায় গিয়ে গাড়ি ভাংচুর, মানুষের সম্পদ নষ্ট করা কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। আমি আন্যায় করি না, তাই অন্যায়ের সাথে কখনো আপস করব না। অপরাধ করলে আমার গার্জিয়ান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা আমাকে যে শাস্তি দেবেন আমি তা মাথা পেতে নিব। কিন্তু কোনো সন্ত্রাসী, লুটপাটকারীদের এই সিটি করপোরেশনে ডুকতে দেয়া হবে না। অন্ধকার থেকে সত্য একদিন বেরিয়ে আসবেই। তাই আমি সবাইকে নিয়েই একটি পরিকল্পিত শহর গড়তে চাই।’
তিনি শনিবার মহানগরের গাছা এলাকায় তার বাসভবনে গাসিক কাউন্সিলরদের সাথে মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এ সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৬২ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র আরো বলেন, আমি মহানগরে আট শ’ কিলোমিটার রাস্তার কাজ করেছি। এই কাজগুলো আপনাদের জন্যে এই শহরের মানুষের জন্যে করে যাচ্ছি। স্বাধীন দেশের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে চলতে পারে। তাই এখন আমার কাজের দোষ নেই কিন্তু আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। আমাকে ফাঁসানোর জন্য ও বাধ্য করার জন্য এই কাজগুলো শুরু করেছে। অনেকে দুর্নীতি ও লুটপাট করতে চেয়েছিল, রাস্তা থেকে চুরি করে ইট উঠিয়ে নিয়ে বিক্রি করেছে, আমার কাছে সব প্রমাণ আছে। এলাকার শান্তির স্বার্থে অনেক কিছু বলি না, এই লুটপাটকারীরা কোনোক্রমে সিটি করপোরেশনে ডুকতে পারবে না। আমি তাদের বাধা দিয়েছি। সেই বাধাগ্রস্তরা কয়েকজন আজকে ঐক্য হয়েছে তাতে আমার কিছুই হবে না। আমি জীবন দিব তবু জনগণের আমানত নষ্ট হতে দিব না। কারণ আমার সাথে মানুষের দোয়া আছে। আপনাদের ভালোবাসা আছে। মানুষের দোয়া থাকলে কেউ ক্ষতি করতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের গাজীপুর মহানগরকে আধুনিক ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ নগরীর গরীবদের জীবনমান উন্নয়ন করতে সাবসিডিয়ারি দিতে চাই। এজন্য প্রথম পর্যায়ে এক লাখ গরীব মানুষ যাদের দেড় হাজার বর্গফুট আকারের নিচে যাদের টিনের বা টিনসেড বা মাটির তৈরি ঘর রয়েছে তাদের ৫ বছরের কর মওকুফের জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও এ নগরীর উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আমরা তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে চাই। ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে চাকরি দেয়ার ব্যবস্থা করছি। আশা করছি শিগগিরই এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। সবাই মিলে কাজ করলে তা সম্ভব হবে এবং গাজীপুর শহরকে একটি সুন্দর ও উন্নত আধুনিক শহরে আমরা পরিণত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
