খেলাধুলা ডেস্ক : মুস্তাফিজের রাজস্থান রয়েলস আইপিএল’র প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের মাধ্যমে শুরু করেছে।
রেকর্ড গড়েই জিততে হতো রাজস্থান রয়েলসকে। আইপিএলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২২ রান তাড়া করে জয় পেতে হতো।
সেই রেকর্ডের তাড়ায় দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি হাঁকালেন অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। তবু জেতা হলো না। পাহাড়সম লক্ষ্য ডিঙাতে গিয়ে ২১৭ রানে থামলেন রাজস্থান রয়েলসের ব্যাটসম্যানরা।
ফলে মাত্র ৪ রানে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতে নিল পাঞ্জাব কিংস।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে আজ রানের বন্যা বইয়ে গেছে। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪০ ওভারের এক ম্যাচেই হয়েছে ৪৩৮ রান!
ক্রিকেটপ্রেমীরা বলবেন, এটাই তো টি-টোয়েন্টি। যেখানে বোলারদের তুলোধোনা করে ব্যাটসম্যান ডেলিভারিগুলো হাওয়া ভাসাবে একের পর এক।
ধুমধাড়াক্কার খেলায় আজ প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক লোকেশ রাহুল। মাত্র ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি পূরণ করতে পারেননি। পরে ক্যারিবীয় দানব ক্রিস গেইলের ৪০ রান ও দীপক হুডার মাত্র ২৮ বলে ৬৪ রানের টর্নেডো ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২১ রান তোলে পাঞ্জাব।
এতো বড় লক্ষ্য রাজস্থান রয়েলস টপকাতে পারবে কি? সমর্থকরা স্মৃতির পাতা হাতড়ে আশার আলো খুঁজে পান।
এই পাঞ্জাবের বিপক্ষেই আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২৪ রান চেজ করে জয়ের রেকর্ড গড়েছিল রাজস্থান রয়েলস।
আজ সেই ইতিহাস ফের লিখতে যাবে কি রাজস্থান?
কিন্তু শুরুতে দলের সেরা অলরাউন্ডার বেন স্টোকস শূন্য রানে ও মানান ভোরা ১২ রানে ফিরে গেলে সেই আশা ফিকে হয়ে যায়।
কিন্তু ওয়ানডাউনে নামা অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন যেন একাই খেলার মোড়ই ঘুরিয়ে দিলেন। সামি, রিচার্ডসন, আর্শদ্বীপরা একের পর এক নাস্তানাবুদ হতে থাকেন স্যামসনের হাতে।
টানটান উত্তেজনা এখন চরম মাত্রায়। শেষ ওভারটি আর্শদ্বীপ সিংয়ের হাতে তুলে দেন পাঞ্জাব অধিনায়ক রাহুল।
সেই ওভারে ছক্কা হাঁকালেও পূর্ণ ১৩ রান আর যোগ করতে পারেননি স্যামসন।
লক্ষ্য থেকে মাত্র ৪ রান দুরে থাকতে সুইপার কভারে হুডার হাতে তালুবন্দি হন। ব্যর্থ হয় তার সেঞ্চুরি।
অপরদিকে মোস্তাফিজ রাজস্থান রয়্যালসে এবারই প্রথমবার খেলছেন। সবমিলিয়ে পারফরম্যান্সকে কিছুতেই ‘আপ টু দ্য মার্ক’ বলা যাবে না, যদি দুর্ভাগ্যকে পাশে সরিয়ে রাখা যায়।
রাজস্থানের হয়ে প্রথমবার খেলতে নেমে ৪ ওভারে দিয়েছেন ৪৫ রান, পাননি উইকেটের দেখা। কিন্তু এতটাই কি খারাপ বোলিং করেছেন মোস্তাফিজ?শেষ ওভারটি বাদ দিলে উত্তর হবে- না।
প্রথম তিন ওভারে দুটি উইকেট পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। খরচ করেছিলেন ৩০ রান। পাঞ্জাব কিংসের রানপাহাড়ের ম্যাচে (২২১) যেটাকে খুব খারাপ বলার সুযোগ নেই।
কিন্তু দুইবার উইকেট পাওয়ার সুযোগবঞ্চিত হওয়া মোস্তাফিজ শেষ ওভারে এসে তালগোল পাকিয়ে ফেললেন। নিজের দ্বিতীয় বলেই উইকেট পেতে পারতেন মোস্তাফিজ। তার সুইং ডেলিভারি পায়ে লেগেছিল মায়াঙ্ক আগরওয়ালের, আবেদনও করেছিলেন ফিজ। কিন্তু আম্পায়ার সে আবেদনে সাড়া দেননি।
পাঞ্জাবের তখনও এক উইকেট পড়েনি। স্যামসন সেই সুযোগটা নিতে পারতেন। কিন্তু কি মনে করে রিভিউ নিলেন না রাজস্থান দলপতি। পরে যেটা আফসোসে পুড়িয়েছে তাকে।
কেননা রিপ্লেতে দেখা যায়, মোস্তাফিজের ডেলিভারিটি স্পষ্টতই মিডল স্ট্যাম্প হিট করতো। অধিনায়কের ভুলে নিশ্চিত একটি উইকেট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কাটার মাস্টার।
১৫তম ওভারে আবার বল হাতে পান টাইগার পেসার। ওই ওভারে আরেক দুর্ভাগ্য। প্রথম বলটিই তুলে দিয়েছিলেন ১৫ বলেই ৩৯ তুলে ফেলা দীপক হুদা। লং অফে দৌড়ে সেই ক্যাচটি নিতে যান দুজন-বেন স্টোকস আর জস বাটলার। বাটলার হাতে নিতে চাইলে স্টোকস সরে যান, কিন্তু বাটলার ফেলে দেন বল। আবারও উইকেটবঞ্চিত হন মোস্তাফিজ। একটি ছক্কাসহ এবার ১১ রান দেন তিনি।
এরপর আরেকটু বিরতি দিয়ে ১৯তম ওভারে সুযোগ পান ফিজ। আর ওই ওভারটি করেন সবচেয়ে বাজে। ১৫ রান খরচ করে আগের ভালো বোলিংও যেন ভুলিয়ে দেন।
