মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় পৌরসভাসহ বিভিন্ন হাট বাজারে চড়া দামে তরমুজ কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা। কৃষকের মাঠ থেকে ব্যবসায়ী পিচ হিসেবে ক্রয় করে বাজারে ওজনে বিক্রি করছে।
এদিকে তরমুজের দাম বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ব্যবসায়ীরা বিঘা, ক্ষেত ও পিচ হিসাবে তরমুজ কিনলেও তারা সে গুলো বাজারে বিক্রি করছে কেজি দরে। ফলে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভ করছে, আর ক্রেতারা ঠকছে নিরবে।
পৌর বাজারসহ বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি, কাশিমনগর, আগড়ঘাটা, মামুদকাটি, মানিকতলা, নতুনহাট, বাঁকা, রাড়ুলী, শামুকপোতা, গড়ইখালী, চাঁদখালী, গদাইপুরসহ বিভিন্ন বাজারে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে।
শুধু ওজনে বিক্রি নয়, কোন কোন বাজারে তরমুজের দাম কেজি প্রতি বেশি নেয়া হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষেত ও পিচ হিসাবে তরমুজ কেনার পাশাপাশি আড়ৎ থেকেও পিচ হিসাবে তরমুজ নিয়ে আসছে, অথচ তারা বিক্রি করছে ওজনে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট আকারে প্রতি পিচ তরমুজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা আর বড় প্রতি পিচ তরমুজ ৬০ থেকে ৯০ টাকা করে কিনেছে আড়ৎ থেকে। সিন্ডিকেট করে তরমুজ ব্যবসায়ীরা মৌসুমের শুরুতে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি করলেও এখন প্রতি কেজি ৩০/৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। সে হিসাবে ছোট বড় প্রতিটি তরমুজে তারা ৩০থেকে ৭০ টাকা লাভ করছে।
পৌর বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী শেখ মিজানুর রহমান জানান, পটুয়াখালী জেলা কোয়াকাটার আড়ৎ থেকে পিচ হিসাবে কিনে পিচ এনেছি। কপিলমুনি ব্যবসায়ী টিটু জানান, ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালীতে ৩বিঘা জমির তরমুজ ক্ষেত ক্রয় করেছেন। ক্ষেত থেকে তরমুজ বাজারে এনে প্রতি কেজি ৩৫/৪০ টাকা দরে বিক্রি করছে। পিস হিসাবে তরমুজ কিনে কেজি দরে বিক্রি করার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই বিক্রি করছে তাই আমিও করছি।
কপিলমুনি বাজারের তরমুজ ব্যবসায়ী. সোহাগ জানান, তারা কয়রা থেকে তরমুজ ক্রয় করে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছে। অন্য তরমুজ ব্যাবসায়ীরা জানান, এ বছর বৃষ্টি না হওয়ায় তরমুজের দাম অনেক বেশি। ক্ষেত থেকে অনেক সময় মণ হিসাবে তরমুজ কিনতে হচ্ছে। তাই আমরা ওজনে তরমুজ বিক্রি করছি। সবাই পিস হিসাবে বিক্রি করলে আমিও করবো।
কপিলমুনির ক্রেতা হোসেন আলী জানান, কয়েক বছর আগেও পিস হিসাবে তরমুজ ক্রয় করছি। এখন ৬ কেজি ওজনের একটি তরমুজ ১৮০ টাকা দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে। যা পিচ হিসাবে ৮০/৯০ টাকায় ক্রয় করা যেত। ওজনে বিক্রি করায় তিনিসহ সকল ক্রেতা ঠকছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
গোপালপুর গ্রামের ভ্যান চালক বিশে গাজী জানান, তরমুজ ওজনে বিক্রি হওয়াতে একটি ছোট তরমুজ কিনতে ১০০-১৫০ টাকা লাগছে। তাই এ বছর এখনো তরমুজ কেনা হয়নি। ওজনে তরমুজ বিক্রি হওয়ায় আমাদের মত ভ্যান চালকরা তরমুজ কিনতে পারছেনা। রমজান মাস আর প্রচন্ড তাপদাহের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তরমুজ ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় চড়া দামে তরমুজ বিক্রি করছেন।
বাজার মনিটরিং এর অভাবে এমনটাই হচ্ছে বলে ক্রেতা সাধারণ মনে করেন। অন্তত রমজান মাসে তরমুজের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিংএর জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বল্প আয়ের মানুষেরা।
