নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও জেলহত্যা মামলায় সন্দেহভাজন মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো আটকে দিয়েছে মালয়েশিয়ার একটি আদালত। দেশটির অভিবাসন ডিপার্টমেন্ট তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায়। কিন্তু এর বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্টের বিচারক মোহাম্মদ জাইনি মাজলান। ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন মালয় মেইল।
বিচারক মাজলান আশা প্রকাশ করেন অভিবাসন বিভাগ বিষয়টি তাদের নিজেদের হাতে তুলে নেবে না। এতে আরও বলা হয়, প্রায় এক দশক ধরে মালয়েশিয়ায় শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান। তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। কিন্তু তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে চায় দেশটির অভিবাসন ডিপার্টমেন্ট। এর বিরুদ্ধে করা হেবিয়াস করপাস আবেদনের শুনানি হয় আজ মঙ্গলবার।
তাতে বিচারক ওই নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিবাসন ডিপার্টমেন্ট মিয়ানমারের কমপক্ষে এক হাজার আটক নাগরিককে গত বছর ফেরত পাঠায়। মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানের আইনজীবী এডমুন্ড বন এ ইস্যুটি এ সময় আদালতে তুলে ধরার পর ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টকে নির্দেশ অমান্য করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন ওই বিচারক। তার ভাষায়- আমি আশাকরি এসব বিষয় অভিবাসন বিভাগ তাদের নিজেদের হাতে তুলে নেবে না।
একই সময়ে অন্তর্বর্তী এই স্থগিতাদেশের বিষয়ে এটর্নি জেনারেলের চেম্বারে যাওয়ার কথা অভিবাসন ডিপার্টমেন্টের ফেডারেল কাউন্সেল ওং সিউ মুনের। মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানের হেবিয়াস করপাসের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে ২০শে মে। উল্লেখ্য, মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্ডধারী একজন ব্যক্তি। ১০ই ফেব্রুয়ারি তাকে আমপাং এলাকায় বাসভবন থেকে সকালে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মালয় মেইল লিখেছে, অজ্ঞাত কারণে তাকে ফেরত চাইছে বাংলাদেশ। এর বিরুদ্ধে তার স্ত্রী রীতা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের মিডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানের বয়স ৬৫ বছর। ১৯৭৫ সালে জেলহত্যায় জড়িত অন্য অনেক নামের সঙ্গে রয়েছে তার নাম। ওই সময় আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় চার নেতাকে জেলে হত্যা করা হয়েছিল। মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানকে পরে খালাস দেয়া হয়। ২০০৭ সালে তাকে মালয়েশিয়ায় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে তাকে ফেরত চায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।
নিরাপত্তা আতঙ্কে মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মালয়েশিয়ায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চেয়েছেন এবং সেখানে বসবাস করছেন। ওদিকে আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের আদেশের পর ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার স্ত্রী রীতা রহমান। তিনি খায়রুজ্জামানের স্বাস্থ্যগত অবস্থা পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তার মানসিক অবস্থা যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমার স্বামী কোথায় আছেন, তা জানতে চাই। যদি সম্ভব হয়, তার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আজ মঙ্গলবার খায়রুজ্জামানের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজিউ চোউ ইং এবং ইয়েও ডিং ওয়েই।
