×

পিল খাওয়া নিরাপদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : ষাটের দশকে আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কন্ট্রাসেপটিভ পিলকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘটনা মেয়েদের জীবনে একটা ছোটখাটো বিপ্লবই ঘটিয়ে ফেলেছিল। ছাড়পত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তুমুল জনপ্রিয়।

কী ভাবে কাজ করে : কম্বাইনড পিল মূলত তিন ভাবে কাজ করে। এটি ওভিউলেশন আটকে দেয়। জরায়ুর মুখ বা সার্ভিক্সে থাকা মিউকাসের পর্দাটিকে মোটা করে দেয়, যাতে স্পার্ম তা ভেদ করে ঢুকতে না পারে। এবং জরায়ুর যে অংশে সন্তান থাকে, সেই লাইনিংকেও পাতলা করে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এটিই সবচেয়ে কার্যকর উপায়ে প্রেগন্যান্সি আটকাতে পারে, যদি ঠিক ভাবে খাওয়া হয়। কম্বাইনড পিলের ব্যর্থতার উদাহরণও খুবই কম।

খাওয়ার নিয়ম : কম্বাইনড পিল টানা তিন সপ্তাহ খেয়ে যেতে হয়। সাধারণত ডিনারের পর খাওয়াই নিয়ম। এখন লো ডোজ় পিল হয় বলে নির্দিষ্ট সময় মেনে খেতে হয়। সেটি না হলেই ব্রেকথ্রু ব্লিডিং হতে পারে। যদি কেউ রোজ রাত ১০টায় এই পিল নেন, তা হলে ১০টার এক ঘণ্টা এদিক ওদিক করা যেতে পারে। কিন্তু তার বেশি না করাই ভাল। কোনও দিন নিতে ভুলে গেলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে পিলটি খেতে হবে, আবার রাতের পিলটি নিয়ম মতো খেয়ে নিতে হবে। দু’দিন ভুলে গেলে পরবর্তী অন্তত সাত দিন কন্ট্রাসেপটিভ পিলের সঙ্গে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে কনডমও ব্যবহার করা উচিত। ২১ দিন টানা খেয়ে এই পিল বন্ধ করলে পিরিয়ডস শুরু হয়। আবার পিরিয়ডসের তৃতীয় বা চতুর্থ দিন থেকে অন্য প্যাকেটটি ব্যবহার করতে হবে। কিছু পিলের ক্ষেত্রে ২৮টি ট্যাবলেটের প্যাকেটও পাওয়া যায়। সেটি একটানা খেয়ে যেতে হয়। নির্দিষ্ট সময়মতো পিরিয়ডস হয়ে যায়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : এই ধরনের পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই কম। তাও কিছু ক্ষেত্রে মাথাব্যথা, খিদে না পাওয়া, সামান্য স্পটিং বা ব্লিডিং দেখা যেতে পারে। সাধারণত পাঁচ-সাত দিনের মধ্যেই এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলি কমে আসে। অবশ্য কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘ দিন পিল নিলে ভ্যাজ়াইনাল ড্রাইনেসের সমস্যা দেখা দেয়, যৌনমিলনে অনীহাও দেখা যেতে পারে। তবে, এই ধরনের সমস্যা খুবই কম। বরং নিয়মিত পিল নেওয়ার ফলে দেখা গিয়েছে, ওভারিয়ান ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। এমনকি পিল খাওয়া বন্ধ করার পরের পাঁচ থেকে দশ বছর ওভারিয়ান ক্যানসারের ভয়ও কম থাকে।

কিন্তু হাই ব্লাডপ্রেশার, ডায়াবিটিস, মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে পিল খাওয়া যায় না। হাই ব্লাডপ্রেশার থাকলে নিয়মিত প্রেশার চেক করতে বলা হয়। প্রেশার বেড়ে গেলেই পিল বন্ধের পরামর্শ দেওয়া হয়।

মনে রাখা জরুরি : অনেকে মনে করে, টানা পিল খেয়ে গেলে গর্ভধারণে সমস্যা হয়, যা ঠিক নয়। ডা. চট্টোপাধ্যায়ের মতে, যে মাসে পিল বন্ধ করা হচ্ছে, ওভিউলেশন তার পরের মাস থেকেই শুরু হতে পারে। সুতরাং, প্রেগন্যান্সিতে সমস্যা হয় না। অনেকে ইমার্জেন্সি পিলে অত্যধিক ভরসা করেন। ঘটনা হল, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই পিল নিলে তা যতটা কার্যকর, যত দেরি হবে, তার কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়।

দেখা গিয়েছে, ইমার্জেন্সি পিল খাওয়ার পর এক্টোপিক প্রেগন্যান্সির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ইউটেরাস হয়তো প্রেগন্যান্সি আটকাচ্ছে, কিন্তু প্রেগন্যান্সি ফ্যালোপিয়ান টিউবে চলে আসছে। এ এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। এবং এ ক্ষেত্রে প্রসূতির প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা থাকে। ফলে, ইমার্জেন্সি পিলে ভরসা করা উচিত নয়।

এই কারণেই এখনও চিকিৎসকরা প্রেগন্যান্সি রোধে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হিসেবে কম্বাইনড পিলের উপরেই ভরসা করেন।

শিশুকে কি বোতলে দুধ খাওয়ান?

মাতৃভাষা ডেস্ক: মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই। নবজাতকের পুষ্টি, বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য যাবতীয় প্রয়োজন মায়ের বুকের দুধ থেকেই পাওয়া যায়। তাই জন্মের পরে, যত দ্রুত সম্ভব নবজাতককে মায়ের দুধ পান করানো জরুরি। শিশুর জন্মের পরে, প্রথম শাল দুধ বা হলুদ বর্ণের যে গাঢ় দুধ নিঃসৃত হয়, তাকে ‘কলোস্ট্রাম’ বলা হয়। ‘কলোস্ট্রাম’ নবজাতককে ভবিষ্যতে কয়েকটি রোগ থেকেও মুক্ত রাখে। শুধু তাই নয়, মায়ের বুকের দুধ সহজপাচ্য এবং যে তাপমাত্রায় পান করানো দরকার, সেই তাপমাত্রাতেই পাওয়া যায়। অথচ দেখা যায় কখনও নিরুপায় হয়ে আবার কখনও অপুষ্টির কারণে যথাযথ দুধ উত্পাদন না হওয়ার কারণে অনেক মা বিকল্প বেছে নিতে বাধ্য হন।

অনেকেই শিশুর জন্য বাজারজাত দুধ কিনে তা খাওয়ান। কর্মরত মায়েরা আবার যেমন অনেক সময়ই দুধ বের করে তা বোতলে নিয়ে শিশুকে খাওয়ান। কিন্তু জানেন কি বোতলে দুধ খাওয়ানো কতটা ক্ষতিকর শিশুর জন্য? শুধু শিশুর জন্যই নয় একই ভাবে মায়ের জন্যও তা ক্ষতিকর। বেশির ভাগ বোতল প্লাস্টিকের তৈরি। তাই অত্যন্ত ক্ষতিকারক বিসফেনল এ (বিপিএ) যা প্লাস্টিকের একটা উপকরণ তা দুধে মিশে যেতে পারে। যদিও এখন অনেক সংস্থাই দাবি করে বিপিএ মুক্ত বোতল বানানোর। তা হলেও কিছু রাসায়নিক দুধে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায় যা ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে শিশুর স্বাস্থ্যে। তা ছাড়া প্রতিবার শিশুকে খাওয়ানোর আগে বোতল খুব ভাল করে পরিষ্কার করাটা জরুরি। তা না হলে বোতলে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। ঠিক মতো বোতল পরিষ্কার করা সময় সাপেক্ষও। স্তন্যপান মা এবং শিশুর মধ্যে একটি বন্ধন গড়ে তুলতেও সাহায্য করে। শিশুকে বোতলে দুধ খাওয়ালে শিশু আর মায়ের মধ্যে সেই বন্ধন তৈরি হয় না। শিশু যদি বোতলে খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তা হলে স্তন্যপান সাধারণত করতে চায় না। কারণ বোতলে দুধ খেতে অনেক কম কষ্ট করতে হয় শিশুদের। আর শিশু স্তন্যপান না করলে ধীরে ধীরে মাতৃদুগ্ধ তৈরিও বন্ধ হয়ে যায়।

৬ বছরের আরহাম গিনেস বুকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : খুদে বালক আরহাম ওম তালসানিয়া। বয়স মাত্র ৬ বছর। পড়াশোনা দ্বিতীয় শ্রেণিতে। এই বয়সে এখন অন্যদের মতো সে–ও ঘরবন্দী। কিন্তু সে সময়টি কাজে লাগিয়েছে। পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করে ফেলেছে সে। এ কারণে খুদে এই শিক্ষার্থীর নাম উঠে গেছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে।

তার বাড়ি ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদে। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কম্পিউটার প্রোগামার এখন সে। ভবিষ্যতে ব্যবসায়ে উদ্যোক্তা‌ ‌হতে চায় আরহাম তালসানিয়া।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, আরহাম ওম তালসানিয়া ভারতের পিয়ারসন ভিইউই টেস্ট সেন্টারে পাইথন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ পরীক্ষায় অংশ নেয়। এ পরীক্ষায় পাস করার পরই বিশ্বের সবচেয়ে খুদে কম্পিউটার প্রোগামার হিসেবে নাম ওঠে আরহামের।

এখন যে কারও মনে হতে পারে এত অল্প বয়সে কীভাবে প্রোগ্রামিং শিখল খুদে আরহাম।‌ এক সাক্ষাৎকারে সে নিজেই জানিয়েছে, কীভাবে অসাধ্য সাধন করেছে সে।

আরহাম এএনআইকে জানায়, ‘‌আমার বাবা আমাকে কোডিং শিখিয়েছে। দু‌বছর বয়সেই আমি ট্যাবলেট ব্যবহার করতে পারতাম। তিন বছর বয়সে আমার আইওএস এবং ইউন্ডোজ (iOS এবং Windows) গ্যাজেট ছিল। পরে জানতে পারি আমার বাবা পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে কাজ করেন।‌’‌

বাবার কাছ থেকেই পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে নেয় আরহাম। এরপরই নিজেই ছোট ছোট গেম বানানো শুরু করে সে। পরে নিজের কাজ বিভিন্ন সংস্থার কাছে পাঠায় আরহাম। কয়েক মাস পরই পাইথনের পক্ষ থেকে আরহামের ওই কাজকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপরই রেকর্ড বুকে নাম উঠল তার।

ছেলের এই সাফল্যে খুশি বাবা ওম তালসানিয়াও। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই গ্যাজেটের প্রতি ওর বিশেষ আকর্ষণ ছিল। ট্যাবলেটে গেম খেলত। আমি ওকে প্রাথমিক কিছু কোডিং শিখিয়েছিলাম। তার সাহায্যে নিজেই গেম বানিয়ে খেলত আরহাম।’‌
আরহাম বলে, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা হতে চাই। সবাইকে সহায়তা করতে চাই। কোডিংয়ের জন্য অ্যাপস, গেমস তৈরি করতে চাই। আমি অভাবীদের সাহায্য করতে চাই।’

ওম তালসানিয়াও বলেন, ‘আমি তাকে প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক বিষয়গুলো শিখিয়ে দিয়েছিলাম। সে তার নিজস্ব কৌশলে ছোট ছোট গেম তৈরি করা শুরু করেছিল। সে একটি কাজ করে মাইক্রোসফট প্রযুক্তির সহযোগী হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছিল।’

This is just for test

This is just for test