×

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে উপদেষ্টার হুমকি এবং

মোহাম্মদ আলম : একজন সত্যিকার বিপ্লবীর মত কথা বলেছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি সরকারি আমলাদের বিরুদ্ধে জনগণের স্বার্থে কথা বলেছেন। ‘নিয়ম মেনে বিপ্লব হয়নি, ভবিষ্যতে নিয়ম মেনে সরকারও চলবে না।’ বিপ্লবী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থে দেশের সব নিয়ম পাল্টে দিলেও বোধ করি কোন আপত্তি থাকবে না। ৫৩ বছরে দলীয় সরকারের স্বৈরাচারী নিয়ম শৃঙ্খলের সিন্ডিকেটে সব কিছু কুক্ষিগত করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের অন্যতম সুবিধাভোগীরা কোন না কোন দলের ছত্রছায়ায় লালিত-পালিত। সরকারি আমলাগণ সিন্ডিকেটের রক্ষক হিসেবে সহযোগিতা করেন। অর্ন্তবর্তী সরকারের বিপ্লবী উপদেষ্ঠা আসিফ মাহমুদ জনগণের মনের কথাটাই বলেছেন।
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরগণ চাচ্ছে কোনভাবেই ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অর্ন্তবর্র্তী সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল হতে দেওয়া যাবে না। এই কাজে আওয়ামী লীগ একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে। ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার সুবাদে তারা ভালভাবেই জানে কোথায় কোথায় বাগড়া দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় রাখা যাবে। জনগণকে উসকে দেওয়ার পথও তাদের বেশ ভাল জানা। অর্ন্তবর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আওয়ামী লীগ একদিকে যেমন প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা দোসরদের কাজে লাগাচ্ছে। অপরদিকে কৌশলে বিএনপির নেতাদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে ফায়দা লুটছে। আওয়ামী লীগের হাতে থাকা দ্রব্যমূল্য সিন্ডিকেট, পরিবহন চাঁদাবাজি, জমি দখলবাজিসহ সরকারি দপ্তরেও বিএনপির কতিপয় নেতার দৌরাত্ম শুরু হয়েছে। বিএনপি হাইকমান্ড কদাচিত ব্যবস্থা নিলেও সারাদেশে এসব দেদারছে চলছে।
দ্রব্যমূল্য উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত সহজ পরিক্রমা। দেশের টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া একদিনেই যাতায়াত করা সম্ভব। তাই যে কোন সবজি বা দ্রব্যমূল্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আনা নেওয়া কঠিন কিছু না। সবজিমাঠ থেকে পাইকারি বাজার এবং সেখান থেকে খুচরা বাজারে যেতে তিন বার হাত বদল হয়। সিন্ডিকেটে দাম বাড়ে কিভাবে? কৃষক এক কেজি বেগুন ৪০ টাকায় রাজধানীর পার্শ্ববর্তি পাড়াগ্রাম পাইকারি হাটের একজন পাইকারের কাছে বিক্রি করেছে। পাইকার একটি ট্রাক বা পিকাপে কাওরান বাজার আড়তে কেজি প্রতি ৬০ টাকা নেয়। আড়ৎদার রাজধানীর খুচরা বিক্রেতার কাছে এক কেজি বেগুন বিক্রি করে কমপক্ষে ৭০ টাকা। খুচরা বাজারে কমপক্ষে ১০০ টাকা কেজিতে বেগুন ভোক্তার হাতে পৌছে। মাঝের এই ফরিয়ারা অনেক সময় কোন অর্থ লগ্নি না করেও এই লাভ তুলে নিচ্ছে। এরাই নিজেদের খেয়াল খুশিমত দাম নির্ধারন করে। এই সিন্ডিকেট বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে।
বাজারে সব রকমের ভোগ্যপণ্যের মূল্য নির্ধারন এবং বিপণনে সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরই উদাসিন। তাদের উদাসিনতার পেছনে ঘুষ বাণিজ্যই মূল কারণ। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সরকারি আমলাদের সঠিক যায়গায় ধরেছেন। একইভাবে সিন্ডিকেটও ভাঙতে হবে। আমরা জনসাধারণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও অর্ন্তবর্তী সরকারের এই নিয়ম ভাঙার দলে আছি।