×

এবার ইংলিশদের হোয়াইটওয়াশের পালা

স্পোর্টস ডেস্ক: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ জিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এ জয়ে টাইগাররা সৃষ্টি করেছে নয়া ইতিহাস। প্রথমবারের মতো গড়েছে ইংলিশদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের কীর্তি। আজ শেষ ম্যাচ! জিতলেই হবে হোয়াইটওয়াশের রেকর্ড। এককথায় আজ মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে টাইগারদের সামনে সুযোগ ইংলিশদের ধবলধোলাই করে সিরিজ শেষ করার। দ্বিতীয় ম্যাচ জয়ের নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কণ্ঠেও সেই হুঙ্কার। ফল কি হলো না ভেবে শেষ ম্যাচটাও জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি। মিরাজ বলেছেন, ‘অবশ্যই আমরা শেষ ম্যাচেও ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করবো। আমরা অবশ্যই জেতার জন্য নামি। কিন্তু জেতার আগেও কিছু প্রক্রিয়া আছে, সেটা অনুসরণ করতে হয় আমাদের।

আমরা যদি প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে যাই তাহলে কখনো জিততে পারবো না। আমরা যেভাবে চলছি, রুটিন আছে, আমরা সেভাবেই চেষ্টা করবো।’ সিরিজের শুরুর ম্যাচে ভয়ডরহীন ক্রিকেটের মন্ত্রে ইংলিশদের হারিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও দেখা মিলেছে সে মানসিকতার। তারই সম্মিলিত ফল এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জয়। নিজেদের মাটিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এভাবে হারানোর পেছনে বদলে যাওয়া মানসিকতাটাই কাজ করেছে বলে মনে হচ্ছে দ্বিতীয় ম্যাচের নায়ক মিরাজের কাছে। তিনি বলেন, ‘এখনকার যে খেলোয়াড়দের ভালো বিষয়টা হচ্ছে ইতিবাচকতা। এখানে খুব বেশি ভাবার কিছু নেই। প্রতিটা বলেই ঝুঁকি নিয়ে, সাহস নিয়ে খেলতে হয়।
মোটাদাগে দলের মানসিকতাটাই বদলে গেছে। তৌহিদ হৃদয়ের অভিষেক সিরিজ এটা, কিন্তু দেখে মনে হয় না সে অভিষেক সিরিজ খেলছে।’ এক ম্যাচ হাতে রেখেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নিয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ হারের ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা স্বপ্নের মতো রঙিন করেছে সাকিব-মুস্তাফিজরা। শুধু ইংলিশদের বিপক্ষে নয়- এই জয় টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয়বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের প্রাপ্তি টাইগারদের। এর আগে প্রথমবারের মতো ২০১৮ সালে সেই সময়ের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। তাছাড়াও এটি টাইগার ক্রিকেটে অষ্টমবারের মতো টি-টোয়েন্টির সিরিজ জয়ের স্বাদ। আর এক ম্যাচের সিরিজসহ টি-টোয়েন্টিতে আফিফ-শান্তদের ১১তম সিরিজ জয়। তবে এর মধ্যে কোনো দলকে হোয়াইটওয়াশ করার সাফল্য আছে ৪ বার। ২০১৩-তে প্রথম আয়ারল্যান্ডকে ৩-০তে হোয়াটওয়াশ করেছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে ইংলিশদের ১১৭ রানে অলআউট করে দিয়েছিল বাংলাদেশ, জয়টা অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছিল তখনই। কিন্তু জবাব দিতে নেমে টাইগারদের শুরুটাও খুব একটা ভালো হয়নি।

তবে একপ্রান্ত আঁকড়ে নাজমুল হোসেন শান্ত যে ব্যাটিং করলেন সেটাই এই উইকেটে আদর্শ ব্যাটিংয়ের নমুনা। আর ব্যাটিংয়ে প্রমোশন পেয়ে মেহেদী হাসান মিরাজ আরেকবার দেখালেন ব্যাটিংও তার বড় শক্তি। শান্ত-মেহেদীর চতুর্থ উইকেটে ৩২ বলে ৪১ রানের জুটি বাংলাদেশের ম্যাচ জয়ের কাজটা সহজ করে দেয়। দারুণ বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও দক্ষতা দেখিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে নতুন ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ। টানা দুই জয়ের পরও দলের চিন্তার অন্য কারণ টপঅর্ডারের ব্যাটিং ব্যর্থতা। দুই ম্যাচেই ওপেনাররা ভালো কিছু উপহার দিতে পারেননি। একাই টেনেছেন শান্ত। তবে সবদিনতো আর তিনি দলের ভার টানতে পারবেন না। তাই শেষ ম্যাচেও এই ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা থাকছেই। ধারণা করা করা হচ্ছে, ইংলিশদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন আসছে না। অবশ্য দ্বিতীয় ম্যাচে এক পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ব্যাটার শামীম হোসেন পাটোয়ারীর পরিবর্তে একাদশে সুযোগ হয় মেহেদী হাসান মিরাজের। সুযোগ পেয়েই বল হাতে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনকে কাঁপিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট। ব্যাট হাতে খেলেছেন ২০ রানের ইনিংস। অবশ্য এই অলরাউন্ডার শেষ ম্যাচের ফল নিয়ে ভাবছেন না। তিনি বলেন, ‘খেলা শেষে রেজাল্ট নিয়ে চিন্তা করবো। আমরা কখনো আগে থেকে ফল নিয়ে চিন্তা করি না। আমরা চিন্তা করি কীভাবে আমরা খেলবো, কীভাবে প্ল্যানিং করবো, কীভাবে ভালো ক্রিকেট খেলা যায়। রেজাল্ট আসবে দিনশেষে।’