×

২৬ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে নিত্য প্রয়োজনীয় ৪৭টি পণ্যের মধ্যে ২৬টিরই দাম বেড়েছে। সোয়া চার শ পণ্য ও সেবা দিয়ে মূল্যস্ফীতি গণনা করে বিবিএস। সংস্থাটির মূল্যস্ফীতির গণনায় মোটাদাগে ৪৭টি পণ্যের দামের হিসাব থাকে। টানা পাঁচ মাস কমার পর মূল্যস্ফীতিও আবার বাড়ল।

গতকাল রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সভা শেষে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য সাংবাদিকদের জানানো হয়।

বিবিএসের হিসাবে দেখা গেছে, মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় আছে, চাল, তেল, চিনি, মরিচ, হলুদ, আদা, মাংস, ডিম, লবণ, দুধ ইত্যাদি। অর্থাৎ বেশির ভাগ নিত্যপণ্যেরই দাম বেড়েছে। এর ফলে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার চালাতে আগের চেয়ে খরচ বেড়েছে। এদিকে গত কয়েক মাসে বাজারে জিনিসপত্রের দাম কমবেশি বাড়তির দিকেই ছিল। এমনকি নিম্ন আয়ের মানুষের প্রোটিনের অন্যতম উৎস ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ডিমের দামও বেশ বেড়েছে। ফলে অনেক দিন ধরে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে নেই।

বিবিএসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মূল্যস্ফীতি যেভাবে বেড়েছে, মানুষের মজুরি সেভাবে বাড়েনি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। তার মানে মজুরি বাড়লেও বাড়তি টাকা দিয়েও আগের মতো পণ্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না মানুষের পক্ষে।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। গত জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মূলত খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।

মূল্যস্ফীতি বাড়লেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে চিন্তিত নয় সরকার। পৌনে ৯ শতাংশ মূল্যস্ফীতিকে ‘অস্বস্তিকর বা অতিরিক্ত নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ে অস্বস্তি নেই। মজুরি বাড়ছে। এই মূল্যস্ফীতি অস্বস্তিকর নয়, অতিরিক্তও নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো অতি মূল্যস্ফীতি (হাইপার ইনফ্লুশন) হয়নি। ভারতে আমাদের চেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি। জিম্বাবুয়েতে ৩০০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়। বাংলাদেশে তেমন পরিস্থিতি নয়। বাংলাদেশের এই মূল্যস্ফীতি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিজনিত।’

রোজার সময় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে কি না, প্রশ্ন করা হলে শামসুল আলম বলেন, রোজার সময় চাহিদা বাড়ে। আমরা ছোলা, বুট, পেঁয়াজ, চিনি—এসব পণ্য বেশি কিনি। চাহিদা বেশি থাকলে দাম বাড়ে। কিন্তু এবার যথেষ্ট পরিমাণ ঋণপত্র খোলা হয়েছে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ে চিন্তার কারণ নেই।