নিজস্ব প্রতিবেদক: ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের জনপথ। সড়ক-মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে। এমনকি ট্রেনও দিনের বেলা লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাস্তায় মানুষের চলাচল একেবারেই সীমিত। নিতান্তই প্রয়োজন কিংবা জীবিকার তাগিদে ছুটে চলা মানুষের দেখা মিলছে পথে-ঘাটে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন। দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গতকাল দিনাজপুরে সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসের আর্দ্রতা ৯৬ শতাংশ। জেলায় চলতি শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জেলায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। এ ছাড়া ৬ই জানুয়ারির পর এই জেলার ওপর দিয়ে দুটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
দিনাজপুর শহরসহ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে সব ধরনের যানবাহনকে সকাল ১০টা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। ঢাকা থেকে দিনাজপুরগামী নৈশকোচগুলো ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা দেরিতে দিনাজপুরে পৌঁছেছে। ঢাকা গাজীপুর থেকে দিনাজপুরে আসা নাবিল কোচের যাত্রী হুমায়ুন পারভেজ বলেন, রাত ১১টায় উঠেছি। অন্যান্য দিন সকাল ৬টায় কালিতলা কোচ কাউন্টারে এসে পৌঁছে যায়। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে গাড়ি ধীরে চলেছে তাই ৪ ঘণ্টা দেরি হয়েছে। সকাল ১০টার সময় পৌঁছেছি। শহরের একমাত্র মহিলা পত্রিকা বিক্রেতা মরিয়ম বেগম বলেন, আমি পায়ে হেঁটে ফেরি করে পত্রিকা বিক্রি করি। পত্রিকার গাড়িগুলো দেরিতে আসায় কেউ পেপার নিতে চান না। দুপুরের পর পত্রিকাগুলো আসায় বেশি মানুষের কাছে যেতে পারি না। ফলে পত্রিকা কম বিক্রি হয়। একইভাবে ফেরি করে হাতের পায়ের মোজা, উলের টুপি, মাফলারসহ বিভিন্ন হোসিয়ারি শীতবস্ত্র বিক্রেতা আলিফ উদ্দিন ও আব্দুর রহিম জানান, দেশের সবচেয়ে বড় হোসিয়ারি পণ্য তৈরির এলাকা গাইবান্ধা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাহার, নয়ারহাট ও পুরাতন বাজার থেকে তারা দিনাজপুরে এসেছেন হোসিয়ারি পণ্য বিক্রির জন্য।
তারা বলেন, দিনাজপুরে শীত বেশি হওয়ায় তারা ৫০ জনের একটি দল এসেছেন। বেচাকেনাও বেশ ভালো। শীত যেভাবে বাড়ছে তাতে বেচাকেনা আরও বাড়বে। অটোচালক সুজন ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশা আর ঠাণ্ডা বাতাসে মানুষ ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছে না। সকাল ৭টা পার হয়ে গেল এখনও একটা ভাড়া পাইনি। আগে দিনে ৭ থেকে ৮শ’ টাকা আয় হতো অটো চালিয়ে। এখন ৪ থেকে ৫শ’ টাকা আয় হয় না। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে, একদিকে আয় কম অন্যদিকে বাজারের সব জিনিসের দাম বেশি।
