নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম বরুনা’র পীর সাহেব মুফতি মাওলানা রশীদুর রহমান ফারুক। তিনি ৭৭ বছর বয়সী আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমীর। উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ শাইখুল ইসলাম আল্লামা লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রহ.) প্রতিষ্ঠিত অরাজনৈতিক সংগঠনের হাত ধরে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সংগঠনের ৭৭ বছরপূর্তি উপলক্ষে এবার সিলেটে দু’দিনের ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বাদ ফজর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমা শুরু হয়। এর আগে রাতে জিকির আজকার ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। সকাল থেকে মূলপর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিদের ঢল নামে ইজতেমা প্রাঙ্গণে। দেশ-বিদেশের আলেম-উলামারাও বয়ান পেশ করতে আসেন। এতে সিলেট অঞ্চলের আলেম-উলামাদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ইজতেমা প্রাঙ্গণ।
সকাল থেকে আসা মানুষের স্রোতে দুপুরের মধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় ইজতেমা প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যার পর বিপুল পরিমাণ মানুষের সমাগম হয়।
রাতে জিকির আজকারে মত্ত ছিলেন মুসল্লিরা। ইজতেমার আয়োজক সংগঠন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে নাজির মাওলানা সাদ আমিন জানিয়েছেন, আজ সকাল ১০টার মধ্যে ইজতেমার সমাপ্তি হবে। আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে এই ইজতেমা শেষ হবে। এতে আগত মুসল্লিদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সেজন্য কয়েক শ’ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। তিনি জানান, এই ইজতেমা ঈমান ও আকিদার জন্য আয়োজন করা হয়েছে। এটা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। গতকাল ফজরের নামাজের পর ১ম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা সাইদুর রহমান বর্ণভী। উদ্বোধনী বয়ান পেশ করেন সংগঠনের আমীর মুফতি মাওলানা মুহাম্মদ রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী। এরপর প্রথম অধিবেশনে ধারাবাহিকভাবে বয়ান পেশ করেন মাওলানা শামসুদ্দিন কাসেমী (জামালপুর), মাওলানা মুহাম্মদ আলী (সিরাজগঞ্জ) ও মাওলানা ইমাম হোসাইন (জামালপুর)। কিছুক্ষণ বিরতির পর শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে ধারাবাহিকভাবে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মুহিব্বুল হক (গাছবাড়ী), মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান (রঙ্গো), মাওলানা আব্দুল কাদির (বাঘরখালী), মাওলানা হুসাইন নূরী চৌধুরী (নবীগঞ্জ), মাওলানা মজদুদ্দিন (ভার্থখলা) ও মাওলানা এমদাদুল্লাহ (কাতিয়া)। বয়ান পেশ করেন মাওলানা আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ হাসান (বাহাদুরপুর), মাওলানা আব্দুল হামিদ (মধুপুরী), মাওলানা জকিরুল্লাহ খান (ঢাকা), মুফতি ফয়জুল্লাহ ছাহবেয়াদা বেলায়েত (রহ.) (ঢাকা), ড. মুশতাক আহমদ (ঢাকা), মাওলানা সাজিদুর রহমান (বি-বাড়ীয়া), মাওলানা মুশতাক আহমদ (খুলনা), মাওলানা হামিদ জাহেরী (ঢাকা), মাওরানা গোলামুর রহমান (খুলনা), মাওলানা জালাল আহমদ (সাতক্ষীরা), মাওলানা উবায়দুর রহমান মাহবুব (বরিশাল), মাওলানা আনাছ (ভোলা), মাওলানা আব্দুল মালিক (ভোলা), মাওলানা আব্দুল বাসিত খান (সিরাজগঞ্জ) ও মাওলানা আকরাম আলী (মাদারীপুর)।
এদিকে ইজতেমাস্থল ঘুরে দেখা গেছে- সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইজতেমায় আসা গাড়িবহর সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কের বাইপাস মুখে আটকে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। ইজতেমার আশপাশে সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়কে যাতে বিশৃঙ্খলা বা যানজট তৈরি না হয় সেজন্য এমনটি করা হচ্ছে। বাইপাস থেকে পায়ে হেঁটে মুসল্লিরা ইজতেমা অভিমুখে যান। ইজতেমা মাঠ এবং মাঠে চারপাশে ও সড়কে আয়োজক কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। ইজতেমা মাঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করেছে। এ ছাড়া, সাদা পোশাকেও পুলিশ ছিল ইজতেমা ময়দানে। এদিকে- ইজতেমায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানির ব্যবস্থা ও অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়। ইজতেমার পর মাঠ পরিষ্কারে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
